বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এতো গভীর রাতে একজন মহিলা শুধুমাত্র একটি নাইটি পরে তার দরযায় ধাক্কাধাক্কি করবে এটা হয়তো তাসনিফ কল্পনাও করতে পারেনি,নিজেকে কোনমতে সামলে নিয়ে তাসনিফ কিছু বলার পূর্বেই ম্যাডাম তাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলেন।জীবনে এই প্রথম কোন নারীদেহের স্পর্শ পেয়ে তাসনিফের শরীর কেমন যেন কারেন্টের মতো ঝাকি দিয়ে উঠলো,ম্যাডাম সম্ভবত কোন কিছুতে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছেন সেই কারনে হয়তো ম্যাডামের বুকের বামপাশে জোরে জোরে ধুকধুক করতে থাকা হৃদস্পন্দন এর শব্দ কিছুটা হলেও তাসনিফ অনুভব করতে পারছে,নিজেকে কোনমতে সামলে নিয়ে তাসনিফ ম্যাডামের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে উনাকে ধাতস্থ হবার কিছুটা সময় দিলো।যখন ম্যাডাম কিছুটা স্বাভাবিক হলেন তখন তাসনিফ ম্যাডামকে জিজ্ঞাসা করলো.......
তাসনিফ:ম্যাডাম!আপনি এতোটা ঘাবড়ে আছেন কেন?কোন সমস্যা হলে বলতে পারেন আমি তো আছি আপনার পাশে..!
তাসনিফের কথায় যেন ম্যাডামের মাঝে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলোনা সেই একই ভাবে শক্ত করে তাকে জরিয়ে ধরে আছেন!
বিদেশের মাটিতে হয়তো ভয় পেলে নয়তো কোন কারনে আনন্দিত হলে যেকোনো অবস্থায় জরিয়ে ধরাটা একটি কমন ব্যাপার, কিন্তু বাংলাদেশে তার চরিত্র সম্পূর্ণ উল্টো,এদিকে প্রতিটা হোটেলের করিডরে নিরাপত্তারর জন্য সি সি ক্যামেরা লাগানো থাকে বিধায় ম্যাডাম যে শুধুমাত্র একটি নাইটি পরে তাকে জরিয়ে ধরে আছেন আর তা যে সি সি ক্যামেরায় ধরা পরছেনা সেটা তো একদম কল্পনাতীত ব্যাপার।তাসনিফ ম্যাডামকে কোনমতে নিজের বাহুবন্ধন থেকে আলাদা করে তাড়াতাড়ি নিজের রুমে দিকে নিয়ে গেলো।
রাত ২টা বেজে ৫০ মিনিট.....
তাসনিফের বেডে ম্যাডাম শুয়ে আছেন, প্রচন্ড জ্বরে যেন গা পুড়ে যাচ্ছে,ম্যাডাম কে ঘরে নিয়ে আসার পর ম্যাডাম থেকে তাসনিফ যা জানতে পারলো তার সার নির্যাস এই যে প্রতিদিনের মতো ম্যাডাম তার রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে ল্যাপটপ নিয়ে আজকের দিনের কর্মকাণ্ড নথিভুক্ত করছিলেন,রাত ১২টা ৫০ এর দিকে যখন উনার কাজ শেষ করলেন তখন আজ সারাদিনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার জন্য শাওয়ার নেবার মনস্থ করলেন,বাথটাবে কল ছেড়ে দিয়ে যখন নিজ কাপড় ছেড়ে বাথটাবে নিজের গাঁ এলিয়ে দিলেন তখন মাথার উপর খেয়াল করলেন কিছু বিচিত্র প্রানি মাথার উপর দৌড়া-দৌড়ী করছে,সেটা দেখার পর ম্যাডাম সেখানে একদম জমে যান, ছুটাছুটি এক পর্যায়ে হঠাৎ সেই প্রানিগুলো তার শরিরের উপর এসে পরে যার কারনে ম্যাডাম এতোটাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পরেন যে কোন মতে নিজের নাইটি পরে সাহায্যের জন্য তাসনিফের এখানে ছুটে যান,সবকিছু শুনে তাসনিফ
কৌতূহল বশত ঘটনা কি তা জানার জন্য ম্যাডামের ঘরের দিকে রওনা
দিলো,এবং সেখানে গিয়ে সে যা দেখলো তা দেখে এতোকিছুর মাঝেও তাসনিফের প্রচণ্ড হাঁসি পেলো,যাকে ম্যাডাম বিচিত্র প্রানি বলে আখ্যায়িত করেছেন তা আর কেউ নয় মহামান্য তেলাপোকা মহাশয়,!হয়তো হোটেলের কোন এক ফাকে ম্যাডামের এই বিচিত্র প্রানিগুলো আস্তানা গেড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে আজ এই বিচিত্র প্রানি গুলো ম্যাডামের সামনে প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে,তেলাপোকা গুলো তখন ম্যাডামের বাথটাবে মরে ভেসে আছে,ঘটানা উদ্ধার করে বিজয়ী বেশে যখন তাসনিফ নিজ কামরায় প্রবেশ করলো তখন আবার আরেক নতুন সমস্যার উদয় ঘটলো!!তাসনিফ দেখতে পেল ম্যাডাম তার রুমের সোফায় বসে পা দুটো উপর উঠিয়ে মৃগী রুগির ন্যায় কাঁপছেন, তাসনিফ কাছেগিয়ে গায়ে হাত দিয়ে দেখলো যে প্রচণ্ড ভয়ে ম্যাডাম এতোটাই শক পেয়েছেন যে রিতিমত গায়ে জ্বর এসে গায়ের মধ্যে রিতিমতো রাজত্য কায়েম করে বসেছে!তাসনিফ কোনমতে ম্যাডামকে পাজোকোলা করে নিজের বেডে শুইয়ে কম্বল দিয়ে ম্যডামের শরীর ঢেকে দিলো,ম্যাডামের মাথা এখনো ভেজা তাই সবার প্রথমে শুকনো তোয়ালে নিয়ে ম্যাডামের মাথা যতোটা সম্ভব মুছে দিলো,তারপর মাথায় এবং হাতে পায়ে যতোটা সম্ভব সরিষার তেল দিয়ে ম্যাসাজ করা শুরু করলো,সারারাত এমন সেবা শুশ্রূষার ফলে ভোরের দিকে অবশেষে জ্বর মহাশয় শরীর ছেড়ে পলায়ান করতে বাধ্য হলো।
সকাল ১১ টা বেজে ১০ মিনিট....
সারারাত ম্যাডামের পেছনে খাটুনির কারনে ভোরের দিকে নিস্তেজ হয়ে সোফার উপর আরাম করে গুটিসুটি মেরে তাসনিফ অঘোরে গুমুচ্ছিলো।
হঠাৎ ঝাঁকুনির কারনে চোখ থেকে ঘুম বাবাজি সমস্ত আরাম আয়েশ ডাকাতি করে কোথায় যেন পলায়ন করলো,তাসনিফ ধড়মড় করে উঠে দেখে ম্যাডাম হাঁসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন।
ম্যাডাম:গুড মর্নিং, এখনো ঘুমুচ্ছেন?যান তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিন ১০ মিনিটের মদ্ধে আমরা বের হবো।
তাসনিফ মনে করেছিলো আজ ম্যাডাম অসুস্থ থাকার কারনে মনে হয় হোটেল থেকে বের হবেননা,কিন্তু ম্যাডামের কথায় যেন সমস্ত আশা মাটির সাথে মিশে গেলো। কি আর করার সত্যি বলতে এ ব্যাপারে তাসনিফেরো কোন কিছুই করার নেই কারন এজেন্সি থেকে তাকে পই পই করে বলে দেয়া আছে যে ম্যাডাম যখন চাইবেন হোটেল থেকে বের হতে পারবেন আর সহযোগী হিসেবে তাসনিফকেও ম্যাডামের সাথে অবশ্যই থাকতে হবে,তাসনিফ ফ্রেশ হয়ে রেডি হতে যাবে তখন ম্যাডাম তাসনিফ কে বলল যাবার সময় হোটেল ম্যানাজারের সাথে আলাপ করে যেন ম্যাডামের রুম চেক আউট করে দেয়,
তাসনিফ:ম্যাডাম! আপনি কি কোন নতুন হোটেলে উঠবেন?
ম্যাডাম:না আমি আজ তোমার রুমে ঘুমোবো।
তাসিনফ:তাহলে ম্যাডাম আমি কোথায় থাকবো?!
ম্যাডাম তখন ঠোটের কোনায় রহস্যময়ী হাঁসি ঝুলিয়ে বলল কেন তুমি আমার সাথে থাকলে কোন সমস্যা আছে?তাসনিফ তখন ম্যাডামের রহস্যময়ী হাঁসির মানে বুঝতে না পারলেও রাত্রিবেলা সে তার মানে হারে হারে বুঝতে সক্ষম হলো যখন ম্যাডাম তাকে...........।
(চলবে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now