বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত কয়টা বাজে ঠিক
নাই। অজানা কারণে ঘুম
ভাঙল। অনুভব করলাম যে
শরীরের বিভিন্ন
যায়গায় বিক্ষিপ্ত
ভাবে চুলকাচ্ছে।
হাতের আঙ্গুলে চুলকাতে
চুলকাতে সিগারেটের
প্যাকেট নিয়ে বাইরে
এলাম।
বাহ! চাঁদের আলোয় পুরো
ধরণী আলোকিত। চাঁদ
দেখলে মনের মাঝে
গান কবিতা জেগে ওঠে।
"আন্ধার রাইতে
চান্দের আলো দেখলাম
না নজরে"।
বাড়ির উঠান ছেড়ে
ক্ষেতের কাছাকাছি
আসতেই মনে হলো ম্যাচ
টা আমা হয়নি। আবার
ফিরে গেলাম ঘরে। ঘর
থেকে বের হওয়ার
পূর্বে একটু ভাপসা ভাব
ছিলো কিন্তু এখন একটু
শীতল ভাব বিরাজ
করছে। বিষয়টা খুব
বেশি পাত্তা না দিয়ে
মোবাইলের আলোতে
ম্যাচ বক্সটা খুজতে
লাগলাম।
ধুর!! মাত্র দুইটা কাঠি
আছে। আর সিগারেট পাচ
টা। মেজাজ টা খারাপ
করে চলে এলাম
ক্ষেতের কাছাকাছি।
চারিদিকে
ঝিঝিপোকার ডাক আর
চাঁদের আলো দুটো মিলে
এক অন্য রকম প্রকৃতি
সৃষ্টি করেছে। প্রথম
কাঠি নিয়ে আগুন
ধরাতেই ভেঙে গেলো
কাঠিটা!!
আবারো মেজাজটা
খারাপ হয়ে গেলো!!
পরের কাঠিটা জ্বলতেই
দেরী না করে
সিগারেট টা ধরালাম।
ধান লাগানোর মৌসুম
শুরু। ক্ষেতের পূর্ব উত্তর
পাশে ধানের চারা
বোনা হয়েছে। কৃষকের
কষ্টের ফল একদিন
ধানে পরিনত হবে।
ক্ষেতের কাছে দাড়িয়ে
সিগারেট টানছি আর
ঝিঝিপোকার গান
শুনছি। উপভোগ করছি
প্রকৃতিকে। সব কিছু
উপেক্ষা করে এক
বদমাইশ কুকুর স্ব-শব্দে
চেচিয়ে উঠলো। পিলে
চমকে গেলো আমার!!
মেজাজ কয়বার খারাপ
করা যায়! সিগারেট টা
হাতে নিয়েই চলে
এলাম ঘরে। কলসি থেকে
স্টিলের মগে পানি
ঢালার সময় ডান হাতে
থাকা সিগারেট টার
ওপর পানি পরে
সিগারেট টা নিভে
গেলো। রাগে দুঃখে
সমস্ত শরীর কাটা
দিয়ে উঠলো!! হঠাৎ
অজানা ভয়ে শরীর
জারিয়ে গেলো। এমন
হচ্ছে কেনো সব কিছু?
অন্ধকার ঘরটাতে
মোবাইলের আলো
জ্বালিয়ে দাড়িয়ে
রইলাম। কয়টা বাজে??
মনে পরলো বিকেলে
সিম, মেমোরি,
ব্যাটারি সব খোলা
হয়েছে তাই সময়
রিসেট হয়ে গেছে।
বিগরানো মেজাজ নিয়ে
শুয়ে পরলাম খাটে।
কানের কাছে বো বো
আওয়াজ আসছে। মশারা
উৎপাত শুরু করলো। হঠাৎ
মনে হলো আমি ছাড়া
আরো এক অস্তিত্ব
বিরাজ করছে অন্ধকার
ঘরে। মৃদু গলা খাকানির
মত শব্দ আসলো। শব্দটা
কোন কোণা থেকে আসলো
ঠিক আঁচ করার চেস্টা
করলাম। শব্দটা আবার
আসলো। বুঝলাম খাটের
নিচ থেকে। নিজের
মনের অজান্তেই
মোবাইলের টর্চ
জ্বালিয়ে খাটের নিচে
উকি দিলাম আর
দেখলাম.....
"এক মানবাকৃতি মূর্তি,
চোখ পরো সাদা,
মাঝখানে বিন্দু
পরিমান কালচে মনি।
ফোকলা দাতে হাসি
মাখা মুখ। পলকহীন
ভাবে চেয়ে আছে!!!
আমার পুরো শরীরে
ভয়ের শ্রোত বয়ে
যাচ্ছে। আমার অবস্থাম
পরিবর্তন করা শক্তি
হারিয়ে ফেলেছি বোধ
হয়!! হাসিটা এখনো
বিদ্যমান। জিনিসটা
হামাগুড়ি দেয়া শুরু
করলো!! আমি শক্তি সঞ্চয়
করে দৌড় দিলাম
বাইরের উদ্দেশ্যে।
কিন্তু দড়জা খোলার
কথা ভুলে যাওয়ার
প্রচন্ড ভাবে ধাক্কা
খেলাম। তাতে বিকট
শব্দে দড়জা অর্ধেক
ভেঙে যাওয়ার অবস্থা
হলো। ভয়ে স্নায়ু
সঞ্চালনে বাধা ঘটতে
লাগলো আর নিউরণ গুলো
তথ্য প্রদানে বাধা
পেতে থাকলো।
চিৎকারের বদলে
গোঙানি বের হতে
লাগলো!! জিনিসটা উঠে
দাড়িয়েছে। আমি
হিতাহিত জ্ঞান
হারিয়ে ফেলেছি।
দড়জার কপাট খোলার
বদলে দড়জা
খামছাচ্ছি।
"ওমা শব্দটা ও-য়া তে
রুপ নিলো!!
এক মুহূর্তের জন্যে চোখ
বন্ধ করলাম। একটু পর
আবার খুলে আরেক দফা
চিৎকার দিয়ে উঠে
দাড়ালাম। পলকহীন
চোখ আর ফোকলা হাসি
মাখা মুখটা ঠিক আমার
মুখের সামনে!!
আর সহ্য করতে না পেরে
একটা গোঙানি দিয়ে
জ্ঞান হারালাম।
সকালে জ্ঞান ফিরলো।
দেখি আমার বাড়ির
আশে পাশের লোকেরা
দাড়িয়ে আছে। আমার
মাথায় জলপট্টি দেয়া।
রাহেলা খালা, নুরি,
আকলিমা এরা আমার
পাশে বসা। কি হয়েছে
জানতে চাইলাম তখন
আরশেদ কাকা বললো
"কাইল রাইতে বাইরে
যাইবার জইন্যে বাইর
হইছি, তহন তর বাড়িতে
এটা ঠাস কইরা শব্দ
আহে। তারপর হুনি তুই
চিল্লাইতাছস। পরে
আমি ওগো সবাইরে
ডাইকা তোর বাড়িত
গিয়া দড়জা ভাঙ্গি।
দেহি তুই দোপে পইরা
আছাস।"
রাহেলা খালা বললো
"পোলাডা সারাদিন
খাটনি করে, বাপ মা
নাই। একলা পইরা
থাহে। এটা বিয়া শাদি
করান লাগবো"
পায়ের কাছে বসে
থাকা আকলিমা মুচকি
মুচকি হাসছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now