বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত দুইটা বেজে আঠারো মিনিট...
বনানীর এক শুনশান নিরব সড়কে দাঁড়িয়ে আছে এক টগবগে সুদর্শন যুবক,
পরনে দামি কোট-টাই এবং কালো প্যান্ট,পায়ে পালিশ করা কালো বুট থেকে যেনো চাঁদের আলোতে প্রতিফলিত হয়ে দ্যূতি ঠিকরে পড়ছে।হাতে পরনে রোলেক্সের ঘরিতে যেনো যুবকের আভিজাত্য বেড়ে গেছে বহুগুণে,
রাত দুটো বেজে বিশ মিনিট....
যুবকের সামনে কালো রঙের একটি মার্সিডিজ গাড়ী এসে দাড়ালো।গাড়ির পিছনের দিকের জানালার কাচ নেমে গিয়ে সেখানে এক আগন্তুক এর চকচকে টাকমাথার উদয় ঘটলো,
আগন্তুকঃare you Michael?
যুবকঃ yes.
আগন্তকঃ please tell your password?
যুবকঃ Playboy 69
আগন্তুক তার পাশের একটি দরযা খুলে দিয়ে বল্ল please come.
মাইকেল চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসতেই গাড়ি চলতে শুরু করলো।
কিছুদিন আগেও যুবকের অবস্থা এতোটা আলিশান ছিলোনা,নিতান্তই একজন সাধারণ মানব হিসেবেই ঢাকার বুকে বিচরণ করে বেড়াতো।বাবা মায়ের আকিকা দেয়া নাম ছিলো তাসনিফ।তাসনিফের বাবা ছিলো গ্রামের একজন খেটে খাওয়া সাধারণ একজন দিনমজুর। আর মা ছিলো বিভিন্ন বাসায় কাজ করা একজন সামান্য ঝি। ছোট কাল থেকেই তাদের অন্তরে একটাই আশার কিরণ নিভু নিভু আকারে প্রজ্জ্বলিত ছিলো যে তাদের ছেলে একদিন অনেক বড় আদমি হবে।বাবা মায়ের কষ্টের জীবন থেকে পরিত্রাণ দেবে চিরিকালের জন্য,সেই আশা নিয়েই তাসনিফ কে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন।সেই থেকে স্তরে স্তরে নিজের জীবনের সময়ঘড়ি অতিক্রম করতে করতে একসময় স্কুল,কলেজ,এর জীবন অতিক্রম করে এখন সে ভার্সিটির একজন টগবগে যুবক,ছোটকাল থেকেই সে দেখেছে বাবা মায়ের দুঃর্বিসহ কষ্ট,তাকে মানুষ করে তোলার অদম্য চেষ্টা, তখন থেকেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে যে বাবা মাকে এই কষ্টের বেড়াজাল থেকে যেভাবেই হোক আজাদ করে ছাড়বে।
তবে বিধাতার ইচ্ছে হয়তো অন্যরকম ছিলো।কোন একরাতে প্রচণ্ড ঝড়ে গ্রামের নদী ভাঙ্গন শুরু হয়,এবং এই নদি ভাঙ্গন এতোটাই প্রবল আকার ধারন করে যে কিছুদিনের মাঝেই এই ভাঙ্গন তাসনিফদের ঘরের কাছাকাছি চলে আসে।ভিটেমাটির প্রতি মায়া থাকার কারনে তাসনিফের বাবা-মা মানুষের শত বারন সত্বেও সেখানেই আকড়ে পরে রইলেন,
একদিন এক গভির রজনিতে তাসনিফদের বাড়ি খরস্রোতা নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে হয়ে যায়,সেইসাথে বাড়ির মধ্যে বাবা মা ঘুমিয়ে থাকার কারনে বাড়ির সাথে সাথে তারাও নদীর গর্ভে হারিয়ে যান,শতখোজাখোজি সত্বেও কেউ তাদের হদিস বের করতে পারলোনা,তাসনিফ বাবা মার একমাত্র সন্তান হবার কারনে বাবা মায়ের এমন অকাল মৃত্যুতে সে দারুণভাবে মুষড়ে পরলো,দেখতে দেখতে একমাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ গ্রাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেলো।সেই সাথে তাসনিফ আর কোন উপায়ন্তর না পেয়ে চিরদিনের জন্য ঢাকায় চলে আসলো,আর সল্পভাড়ায় একটি মেসে বাসবাস করা শুরু করলো।ভার্সিটি তে ক্লাস করার পাশাপাশি চার-পাঁচটা টিউশনি আর কিছু পার্ট টাইম জব করে কোন ক্রমে জীবন গুজার করছিলো,এতো কিছুর মাঝে তাসনিফের একটা ভালো গুন এই ছিলো যে সে ইংরেজি তে ভালো দক্ষতা অর্জন করে ছিলো,তার এই গুন দেখে তার একবন্ধু তাকে বিদেশ থেকে আসা টুরিস্টদের গাইড করার জন্য পরামর্শ দিলো,এবং সে টুরিস্টদের গাইড করার একটা চাকরীও জুটিয়ে দিলো।কয়েকটা টিউশানি আর পার্টটাইম জবের পাশাপাশি এই টুরিস্ট গাইডের চাকরিটা করার সুবাদে ফরেনার অনেক মানুষের সাথে তার সখ্যতা গরে উঠলো।সেই সাথে টাকাপয়সা ইনকামের একটা ভালো উপায় সে খুঁজে পেলো। একদা সেই সুবাদে অস্ট্রেলিয়া থেকে এক লেখিকা নিজের গল্পের স্ক্রিপ্টের জন্য বাংলাদেশ এ সফরে এলো,এবং ভালো গাইডনেস কাম সহকারী সরুপ একজন লোকের জন্য জন্য তাসনিফদের এজেন্সিতে এপ্লাই করলো।তাসনিফ যেহেতু ইংরেজিতে পটু এবং ঢাকার আশেপাশের সব জায়গা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তাই এই কাজের জন্য একমাত্র তাসনিফ কেই বেঁছে নেয়া হলো।যেহেতু সেই ম্যাডামের একজন সহকারীর দরকার ছিলো সে হিসেবে তাসনিফকে সারাক্ষণ ম্যাডামের সাথেই থাকতে হবে এমনটাই তাকে বলা হলো।এবং যে কয়দিন ম্যাডাম হোটেলে থাকবেন সেই কয়দিন তাসনিফকেও সেই হোটেলে থাকতে হবে।যাতে করে ম্যাডামের কোন সমস্যা হলে তার সমাধানের যথাসাধ্য চেষ্টা করা যায়।সে হিসেবে তাসনিফ তার কাজ শুরু করলো।কিছুদিন ম্যাডাম কে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান গুলোতে ঘুরিয়ে আনলো,ঢাকার মানুষের বিচিত্র হাবভাবের সাথে ম্যাডামের মিশতে হয়তো অনেক সমস্যায় পরতে হতো কিন্তু তাসনিফ থাকায় ম্যাডামের জন্য মানুষের সাথে মেলামেশাটা অনেক সহজ হয়ে গেলো।
কিছুদিন পরের কথা.....
আর মাত্র দুইদিন পর ম্যাডাম তার স্বদেশে চলে যাবে,এই কয়দিন তাসনিফকে গাধার মতো খাটতে হয়েছে ম্যাডামের পিছনে। সেই চিন্তা করে মনে মনে খুশিই হলো সে,আজ সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ম্যাডামকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বেজায় ক্লান্ত সে। সন্ধ্যার দিকে হোটেলে এসে শাওয়ার ছেড়ে আজ সারাদিনের
ক্লান্তি দূর করার সাময়িক চেষ্টা চালালো,শাওয়ার থেকে আসার পর ক্লান্তি মনে হলো আরো চেপে বসেছে শরীরের শিরায় শিরায়।
কোনমতে কাপড় বদলে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই হারিয়ে গেলো ঘুমের রাজ্যে।
ঠক..ঠক..ঠক
দরযায় এক নাগারে কড়া বেজেই চলেছে,
তাসনিফের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
এতো রাতে আবার কে এলো?এই চিন্তা করতে করতে হাতের ঘড়ির দিকে নজর বোলালো।
ঘড়িতে রাত ১টার সংকেত দিচ্ছে,
প্রচন্ড ঘুম আর বিরক্তি নিয়ে দরযা খুলতেই ঘুম আর বিরক্তি দুইটাই একদম উবে গেলো।
দরযার সামনে ম্যাডাম দাঁড়িয়ে আছে,পড়নে সুধু সাদা একটা নাইটি যার দৈর্ঘ্য হাটু অবদি এসে শেষ হয়ে গেছে,মুখটা ভিষন লাল হয়ে আছে,আর চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে, যেন এই মাত্র শাওয়ার থেকে এসে সোজা তার দরযার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন......চলবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now