বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আমার ছেলেবেলা
"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখাঃ অনয়...
আমার পিঠে কাচা কঞ্চির আদর বয়েই চলেছে। এই তোরে কতবার নিষেধ করছি যে তুই মার্বেল খেলতে যাবি না। আমার কোন কথায় কি তোর কান প্রবেশ করে না। আজকের পর আর কোন দিন যদি শুনি তুই মার্বেল খেলতে গিয়েছিস এই কাচা কঞ্চির একটা বাডিও মাটিতে পরবে না। সব তোর পিঠে ভাঙবো। ও আরেকটা কথা তুই সুমাদের পুকুরে নেমেছিলি কেন? তুইকি জানস না ঐ পুকুর ভাল না বলেই গালে জোরে একটা চড় বসিয়ে দিল মা। আমার হাত পা কাপতেছে ভয়ে। মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। শুধু চোখ থেকে পানি বের হয়ে গাল বেয়ে মাটিতে আশ্রয় নিচ্ছে। মায়ের হাতের চারটা আঙ্গুলের ছাপ আমার গালে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। আম্মুর হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলটা আমার প্রতি সদয় হয়েছে যে কারনে তার ছাপটা গালে বসে নি। আমার বা গালটা সিধুরের মত লাল হয়ে গেছে। নানুর কল্যাণে আমি আম্মুর হাত থেকে রক্ষা পেলাম। আমার পিঠ আর গালের করুন পরিনতি দেখে নানু আম্মুকে ইচ্ছামত ঝাড়লেন। আমি মনে মনে ভিশন খুশি হলাম আর বললাম বেশ হয়েছে। নানু আমায় রোমে নিয়ে গিয়ে পিঠে আর গালে কুপির পোড়া কেরোসিন লাগিয়ে দিলেন।
আমি অনয়। বাবা নেই। মা আর এক ছোট ভাই। যখন আমার বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর তখন আমার বাবা না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তখন থেকেই আমরা নানু বাড়িতে থাকি। আর সুমা হচ্ছে আম্মুর বান্দবির মেয়ে। বলতে পারেন আম্মুর ইনফরমার। আমাদের বাড়ি থেকে সুমাদের বাড়ির দুরত্ব পাঁচ মিনিটের পথ। দিনে খুব বেশি আসে না কিন্তু আম্মু বাড়ি এলেই এসে হাজির। আম্মুও সুমাকে খুব পছন্দ করে। সুমা আম্মুর অনেক কাজ করে দেয়। আর এই সুমার কারনেই আমি আজ আম্মুর হাতে মার খেলাম।
মা চাকরি করার কারনে প্রতিদিন সকালে চলে যেত আর ফিরে আসতো প্রায় সন্ধ্যায়। তাই আমরা দুই ভাই বলতে গেলে নানুর কাছেই মানুষ হয়েছি। আমার ছোট ভাই সবার কাছেই ভাল। ও যেমন লেখাপড়াতে ভাল ছিল তেমনি দেখতেও অনেক কিউট। ও ছিল খুব শান্ত আর ভদ্র তাই কখনো মার কাছে ওর নামে কোন রিপোর্ট আসেনি কোন দিন। আম্মুর যত ঝামেলা ছিল আমাকে নিয়ে। আম্মু বাড়িতে এলেই আমার নামে নানা অভিযোগ শুনতে পেত। আর এর সব গুলোই আম্মুর কানে তুলে দিতে সুমা। এই কারনে সুমা আমার হাতে অনেক মারও খেত। তবুও আমার পিছু ছাড়ত না। এই জন্য ওর আম্মুর কাছেও বকা খেত। আমার ছোট ভাই আমার নামে কোন অভিযোগ উপস্থাপন করতো না আম্মুর কাছে। অবশ্য এর একটা কারনও আছে। একদিন আমি তাকে অনেক মেরেছিলাম আমার নামে অভিযোগ দিয়েছিল বলে। এরপর ভয়ে আর কোনদিন অভিযোগ দেয়নি আমার নামে।
আমি স্কুল থেকে ফিরেই নাম মাত্র খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়তাম আমার কাজে। কখনো ক্রিকেট, কখনো ফুটবল, কখনো মার্বেল, কখনো দাড়িয়াবান্ধা আবার কখনো বা গোল্লাছোটে মেতে থাকতাম সারাটিবেলা। মাঝেই মাঝেই মার নিষেধ অমান্য করে সুমাদের পুকুরে সাতার কেটে বেড়াতাম অনেকটা সময় জুড়ে। যদিও তাদের পুকুরের নামে একটা কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। ওই পুকুরে নাকি অদৃষ্ট আত্মা আছে। কোন দিনই আমার ওসবে কেয়ার ছিল না। আমি অবলীলায় সাতার কেটে বেড়াতাম। বেশীর ভাগ সময় সুমার চোখে ফাকি দিতে পারলেও মাঝে মাঝেই ধরা খেতাম। আর এই সুযোগে সুমা আমায় ব্লাক মেইল করতো। কখনো পেয়েরা পেড়ে দিতে হতো কখনো বা বড়ই। আর না পেলেই আমার নামে অভিযোগ তুলে দিত আম্মুর কানে। আর বিনিময়ে উপহার বেদম প্রহার। সুযোগ পেলেই বিলে ছুটে যেতাম বড়শি হাতে। মাছ পাই বা না পাই ঠাই দাড়িয়ে থাকতাম বড়শি হাতে। বড়শি দিয়ে মাছ ধরার নেশায় অনেকটা সময় রোধে থাকার কারনে আমার হাত, পা আর মুখমন্ডল এক কালার আর সারা শরীর অন্যকালার হয়ে যেত। যদিও বড়শি দিয়ে ধরা মাছ আমি কখনই খেতাম না। ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বল যদি ভুল ক্রমে কারো ঘরের টিনেতে গিয়ে লাগতো শুনতে হতো প্রচুর বকা। আর এর প্রতিশোধ নিতে কত মাটির চুলা যে গুড়িয়ে দিয়েছি তার কোন হিসাব নেই। বন্ধুদের সাথে ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে কতজনের ঘুড়ির সুতা ছিড়ে দিয়ে ভৌ দৌড় দিয়েছি তা মনে হলে আজও হাসি পায়। কত মোরগ ধরে যে শিন্নি রান্না করের খেয়েছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। তবে আমরা কখনই আমাদের গন্ডির বাইরে যেতাম না। আমরা যে কয়জন অংশগ্রহন করতাম এই খাবারে তাদেরই কারো ঘরের মোরগ আনা হত এই খানে। কিন্তু অগোচরে। আম, পেয়েরা, কাঁঠাল, ডাব, পেঁপে এসবের কথা আর নাই বা বললাম।
তবে মাত্রাতিরিক্ত লাজুক হওয়ার কারনে মেয়েদের সাথে খুব একটা মিশতাম না। এই কারনে কোন আত্মীয়র বাড়িতেও যেতাম না সহজে। স্কুলে ছেলেদের সাথে সখ্যতা থাকলেও মেয়েদের সাথে কখনো সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। প্রয়োজন ব্যতিত স্কুলের কোন মেয়ের সাথেই কখনো কথা বলিনি। আমার মেয়ে বন্ধু বলতে শুধু সুমা । যদিও সুমা আমার দুই ক্লাশ জুনিয়র। তবুও একমাত্র তার সাথেই আমি ভালভাবে কথা বলতাম। অনেক স্মৃতি মুছে গেছে। যেগুলোর কথা হয়তো আমার মনে নেই।
তবে একটা স্মৃতি আজও আমার মনে তরতাজা। তখন আমি ক্লাশ টেনে পড়ি। আমার ভিশন জ্বর হয়েছিল। টাইফয়েড। ডাক্তার বলে ছিল আমার মাথায় যেন সবসময় পানি দেওয়া হয়। দিনের বেলায় নানু, দুই মামি, ছোট ভাই আর সোমা পানি দিয়ে দিত। আর রাতে মা। আর নিয়মিত ঔষধ সেবন করে যাচ্ছি। কিন্তু জ্বর কমার কোন নাম গন্ধ নেই। এক রাতে আম্মুরও শরীর খারাপ। আমি ভিশন জ্বরে প্রায় অবচেতন। সেদিন সুমা আমার মাথায় সারারাত পানি ঢেলেছে আর জলপট্টি দিয়ে দিয়েছে। কখন যে ক্লান্ত হয়ে সুমা আমার বুকের উপর ঘুমিয়ে পড়েছিল সে কিছুই বলতে পারে না। সুমার এহেন কান্ড দেখে আম্মু, মামী, নানু আর ওর মা ভিশন হেসে ছিল। তাই সে লজ্জ্বায় আমাদের বাড়িতে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি পনেরো দিন স্কুলে যেতে পারিনি। তাই আমার ক্লাশের সবাই এসেছিল আমাকে দেখতে। সাথে সুমাও। ঐ ঘটনার সাতদিন পর। সেদিন আমি প্রথম আমার ক্লাশের সবার সাথে কথা বলেছিলাম।
আজ আমি অনেক বড় হয়ে গেছি। কিছুদিন হল একটা চাকরিতে ডুকেছি। বাবার মত নানুও পাড়ি জমিয়েছে না ফেরার দেশে। সুমা অনার্স থার্ড ইয়ার এ পড়ে। আগের মত আর আমার পিছু নেয় না। আম্মুর সাথে সুমার সখ্যতা আরও বেড়েছে। আমার ছোট ভাই ও বড় হয়ে গেছে। আমার স্মৃতির ডায়রি বেড়েই চলেছে। মাঝে মাঝেই ইচ্ছা হয় শৈশবে ফিরে যেতে। কিন্তু আমার অজানা নয় এটা শুধু এক অবাস্তব কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। তেমনি কখনোই আর ফিরে পাব না হারাবো বা হারিয়েছি যাদের। তাদেরই পথ অনুস্বরন করে, এবেলা ওবেলা কাটিয়ে অবশেষে আমাদেরও পাড়ি জমাতে হবে না ফেরার দেশে।
®®®®®♥♥♥♥®®®®®
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now