বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সিঁদুর রঙা শাড়ীটার দিকে এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে
আছে পৃথিলা । আমি জানি শাড়ীটা একটু বেশি ই
সুন্দর ! কিন্তু এতটা তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার
মত কিছুনা । একবার ভাবলাম পৃথিলা কে ডাকবো , ওর
অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকাটা দেখতে আমার
কেমন যেন লাগছে ! অন্য এক পৃথিলা কে
দেখছি আমি , যার সাথে আমার কোন সম্পর্ক
নেই !
পৃথিলার সাথে আমার পরিচয় বেশ অদ্ভুত ভাবে ।
একবার একুশের বইমেলায় বিকেল ৫টার কাছাকাছি
সময়ে একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম , ছোট্ট একটা
স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবির পকেট হাতাচ্ছি ,
বেনসনের প্যাকেটের উদ্দেশ্যে , হঠাত
চোখ পড়লো একটা শ্যামলা মায়া মায়া মুখের
মেয়ের দিকে ! মেয়েটা এমন ভাবে বই এ নাক
ডুবিয়ে আছে , যেমন করে কোন মা তার বাচ্চার
চুলের ঘ্রাণ নেয় কিংবা যেমন করে একটা ছোট্ট
মেয়ে তার পুতুলের ঘ্রাণ শোঁকে । উহু হচ্ছে
না , আমি আসলে কোন উপমায় মেয়েটাকে
সাঁজাতে পারছিলাম না , ব্যাপার টা আমার জন্য নতুন ।
আমি যেকোন কিছু দেখে ভাল কিছু বাক্য
অনায়সে মাথায় সাজিয়ে নিতে পারি , বন্ধুমহলে কবি
হিসেবে পরিচিতি আছে , টুকটাক লেখা
পেপারেও যায় , দু একটা নাম ও কুড়িয়েছে ।
সেদিন বাসায় আসার পর ও মাথায় মেয়েটা ঘুরছিলো
। আমার দেখা অন্যতম শুদ্ধ দৃশ্য । কি জানি কি
কারণে সারারাত ঘুমোতে পারিনি । শুধু আবিষ্কার
করলাম প্রতিদিন বিকাল ৫ টার কাছাকাছি সময়ে আমি ওই
স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি । আমি তখন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র , টুকটাক টিউশনি আর ফ্রি
ল্যান্সিং এর কাজ করে পেট চালাই , বাবা মা এর কাছে
এ বয়সে হাত পাততে বেশ বিবেকে লাগে এখন
। আমার সব কাজ লাতে উঠলো ! সে বছর টা
অধিবর্ষ ছিলো , ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখে যখন আমি
রীতিমত হাল ছেড়ে দিয়ে বিরস বদনে হাতে
একটা সিগারেট নিয়ে বই মেলায় ঘুরাঘুরি করছি তখন ই
আমার সাথে মেয়েটার দেখা হয় আবার । খুব
বিরক্ত একটা স্বরে শুনতে পেলাম কেউ বলছে
-
সিগারেটখোর দের আমি দুই চোখে দেখতে
পারিনা । এরা নিজেরা তো মরেই , আশেপাশের
সব্বাইকে নিয়ে মরে , এদের মাথা ভরা গাধার
পুরীষ !!
আমি খুব বিরক্ত হয়ে মেয়েটার দিকে তাকালাম ,
চোখের দৃষ্টিতে কাউকে ছাই করা গেলে ওই
মুহূর্তে করে দিবো এরকম একটা ভাব , কিন্তু
তাকাতেই হকচকিয়ে গেলাম ! আরে এতো
সেই মেয়েটা , অতিবিস্ময়ে হাত থেকে কখন
সিগারেট পড়ে গিয়েছে খেয়াল করিনি ! সেই বার
ই শেষ , এরপর আর কখনো কেন জানি আমি
সিগারেট খেতে পারিনি , সিগারেট কোম্পানী
জানতে পারলে মেয়েটার নামে মামলা ঠুকে
দিতো নির্ঘাত ! দিনে তিন প্যাকেট বেন্সনের
ধোঁয়া না গিললে আমার যে হতোইনা ।
মেয়েটার চোখের দৃষ্টির তীব্র ঘৃণা দেখে
আমি আরো হকচকিয়ে গেলাম । আমার সামনে
দিয়ে গটগট করে হেটে চলে গেলো !
মেয়েটার চেহারায় বাচ্চাভাব প্রবল , বয়স টা ঠিক
আন্দাজ করতে পারছিলাম না ,পনেরো হতে
পারে আবার কুড়ি ও হতে পারে । কিন্তু চাহনি টা
কেমন অন্যরকম ! অনেক বেশি দুনিয়া দেখে
ফেলেছি টাইপ একটা ভাব , চেহারায় আভিজাত্য
আছে , নাক উঁচুভাব আছে কিন্তু সব ছেপে
করে সারল্য টা কেমন বের হয়ে আসে । হঠাত
মাথার ভেতরে কেউ বলে উঠলো ,
গাধার বাচ্চা , চেহারা নিয়ে গবেষণা করতে করতে
তো মেয়েটাকেই হারাবি , দৌড় লাগা ! এখনো
মেলার ভেতরেই থাকার সম্ভাবনা ৯০% ।
তারপর বহু কাঠখড় পুড়িয়ে পরিচয়। নাক উঁচু স্বভাবের
মেয়েটা আমাকে প্রথম প্রথম পাত্তাই দিতে
চাইতোনা । আমাকে দেখলেই মোটা ফ্রেমের
চশমা পড়ে চেহারায় আমি কি হনুরে ভাব নিয়ে গটমট
করে হেটে চলে যেতো । বরফ
গলেছিলো বেশ কষ্টে , ততদিনে আমি ঢাকা
ভার্সিটির কলাভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মজনু
টাইটেল পেয়ে গেছি । প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকি ,
মেয়েটা ফিরেও তাকায়না । একদিন খুব জ্বরে
পড়লাম , থার্মোমিটারে যখন মেপেছি , ১০২
ছিলো । জ্বর গায়ে কলাভবনের সামনে দাঁড়িয়ে
আছি , মেয়েটা আমাকে পাত্তা দেয় না , ঘুরেও
তাকায় না কিন্তু ওকে একদিন না দেখলে আমার
ভেতর যে অদ্ভুত অস্থিরতা সৃষ্টি হয় তা সহ্য করার
থেকে জ্বর গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঢের ভাল । আমার
যতটুকু মনে আছে পৃথিলা গেট দিয়ে বের হয়ে
আমার দিকে বিষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো , প্রতিদিন
ই করে নতুন কিছুনা ! মেয়েটা নাকের পাটা
ফুকিয়ে ঝগড়া করতে চলে এলো ।
আপনি প্রতিদিন এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন কেন ?
সরকারি জায়গা , দাঁড়ালে তোমার কি ??
আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন ?
বাচ্চা কাচ্চা দের তুমি করেই ডেকে থাকি ।
আপনি খবরদার এইখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন না ,
একদম ঠ্যাং ভেঙ্গে লুলা বানিয়ে দিবো !
আমি তর্ক করে কিছু বলতে যাচ্ছিলাম , ! কিন্তু
সেইদিন উপর ওয়ালা মনে হয় ওর মনের চাওয়া
কবুল করে নিয়েছিলেন , আমি বেশ টের
পাচ্ছিলাম আমার জ্বর বাড়ছে , মনে হচ্ছিলো
দুনিয়াটা বন বন করে ঘুরছে ! হঠাত ই আমি কাটা
কলাগাছের মত ঠাশ করে পড়ে গেলাম !
হাসপাতালে যখন চোখ মেলি শ্যামলা নাক উঁচু
মেয়েটার চোখ লাল হয়ে গিয়েছে কাঁদতে
কাঁদতে ! আমার বেড এর পাশেই বসে এক
নাগারে হেঁচকি তুইলে যাচ্ছে ! আমি চোখ
মেলতেই দুদ্দাড় তেড়ে এলো , দু একটা কিল
ঘুষির পর যা গালি শুনলাম ও টুকু বাদ ই দেই নাহয় !
আমি তখন মনে মনে ভাবছি ,
আমি পাইলাম , উহারে পাইলাম !
পৃথিলার খুব গভীর দৃষ্টির মাঝেও একটা ছোট্ট
মেয়ে বাস করে আমি বুঝতে পেরেছিলাম
পরিচয়ের প্রথম দিন গুলোতেই । মাঝে মাঝে
ওর উচ্ছল হাসি কিংবা গভীর অভিমানে সেই বাচ্চা
মেয়েটা বের হয়ে আসতো । আমি এবং পৃথিলা
দুজন দুজন কে নিয়ে খুব খুশি ছিলাম , কিন্তু আমি
তখন ও পৃথিলার সব হয়তো ছিলাম না । আমি বেশ
বুঝতে পারতাম, আমি পৃথিলার জীবনে আসার পর ও
ওর নিজের একটা জগত ছিলো যেখানে আমার
প্রবেশাধিকার নেই । আমি তা নিয়ে কখনোই
আফসোস করিনি কারণ ওকে যতখানি পেয়েছি
ততখানি পাওয়া আমার সাত জনমের ভাগ্য !
মাঝেমাঝেই পৃথিলা হারিয়ে যেতো , আমি ওকে
অনেক খুঁজেও পেতাম না । মোবাইল , ফেসবুক
, ম্যাসেঞ্জার কিংবা ভার্সিটির হল , টি এস সি ...
কোথাও না ! প্রথম প্রথম ওকে জিজ্ঞাসা করলে
বলতো আমার মাঝে মাঝে হারিয়ে যেতে ভাল
লাগে ইহান ! খুব বেশি প্রশ্ন করা আমার ধাঁতে
নেই , আমি পৃথিলা কে অনেক বেশি খুশি ছিলাম ,
আর কিছুতে মন লাগতো না ! পৃথিলা একাই আমার
দুনিয়া হয়ে গিয়েছিল আসলে ।
মাঝে মাঝেই আমি আর পৃথিলা রিক্সা করে ঘুরতাম ,
পৃথিলা রিক্সার বাম দিক ছাড়া বসতে পারেনা , একবার
রিক্সা থেকে পড়ে যেতে নিলে আমি ওর হাত
ধরে ফেলি । এরপর থেকে কখনো রিক্সায় ওর
হাত ছাড়িনা , ঐ কিছুটা সময় ওর চোখের কোনায়
পানি টলমল করে , কখনো গড়িয়ে পড়েনা আর
আমি ভাবি এই মায়াবতী মেয়েটা আমার !
এর মধ্যে আমার পড়াশোনা শেষ , বেশ ভাল
একটা চাকরিও জুগিয়েছি । তিন বছরের সম্পর্কটাকে
একটা আনুষ্ঠানিকরূপ দেয়ার সময় হয়ে এসেছে
আমি বেশ বুঝতে পারি। পৃথিলাকে অফিসিয়ালি
প্রপোজ করা যাকে বলে কখনো করা হয়নি ,
আমরা কেউ কাউকে বলিনি ভালবাসি । সামনে পহেলা
বৈশাখ আসছে , আমার মাথায় নানা চিন্তা ঘোরে ।
পৃথিলা এই এক আজব মেয়ে যাকে আমি কখনো
তার পছন্দের লাল রঙের পোষাক পড়তে
দেখিনি । আমি জানি মেয়েটার প্রিয় রঙ সিঁদুর লাল ।
কিন্তু কক্ষনো লাল রঙের কোন কিছু ওকে
ব্যবহার করতে দেখিনি ! শ্যামলা মেয়েদের লাল
রঙে কি যে অসাধারণ লাগে তা আমার ভেতরের
আটকে থাকা কবি মন জানে , কিন্তু পৃথিলাকে
কখনো আসলে জিজ্ঞ্যেস ই করা হয়নি ও কেন
লাল পরে না । যাই হোক , আমি পৃথিলা কে একদম
আমার মত করে প্রপোজ করতে চেয়েছিলাম ।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কোম্পানীর ট্যুরে
আমাকে ঢাকার বাইরে যেতে হবে তাই মার্চের
৩১ তারিখে পৃথিলা কে দেখা করতে বলে
দেই ! ও প্রথমে রাজি হচ্ছিলো না , কিন্তু পরে
ঠিক ই রাজি হয়ে যায় । আমি সেদিন সাত সকালে
উঠে আগে কাঠবেলির মালার খোঁজে শাহবাগ
দৌড়াই । বেলি ফুল আর সিঁদুর রঙা জামদানি নিয়ে ওর
বাসার নিচে এসে ফোন দেই । পৃথিলা নেমে
আসে আরো মিনিট পনেরো পরে , ওর
চোখের নিচে কালি , দৃষ্টির উদ্ভ্রান্ততা বেশ
স্পষ্ট । আমি প্যাকেট টা ধরিয়ে দিয়েছিলাম , ও
কোন উচ্ছ্বাস দেখালো না । প্যাকেট খুলে
সিঁদুর রঙা শাড়ীটার দিকে এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে
থাকলো , আমি আবিষ্কার করলাম ওর চোখে
শূন্যতা আর হাহাকার ছাড়া কিছু নেই । ওর চোখ
দিয়ে হঠাত পানি পড়তে শুরু করলো , আমি নির্বাক
হয়ে দেখলাম আমার পৃথিলা কাঁদছে , হাউ মাউ করে
কাঁদছে !
***
জানো আমি যখন ফার্স্ট ইয়ারে, হঠাত ই লাল
রঙের প্রতি আমার ভালবাসা খুব বেড়ে গেলো ,
আমি কিন্তু আগে লাল রঙ দুই চোখে দেখতে
পারতাম না । সেই আমার সিঁদুর লাল রঙ এর প্রতি এক
অদ্ভুত আগ্রহ তৈরি হল । একটা সিঁদুররঙা শাড়ীর ভুত
এমন ভাবে আমার মাথায় চাপলো ! আমি সারাক্ষন
আম্মু আর বাবার সাথে ঘ্যান ঘ্যান করি । বাবা প্রায়ই
বলতেন এইতো মা বিল টা পেয়ে নিই , তোকে
একটা লাল শাড়ীর দোকান ই কিনে দিবো ! আমার
খুব মন খারাপ হতো কারণ বাবার বিল পাওয়া আর সেই
টাকা ঘরে আসা অমাবস্যায় ঈদের চাঁদের মত
ব্যাপার ! আমার বাবা বেশ দিল দরিয়া মানুষ , বাবা বিল
পাওয়ার পর রাজ্যের মানুষের সমস্যা মেটাতে
ব্যাস্ত হয়ে যান , আম্মা যে কেমন করে সংসার
টিকিয়ে রাখেন তা ভাবতে গেলেই আমার মাথা নষ্ট
হয়ে যায় ! এর মধ্যে আম্মার ওষুধ , আব্বার ওষুধ
, গ্রামে বিধবা চাচীকে টাকা পাঠানো ইত্যাদি খরচ
লেগেই আছে ! মধ্যবিত্তের নানা সমস্যায়
জর্জরিত আমার বাবার আমাকে একটা লাল শাড়ি কিনে
দেয়ার টাকা হয়ে উঠেনা ! মার্চের দ্বিতীয়
সপ্তাহ আসার পর থেকেই বাবার কি যেন হল , বাবা
রাতে আর ঘুমোয় না ! তারপর একদিন আমি বাবার
সাথে খুব ঝগড়া করলাম , বন্ধুরা সব লাল শাড়ি পড়ছে
, আমাকে না কিনে দিলেইনা ! বাবা ৩০ মার্চ রাতে
আমাকে তার ঘরে ডেকে নিলেন , সারারাত খুব
গল্প হলো , বাবা পরদিন বিল পাবেন , প্ল্যান
করলাম ৩১ তারিখ আমি আর বাবা শপিং এ যাবো । দুজন
প্রায় ভোর রাতে খাবার খেলাম , বাবার হাতে না
খেলে আমি কক্ষনো তৃপ্তি পেতাম না । যখন
ভোর হয় হয় , বাবা আমাকে জোর করে
ঘুমোতে পাঠালেন , তার আগে হঠাত ই বললেন
,
অনেক দূরে চলে যাবো রে মা ! এখানে আর
ভাল লাগেনা !
আমি খুব বিরক্ত হয়েছিলাম , বাবা প্রায়ই এ ধরনের
কথা বলেন , আমার কি যে রাগ হয়!
ভোর ৬ টায় বাবা মারা যান । আব্বা যখন ব্যাথায় ছটফট
করছেন , আম্মা তখন দৌড়ে বাইরে গেছেন
ডাক্তারের খোঁজে , পাশেই এক ডাক্তারের বাড়ি
। বাবা কলেমা পড়ার আগে একবার চোখ
খুলেছিলেন , আমাকে বললেন ,
স্যরি মা , আজকেও মনে হয় পারলাম না ।
তারপর ই বাবার কথা বন্ধ হয়ে গেলো ।আমি অবাক
হয়ে দেখলাম বাবার জিহবা আসতে আসতে নিচে
নেমে যাচ্ছে , আমি বুঝতে পারছিলাম পরিষ্কার সব
, আমি বুঝতে পারছিলাম একটু পর আমি আর কাউকে
বাবা ডাকতে পারবো না । আমি বাবাকে জিজ্ঞাসা
করলাম ,
বাবা , পানি খাবে ??
বাবা মাথাটা উপর নিচ করলেন । আমি বাবার মুখে পানি
দিলাম , আমি তাকিয়ে দেখলাম বাবা চলে গেলেন ,
আমি এই হাতে তার নিষ্প্রাণ চোখ দুটি বন্ধ করে
দিলাম । আমি নিজ হাতে বাবার চোখ দুটো
চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিলাম । একবার ডাকলাম
ও বাবা , বাবা !!
বাবা আর চোখ খুলে তাকাননি । নিজের চোখের
সামনে আমি বাবাকে চলে যেতে দেখলাম । আমি
জানতাম মৃত্যু কষ্টের কিন্তু বাবাকে চলে যেতে
দেখার পোড় আমার ধারণা বদলে গেলো । আমি
জানলাম মৃত্যুর চেয়ে সহজ আর বড় সত্য এই
পৃথিবীতে কিচ্ছু নেই , হতে পারেনা ।
আমি এরপর থেকে আর লাল শাড়ী পড়িনা , লাল
রঙ টা দেখলে আমার অনেক কষ্ট হয় ইহান ,
অনেক কষ্ট হয় ! বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে
আজ পর্যন্ত আমি শব্দ করে কাঁদতে পারিনি ইহান ,
আমার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গিয়েছিলো । বড়জোর
চোখের কোণে দুফোটা জল জমতো , আমি
চাইলেও কাঁদতে পারিনি ইহান । সমস্ত কান্না যেন
আমার গলার কাছে দলা পাকিয়ে আটকে থাকতো ।
তোমাকে ধন্যবাদ , আজ কত বছর পর , কত বছর
পর আমি প্রাণ খুলে কাঁদলাম , তোমাকে ধন্যবাদ
ইহান , অনেক ধন্যবাদ ।
***
আজ পহেলা বৈশাখ , দূর থেকে দেখলাম পৃথিলা
হেটে আসছে , পড়নে লাল শাড়ী , খোপায়
কাঠবেলির মালা । বুক থেকে দম ধরে আটকে
থাকা নিশ্বাসটা বের হয়ে এলো । আমি নিজের
অজান্তে ওর ভেতর আটকে থাকা অভিমানের
একটা বিষবাষ্প সরিয়ে দিয়েছি । পৃথিলার কাছে ওর
অতি প্রিয় লাল রংকে ফিরিয়ে দিয়েছি । পৃথিলা আমার
কাছাকাছি চলে এসেছে , আমি অবাক হয়ে ও কে
দেখছি একটু পর পর ! কি চমৎকার মায়াবতী
লাগছে ওকে লাল শাড়ীতে , একটা মেয়ে
কেমন করে ভেতরে এতো মায়া ধরে থাকে ?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now