বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নেকড়ে মানুষ(তিন গোয়েন্দা) ২য় পর্ব

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rimel Islam (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ শামসুদ্দীন নওয়াব ...র্যাম ছেলেমেয়েদের দিকে চেয়ে হ্যাটটা পরে নিল। 'স্যরি', বলল। 'রানশটা নিয়ে সামান্য সমস্যা হচ্ছে। আমরা একমত হতে পারছি না কী করা উচিত। আমি স্যামকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে এই ১০০তম জন্মদিনটা সেলিব্রিট করতে রাজি করিয়েছি। আমার ধারণা, এতে ব্যবসা বাড়বে। এতে যদি কাজ না হয়, তবে আমরা কী করব জানি না। আমি শুধু চাই স্যাম যেন হর্সশুগুলো বিক্রি করে না দেয়।' 'হর্সশুগুলোর মধ্যে বিশেষ কী এমন আছে?' প্রশ্ন করল জিনা। মৃদু হাসল র্যাম। 'কথাটা শুনতে বেশ মজার লাগে', বলল। 'আমাদের পরদাদা যখন রানশটা চালু করেন, তখন চারটে সোনার হর্সশু বানান। আমরা আজকের উৎসবের রাতে সেগুলো শো করব। হর্সশুগুলোর এখন অনেক দাম, কিন্তু পরদাদা ওগুলোকে গুডলাক চার্ম মনে করতেন।' 'নেকড়ের মূর্তিটা যেমন', বলল কিশোর। 'তোমার এখনো কয়োটি পলের ক্যাম্পফায়ার গল্পগুলো মনে আছে দেখছি', বলল র্যাম। 'স্যাম সব সময় হর্সশুগুলো বেচে দেওয়ার কথা বলে, আমরা যাতে রানশটাকে বড় এক কাউবয় রিসোর্ট বানাতে পারি। কিন্তু আমি চাই এটা ছোট্ট ও ছিমছাম অবস্থায় থাকুক। আগে যেমন ছিল আর কি। পরদাদাও সম্ভবত এমনটাই চাইতেন।' 'আমি কী চাই বলি শোন্', রাফির কানে ফিসফিস করে বলল মুসা। 'বড়সড় একটা বার্গার।' লেজ নেড়ে সায় জানাল রাফি। তিন মুসা আর রাফি কাঠের বেড়াটার পাশে দাঁড়াল। করালের ভেতরে দুটি ঘোড়া দৌড়ে বেড়াচ্ছে। এক কাউবয় বেড়ার এক খুঁটিতে উঠে দাঁড়িয়েছে। মাথার ওপরে বিশাল এক ল্যাসো ঘুরিয়ে ছুড়ে দিল করালের ভেতরে। একটা ঘোড়ার ওপর আছড়ে পড়ল ওটা। 'দেখলি, রাফি?' প্রশ্ন করল মুসা। 'বসে থাকা জিনাকে ফাঁস পরানোর চেয়ে ছুটন্ত ঘোড়াকে ফাঁস পরানো অনেক কঠিন কাজ। একবার চেষ্টা করে দেখি, কি বলিস?' রাফি ঘেউ ঘেউ করে সায় জানাল। মাটিতে পড়ে থাকা একটা রশি তুলে নিল মুসা। তারপর উঠে পড়ল এক খুঁটিতে। করাল ঘিরে তখনো ছুটে বেড়াচ্ছে একটা ঘোড়া। মুসা মাথার ওপর ল্যাসোটা ঘুরিয়ে ছুঁড়ে দিল করালের ভেতরে। বাতাসে ভেসে গিয়ে কিছু একটার ওপর পড়ল ওটা। 'খাইছে!' বলে উঠল মুসা। ও খুঁটি থেকে নেমে দড়িটা ধরে টানতে লাগল। কিন্তু ঘোড়াটাকে দেখার বদলে মুখোমুখি পড়ে গেল খেপা এক ষাঁড়ের। 'ঘোঁত!' ফেন্সের ওপাশ থেকে মুসার উদ্দেশে গর্জে উঠল ষাঁড়টা। এবার মাথা নুইয়ে সামনের খুর দিয়ে মাটি আঁচড়াতে লাগল। 'খাইছে!' চেঁচিয়ে উঠল মুসা। 'সাবধান, রাফি, ষাঁড়টা তাড়া করতে যাচ্ছে!' ষাঁড়টা মুসাকে ধাওয়া করতে যাবে, এ সময় বিশালদেহী এক লোক ওটার সামনে এসে দাঁড়াল। জানোয়ারটার ক্রুদ্ধ চোখজোড়ার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল সে। ষাঁড়টা ঘোঁতঘোঁতানি থামিয়ে দৌড়ে চলে গেল। লোকটি উল্টো ঘুরে মুসা আর রাফির দিকে চাইল। ধূসর একজোড়া চোখ তার। হাতে হাতুড়ি। রাফি ভয়ে কেঁউ করে উঠে মুসার গা ঘেঁষে দাঁড়াল। 'খাইছে, রাস্তার সেই ভুতুড়ে লোকটা!' বলে উঠল মুসা। ঘুরেই দৌড় দিল বাঙ্কহাউসের দিকে। রাফি অনুসরণ করল। বাঙ্কহাউসের সামনের বারান্দায় তখন কিশোর, জিনা আর রবিন কথা বলছিল এক বৃদ্ধা আর এক যুবকের সঙ্গে। 'তোমার সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হয়ে খুব ভালো লাগল, গ্লেন', যুবকটিকে বলল কিশোর। 'তোমার সঙ্গেও, মার্থা। তোমার রান্না ভীষণ মিস করেছি আমি।' 'অনেক ধন্যবাদ, কিশোর', মহিলা বলল। লম্বায় খাটো মানুষটির মাথায় কাঁচা- পাকা চুল। কাপড়ের ওপরে বড়সড় এক ডেনিম অ্যাপ্রন পরা। তাতে নানা ধরনের খাবারের দাগ লেগে রয়েছে। 'কারা এরা?' গ্লেন প্রশ্ন করল। 'এরা হচ্ছে রবিন আর জিনা', কিশোর বলল। 'মুসা আর রাফি আশপাশেই আছে।' 'এদিকে!' চেঁচিয়ে উঠল মুসা। ও আর রাফি ছুটে আসছে বাঙ্কহাউসের দিকে। বারান্দায় দৌড়ে উঠে পড়ে হাঁফাতে লাগল মুসা। আর রাফি ছেলেমেয়েদের পেছনে আড়াল নিল। 'কী হয়েছে তোমাদের?' জিজ্ঞেস করল জিনা। রবিনের পেছন থেকে উঁকি মারল রাফির লেজ। বারান্দার দিকে হেঁটে আসা লোকটির দিকে নির্দেশ করল ওটা। 'ওটা তো কয়োটি পল', বলল গ্লেন। 'রানশের একজন হায়ার্ড হ্যান্ড অনেক বছর ধরে আছে।' 'কয়োটি পল?' প্রশ্ন করল কিশোর। 'চেনাই যায় না। এত পরিবর্তন?' 'তার কারণ ওকে নেকড়ে মানব কামড়েছিল,' গ্লেন ঠাট্টা করে বলল। 'চুপ কর তো, গ্লেন', বলল মার্থা। কয়োটি পল ধীর পায়ে হেঁটে বাঙ্কহাউসের বারান্দায় উঠল। বড় হাতুড়িটা তার ড্যাংগারি থেকে ফাঁসে ঝুলছে। ডেনিম শার্টের পকেট থেকে একটা লাল রুমাল বের করে কপাল মুছে নিল সে। ছেলেমেয়েদের ওপর থেকে মুহূর্তের জন্যও দৃষ্টি সরাল না। 'তোমাদের বলেছিলাম চলে যেতে', বলল। 'অচেনা মানুষরা এখানে ওয়েলকাম নয়। অন্তত আজকের রাতে।' 'পল', বলল মার্থা। 'তুমি ওকে চিনতে পারোনি? ও তো আমাদের কিশোর। সামারে গ্লেনের সঙ্গে খেলা করত।' পল চোখ পিটপিট করে কিশোরের দিকে দৃষ্টি স্থির করল। 'তুমি যখন বলছ তখন ওর ব্যাপারে আমার আপত্তি নেই', বলল পল। 'কিন্তু এখানে যা ঘটছে তাতে আজ রাতে এত মানুষের উপস্থিতি ঠিক নয়।' 'এখানে কী ঘটছে? পার্টির প্রস্তুতি?' প্রশ্ন করল নথি। 'ও বোঝাতে চাইছে সোনার হর্সশুগুলো দেখার প্রস্তুতি চলছে', বলল গ্লেন। 'ও পার্টির কথাই বলছে', বলল মার্থা। 'আমি কয়েক দিন ধরে রান্নার আয়োজন করছি কি না।' 'আমি পার্টির কথা বোঝাইনি', বলল পল। 'বুঝতে চেয়েছি গত কয়েক রাতের নেকড়ের গর্জনের কথা।' 'পলের ধারণা আজ রাতে লোন উলফের অভিশাপ ফলবে', বলল গ্লেন। মুসা আর রাফির দিকে চেয়ে অশুভ হাসল। 'পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে, চাঁদের আলোয় লোন উলফের মূর্তিটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। ফলে মুক্তি পাবে নেকড়েটার আত্মা। নেকড়ে মানব ফিরে আসবে! আআআ-উউউহ!' মুসার মুখের চেহারা ফ্যাকাসে। রাফি গাঢাকা দিল রবিনের পেছনে। গ্লেন হেসে উঠল। 'অ্যাই', মার্থা বকা দিল ওকে। 'হেসো না, গ্লেন', বলল পল। 'চাঁদ উঠলেই হাজির হবে নেকড়ে মানব। তখন বোলো না আমি সাবধান করিনি।' ঘুরে দাঁড়িয়ে হাঁটা ধরল সে। 'পলের কথায় কান দিয়ো না', বলল মার্থা। 'ওর এত রাগের কারণ ও এখনো রানশ হ্যান্ডই রয়ে গেছে। স্যাম আর র্যামকে সারাক্ষণ উপদেশ দিতে থাকে, কিভাবে রানশটা চালাতে হবে। কিন্তু ওরা পাত্তা দেয় না ওর কথায়। নেকড়ে মানবের অভিশাপের কথাও বিশ্বাস করে না।'


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নেকড়ে মানুষ(তিন গোয়েন্দা) ১ম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now