বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাঁদর
..
..
- ম্যাম আসতে পারি?
আমাদের নাদিয়া ম্যাম মনযোগ সহকারে ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে লেকচার দিচ্ছিলেন। আর আমি কাবাবমে হাড্ডি হয়ে হাজির হয়ে গেলাম। আসলে আজ অনেক লেট হয়ে গেল কলেজে আসতে। কি করবো বলুন? সারারাত গেম খেলতে খেলতে আর ঘুমাতে পারিনি। শেষ রাতের দিকে ঘুম বাবাজি এমন ভাবে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো যে আমি আর জেগে থাকতে পারলাম না। যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন.......
- আরমান আজকেও লেট করে এসেছ?
আমি গতকাল রাতের কথা চিন্তা করছিলাম আর ম্যাডাম এবার হাড্ডিমে কাবাব হয়ে আমায় কথাটা বললো।
- নাহ ম্যাডাম আজ তো লেট হয়নি। এইযে দেখুন এখনো নয়টা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি।
- ক্লাস শুরু হয় কয়টায়?
- কেন ম্যাডাম আপনি জানেন না?
- আমি জানি না। তুমি আমাকে বলে দাও।
- ম্যাডাম ক্লাশ তো নয়টায় শুরু হয়।
- (রাগী কন্ঠে) ক্লাশ শুরু হয় সাড়ে আটটায়। আর তুমি এসেছ নয়টায়।
- একটু আগেই তো বললেন যে আপনি সময় জানেন না। এটা তো ম্যাডাম....................!
- শাট আপ। ভেতরে আসো। কাল থেকে যেন আর লেট না হয়।
- আপনাকে স্বাগতম ম্যাডাম।
..
মাঝে মাঝে একটু আধটু অদ্ভুতুড়ে ব্যবহার করতে মজাই লাগে। আমি সুড়সুড় করে ক্লাসের শেষ ব্যাঞ্চে বসে পড়লাম।
বসে পড়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই আবারো ঘুম এসে আমার দুচোখে হানা দিল। দুচোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু, এমন সময় একটা মৃদু হাসির শব্দে সোজা হয়ে বসতে হলো। মনে হলো ঠাকুমার ঝুলির শাকচুন্নি বুঝি ডেকে উঠলো। আমি আশেপাশে তাকিয়েও বুঝতে পারলাম না কে এই হাসিটা দিল।
বেশিক্ষন আর খুঁজতে পারলাম না। তার আগেই নাদিয়া ম্যাম ক্লাশ শেষ করে চলে গেল। আর আমিও ক্লাশ থেকে বেরিয়ে এলাম।
..
- কিরে আরমান আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
আমি এতক্ষন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম ইশিতার দিকে। আজ ওকে পরীর মত লাগছে। কিন্তু আজও সে খুবই সাধারন পোশাক পরে কলেজে এসেছে। তাহলে আজ কেন ওকে পরির মত লাগছে?
নাহ ভাল করে দেখতে হচ্ছে। আমি খুটিয়ে খুটিয়ে ইশিতাকে দেখতে লাগলাম। অন্য কোন মেয়ে হলে হয়তো এতক্ষনে আমাকে মেরে তক্তা বানিয়ে দিত। কিন্তু ইশিতা জানে আমি ওকে কখনোই খারাপ নজরে দেখবো না।
তাই ও যেভাবে বসে ছিল সেভাবেই বসে রইল। অনেক অনুসন্ধানের পর খুঁজে পেলাম ওর পরীর মত লুক হওয়ার রহস্য। ইশিতা আজ চোখে কাজল দিয়ে এসেছে। আর এই কারনেই ইশিতার সৌন্দর্য এতটা বেড়ে গেছে।
- এই যে হনুমান, সেই কখন থেকে হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস। কাহিনি কি?
- আচ্ছা তুই কি চাস আমি অতি তাড়াতাড়ি মরে যাই?
- ওই কুত্তা কি বলিস? আমি কেন তোর মৃত্যু চাইবো?
- তাহলে কেন আজ চোখে কাজল দিয়ে আসলি? জানিস তোকে আজ একেবারে পরীর মত লাগছে। দেখেই তো আমার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।
- ওই বিটলামি বন্ধ কর। তুই কি জীবনে মানুষ হবি না? আজীবন কি এভাবেই থাকবি?
- ওমা এখানে বিটলামির কি হলো? যা সত্যি তাই তো বললাম।
- শোন এসব কথা বয়ফ্র্যান্ড তার গার্লফ্র্যান্ডকে বলে। এখন তুই বল আমরা কি Gf Bf নাকি বেস্ট ফ্র্যান্ড?
- বেস্ট ফ্র্যান্ড হলেই যে প্রেমিক প্রেমিকা হওয়া যাবে না এটা কে বলছে? এমনও তো হতে পারে যে আমরাও একসময় একে অপরের প্রেমে পড়বো।
- No Way. তোর মত একটা উল্লুকের সাথে প্রেম করবো আমি? মাথা খারাপ নাকি আমার?
- কেন কেন? আমি কি দেখতে এতই খারাপ যে আমার সাথে প্রেম করতে হলে তোর মাথা খারাপ হওয়া লাগবে?
- নাহ তুই দেখতে অতটা খারাপ না। তারপরও তোর সাথে প্রেম শব্দটা যায়না।
- যাবে যাবে একদিন ঠিকই যাবে। যেদিন যাবে সেদিন আর আমাকে পাবি নারে।
- দেখা যাক। আগে প্রেম শব্দটা তোর সাথে যায় কিনা দেখি। তারপর নাহয় তোকে খুঁজে দেখবো। এখন চল বাসায় যাই। আজ আর ক্লাস করবো না।
- হুম চল। আমারো আজ ভাল্লাগে না।
..
ইশিতা, মনের গভীরে খোদাই করা একটি নাম। চাইলেও কেউ এই নাম আমার মন থেকে মুছতে পারবে না। ভালবাসার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে রেখে দিয়েছি আমার ইশিতাকে আমার কাছে। কিন্তু দুঃখ একটাই, এই পাগলীটা আমার ভালবাসাটা এখনো বুঝতে পারেনি।
যতবারই আমি আকারে ইঙ্গিতে ওর প্রতি আমার ভালবাসা প্রকাশ করেছি ততবারই ও ' ওই তোর বিটলামি অফ কর' টাইপের ঝাড়ি দিয়ে আমার ভালবাসাটাকে পাস কাটিয়ে চলে গেছে।
হয়তো ও আমার প্রকাশের ভাষাটা বুঝতে পারছে না অথবা আমি ওকে আমার ভালবাসাটা বুঝাতে পারছি না।
সমস্যা এটাই না, সমস্যা আরেকটা আছে। সরাসরি কখনোই আমি ইশিতা প্রপোজ করতে পারিনি। কিছুটা সাহসের অভাবে আর কিছুটা আত্মবিশ্বাসের অভাবে।
তবে আমি জানি একদিন আমার এই অপ্রকাশিত ভালবাসা জয়ী হবেই হবে।
..
- হ্যালো আরমান কই তুই? (ইশিতা)
- হুহ (আমি)
- ওই হুহ হুহ করিস কেন? কই তুই?
- ঘুমাচ্ছি, বিরক্ত করিস না।
ফোনটা কেটে দিলাম। এই সকালবেলা ঘুমটাকে তেজপাতা করে দিতে ইশিতার জুড়ি নেই।
ফোন কেটে দিয়েও শান্তি পেলাম না। একটার পর একটা ফোন দিয়েই যাচ্ছে। শেষমেষ ফোনটা বন্ধ করে দিতে হলো।
আহ এখন একটু আরামে ঘুমাতে পারবো।
ঘুমের মধ্যে একটা স্বপ্ন দেখলাম। আমি দৌড়াচ্ছি, আর ইশিতা আমাকে ইয়া বড় একটা হাতুড়ি নিয়ে তাড়া করছে। কি বিদঘুটে স্বপ্ন!
..
- আরমান, ওই আরমান তাড়াতাড়ি উঠ। আরমমমমমমমান!
দূর শালা স্বপ্নের মধ্যেও ইশিতার গলার জোরটা কমেনি।
তবে স্বপ্নে কি ঝাঁকুনি হয়? নাকি ভুমিকম্প হচ্ছে?
একটুখানি চোখের পাতা ফাঁক করলাম।
ওরেবাপস, ইশিতা দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে? নাকি এখনো স্বপ্ন দেখছি?
- ওই হনুমান তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠ নয়তো পানি ঢেলে দেব গায়ে। (ইশিতা)
- আরমান উঠে যা বাবা, মেয়েটা কতক্ষন ধরে তোর জন্য অপেক্ষা করছে। তাড়াতাড়ি উঠ বাবা। (আমার মা)
বাহ আমার আম্মুও দেখি ইশিতার সাথে আছে।
- ধূর তোমরা সকালবেলা কি শুরু করলে? ছুটির দিনেও একটু ঘুমাতে দেবে না?
- ওই হনুমান তুই জানিস না আজ আমাদের পিকনিক? তোর কারনে এখনো আমাদের পিকনিকের বাস ছাড়তে পারছে না।
মূহুর্তেই আমার চোখ থেকে ঘুম উধাও হয়ে গেল। সত্যিই তো আজ আমাদের পিকনিকে যাওয়ার কথা।
দশ মিনিটের মধ্যেই ডিসি কমিকসের ফ্ল্যাশের চেয়েও দ্রুতগতিতে তৈরি হয়ে গেলাম।
আসলেই আমার জন্য বাস প্রায় ঘন্টাখানেক দেরি করেছে। কলেজে পৌছুতেই বাকি সবাই আমাকে সাবান ছাড়াই ধুয়ে দিল দেরি করার কারণে।
..
- কিরে হনুমান মন খারাপ?
বাসের জানালার বাইরের দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। এমন সময় ইশিতা আমাকে এটা বলে উঠলো।
- নাহ মন খারাপ না।
- তাহলে এভাবে হাদারামের মত বসে আছিস কেন?
- ভাবছিলাম।
- কি ভাবছিলি?
- ভাবছিলাম আসলেই মনে হয় আমার কপালে প্রেম নাই রে। আজীবন এভাবেই দেবদাস হয়ে থাকতে হবে।
- হুম ঠিক ধরেছিস।
- ইশিতা তুই আমার সাথে প্রেম করবি?
- মাথা খারাপ? দেখ আমরা শুধুই ফ্র্যান্ড, এর বেশি কিছু হওয়া পসিবল না।
- হুম বুঝলাম।
..
তিনঘন্টা পরেই পিকনিক স্পটে পৌছে গেলাম। গিয়েই শুরু হলো হই হুল্লোড়। মাথায় আর ইশিতার কথা আসছে না। তবে এটা সাময়িক সময়ের জন্য। ইশিতাকে মাথা থেকে বের করার কোন পদ্ধতি নেই।
সাহানা আমাদেরই ব্যাচমেট, এবং আমার বন্ধুও। তবে ইশিতার মত অত ভাল বন্ধু নয়।
- ওই সাহানা এদিকে আয়।
- কি হয়েছে বল?
- তোকে কিন্তু আজ সেইরকম লাগছে।
- কি রকম?
- একেবারে পুরাই আমার নানীর মত।
- যাহ শয়তান কোথাকার।
..
আমি আর সাহানা আরো বেশকিছুক্ষন কথা বললাম। আমি বিটলামি করি আর সাহানা আমার মাথায় থাপ্পড় মেরে হেসে লুটিয়ে পড়ে।
কথা বলা শেষে আমি ইশিতাকে খুঁজতে লাগলাম। আসলে অক্সিজেন ছাড়া মানুষ কি বেশিক্ষন থাকতে পারে? ইশিতা আমার অক্সিজেনের মতই।
কিছুক্ষন পরই খুঁজে পেলাম ইশিতাকে।
- কিরে পেত্নি এখানে একা একা কি করিস?
- ওই সাহানার সাথে কি এত কথা বলিস?
- কই কি কথা বললাম?
- দেখলাম তো সবই। ডুবে ডুবে ভালই তো পানি খাও।
- তো কি করবো বল? সারাজীবন তো আর এভাবে থাকতে পারবো না। তাই সাহানাকে লাইন মারার চেষ্টা করছি। তোর মত সুন্দরী না হলেও চলনসই।
একথা শুনেই ইশিতার মুখটা কালো হয়ে গেল। সাথে সাথেই ও উঠে চলে গেল। কারণটা ধরতে পারলাম না।
..
পুরো পিকনিক জুড়েই ইশিতাকে চুপচাপ দেখলাম। আমার সাথেও কথা বললো না। হঠাৎ করে ওর এমন সাট ডাউন হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে পেলাম না।
বাসে উঠে দেখি ইশিতা আগেই বসে আছে জানালার পাশে। আমি গিয়ে ওর পাশে বসে পড়লাম।
- ইশিতা কি হয়েছে রে তোর? এমন চুপ মেরে গেলি কেন?
-............................
- আরে এই ইশিতা কি হয়েছে বল না।
- দেখ বিরক্ত করিস না।
- তোকে বিরক্ত না করলে কাকে করবো বল?
- তোর ওই সাহানার কাছে যা।
- তুই থাকতে সাহানার কাছে যাবো কেন?
- হুহ ওইসময় তো ভালই দেখলাম কথা বলতে। যা এখন কথা বল। গিয়ে লাইন মার।
- তুই রাগ করছিস কেন? আমি তো এমনিই কথা বললাম। আর লাইন কিভাবে মারে জানিই না।
- সত্যি তো?
- হুম তিন সত্যি।
- ঠিক আছে যা মাফ করলাম।
- আচ্ছা তুই জ্বলছিস কেন? মনের মধ্যে কি খই ফুটছে নাকি?
- আরে যাহ খই ফোটার কি দেখলি।
- আরে বুঝছি সবই।
- ওই ওই কি বুঝছিস?
- ভালবাসিস আমায়।
- জীবনেও না।
..
ইশিতা মুখে না বললেও আমি বুঝে গেছি। আমি আজ জয়ী, আমি আজ বিশ্বজয়ী। ইশিতার চোখের চাহনিই বলে দিচ্ছে আমার প্রতি ওর ভালবাসা। চোখের ভাষায় যখন বুঝিয়ে দিচ্ছে সব তাহলে মুখে বলার কি দরকার?
..
লেখকঃ আরমান হোসেন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now