বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#জ্বিন_বর
আজকে বাবা ছেলেকে দেখে এসেছে। বাবা যেন আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।আমি বিয়ে করতে চাই না লেখাপড়া করতে চাই বাবাকে বলেছি।কিন্তু বাবা আমার কোন কথাই শুনলেন না। বাবা চান এই বছরের মধ্যে বিয়ে দিতে। আমিও বাবাকে বলে দিয়েছি
পড়ালেখা করব তারপর বিয়ে।আমি সবে এইচ.এস.এসসি দিয়েছি।আর আমাদের গ্রামে আমিই ভাল ছাত্রী।
বাবা আমাকে বলল
-পরী মা, তোকে ১৯বছরের আগে বিয়ে দিতে চাই তাতেই তোর সুখ।
-মোটেও না।বিয়েতে আমার সুখ না আমার সুখ হল লেখাপড়ায়।
বাবা এই কথায় বলল
-তার জন্য এমন ছেলে খুজছি যে তোকে বিয়ের পর পড়াবে।
আমি আর কোন কথাই বললাম না।
আমার মা মারা গেছে যখন আমার বয়স ১০বছর। আমার বাবা এরপর আর কোন বিয়ে করে নেই। আমার চাচারা অনেক বলেছিল তাও করেন নি।আমাকে আর আমার ছোট ভাই নুহাশকে নিয়েই সে জীবন কাটিয়েছে।আমার বাবা একটু ধার্মিক। উনি মসজিদের মাওলানা আর গ্রামের হুজুর।গ্রামে আমার বাবার সম্মান অনেক বেশি। আর আমাকে বাবা খুব বেশি ভালবাসে কখনো আমি কিছু চেয়েছি আর বাবা দেন নি এমন টা হয় নি।কিন্তু
কেন যে বাবা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এমন করছে তা আমি নিজে জানি না। তাই অবশেষে বাবার কথা ভেবে বিয়ে করতে রাজি হয়েছি।
আমার বিয়ে আমার ১৯বছর হওয়ার ১দিন আগে হয়েছে। ছেলের নাম তাঈফ। ছেলে শহরের তাই আমি একটুও রাজি ছিলাম না। আমি গ্রামের মেয়ে বাবাকে ছেড়ে এতদুরে এসেছি তাও বিয়ে করে মন
টা জানি কেমন করছিল।
তাইফ আর আমি বিয়ের গাড়ীতে বসে আছি। তাইফ আমার থেকে এক্টু দূরে বসে আছে আমার কান্না দেখছে তাও কোন কথা বলছে না।
বিয়ে করে আসার সময় বাবা আমাকে এক্টা তাবিজ দিয়েছে আর বলেছে
-পরী মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তোর কাছে রাখবি, মা।
আর তাইফকে যেন কানে কানে কি বলেছে ।
বিয়ের গাড়ি একবারে শহরে যাচ্ছে।
এখনো গ্রামের সীমান্ত ছাড়ী নেই
যখন গ্রামের সীমান্ত ছাড়তে যাব তখনি গাড়ি টা যেন ধাক্কা খেল খুব জোড়ে। মনে হচ্ছিল কেউ যেন গাড়ীটাকে পিছন থেকে ধরে রেখেছে।রাত্রের সময় আমি একটু নাড়া খেয়ে গাড়ি থেকে পড়ে যেতে নিচ্ছিলাম তখনি তাইফ আমাকে ধ রল। কিন্তু দুভাগ্যবশত বাবার দেওয়া তাবিজ হাত থেকে পড়ে গেল। গাড়ি অনেক স্পিডে চলছে
তাইফকে যে বলব গাড়ি থামাতে সেই সাহসটুকু আমার ছিল না লজ্জা করছিল। তখনি বাবার কথা
মনে আসছিল তাই চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। তখনি তাইফ বলল
-পরী ঠিক আছ??
আমি আমার মাথা নাড়িয়ে বললাম
-জ্বি
তাইফ বলল
-পরী এদিকে তাকাও। দেখি ঠিক আছ কি না?
আমি চোখ উঠিয়ে তাকালাম
এই প্রথম তাইফকে এত কাছের থেকে দেখছি। বিয়ের আগে বাবা আমার তাইফের সাথে কথা বলতে দেয় নি। এমনকি দেখাও করান নি। আমি ভেবেছি ধার্মিক ত তাই।
কিন্তু তাইফকে দেখে যেন আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। কি সুন্দর চেহারা,কি সুন্দর গায়ের রং মনেই হচ্ছিল না যে উনি একজন মানুষ। মানুষ এত সুন্দর হয়। তখনি তাইফ হাত ধ রে
বলল
-পরি ঠিক আছেন???
আমি ওনাকে বললাম
-আপনার মুখে আমার নামটা যেন বড় বেমানান।পরী নামটা আপনাকে মানায়।কিন্তু পরি ত মেয়েদের ডাকে।ছেলেদের কি ডাকে?
উনি বলল
-জিন
আমি যেন জিন নামটা শুনেই ভয়ে শিউরে উঠলাম।আর একটা অন্য রকম বাতাস শরিরে লাগল।
তাইফ আমার অবস্থা দেখে খট খট করে হেসে উঠল
তাইফের হাসিটা যেন মনে হচ্ছিল কোন শয়তানের হাসির মত।আমি চুপ করে মাথা নিচের দিকে দিয়ে রাখলাম।অবশেষে আমি শ্বশুরবাড়ি আসলাম।রাত্রেই এসেছি।
গাড়ি থেকে নেমেই দেখি দুইটা মেয়ে
দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আমাকে ঘ রে নেওয়ার জন্য।তাইফের বাবা মা নেই। এটা বাবা বলেছিল। ওদের বাড়িটা বেশ বড় আর অদ্ভুত। আমার কেমন জানি ভয় করতে শুরু করল ওদের বাড়ীতে ঢুকেই।ওই দুইটি মেয়ে আমাকে
তাইফের ঘরে নিয়ে বসাল।আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই বিছানায় বসতে না বসতেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
হঠাৎ ঘুম মাঝ রাত্রে ভেঙে গেল।ঘুম ভাঙতেই দেখি তাইফ সাদা একটা পাঞ্জাবি পড়ে নামাজ পড়ছে আমি একটু অবাক ই হলাম।কারণ ও এত ধার্মিক না। বাবা বলেছিল
-পরী মা, স্বামীর সাথে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়িস
তাই আমি বিয়ের বউ এর সাজেই অজু করে তাইফের সাথে নামাজ পড়তে শুরু করলাম।নামাজ শেষে মনে হয় তাই আর আমি এক সাথেই
সালাম ফিরাচ্ছিলাম। যেই সালাম ফিরিয়ে তাইফের দিকে তাকালাম
আমি ভয়ে শেষ হয়ে গেলাম তাইফের চেহারাটা কেমন ফ্যাকাশে আর ওর দুইটা চোখ দৈত্যের মত আগুনের গোলা তা দেখেই আমি জ্ঞান হারালাম
আমি তাইফকে দেখে অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
কিছুক্ষণ পর হুশ ফিরল। কিন্তু আজব ব্যপার তাইফ আমার পাশে ঘুমাচ্ছে। আর ঘড়িতে ৩টা বাজে। কিন্তু আমি নামাজ পড়তে উঠেছিলাম
তখনো ৩টা বাজছিল।
আমার যেন আকাশ পাতাল লাগছে সব।মনে হচ্ছে আমি সপ্ন দেখেছি কোন।তাই আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।কিন্তু ঘুম আর আসছে না তাই কি আর করব??? বিয়ের শাড়ী টা চেঞ্জ করে আসি।
বিয়ের শাড়ি চেঞ্জ করে বের হলাম। কিছুক্ষণ হাটাহাটি করলাম তাও ঘুম আসছে না। শুধু সেই মুখটা বারবার ভেসে উঠছে। আর আমার কলিজা ছটফট করছে।
আমি ভীষণ ভীতু রাত্রে বিড়ালের ডাক শুনলেই শিউড়ে উঠে চিৎকার করতাম আর আব্বা ছুটে আসত। কিন্তু আজ পাশে বাবা নেই এত ভয় পেয়েছি কাকে বলব?? তাইফকে বলতে চাইছিলাম কিন্তু ওকে কি বলব?? যে আমি ওর মধ্যে আজ ভয়ানক কিছু দেখেছি তাই ভাবতে ভাবতে এক ঘুম দিলাম বেল্কুনির চেয়ারে। হঠাৎ মনে হল কোন এক বাতাস আমার শরীর ছুয়ে যাচ্ছে। আমি ভয়ে চোখ খুলতে পারছি না তাই এক চিৎকার দিয়ে "তাইফ,তাইফ আমাকে বাচাও"।
চিৎকার দেওয়ার ১সেকেন্ডের মধ্যে মনে হল কেউ আমায় মাথায় হাত দিল আর বলল
-পরী ঠিক আছ?কি হয়েছে
আমি তাইফের কন্ঠ পেয়ে আমি শান্ত হলাম
চোখ ও খুল্লাম আর তাইফকে জড়িয়ে ধরলাম
তাইফ বার বার জিজ্ঞেস করছিল
--পরী কি হয়েছে বল??কি হয়েছে??সপ্ন দেখেছ কোন??
-আমি ভয় পেয়েছি। মনে হচ্ছিল কেউ আমাকে ধরেছে। একটা খারাপ অনুভুতি।খুব খারাপ
--সপ্ন দেখেছ পরী। শান্ত হও
-না সপ্ন না আমি সত্যি অনুভব করেছি
তাইফ আমার কথা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাচ্ছিল না। কিন্তু আমি সিউর প্রথমটা সপ্ন হলেও দ্বিতীয় টা সপ্ন না। প্রথমের কথা আমি তাইফকে ব লতে পারি নেই। তাইফ আমার হাত ধরে বিছনায় নিয়ে গেল বলল
-পরী তুমি ঘুমাও আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি
আমি তাইফের কথামত শুয়ে পড়লাম।তাইফ আমার কপালে একটা আদ র দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। আমার লজ্জা লাগছিল কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভয়। আজ এক রাত্রের মধ্যে অনেক কিছু হয়ে গেছে পরে ঘুমালাম।
ঘুম সকালে খুলল। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেখলাম তাইফ রুমে নেই।সকাল ৭টা বাজে তাই আমি ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেলাম রান্নাঘ রে একটা মেয়ে রান্না করছে।মে বি কাজের মেয়ে
আমি ওকে তাইফের কথা জিজ্ঞেস করলাম
মেয়েটি কোন কথাই বলছে না। বড় আজব।
নাম জিজ্ঞেস করলাম কিন্তু তাও বলল না
এত কথা জিজ্ঞেস করছি তাও বলছে না।
আমি গ্রামের মেয়ে হয়ত শহরে সবাই খুব ভাবে থাকে তাই আর কিছুই জিজ্ঞেস করি নাই।মেয়েটা
চায়ের জন্য গররম পানি নামাতে গিয়ে গরম পানি ছিটে আমার হাতে আসল। মেয়েটি সাথে আমার পা ধরে ক্ষ মা চাইল।ব্যাপারটি খুব অদ্ভুত লাগল
আমার হাতে এক ফোটা গরম পানি এসেছে আমি টের পর্যন্ত পাই নেই। তাতেই এমন করছে আমি অকে বললাম,যাও ক্ষমা করেছি।
এই বলে ঘরের। দিকে আসতেই মেয়েটি চিৎকার দিল,,,আপা গো
আমি যেয়ে দেখলাম ওর হাত অর্ধেক পুড়ে গেছে
গরম পানিতে।
আমি অবাক হয়ে গেলাম কি করব বুঝতে পারছিলাম না
আদিলা(কল্পবাস্তবী)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now