বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নেকড়ে মানুষ(তিন গোয়েন্দা) ১ম পর্ব

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rimel Islam (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ শামসুদ্দীন নওয়াব প্রথম পর্ব এক 'খাইছে!' ভ্যানের পেছন দিক থেকে চেঁচিয়ে উঠল মুসা। হঠাৎই বিশাল এক ল্যাসো সামনে উড়ে এসে বেঁধে ফেলল জিনাকে। যে বইটা পড়ছিল সেটা পড়ে গেল ওর হাত থেকে। 'অ্যাই, সাবধান!' কিশোর চেঁচিয়ে বলল। 'জিনাকে ল্যাসোতে আটকে ফেলেছে!' মুসা আর রাফি ভ্যানের সামনের দিকে চলে এলো। মুসার মাথায় কাউবয় হ্যাট। 'স্যরি, জিনা', বলল মুসা। ঘেউঘেউ করে দুঃখ প্রকাশ করল রাফি। জিনা রশিটা মাথার ওপরে তুলল। 'তোমরা এটা নিয়ে কী করছ?' 'রানশের জন্য রেডি হচ্ছি', জবাব দিল মুসা। কিশোর কাঠের এক গেট ভেদ করে ভ্যানটা চালিয়ে ঢুকে পড়ল। 'অ্যাই, দেখো সবাই', বলে উঠল রবিন। গেটের ঠিক ভেতরেই প্রকাণ্ড এক নেকড়ের মূর্তি। সেদিকে তর্জনী নির্দেশ করল। চোখে হিংস্র দৃষ্টি মূর্তিটার, বড় বড় ধারালো দাঁত। 'লোন উলফ রানশের নাম এখান থেকেই এসেছে', গাইডবুক পড়ে জানালো জিনা। 'এক শ বছর আগে যখন রানশটা তৈরি হয় তখন এই এলাকায় নেকড়ে গিজগিজ করত।' 'ছোটবেলায় যখন এখানে এসেছিলাম তখন একটা গল্প শুনেছিলাম', বলল কিশোর। 'ক্যাম্পফায়ার ঘিরে বসে ওটা বলা হতো। এক শ বছর আগে এক জোসনা রাতে নাকি বিশাল এক নেকড়ে এখানে উদয় হয় এবং অন্য সব নেকড়েকে তাড়িয়ে দেয়। তাই মালিকরা মস্ত বড় নেকড়েটার একটা মূর্তি বসায়, যাতে ওটা তাদের সব সময়ের জন্য নিরাপত্তা দেয়।' 'কারো কারো ধারণা, বিরাট সেই নেকড়েটা আসলে একটা নেকড়ে মানব ছিল', যোগ করল জিনা। 'এবং ওটার আত্মা মূর্তিটার ভেতর এখনো বন্দি হয়ে আছে, যাতে রানশটাকে রক্ষা করতে পারে।' 'খাইছে, কেমন ভুতুড়ে-ভুতুড়ে শোনাচ্ছে', বলল মুসা। 'এখানে ভয়ের কিছু নেই', বলল কিশোর। 'বিশ্বাস করো।' 'তাহলে ওটা কী?' বলে জানালা দিয়ে আঙুল তাক করল রবিন। ভ্যানটা ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষে থামাল কিশোর। ভয়ংকর দর্শন এক লোক বেরিয়ে এলো গাড়ির ঠিক সামনে। কুঞ্চিত মুখের চেহারা তার, এলোমেলো চুল কাঁটার মতো খাড়া হয়ে আছে সব দিকে। হাতে পেল্লায় এক হাতুড়ি। 'খাইছে!' সভয়ে বলে উঠল মুসা। সিটের নিচে এক লাফে সেঁধিয়ে পড়ল রাফি। মুসা মাথা নোয়াল। লোকটা জ্বলন্ত ধূসর চোখে চেয়ে রইল উইন্ডশিল্ড ভেদ করে। 'আজকে পূর্ণিমা', সাবধান করল লোকটা। 'এখুনি চলে যাও, যদি নেকড়ে মানবের পেটে যেতে না চাও।' রাস্তা ধরে ধীর পায়ে ফিরে চলল। মুহূর্তের জন্যও চোখ ফেরাল না ছেলেমেয়েদের ওপর থেকে। এবার ঝট করে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক দৌড়ে ঢুকে পড়ল বনভূমির ভেতরে। 'লোকটা কে?' বলল জিনা। 'চিনলাম না', জানালো গোয়েন্দাপ্রধান। 'চ-চলে গেছে?' মাথা নামিয়ে রেখেই প্রশ্ন করল মুসা। 'হ্যাঁ, এবার তাকাতে পারো', বলল নথি। 'ভ্যান ঘুরিয়ে চলে গেলে হয় না?' জিজ্ঞেস করল মুসা। 'হঠাৎই মনে পড়ল, আমার আর রাফির এক জায়গায় যাওয়া খুব জরুরি দরকার।' 'কোথায়?' রবিনের প্রশ্ন। 'এমন যেকোনো জায়গায়, যেখানে নেকড়ে মানব নেই', জবাব দিল মুসা। কিশোর আবার ভ্যান চালু করল। 'পাগল লোকটাকে নিয়ে তোমার মাথা না ঘামালেও চলবে', বলল। 'ঠিক আছে, তুমি যখন বলছ', বলল মুসা। 'আমরা এখন চলে গেলে', বলল নথি, 'তোমরা বড় বার্বিকিউটা মিস করবে।' 'সে সঙ্গে ক্যাম্পফায়ার', যোগ করল জিনা, 'ওখানে মার্শম্যালো রোস্ট করতে পারবে।' খুশিতে লেজ নাড়ল রাফি। পরস্পর দৃষ্টি বিনিময় করল মুসা আর রাফি। গায়ে গাঘেঁষে বসে ফিসফিসিয়ে কিসব কথাবার্তা বলল। 'রাফি আর আমি ঠিক করেছি থাকব', বলল মুসা। 'মত পাল্টানোর কারণ?' জিনার প্রশ্ন। 'নেকড়ে মানব', বলল মুসা। কিশোর, রবিন আর জিনা তিনজনকেই বিভ্রান্ত দেখাল। 'খাইছে, ও যদি সত্যি সত্যি আজ রাতে এক শ বছর পর ফিরে আসে', ব্যাখ্যা করল মুসা, 'তাহলে ভয়ানক ক্ষুধার্ত থাকবে। অত অত খাবার গিলতেই ব্যস্ত থাকবে, ফলে আমাদের খাওয়ার সময় পাবে না!' সবাই হেসে উঠল। কিশোর ভ্যানটাকে চালিয়ে নিয়ে এলো রানশের পার্কিং এরিয়ায়। দুই ছেলেমেয়েরা ভ্যান থেকে বেরিয়ে এসে চারধারে চোখ বুলাল। পার্কিং এরিয়ার উল্টো দিকে বিরাট এক লালরঙা বার্ন। বার্নের পাশে, কাঠের নিচু বেড়া দিয়ে ঘেরা বিশাল এক ফাঁকা জমি। করালের ভেতরে ছোটাছুটি করছে ঘোড়ারা। নিঃসঙ্গ এক ষাঁড় দাঁড়িয়ে বেড়ার পাশে। করালের উল্টো পাশে লগ-কেবিন- স্টাইল এক বাংকহাউস। 'হাউডি, পার্টনার্স', বলে উঠল কেউ একজন। ওরা ঘুরে দাঁড়াতেই দেখতে পেল দুজন লোক দাঁড়িয়ে। দুজনের পরনেই কাউবয় পোশাক আর মাথায় কাউবয় হ্যাট। দুজন দেখতে এতটাই এক রকম যে আলাদা করে চেনা মুশকিল। 'হ্যালো, কিশোর', বাঁ পাশের জন বলল। 'অনেক বড় হয়ে গেছ!' অপর জন এগিয়ে এসে কিশোরের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল, 'অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছ অনেক খুশি হয়েছি।' 'হাই, স্যাম, হাই, র্যাম', বলল কিশোর। 'আমাকে আর আমার বন্ধুদের দাওয়াত দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।' 'তোমার বন্ধু মানে আমাদেরও বন্ধু', বলল স্যাম। 'কিশোর তোমাদের বলেছে, ছোটবেলায় এখানে ও সামারগুলো কিভাবে কাটিয়েছে? বয়, ও আর গ্লেন টার্নার কোনো না কোনো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তই।' হঠাৎ লাল দেখাল কিশোরের মুখের চেহারা। বন্ধুদের দিকে ঘুরে চাইল ও। 'তোমাদের সঙ্গে স্যাম আর র্যাম এভারটনের পরিচয় করিয়ে দিতে চাই', বলল। 'ওরা লোন উলফ রানশের মালিক। আসলে ওদের পরদাদা এক শ বছর আগে রানশটা তৈরি করেন।' কিশোর বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়াল। 'এরা রবিন, জিনা, মুসা আর রাফি', বলল কিশোর। বাঁ পাশের লোকটি হ্যাট খুলল। মাথায় খাটো করে ছাঁটা কালো চুল তার। 'নাইস টু মিট ইউ', বলল। 'আমি স্যাম।' 'আমি র্যাম', অপরজন বলল, হ্যাট খুলে। লম্বা, হলদেটে চুল পনিটেইল করে বাঁধা। 'রানশটা কিন্তু ঠিক সেই আগের মতোই আছে', চওড়া হেসে বলল কিশোর। স্যামের দিকে চাইল র্যাম। 'কী বলেছিলাম?' বলল র্যাম। 'কোনো কিছু পাল্টানো ঠিক হবে না।' 'ভুল কথা!' বলে উঠল স্যাম। 'রানশটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বাড়াতে হবে। আর তুমি যদি তা না করো তো আমি করব!' কথা কয়টা বলেই ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে হেঁটে চলে গেল সে। র্যাম ছেলেমেয়েদের দিকে চেয়ে হ্যাটটা পরে নিল। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নেকড়ে মানুষ(তিন গোয়েন্দা) ২য় পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now