বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ড্রাকুলার অতিথ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rimel Islam (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ ব্রাম স্টোকার (পুরো গল্প একসাথে দেওয়া হল) ___ যখন আমরা যাত্রা শুরু করলাম, মিউনিখে তখন সূর্য তীব্রভাবে আলো দিতে লাগলো, গ্রীষ্মের আগাম বার্তা বাতাসে যেন বয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা যাত্রা শুরু করবো ঠিক তখনি হের ডেলবার্ক ( কোয়াত্রে হোটেলের ম্যানেজার , যেখানে আমি উঠেছি) ক্যারিজের দিকে নেমে আসলো এবং মাথা নিচু করে আমাকে যাত্রার জন্য শুভ কামনা জানিয়ে ক্যারিজের হ্যান্ডেল ধরে কোচম্যানকে বলল "মনে রেখো যাতে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ফিরতে হবে। আকাশ পরিষ্কার দেখাচ্ছে কিন্তু বাতাস কিছুটা তীব্র মনে হচ্ছে উত্তর দিকে, ঝড় হতে পারে কিন্তু আমি নিশ্চিত যে তোমার দেরী হবে না ফিরতে।" সে মুচকি হেসে যোগ করল "তুমি বুঝতে পারছো রাত মানে কি? " জোহান তার হেট টাচ করে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল " জ্বি আচ্ছা জনাব। " সে খুব দ্রুত ক্যারিজ চালাল। যখন আমরা শহর ছেড়ে আসলাম, আমি জোহানকে নির্দেশ দিলাম থামার জন্য এবং বললাম, ' জোহান বলও তো আজ রাতে কি? ' সে ঘুরে সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দিলো " ওয়ালপার্জিস রাত।" তারপর সে তার ঘড়ি বের করল, একটি বড় মান্ধাতার আমলের জার্মান জিনিস ঠিক টার্নিপের মত বড় এবং সময় দেখল, ভ্রুগুলা জড়ো করলো এবং খানিকটা অধৈর্য হয়ে সে তার বাহু নাড়াল। আমি বুঝলাম এটা হল তার নীরব প্রতিবাদ অপ্রয়োজনীয় দেরীর জন্য। যাহক,আমি ক্যারিজে ফিরে গেলাম এবং নির্দেশ দিলাম যাত্রা শুরু করতে। সে খুব দ্রুত ছেড়ে দিলো নষ্ট করা সময় পুষিয়ে নেওয়ার জন্য। একটু পরপর মনে হচ্ছে ঘোড়াগুলু মাথা উঁচু করছে এবং সন্দেহজনকভাবে বাতাসের গন্ধ নিচ্ছে। এমন অবস্থায় আমি চারদিকে শঙ্কাবস্থায় তাকায়। রাস্তা ছিল একবারেই খালি, যার জন্য আমরা খুঁজছিলাম বাতাস প্রবাহিত উচ্চ মালভূমি। যখন আমরা যাচ্ছিলাম, আমি দেখলাম একটি রাস্তা কিন্তু কম ব্যবহৃত এবং মনে হচ্ছে এটা একটা নিচু বেষ্টক উপত্যকা। এটা দেখতে এতটাই আকর্ষণীয় ছিলো যে, আমি তাকে অবমাননার ঝুঁকি নিয়ে বললাম ক্যারিজ থামাতে। যখন জোহান থামালো, আমি তাকে বললাম, আমি রাস্তাটি দিয়ে নিচে নামতে চায়। সে সব প্রকারের বাহানা করল এবং মাঝেমাঝে নিজের সাথে কথা বলতে লাগলো। এটা আমার কৌতূহলকে দমিয়ে দিলো তাই আমি জোহানকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলাম। সে উদাসীন ভাবে উত্তর দিলো এবং ঘড়ির দিকে বারবার তাকিয়ে বিরোধ করতে লাগলো। অবশেষে আমি বললাম " আচ্ছা জোহান, আমি এই রাস্তা দিয়ে নিচে নামতে চাই। আমি তোমাকে আসার জন্য বলবো না যদি তুমি না চাও ; কিন্তু আমাকে আগে বলও কেন তুমি যেতে চাও না, এটাই আমার প্রশ্ন। " উত্তরের জন্য যে বক্স থেকে ঝাপ দিলো যাতে সে তাড়াতাড়ি মাটিতে নামতে পারে। তারপর সে তার দু হাত সামনে এনে অনুরোধ করল না যাওয়ার জন্য। সে ইংলিশ ও জার্মান মিশিয়ে খুব দ্রুততার সঙ্গে বলল যে আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। কিন্তু বারবার সে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে এবং সেই নিজেই ভিত হয়ে যাচ্ছে সেটা বলতে গিয়ে। কিন্তু বারবার সে বলে যাচ্ছে ,"ওয়ালপার্জিস রাত ।" আমি চেষ্টা করলাম তার সাথে তর্ক করার ,কিন্তু এটা খুব মুশকিল এমন মানুষের সাথে তর্ক করা যার কথা আমি বুঝতে পারি না। অবস্থা তার পক্ষে ছিলো যার জন্য সে ইংরেজিতে কথা বলতে শুরু করল। একজন আনাড়ির মত। সবসময় সে উত্তেজিত হয়ে তার নিজস্ব ভাষায় চলে যেতো এবং সবসময় সে তার ঘড়ির দিকেও তাকাতও। তারপর ঘোড়াগুলি উত্তেজিত বাতাসের গন্ধ নিলো। এই অবস্থায় সে ম্লান হতে লাগলো এবং ভীত হয়ে চারিদিকে তাকালও।হঠাৎ করে ছিলো সে সামনে এগিয়ে ঘোড়াগুলুর লাগাম ধরে ২০ ফিট সামনে নিয়ে গেলো। আমি তাকে অনুসরণ করলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম কেনও সে এটা করল। উত্তর দেওয়ার জন্যে সে ঘুরে সেই স্থানটি দেখালো যেখানে আমরা ছিলাম।সে ক্যারিজটি অন্য রাস্তার দিকে ঘুরালো ,একটি ক্রসের দিকে নির্দেশ করে প্রথমে জার্মান পরে ইংরেজিতে বলল "তাকে দাফন করেছি,যেটা তাদেরকে মেরেছে।" আমার মনে পড়ল সেই আদিম প্রথার কথা যেখানে আত্মহত্যাকারীদের রাস্তায় কবর দেওয়া ;ওহ ! একটি আত্মহত্যাকারী ।খুব ইন্টারেস্টিং তো ! কিন্তু আমি অনেক চেষ্টা করেও বুঝতে পারলামনা ঘোড়াগুলি কেন ভয় পেয়েছিলো। যখন কথা বলছিলাম একটি আওয়াজ শুনলাম। এটা ছিলো অনেক দূরে কিন্তু ঘোড়াগুলি অস্থির হয়ে গেলো এবং ঘুড়াগুলিকে শান্ত করতে জোহানের অনেক সময় লেগেছিল। জোহান ফ্যাঁকাসে হয়ে বলল,"আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছে নেকড়ে কিন্তু এখানে কোন নেকড়ে থাকার কথা না।" "না?" আমি বললাম এবং প্রশ্ন করলাম " অনেকদিন হয়েছে কী যে নেকড়েদের শহরের আশেপাশে দেখা যায় নি?" "অনেক আগে। বসন্ত ও গ্রীষ্মে কিন্তু শীতে নেকড়ে থাকতে পারে না" সে জবাব দিলো। যখন সে ঘোরাগুলিকে শান্ত করতে লাগলো,কালো মেঘ আকাশে খুব দ্রুত জমতে শুরু করল। সূর্য আঁড়ালে চলে গেলো মনে হলো কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস আমাদের উপর দিয়ে চলে গেলো।এটা ছিলো ছোট্ট একটি বাতাসে ঝোঁক যাহক,ভালো খবর ছিলো যে সূর্য আবার আলো দিতে লাগলো। জোহান তার হাত তুলল দিগন্তের দিকে এবং বলল " বরফের জড় ,অনেক আগে হয়েছিল।" জোহান আবার ঘড়ীর দিকে তাকালো এবং শক্ত ও সোজা করে লাগাম ধরল। ঘোড়াগুলি অস্থিরভাবে মাটিতে থাবা মারতে লাগলো এবং মাথা নাড়তে লাগলো এবং জোহান বক্সের উপরে বসলো যেন সময় এসে গেছে আমাদের যাত্রা শুরু করার। আমি কিছুটা জেদ অনুভব করি এবং আরেকবার ক্যারিজে উঠতে মন চাইলো না । " আমাকে স্থান কিছু সম্পর্কে কিছু বলো যেখানে রাস্তাটি যায় " আমি নিচের দিকে নির্দেশ করে বললাম। সে তার বুকে ক্রস এঁকে বলল "এটা অপবিত্র।" "অপবিত্র কি?" "গ্রামটি।" "তারমানে সেখানে একটি গ্রাম আছে ?" "না ,না।এখনে শতবর্ষ ধরে কেউ বাস করে না।" আমার কৌতূহল দমে গেলো কিন্তু আমি বললাম "কিন্তু তুমি বলেছিল এখানে একটি গ্রাম ছিল।" "এখানে ছিল।" "এখন এটা কই?" তখন সে একটি বড় গল্প বলতে লাগলো জার্মান ও ইংলিশ মিশিয়ে যার জন্য আমি ভালো করে বুঝতে পারিনি আসলে সে কি বলছে। খুব কষ্ট করে এটা বুঝলাম যে অনেক আগে ,শতবর্ষ আগে এখানে অনেক লোক মারা যায় এবং তাদেরকে এখানে কবর দেওয়া হয় এবং কবর থেকে রাতে ভয়ানক আওয়াজ আসতো ।যখন সবাই মিলে কবরগুলি খুঁড়লো লাশগুলিকে পেলো গোলাপি অবস্থায় পেল ,প্রত্যেক নারী পুরুষের ঠোট রক্তে লাল ছিল।তাদেরকে মনে হল জীবন্ত যেনও ঘুমিয়ে আছে। এবং তদের জীবন (তাদের আত্মা ,সে একটি ক্রস আঁকল) বাঁচানোর জন্য তারা এলাকা ছেড়ে পালালও।যেখানে তারা জীবিতরা বাস করতে লাগলো আর মৃতরা মৃত----না ,অন্যকিছু ।সে এই কথাটি বলতে গিয়ে কেঁপে উঠল। সে যতই গল্পের গভীরে যেতে লাগলো ততই উত্তেজিত হতে লাগলো। মনে হচ্ছিল যেনও কল্পনা তাকে ঘিরে ধরল এবং সে একটি ভয়ের সাদা চেহারা,কম্পিত ,ক্রোধাবেগ নিয়ে চারপাশে দেখতে লাগলো যেনও কিছু ভয়ানক অস্তিত্ব নিজে প্রকাশ হয়েছে এই খোলা ময়দানে ,সূর্যের নিচে। অবশেষে,হতাশার কষ্ট নিয়ে,সে কান্না করল "ওয়ালপার্জিস রাত !" এবং ক্যারিজের দিকে নির্দেশ করল উঠতে । এই ঘটনায় ,আমার শরীরের বয়ে যাওয়া সব ইংলিশ রক্ত গরম হয়ে গেলো। আমি পিছিয়ে বললাম “তুমি ভীত ,তুমি ভীত জোহান।ফিরে যাও। আমি একাই ফিরবো। পায়ে হেটে হোটেলে ফেরা আমার অনেক উপকারে আসবে ।“ ক্যারিজের দরজা খুলা ছিল। আমি আমার ওক গাছের হাটার লাঠিটি নিলাম (যেটা আমি সবসময় ভ্রমণে নিয়ে বের হয় )এবং দরজা বন্ধ করে দিলাম।মিউনিখের দিকে ফিরে আমি বললাম “ফিরে যাও জোহান । ওয়ালপার্জিস রাত ইংলিশম্যানদের কখনো ভাবায় না।“ ঘোড়াগুলু আগের থেকে বেশি অশান্ত হয়ে গেলো। জোহান এইগুলাকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং আমাকে অনুরোধ করে যাচ্ছে বোকামির মত কিছু না করতে। আমার এই বেচারার জন্য মায়া হল। সে খুব আন্তরিক কিন্তু অন্য সময়ের মত আমি না হেসে পারলামনা।সে আর ইংলিশ বলছে না। উত্তেজনায় সে ভুলে গেছে যে সে শুধু আমাকে বুঝানোর জন্য আমার ভাষায় কথা বলে সুতরাং সে আবার তার জার্মান ভাষায় ফিরে গেলো। এটা ছিল খানিকটা ক্লান্তিকর তার বকবক শুনা। আমি তাকে মিউনিখের দিকে আঙ্গুল দিয়ে বললাম “হোটেল।“ তারপর আমি রাস্তা দিয়ে ভ্যালিতে নামতে লাগলাম। হতাশার ভাব দেখিয়ে জোহান তার ঘোড়াগুলু নিয়ে মিউনিখের দিকে যাত্রা করল। আমি লাঠির উপরে ভর দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ সে ধীরগতিতে চলতে লাগল। তারপর সেখানে পাহাড়ের চূড়ার উপর থেকে একটি লম্বা ও পাতলা একটি মানুষ নেমে আসলো। দূরে থেকেও আমি লোকটিকে ভাল করে দেখতে পারলাম। যখন সে ঘোড়াগুলির দিকে তাকাল ,ঘোড়াগুলি দাঁড়িয়ে লাফাতে শুরু করলো। তারপর ভয়ে চিৎকার দিতে শুরু করলো। জোহান এইগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলনা ।ঘোড়াগুলি পাগলের মত ছুটে চলে গেলো। আমি জোহানকে অদৃশ্য হতে দেখলাম। তারপর অপরিচিত লোকটি কে খুঁজলাম , আমি তাকে খুঁজে পেলাম না ,সেও চলে গিয়েছিলো। আমি ভয়ে ভয়ে নিচু উপত্যকায় হেটে গেলাম যেখানে জোহান যেতে বলেছিল। কোন কারণ ছিলনা যে জোহান আপত্তি করার। আমি অনেকক্ষণ ধরে হেটে চলছি এবং কোন জনবসতি আর একটি লোক ও আমার চোখে পড়েনি তা আমার মনেই ছিল না ।যতটুকু এই স্থানটিকে দেখলাম পুরোটা ছিল নির্জন। আমি খেয়াল ই করলাম না যে আমাকে এই জায়গাটি মুগ্ধ করেছে। রাস্তা বাকের উপর আমি কাঠের স্তূপের উপর দাড়িয়ে চারপাশ দেখলাম। তখন ভালভাবে বুঝতে পারলাম যে আমি অচিরেই মুগ্ধ হয়েছি এই অঞ্চলের নির্জনতার দ্বারা। আমি বসে পড়লাম বিশ্রামের জন্য এবং চারপাশ দেখতে শুরু করলাম। হঠাৎ বুঝতে পারলাম যে আমি হাটা শুরুকালীন যে ঠাণ্ডা ছিল তার থেকে বেশি ঠাণ্ডা পড়েছে এখন। হাল্কা শব্দ আমার চারপাশে শুনতে পায়,কিছুক্ষণ পর মাথার অনেক উপরে একটা চাপা গর্জন শুনতে পায়।আমি উপরে তাকিয়ে দেখলাম উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে খুব দ্রুত মেঘ জমছে। ঝড় আসার পূর্বাভাস ।আমি কিছুটা শান্ত হয়ে ভাবলাম ,বসে থাকা ঠিক হবে না। আমি পুনরায় যাত্রা শুরু করলাম। যে জায়গা দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম সেটা ছিল অধিক চিত্রানুগ। চোখে পড়ার মত কোন জিনিস ছিল না কিন্তু সেখানে সৌন্দর্যের ছোঁয়া ছিল। গোধূলির আলো যখন আমার চোখে এসে পড়ল ,আমি তখনি একটু সময় নিয়ে ভাবলাম কি করে হোটেলে ফেরার রাস্তা বের করবো। বাতাস ঠান্ডা হতে লাগলো এবং আকাশে মেঘের খেলা আরও স্পষ্টতর হতে লাগলো। মেঘের গর্জন ও শুনা যাচ্ছে। মেঘের গর্জনের সাথে একটা শব্দও ভেসে আসছে দূর থেকে। শব্দটি ছিল রহস্যময়। একটু পর শব্দটি আসছিল। জোহান বলেছিল এরকম শব্দ নেকড়েরা করে। কিছুক্ষণের জন্য আমি থমকে গেলাম। আসার পথে দেখা পরিত্যক্ত গ্রামের দিকে হাটতে শুরু করে দিলাম। আমি গেলাম এবং একটি খোলা প্রান্তরে হাজির হলাম। আমি এখন পাহাড় দ্বারা বন্ধী। পাহাড়ে চারপাশ গাছপালা দ্বারা বেষ্টিত যেইগুলা প্রশস্তত খালি ঢাল পরিপূর্ণ করে নিচের দিকে নেমে এসেছে। আমার চোখ একটি রাস্তাকে অনুসরণ করল। রাস্তাটি একটি ঝোপের সামনে গিয়ে হারিয়ে গেলো। তাকিয়েছিলাম সেই ঝোপটির দিকে। যখনি আমি তাকালাম একটা ঠাণ্ডা দমকা হাওয়া এসে আমার গায়ে লাগলো এবং বরফ পড়তে শুরু করল মনে হল। আমি একটি জনশূন্য দেশে আমি মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়েছি। সামনে কাঠের স্তূপে আশ্রয় নিলাম। আকাশ অন্ধকার থেকে অন্ধকার হল। বরফ পড়া শুরু হল,আমার চারপাশ বরফের আস্তরণে সাদা হয়ে গেল এবং আস্তে আস্তে এর শেষ প্রান্ত আমার চোখের বাইরে চলে গেলো। পথের প্রান্তগুলু ছিল চিহ্নহীন। যার ফলে আমি রাস্তা থেকে দূরে সরে গেলাম এবং ঘাস এবং শ্যাওলায় গিয়ে পা দিলা। বাতাস শক্তিশালী হল এবং জোরে বইতে শুরু কর। বাতাসের বিরুদ্ধে হাটা কষ্টকর ছিল। হিমশীতল বাতাস যার জন্য হেটেও কষ্ট থেকে মুক্তি পেলাম না। আমার চারপাশে এত জোড়ে বরফ পড়ছিল যে আমার জন্য চোখ খোলা রাখা কষ্টকর হয়ে গেল। মাঝে মধ্যে আকাশ ফেটে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। সেই আলোয় আমার সামনে বড় জঙ্গল দেখলাম। যেইগুলা মূলত ইউ আর সাইপ্রাস গাছ ,সবগুলাই বরফ দিয়ে ঢাকা ছি। তাড়াতাড়ি একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিলাম ,জায়গাটি ছিল তুলনামূলক নিস্তব্ধ। মাথার উপর বাতাসের গর্জনের আওয়াজ শুনলাম। ঝড়ের অন্ধকার মিশে গিয়েছিল রাতের অন্ধকারের সাথে। আস্তে আস্তে ঝড় ও চলে গেল শুধু মাঝেমাঝে দমকা হাওয়া বইতে লাগলো। সেই মূহুর্তে আমার চারপাশে নেকড়ের অদ্ভুত আওয়াজ নানা শব্দে প্রতিধ্বনি হয়ে আমার কানে আসতে লাগলো। মাঝেমধ্যে বয়ে যাওয়া মেঘের মাঝ দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়তে লাগলো। যেটার আলোয় দেখলাম আমি ইউ ও সাইপ্রাস বনের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। যেহেতু বরফ পড়া বন্ধ হয়ে গেল আমি আশ্রয় থেকে বেরিয়ে এসে চারপাশ ভালো করে দেখতে লাগলাম। মনে হল যে,সব পুরনো বাড়িঘর ফেলে এসেছি যেগুলার মধ্যে এমন একটি বাড়ি রয়েছে যেখানে আমি ক্ষণিকের জন্য আশ্রয় নিতে পারবো। কাছে গিয়ে দেখলাম বাড়িটা ভাঙ্গা এবং একটি ভাঙ্গা দেয়াল বাড়িটাকে ঘিরে রেখেছে। এটা অনুসরণ করেই সামনে একটি রাস্তা পেলাম যেটা একটি চারকোনা বাড়ির সামনে গিয়ে শেষ হয়। যেই মাত্রই আমি এটা দেখলাম ,মেঘের আড়ালে চাঁদ চলে গেলো এবং আমি রাস্তা দিয়ে অন্ধকারে হাটতে লাগলাম। বাতাস অনেক ঠান্ডা হয়ে গেছে যার ফলে আমার কাঁপুনি হয় হাটতে গিয়ে। আশ্রয়ের আশায় কোন রকমে হেটে গেলাম অন্ধকারের মধ্যেই। আমি থেমে গেলাম হঠাৎ স্তব্ধতার জন্য। ঝড় একেবারেই থেমে গেছে। সম্ভবত প্রকৃতির স্তব্ধতার সাথে সাথে আমার হৃদপিন্ড ও থেমে গেছে। সেটা ছিল সাময়িক। হঠাৎ করে মেঘের আড়াল থেকে চাঁদের আলো এসে পড়ল। সেই আলোয় আমি দেখলাম ,আমি দাড়িয়ে আছি এক কবরখানায়।আমার সামনে চারকোনা বস্তুটি আসলে সাদা মার্বেলের একটি কবর। কবরের চারপাশ বরফে সাদা হয়েছিল। চাঁদের আলোর সঙ্গে বয়ে আসল ঝড়ো বাতাসের ফিসফিসানির শব্দ। যেটা নিজের মত দীর্ঘ সময় ধরে চলল। মনে হল, অনেকগুলু কুকুর ও নেকড়ে একসাথে চিৎকার করছিল। আমি ভয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। ঠান্ডা বাতাস শরীর দিয়ে বয়ে গেল। তারপর চাঁদের আলো এসে পড়ল মার্বেলের কবরটির উপরে। এমন সময় ঝড় যেন পুনরায় শুরু হওয়ার আভাস দিল। মুগ্ধতার শিকার হয়ে কবরটির দিকে এগিয়ে গেলাম দেখতে এটা কি এবং কেন এমন জিনিস এখানে দাঁড়িয়ে আছে। চারিদিক ঘুরে আমি ডোরিক দরজায় জার্মানে পড়তে লাগলাম – COUNTLESS DOLINGEN OF GRATIZ IN STYRIA তাকে খুঁজা হয় এবং মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ১৮০১ সমাধির উপরে ,সম্ভবত শক্ত পাথর ভেদ করে একটি লোহার বর্শা কিংবা শূল উঠেছে পাথরের বড় ব্লকগুলো দিয়ে। আমি পিছনে গিয়ে দেখি ,বড় রাশিয়ান শব্দে লেখা , মৃতরা দ্রুত ভ্রমণ করে এখানে এই বিষয়টা নিয়ে অদ্ভুত এবং অস্পষ্ট এমন কিছু ছিল যেটা আমাকে শরীর অবশ করার মত অনুভূতি দিয়েছিলো। আমার প্রথমবারের মনে হল ,জোহানের কথা আমার শুনা উচিৎ ছিল। একটি চিন্তা আমার মাথায় উদয় হল,এটা আসলো শক দিয়ে নাটকীয়ভাবে - আজ ওয়ালপার্জিস। লাখ লাখ লোকের বিশ্বাস অনুযায়ী ,ওয়ালপার্জিস রাত হল সেই রাত ,যেই রাতে শয়তান ঘুরে বেড়ায় , কবর খুলে যায় এবং মৃতরা কবর থেকে উঠে বেড়ায়। সে রাতে জলে ও স্থলে পৃথিবীর সমস্ত অশুভ জিনিস উঠসব শুরু করে। ড্রাইভার এখানে এসেই ভয় পেয়ে যায়। এই জায়গাটি শতাব্দী আগেই জনশূন্য হয়ে। এখানেই সকল আত্মহত্যাকারীরা শুয়ে আছে। এটা হল সেই জায়গা যেখানে আমি একা-জনশূন্য ,আমি ঠাণ্ডায় কাঁপছি আর মাথার উপর ঝড় হওয়ার জন্য বরফ জমা হচ্ছে ! আমার সমস্ত দর্শন ,ধর্মশিক্ষা ও সাহস এক করে দাঁড়ালাম যাতে ভয়ে পড়ে না যায়। আর এখন আমার উপর একটি বড় ঝড় এসে আছড়ে পড়ল। মাটি এমনভাবে কাঁপছে যাতে হাজারো ঘোড়া মাটির উপর দিয়ে। এবার ঝড় তার হিমশীতল ডানায় করে বরফ নয় ,বয়ে নিয়ে আসলো ভয়ংকর শিলাবৃষ্টি যেটা এত জোরে বয়তে শুরু করলো যে সাইপ্রাস গাছের পাতা ও শাঁখা-প্রশাখা গুঁড়িয়ে দিল যদিও গাছগুলু দাড়িয়ে রইল। আমি প্রথমে নিকট গাছের নিকট ছুটে গেলাম আশ্রয়ের জন্য কিন্তু শীঘ্রয় ত্যাগ করতে হল এবং সেই জায়গায় যেতে হল যেটি আশ্রয় নেওয়ার মত উপযুক্ত ছিল। প্রশস্ত ডোরিক পাথরের দরজাটির সামনে। এখানে আমি দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে শিলাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেলাম। এখন শিলাবৃষ্টি পড়তে লাগলো আমার চারপাশের পাথরে। যখনি দরজায় একটু ধাক্কা দিলাম ,দরজাটি ভিতরের দিকে খুলে। বাইরের ঝড় থেকে রক্ষা পেতে কবরই সই এবং যখনি আমি ঢুকতে যাবো তখনি বিদ্যুৎ চমকে উঠল এবং সমস্ত সমাধিগৃহকে আলোকিত করলো। তাৎক্ষণিক আমি দেখতে পারলাম একটি সুন্দরী নারী গোলা গাল ও লাল ঠোটের শায়িত আছে কফিনের উপর। একজন জীবিত মানুষের মত আমি নিজের চোখে দেখলাম। মাথার উপর আকাশ গর্জে উঠল ,যেন দুটি দৈত্যের হাত আমাকে টান দিয়ে বাইরের ঝড়ের মধ্যে বের করে নিয়ে গেল। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে গেল যে আমি কিছু বুঝার আগেই ঝড় আমার উপর এসে পড়ল। ঠিক একই সময় আমার মনে হত লাগল ,আমি এখানে একা নই। আমি সমাধির দিকে তাকালাম। তারপরই মনে হল একটি বজ্রপাত এসে আঘাত করল সমাধির উপর লোহার খন্ডতে এবং এতে সমাধির উপর পাথরে আগুন লেগে গেল। সমাধিতে শায়িত থাকা মেয়েটি আগুনের উপর ছিল। মেয়েটি যন্ত্রণায় চিৎকার দিয়ে উঠল। তার ব্যথার আর্তনাদ মিশে গেল বজ্রপাতের শব্দের সাথে। শেষ শব্দটি যেটা আমি শুনলাম অনেকগুলো ভয়ানক শব্দের মিশ্রণ এবং পুনরায় আমাকে কোন দৈত্যের হাট টেনে নিতে লাগল। তখন শিলাবৃষ্টি আমার উপর পড়তে লাগলো বাতাসে নেকড়ের শব্দ প্রতিধ্বনি হয়ে আমার কানে আসতে লাগল। শেষ যে দৃশ্য আমি মনে করতে পারলাম তাহল একটি অস্পষ্ট সাদা চলমান পিন্ড যেন সকল মৃতরা তাদের সব প্রেত্মাদের পাঠিয়ে দিয়েছে এবং তারা যেন সেই শিলাবৃষ্টির অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে । আস্তে আস্তে আমার হালকা চেতনা ফিরতে শুরু করল ,তারপর একটি অনুভূতি যেটা ছিল খুব ভয়ানক। আবার জ্ঞান হারালাম কিন্তু আস্তে আস্তে জ্ঞান ফিরে আসল।পায়ে অনেক ব্যথা অনুভব করলাম ,সেই জন্য পা নাড়াতে পারছিলাম না। পাগুলো মনে হচ্ছে অবশ হয়ে গেছে। ঘাড়ে কিছু একটা শীতল অনুভব করলাম। একটি শীতল ভাব মেরুদণ্ড বেয়ে নিচে নেমে এলো। আমার কানগুলোও যেন আমার পায়ের মত সেই হিমশীতল অনুভূতিতে অবশ হয়ে গেল কিন্তু বুকের কাছে গরম ভাব পাচ্ছিলাম যেটা তুলনামূলক আনন্দদায়ক। এটা ছিল সম্পূর্ণ দুঃস্বপ্ন –শারীরিক দুঃস্বপ্ন ।কিছু একটা আমার বুকের উপর উপর চেপে বসে আছে যার জন্য আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এই আধা-বেহুশ অবস্থা মনে হয় অনেকক্ষণ ছিল। যখন এটা চলে গেল আমি বোধ ঘুমচ্ছিলাম। তারপর বমি বমি ভাব হল খানিকটা সি-সিকনেস এর প্রাথমিক ধাপের মত এবং নিজেকে কিছু একটা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ইচ্ছা হল কিন্তু কি সেটা তা জানিনা। একটি প্রচণ্ড স্থবিরতা গ্রাস করল আমাকে। মনে হল, সারা পৃথিবী ঘুমিয়ে গেছে অথবা মরে গেছে শুধু কয়েকটি জানোয়ারের নিঃশ্বাসের শব্দ সেই স্থবিরতাকে ভেঙ্গে দিচ্ছে। গলার কাছে একটা উষ্ণ শব্দ পেলাম।তারপর ঘটনাটা বুঝার সাথে সাথে আমার হৃদপিণ্ড ভয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গেল। একটা বিশাল জন্তু আমার উপর বসে আমার গলা চাটছিল। পড়ে থাকলাম যেভাবে ছিলাম সহজাত প্রবৃত্তির শিকার হয়ে। নরপশুটি বুঝতে পারল আমার মধ্যে কোন পরিবর্তন এসেছে সে জন্য পশুটি মাথা উঁচু করল। চোখের ফাঁক দিয়ে উপরে দেখলাম আমার উপর পশুর দুটি চোখ জ্বল জ্বল করছে। তার বিরাট হা করা মুখের মধ্যে চিক চিক করছে সাদা দাঁত এবং আমি এটার গরম নিঃশ্বাস এবং ক্রোধ অনুভব করতে পারছি। ক্ষণিকের জন্য জ্ঞান হারালাম। আবার হুশ ফিরল হাল্কা গোঙানির আওয়াজ শুনে । একটু পর কুকুরের কান্নার আওয়াজ শুনলাম। একটু পর দূর থেকে আওয়াজ আসতে লাগল “হোল্লোওয়া!হোল্লোওয়া!” যেন অনেকগুলা আওয়াজ একসাথে ডাকছে। সাবধানে মাথা তুলে তাকালাম , যে দিক হতে আওয়াজটা আসছিলো,কিন্তু কবরখানা আমার দৃষ্টি আঁটকে দিল। নেকড়েটি এখনো অদ্ভুতভাবে ডেকে চলল। নেকড়েটির লাল দৃষ্টি গেল সাইপ্রাস এর ঝাড়ের দিকে। যতই আওয়াজটি কাছে আসতে লাগলো নেকড়েটি দ্রুত জোরে ডাক দিতে লাগল। আমি ভয়ে আওয়াজ ও করতে পারছি না নড়তেও পারছি না। আমার চারপাশে সাদা বরফের আস্তরণের উপর অন্ধকারে একটি লাল আলো দেখতে পেলাম। হঠাৎ করে গাছের আড়াল থেকে একদল মশালধারী অশ্বারোহী ভেসে উঠল। নেকড়েটি আমার বুকের উপর থেকে উঠে কবরখানার দিকে গেলো। একজন অশ্বারোহী(পোশাক দেখে মনে সৈনিক ) তার কারবাইন তাক করল নেকড়েটির দিকে। একজন তার হাতটা সরিয়ে দিলো। মাথার উপর দিয়ে ঘুলিটা চলে যাওয়ার আওয়াজ শুনলাম। প্রথম লোকটি বোধয় আমাকে নেকড়ে ভেবে গুলি করেছিল। আরেকজন নেকড়েটিকে পালাতে দেখে গুলি করল। একদল অশ্বারোহী আমার দিকে এগিয়ে এলো আরেকদল ধাওয়া করল পালিয়ে যেতে থাকা নেকড়েটিকে। তাদেরকে কাছে আসতে দেখে আমি উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করলাম কিন্তু শরীর ছিল বলহীন। আমার চারপাশে কি ঘটছিল সব দেখতে ও শুনতে পাচ্ছিলাম। দুই-তিন জন সৈনিক ঘোড়া থেকে নেমে আমার দিকে এগিয়ে আসলো। একজন নেমে আমার হৃদপিণ্ড পরীক্ষা করে তার হাত তুলে চিৎকার দিল “গুড নিউজ কমরেডস।তার শ্বাস এখনো চলছে। “ তারপর কিছু ব্র্যান্ডি আমার মুখে দেওয়া হল যেটা আমাকে চাঙ্গা করে তুলল। আমি আম্র পুরো চোখ খুলে চারিদিক দেখতে পারলাম। আলো এবং ছায়া গাছের মধ্যে খেলা করছিল,এবং শুনলাম সবাইকে ডাকা হল। সবাই কবরখানা থেকে বেড়িয়ে এল। সবার চোখমুখে আতংক। সামনে থাকা ব্যক্তিকে কাছে আসতেই ,আমার বসে থাকা লোকগুলু প্রশ্ন করল, “তাকে পেয়েছ?” তারপর সবাই একসঙ্গে উত্তর দিল,”না!না! চলে আসুন তাড়াতাড়ি। এখানে থাকার মত কোন জায়গা নেই এই অশুভ রাতে!” “ওটা কি ছিল?” সবাই প্রশ্ন করল। উত্তরটাও আসল নানাভাবে। মনে হল সবাই কিছু একটা দেখে ভয় পেয়েছে এবং সেই ভয়ের জন্যই কেউ কিছু বলতে পারছে না। “ওটা!ওটা ছিল...!” একজন বিড়বিড় করে বলতে করল ঠিক তখনি যেন সে তার বলার ভাষা হারাল। “একটি নেকড়ে –না আবার নেকড়ে ও নই” একজন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগল। “পবিত্র ঘুলি ছাড়া তাকে মারা বৃথা চেষ্টা” তৃতীয় একজন সাদামাটাভাবে বলল। “আজকে রাতে অনেক করেছি ,যেটুকু করেছি হাজার টাকার কাজ করেছি “ চতুর্থ একজন বলল। আরেকজন বলল ,”ভাঙ্গা পাথরে রক্তের দাগ ছিল ।বজ্রপাত পড়ে সেখানে রক্ত আসেনি। আর উনি –উনি কী নিরাপদ ? দেখো কমরেডস উনার গলা দেখো,নেকড়েটি উনার উপর শুয়ে থেকে উনাকে গরম রেখেছে।“ অফিসার আমার গলার দিকে তাকিয়ে বলল,”সে ঠিক আছে,চামড়ায় আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু এর মানে কি? নেকড়েটা চিৎকার না দিলে আমরা তাকে খুঁজে পেতাম না।“ “কিন্তু ওটার কি হল?” আমার মাথা যে ধরে রেখেছিল সে বলল। তাকে সবচেয়ে কম ভীত মনে হল। সে জন তার হাত শক্ত ছিল ,কোন কাঁপুনি দেখা যায়নি। “ওটা ঘরে চলে গেছে। এখানে অনেক কবর রয়েছে এটা থাকার জন্য। চল কমরেডস আমরা তাড়াতাড়ি এই অভিশপ্ত জায়গা ছেড়ে চলে যায়।‘’, একটা লোক তার ফ্যাকাসে লম্বা মুখ নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে চারিদিক তাকাচ্ছে। অফিসারটি আমাকে তুলে বসালেন ,তিনি কয়েকজন সৈনিককে আদেশ দেওয়া মাত্র তারা আমাকে তুলল একটি ঘোড়ায়। সে আমাকে তার বাহুতে নিয়ে ঘোড়ার লাগাম ধরে সবাইকে আদেশ দিল সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য,সাইপ্রাস এর জঙ্গলকে পিছনে ফেলে আমরা সামনে এগিয়ে গেলাম। কথা বলতে পারছিলাম না তাই চুপ করে ছিলাম। সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তারপর যেটা আমি মনে করতে সেটা হল আমি নিজেকে পেয়েছিলাম দাঁড়ানো অবস্থায় দুইজন সৈনিকের সহায়তা নিয়ে। দিনের আলো ফুটে উঠেছে এবং উত্তরে আলোর রেখা বরফের আস্তরণের উপর পড়ে রক্তিম বর্ণে প্রতিফলিত হল। অফিসার সবাইকে বলেছিল যা দেখেছে তা কাওকে না বলতে শুধু এটা ছাড়া যে ,তারা একজন ইংরেজ আগুন্তককে খুঁজে পেয়েছে যাকে একটি বড় কুকুর পাহারা দিচ্ছিল। “কুকুর!ওখানে কোন কুকুর ছিল না ,আমি চিনতে পারি নেকড়ে কে যদি আমি দেখি “ভয় পাওয়া লোকদের থেকে একজন বলে উঠল। তরুণ অফিসারটি শান্তভাবে জবাব দিল ,”আমি বলেছি ওটা একটা কুকুর।“ “কুকুর!” আরেকজন সংক্ষিপ্তভাবে বলল।এটা ফুটে উঠেছিল যে দিনের আলো বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তার সাহস ও বেড়ে চলছে,আমার দিকে ইশারা করে সে বলল”,তার গলার দিকে দেখুন ,এটা কি কোন কুকুরের কাজ ,কর্তা?” সহজাতপ্রবৃত্তি বশত আমি আমার গলায় হাত দিলাম এবং আমি হাত দেওয়া মাত্রই ব্যথ্যায় চিৎকার করে উঠলাম। সবাই ফিরে তাকাল,কেউ ঘোড়া থেকে নেমে এল। তারপর অফিসারের শান্ত গলার আওয়াজ আসলো ,”একটি কুকুর ,যেমনটি আমি বলেছি। অন্যকিছু বললে লোকে আমাদের কথা শুনে হাসবে।“ তারপর আমাকে একজন সৈনিকের পিছনে বসানো হল ।চললাল মিউনিখের শহরের পথ ধরে। যাত্রাপথে এখানে একটি ক্যারিজ পাওয়া গেল। যেটাতে উঠে আমরা মিউনিখের কোয়াত্রে সাইসন এর দিকে রওনা দিলাম। একজন তরুণ অফিসার আমার সাথে উঠে বসল ,অপরদিকে একজন ঘোড়ায় করে আমাদের পিছন পিছন আসল এবং বাকিরা ব্যারাকে ফিরে গেল। আমরা পৌঁছামাত্রই হের ডেল্ব্রাক ছুটে আসলেন দেখা করতে।এটা পরিষ্কার যে সে আমাদের পথ চেয়ে বসেছিলেন। দুহাত দিয়ে আমাকে ধরে বিনয়ের সাথে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেল। অফিসার আমাকে স্যালুট দিয়ে চলে যেতে লাগল ,ঠিক তখনি আমি ব্যাপার বুঝলাম এবং তাকে আমার রুমে আসার জন্য অনুরোধ করলাম। এক গ্লাস ওয়াইনের সাথে উষ্ণভাবে আমি তার ও তার কমরেডসকে ধন্যবাদ দিলাম আমার জীবন বাঁচানোর জন্য। তিনি হেসে বললেন,হের ডেলব্রাক প্রথমেই সার্চ-পার্টি নিয়োগ দিয়ে বুদ্ধিমানের কাজ করেছেন। এই কথায় হোটেল ম্যানেজার হাসি দিলেন শুধু। অফিসার তার ডিউটির কথা বলে বিদায় নিলেন। আমি প্রশ্ন করলাম ,”হের ডেলব্রাক ,কিভাবে বুঝলেন আমি বিপদে এবং কেন তাদেরকে আপনি নিয়োগ দিলেন আমাকে খোঁজার জন্য?” তিনি তার কাঁদ নাচিয়ে বললেন ,”আমি খুব ভাগ্যবান যে আমি রেজিম্যান্টের কমান্ডারের অনুগ্রহ পেয়েছি যার সাথে আমি কাজ করতাম।“ “আপনি কি করে বুঝলেন যে আমি হারিয়ে গেছি ?” “ড্রাইভার এখানে তার ভাঙ্গা ক্যারিজ নিয়ে। ঘোড়াগুলু পালিয়ে যাওয়া তাকে খুব ব্যথিত করেছে।“ “কিন্তু সে জন্য আপনি নিশ্চয় আমাকে খোঁজার জন্য সামরিক সৈন্য পাঠাননি?” “ওহ!না! কোচম্যান এখানে আসার আগে আমি একটি টেলিগ্রাম পেয়েছিলাম বোয়ার থেকে যার অতিথি আপনি “ সে তার পকেট থেকে টেলিগ্রামটি বের করে আমাকে দিল এবং আমি পড়তে লাগলাম, বিস্ট্রিটয, আমার অতিথি সম্পর্কে সাবধান। তার সুরক্ষা আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। তার কিছু হলে,সে হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজার জন্য সবকিছু করবেন। তিনি ইংরেজ অতএব ভ্রমণবিলাসি। এখানে রাত, নেকড়ে ও বরফ খুব বিপদজনক ।এক বিন্দু সময় ও নষ্ট করবে যদি তার বিপদের আশঙ্কা থাকে। আমি আমার ভাগ্য দিয়ে আপনার খরচ পরিশোধ করব।“_____________ড্রাকুলা। টেলিগ্রামটা হাতে নিয়ে আমার মাথা ঘুরতে লাগল,হোটেল ম্যানেজার না ধরলে আমি হয়ত মাটিতে পড়ে যেতাম। পুরো ব্যাপারটা অদ্ভুত ও অকল্পনীয় মনে হল। আমার উপর একটি অস্তিত্ব জন্মাতে লাগল যেটা আমার বিরুদ্ধে খেলা-এটা বুঝা মাত্রই আমার হাত পা অবশ হয়ে এল। আমি অবশ্যই কোন রহস্যজনক রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে ছিলাম।তা না হলে অনেক দূরদেশ থেকে ,অল্প সময়ে কি করে একটি বার্তা এসে আমাকে তুষারমৃত্যূ আর নেকড়ের মুখ থেকে রক্ষা করল। ----------------------সমাপ্ত------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ড্রাকুলার অতিথি
→ ড্রাকুলার অতিথি শেষ পর্ব
→ ড্রাকুলার অতিথি ১১
→ ড্রাকুলার অতিথি ১০
→ ড্রাকুলার অতিথি ০৯
→ ড্রাকুলার অতিথি ০৮
→ ড্রাকুলার অতিথি ০৭
→ ড্রাকুলার অতিথি ০৬
→ ড্রাকুলার অতিথি ০১
→ ড্রাকুলার অতিথি ০৫
→ ড্রাকুলার অতিথি ০৪
→ ড্রাকুলার অতিথি ০৩
→ ড্রাকুলার অতিথি ০২
→ ড্রাকুলার অতিথি ০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now