বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"চিরকুটের শব্দ ২"

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ লোকমান হোসেন বাবু(guest) (০ পয়েন্ট)

X "চিরকুটের শব্দ ২" ১ম পর্ব । --আখি, আখি, ওই আখি, --আসছি, --চা নিয়ে আইসো। --আসছি। . আমার বউ আখি, মেশিন ছাড়া কানে শুনতে পেতো না। এখন ওর চিকিৎসা চলছে, যার কারনে হালকা হালকা শুনে। তবে বউটা আমার খুবই শান্ত। রাগটা শুধু আমার সাথেই দেখায়। অনেক কাহিনীর পর আমাদের বিয়েটা হইছে(চিরকুটের শব্দ)। --এই যে হাতুম, তোমার চা। --দাও। --এক সেকেন্ড, (চায়ে চুমুক দিলো) হু সব ঠিক আছে, এই নাও। --এটা কি হলো? আমার চায়ে তুমি চুমুক দিলে কেনো? এটা আমি খাবো না। --প্রতিদিনই তো দেই, আজ সামনে দিলাম বলে খাবে না? --কিহ? প্রতিদিন তোমার চুমুক দেওয়া চা খেতে হতো? --হু। --না বলে এতদিন খাওয়াইছো, আর পারবানা। --চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, খেয়ে নাও। --না খাবো না। চুমুক দিলা কেনো? --আচ্ছা এদিক দাও, নতুন করে বানিয়ে দিচ্ছি। --এদিকে আসো। --বলো। --চুমুক দিয়ে দেখোতো গরম আছে কিনা? --হু --নতুন করে বানানো লাগবে না, খেয়ে নিচ্ছি। আহ কি যে স্বাদ হইছে বলে বুঝানো যাবে না। আচ্ছা এটা কি তোমার ভালোবাসা? --জানিনা। যাও ফ্রেশ হয়ে এসো, টেবিলে নাস্তা দিচ্ছি। --ওক্কে মেডাম . ফ্রেশ হয়ে এসে দুজন একসাথে নাস্তা করি। আজ ছুটির দিন। সপ্তাহে এই একটা দিনই আখির সাথে কাটাতে পারি। আর এই দিনেই আমরা ঘুরতে বের হই। দুজন অনেক মজা করি। আজও আমরা ঘুরতে যাবো। --আখি --বলো --কি ব্যাপার? আজ ঘুরতে যাবে না? --হাতুম, --হুম --আজ আমরা দিনটা বাসায় কাটাই? --তোমার যেমন ইচ্ছা। --রাগ করছো? প্লিজ রাগ করো না। ভাবছি আজ নতুন কিছু রান্না করে তোমায় খাওয়াবো। --আরে নাহ, রাগ করি নি। তুমি যেমন চাও তেমনি হবে। --কত্তো ভালো আমার হাতুম টা। এদিকে আসো তো। --কেনো? --আসতে বললাম না। --হুম বলো। --উম্ম্ম্ম্মাহ --কোন উপলক্ষে এটা? --সময় হলে বুঝবা, এখন যাও, রান্না করতে হবে তো। --আচ্ছা। . সোজা রুমে চলে আসি। কিছুক্ষন পর রান্নাঘরে যাই, দেখি কতো রকমের পদ রান্নার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বুঝলাম আজ বাড়িতে মহা ভোজ হবে। দরজায় ঠায় দাড়িয়ে আছি আর ভাবছি মানুষ মাত্র ৩ জন, তাহলে এতো খাবার কে খাবে? মেহমান আসবে নাকি? বউ আপন মনে রান্না করছে। আমি গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরি। . --কে? --তোমার হাতুম ছাড়া কে তোমায় জড়িয়ে ধরবে শুনি? নাকি অন্য কারো আসার কথা ছিলো? --এসব কি বলছো হাতুম? হঠ্যাৎ জড়িয়ে ধরলে, তাই ভয়ে বলে দিলাম কে? এমন করো কেনো তুমি? --আচ্ছা সরি, একটা কথা বলি? --বলো --বাড়িতে কি মেহমান আসবে? --নাতো --তাহলে এতো রান্না কিসের জন্য? কে খাবে এতো খাবার? --তোমার জন্যই তো রান্না করছি, তুমি খাবে, খুব ইচ্ছা তোমাকে অনেক কিছু রান্না করে খাওয়াবো। --তাই বলে এতো কিছু? এটা তো ঢোল না, পেট। জায়গা কই পামু? --আহ, সেটা পরে দেখা যাবে, আগে রান্না তো করতে দাও। --আচ্ছা, আমি যাই। --হাতুম --হুম? --এভাবে জড়িয়ে থাকো না। যেও না। --আচ্ছা, কিন্তু রান্নায় তো সমস্যা হতে পারে, আমার বকবকে যদি লবন মসলা উল্টা-পাল্টা দিয়ে ফেলো? --যদি ছাড়ো তাহলে উল্টা-পাল্টা হবে। সেটা তোমাকেই খাওয়াবো। --এই না না, ছাড়বো না, জড়িয়ে ধরেই আছি, তুমি রাঁধো। --কত্তো ভালো আমার হাতুম টা। --আর পাম দিতে হবে না। তাড়াতাড়ি করো। পেট তো খাই খাই করছে। --আর একটু অপেক্ষা করো। তুমি গিয়ে গোসল করে নাও। ততক্ষণে সব তৈরী হয়ে যাবে। --আচ্ছা, গেলাম তাহলে। --যাও . গোসল করে এসে দেখি পুরো টেবিল সাজানো। মা আর তার বউমা দুজনেই চেয়ার ধরে দাড়িয়ে আছে। --এই যে আমার রাজপুত্র, বসে পড়েন। বহুদিন ভালো মন্দ খায় নি। ছেলেটা আমার কেমন শুকিয়ে গেছে। --আম্মু, সব কি আমার পেটে যাবে? বসো তোমরা। --না আব্বাজান, আমরা এখনো গোসল করিনি। তুই খা, আমরা পরে খেয়ে নেবো। --আরে তাই বলে আমি একা খাবো নাকি? আমি অপেক্ষা করছি, তোমাদের সাথে খাবো। --পাগল ছেলে। --হুম, এবার যাও। --আচ্ছা যাচ্ছি। এরপর আম্মু আর আখি আসলে সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খাই। সত্যিই আখির রান্নার তুলনা না নেই। বিকেলে দুজন ঘুরতে বের হই। মেয়েটা ঘুরতে খুব ভালোবাসে। বিয়ের আগে(চিরকুটের শব্দ) ওকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। খুব ভুল করেছিলাম। এখন নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করি ওকে ভালো রাখতে, সুখে রাখতে। ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে। নিজের আত্মার সাথে জড়িয়ে নিতে। সারা বিকেল আমার হাতটা ওর তালুবন্ধি ছিলো। কখনো আবদার করলে তা খুবই নরম সুরে করতো। এইতো কয়েকদিন আগের কথা। . ঘরে বসে ল্যাপটপে অফিসের কিছু প্রজেক্ট কমপ্লিট করছিলাম। তখন আখি আসে। --হাতুম --হু --একটা কথা বলবো? --বলো --আফিসে কাজ কি বেশি? --আছে মোটামুটি, কেনো বলোতো। --অনেকদিন মা-বাবাকে দেখি না। ১দিন সময় হবে? --একদিন কেনো? গিয়ে কয়েকদিন থেকে এসো। --তোমাকে ছেড়ে? --কেনো? পারবে না? --না। --কিন্তু আমার যে সময় নেই। --ও, আচ্ছা থাক। পরে কোন দিন যাবো। যাই চুলায় রান্না চাপিয়ে এসেছি। --আরে কই যাও? হাত ধরে টেনে আমার পাশে বসালাম একি? চোখে তো পানি ছলছল করছে। কিন্তু আমার কিছু করার নেই। অনেক কাজ, হাতে সময় নেই। --আচ্ছা(নিচের দিকে তাকিয়ে) --আচ্ছা কি? ১০ দিন হলে হবে? লাগলে এরেকটু সময় বাড়াতে পারি। হবেতো? (একটা প্রাপ্তির হাসি উপহার পেলাম) আমায় জড়িয়ে ধরে কেদেই দিলো। --এই পাগলি, কাদছো কেনো? যাবো তো, আচ্ছা কবে যাবে বললে নাতো। --এই সপ্তাহ পর। --ওক্কে মেডাম। --আমার হাতুম টা অনেক ভালো। --তোমার না চুলায় রান্না চাপানো, যাও। --বিকেল বিকেল বেলা কেউ রাধে? গাধা। --তাহলে বললে কেনো? --এমনি বলছি। এখন যাই, চুলায় রান্না চাপিয়ে এসেছি। --আবার? তবেরে.....(দৌড়ে পালিয়ে যায়) অনেকদিন হলো বাপের বাড়ি যায় নি। তাই এই আবদার। আর আগামীকালই সেই আবদারের দিন। মানে শনিবার, ওকে নিয়ে কাল শশুড় বাড়ি যাবো। . চলবে................. . [পরবর্তী পর্ব আসছে...]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now