বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেদিন ছিলো আষাঢ়
মাস । আমি বাজার
কইরা বাড়ী ফিরতাছি ।
আমাবইশ্যার রাইত ।
ঘুটঘুটা আইন্ধাইর । এক
হাত দুরের জিনিষও
দেখা যায়না । তখন
আবার ম্যালা রাইত ।
গ্রামের রাস্তা তো,
একটা কাকপক্ষীও নাই ।
আমি তো হালার ভয়ে
অস্থির । বিভিন্ন সূরা
আর দোয়া পড়তে পড়তে
হাটতাছি । আমার হাতে
ছিল দুইখান ইলিশ মাছ
। সাড়ে ৬শ টাকা দিয়া
কিনা। হালায় দাম
চাইছিলো ২ হাজার ।
আমি কইছি থাপ্পর
দিয়া তোর দাঁত
ফালায়া দিমু
হারামজাদা ! চিনোস
আমারে । যাই হউক ,
রাত্রে বেলা ইলিশ
মাছ নিয়া বারি
ফিরতাছি , ইলিশ মাছ
আবার ‘তেনাগো’ বিশেষ
পছন্দের জিনিষ । সেই
কারনে আমার ডর আরো
বাইরা গেলো ।
অবশ্য এখনকার ইলিশে
আগের সেই গন্ধ আর
শুয়াদ (স্বাদ) নাই ।
ইলিশ আনতেনে আমার
নানাজান । আহারে কি
গন্ধ !! কি টেস্ট !! আইনা
নানীরে কইতেন ... ‘ও
করিমের মা ...’
উপস্থাপকঃ আমরা সে
গল্প না হয় আরেকদিন
শুনবো , আমরা মূল গল্পে
ফিরে আসি ।
যাই হউক । কিছুদুর
হাটার পর হাল্কা
চান্দের আলোতে দেখি
সামনে মিঞাবাড়ির
বটগাছ দেখা যায়।
উপস্থাপকঃ কিন্তু আপনি
তো বললেন আমাবস্যার
রাত।
ইশ , ভাইজান , আপ্নে
বড়ই সমস্যা করেন ,
কইলাম না এইটা ভুতের
গল্প । এইখানে চান্দ
মিনিটের মধ্যে উঠবো ,
মিনিটের মইধ্যে
নামবো । এতো প্রশ্ন
করলে কইলাম আমি নাই ,
ডাইক্কা আইন্না
বেইজ্জত !!
উপস্থাপকঃ আচ্ছা ,
আচ্ছা আমরা ঘটনায়
ফিরে আসি । আপনি
বটগাছ দেখলেন ...
তারপর ?
এই বটগাছের আবার
বিরাট কাহিনী । এই
গাছের ডালে ফাঁস
দিয়া কুলসুমা মরছিল ।
আহারে কুলসুমা । দেখতে
বড়ই সউন্দর ছিল ।
স্কুলে আইতে যাইতে
কুলসুমের সাথে
রংতামাশা করতাম ।
‘টুনির মা’ কইয়া ডাক
দিতাম । কুলসুম কিছু
কইতো না । ডরে তার মুখ
দিয়া কথাই বাইর
হইতোনা । খিক খিক
খিক ...
একখান ‘বিশেষ’ কারনে
কুলসুমা গলায় ফাঁস
দিছিল । সেই কথা
আপনেরে আলগা কইরা
কমু , তয় হেইদিন
কুলসুমার কথা মনে
হইতে আমি বুঝলাম ‘ডর’
কি জিনিশ । তিনবার
সুরা এখলাস পইড়া
হাটা দিলাম ।
পূর্ণিমার রাইত , সব
কিছু পস্ট দেহা
যাইতাসে । আতকা দেখি
আমার সামনে একটা
কালা বিলাই ।
আমি বুঝলাম এইটা
কুলসুমা ছাড়া আর কেউ
না। আমারে শাস্তি
দিতে আইছে । আমি
মাথা ঠাণ্ডা রাইখা
কইলাম ‘আম্মা , তুমি
আমারে মাফ কইরা
দ্যাও ‘
বিলাই এ কয় ‘ম্যাও’ ।
বড়ই আজিব ব্যাপার !!!
এইদিকে ‘ভাদ্র’ মাসের
গরমে আমি ঘামে
ভিইজা জুবজুবা।
আমি কুলসুমা (বিলাই)
রে কইলাম , ‘আমি আর
জিন্দেগিতে কোন
মাইয়ার দিকে চউখ
তুইলা তাকামু না ,
কেউরে মিসকল দিমুনা,
মাফ করো আম্মা , বারি
যাইতে দ্যাও ...
কুলসুমা কয় ‘ম্যাও’ ...
চিন্তা করছেন অবস্থা ?
এমন সময় শুনি পেছনে
বেটা মাইনশের গলার
আওয়াজ । আমি আপনাদের
অনুষ্ঠানের মত কইরা
ডাক দিলাম ... ‘কেডা ?
কেডা ওনে ?’
আওয়াজ আইলো ‘জী , আমি
রহিম । ভালা আছেন নি
ভাই ?’
রহিম রে দেইখা আমার
জানে শান্তি আইল ।
আবার লগে ডর ও লাগলো
। এত রাইতে রহিম
এইহানে কি করে ?
সামনে তাকায়া দেখি
কুলসুমা (কালা বিলাই)
নাই !!! তহন আমার মনের
সন্দেহ আরও বাইড়া
গেলো । তাইলে কি
বিলাইটা রহিমের রুপ
ধইরা আইলো ? আমি
তাকায়া দেহি আমাদের
রহিমের মতো এই
রহিমের শইল্যের রঙ
ধলা না, কালা !!!
বিলাইয়ের রঙ ও কালা
আছিল । কুলসুমার গায়ের
রঙ ও কালা আছিল ।
দুইয়ে দুইয়ে চাইর
হইতে সময় লাগলো না।
তয় আমি যে ভয় পাইছি
সেইটা রহিম (না
কুলসুমার আত্না ?) রে
মোটেও বুজবার দিলাম
না । একবার যদি
ব্যাটা টের পায় আমি
ভয় পাইছি , ব্যাটা
আমার ঘাড় মটকাইয়া
খাইবো । আমি জোরে
জোরে হাটতে থাকলাম
লগে সূরা পড়তে
থাকলাম । বাড়ি আমার
আরো মিনিট দশেকের
পথ ... কেমতে যে যাই ।
যত সূরা মুখস্ত আছে সব
পড়া শুরু করলাম ।
এইদিকে রহিম আমার
পিছ পিছ হাটতাছে।
রহিমের সাথে হাল্কা
গফসফও করা শুরু করলাম।
এর মধ্যে দুইবার রহিম
জিগাইলো আমার
ব্যাগের মধ্যে কি ?
আমি কিছু কইলাম না ।
হালায় যদি একবার
টের পায় ইলিশ মাছ
তাইলে আমার আর
বাইচা থাহনের কোন
আশা নাই ।
কিছু সময় পড়ে আমি
রহিমরে কইলাম চইত্র
মাসের গরম টের
পাইতেছ রহিম ? কেমুন
গা জলতাছে ? কিন্তু
পেছনে কোন উত্তর নাই !
আমি কইলাম ‘ও রহিম ,
রহিম ।‘ উত্তর নাই ।
পিছনে তাকায়া দেহি
রহিম নাই । আমার
ধারনাই সত্যি হইলো ।
আমি জানের ডরে উইঠা
দিলাম দৌড় । কুলসুমার
ভুত আবার কোন সময়
চইলা আসে ঠিক নাই ।
এমন সময় পেছন থাইকা
শুনি রহিমের গলা ‘ও
মিয়া ভাই , ও মিয়া
ভাই ।‘ কুলসুমার ভুত
আবার চইলা আইছে ।
আমি দৌড় থামাইলাম
না । জানের শক্তি
দিয়া দৌড়াইতে
থাকলাম । কুলসুমার ভুত
‘রহিম’ ও আমার লগে
দৌড়াইতে থাকলো । আর
কইতে থাকলো ও মিয়া
ভাই আমারে লইয়া যান
। আমারে লইয়া যান’
আরে আমি কি আর এতোই
বুকা ?
শেষে দৌড়াইতে
দৌড়াইতে বাড়ি আইসা
পৌঁছাইলাম । এখন আর
আমার কোন ডর নাই! এমন
সময় হালা ভুতও আইসা
উপস্থিত । আমি কইলাম
কুলসুমা তুই এইহান
থাইকা যা ... নইলে
কিন্তু আমি মাওলানারে
ডাকমু ...
ভুত রহিমে আমারে
কইলো ‘ ও ভাইজান ,
আপনের কি হইছে
আমারে কুলসুমা কোন
ক্যান ? আপনের কি
হইছে ।
আমি ভালো কইরা
খেয়াল কইরা দেখলাম
রহিমের শরীরের ছায়া
মাটিতে পড়তেছে । তার
মানে এইটা ভুত না ,
ভুতের শরীরে কোন
ছায়া থাকেনা।‘
বুঝলাম , এইটা আসলেই
রহিম , কুলসুমার ভুত না!!
আমি রহিমরে কইলাম
‘আমার পিছন থাইকা
আতকা তুই গেসিলি কই ?’
রহিম শরমের হাসি
দিয়া কইল ‘মুততে
গেছিলাম ভাই ,
ক্ষেতের ধারে’
আমি আবার কইলাম
‘শালা , কইয়া
যাবিনা ?’
রহিম কইলো ‘ক্যাম্নে
কমু ভাই ? মুতার কথা
কইতে শরম লাগে , কিন্তু
আপ্নে দৌড় দিলেন
ক্যান ? কি হইছিলো ?
আমি আর সত্য ঘটনা
কইলাম না। আমি কইলাম
‘কিছু না , মনে হয়
কুলসুমারে দেখছিলাম ,
তাই দৌড় দিলাম ।‘
রহিম রাগ কইরা বলে
‘তাই বইলা আমারে
রাইখা দৌড় দিবেন ?
যে ভয়ডা পাইছিলাম ।
যাই হউক আমারে এক
খান লুঙ্গি দেন ।‘
আমি জিগাইলাম ‘লুঙ্গি
চাস কেন ?’
রহিম আবারো শরমের
হাসি দিয়া কইলো ‘ ভাই
অর্ধেক কামের মাঝে
আপনে উইঠা দিলেন
দৌড় , আমিও দিলাম দৌড়
, বাকি অর্ধেক
দৌড়াইতে দৌড়াইতেই... ‘
রহিম আর কিছু কইতে
পারলোনা। শরমে তার
মুখ লাল হইয়া আছে।
আমি কইলাম ‘ছিঃ রহিম
, তুই এতো ডরাস ? তোরে
আমার ছুটো ভাই
হিসেবে পরিচয় দিতেই
লজ্জা করবো । যাউজ্ঞা ,
লুঙ্গি বদলাইয়া বাড়িত
যা, কাইল্কে আইনা
ফেরত দিছ । রহিম
লুঙ্গি লইয়া বাড়িত
চইলা গেলো। আমিও এই
ঘটনার কথা মনে কইরা
হাসতে হাসতে
বিছানায় শুইতে গেলাম
।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now