বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্বার্থপর ২

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরমান হোসেন (০ পয়েন্ট)

X স্বার্থপর ২ .. .. - ভাই শুনলাম আপনার নাকি বিয়ে। তা দাওয়াত কবে পাবো? (আমি) - ঠাস.................। কয়েকজন বন্ধু মিলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিলাম। তখন আমার নজর চলে গেল একটু দূরে। দেখি আমাদের পাড়ার বড় ভাই সাজেদ আসছে। দেখেই আমি আর আমার বন্ধুরা সিগারেট ফেলে দিলাম। কিছুদিন পরেই ভাইয়ের বিয়ে। তাই আমি ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ব্যাপারটা। আর তার বিনিময়ে সাজেদ ভাই দিল কষিয়ে একটা চড়। মনে হচ্ছে দাঁতগুলো সব খুলে পড়ে যাবে। এ কেমন অবিচার? দাওয়াত চাওয়ার বিনিময়ে পেলাম চড়? - ভাই এতো জোরে কেউ থাপ্পড় মারে? দাঁত তো মনে হয় নড়বড়ে হয়ে গেছে। (আমি) - তোকে যে গুলি করি নাই এইটা তোর ভাগ্য। (সাজেদ ভাই) - হ ভাই তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু ভাই চাইলাম দাওয়াত, দিলেন চড়। ঠিকমত হজম হলো না ব্যাপারটা। - দাওয়াত চাওয়ার কারনেই তো থাপ্পড়টা দিলাম। - মানে? - ওই তোরা কি আমার পর? তোরা হচ্ছিস আমার এলাকার ছোট ভাই। মানে আমার কলিজা। তোদেরকে দাওয়াত দিতে হইবো কেন? তোরা তো আমার বিয়েতে অবশ্যই আসতে হবে। .. কথাটা শুনে মনটা ভরে গেল। আসলে সাজেদ ভাই ধরতে গেলে আমাদের আপন মানুষই। বিপদে আপদে উনি সবার আগে ছুটে এসেছেন আমাদের জন্য। এখন তিনি একটা বড় কোম্পানিতে বড় চাকরি করেন। - আহ ভাই কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে গেল। তা ভাই বিয়ে কবে? (আমি) - ১৪ তারিখে। - ও ১৪ই জানুয়ারি? ভালই করেছেন। ভাবির মুখ তাড়াতাড়িই দেখতে পারবো। - ঠাস................। - ভাই এবার কেন মারলেন? - ১৪ই জানুয়ারি তো আজকেই। আমার বিয়ে ১৪ই ফেব্রুয়ারি। - তাই নাকি ভাই? বাহ ভালবাসা দিবসে ভালবাসা পেয়ে যাবেন। আর আমরা মুড়ি খাবো। - কথা কম। তোরা তৈরি থাকিস, আমার বিয়ের আয়োজন তোরা করবি। - ভাই আমরা ধন্য হইলাম। - পাম কম মার। এখন যা, সারাদিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকিস কেন তোরা? একেকটার চেহারা কাকের মত হয়ে আছে। .. সারাদিন কোনমতে কাটিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু রাত এলেই মনটা কালো মেঘে ঢেকে যায়। রাত হয়ে উঠে অনেক দীর্ঘ। কানে বাজতে থাকে নিধির শেষ কথাটুকু " আমি যাকে বিয়ে করছি সে অনেক ভাল চাকরি করে। তোমার মত বেকার নয়। ভালো থেকো তুমি। আর আমাকে ভূলে যাও।" সত্যিই একটা সম্পর্ক তৈরি করতে কয়েকবছর লেগে যায় আর সেই সম্পর্ক শেষ করতে মাত্র কয়েক মূহুর্তের প্রয়োজন হয়। সত্যিইতো আমার এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সাথে সে নিজেকে কেন জড়াবে? প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে নিজের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করার। তাহলে সে কেনই বা আসবে আমার কাছে? হয়তো আমার সাথে তার চার বছরের সম্পর্ক ছিল। তাতে কি বা আসে যায়? তবুই প্রতি রাতে আমি অপেক্ষায় থাকি নিধির একটা কলের জন্য। জানি এই অপেক্ষা অর্থহীন, এই অপেক্ষার কোন শেষ কখনোই হবে না। রাত বাড়তে থাকে, আর বাড়তে থাকে আমার ঘরে নিকোটিনের ধোঁয়ার আনাগোনা। .. দেখতে দেখতে ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে সাজেদ ভাইয়ের বিয়েটা ধুমধামের সাথেই হয়ে গেল। বলতেই হবে এর আগে আমাদের এলাকায় এর চেয়ে জাঁকজমকপূর্ন বিয়ে আর হয়নি কখনো। সাজেদ ভাইয়ের বউকে দেখলাম। তবে এই দেখার কোন মানে নেই। এত পরিমান ময়দা মেখেছে যে এটা মানুষ নাকি পেত্নি বোঝার কোন সাধ্য নেই। শেষ পর্যন্ত সাজেদ ভাইয়ের কপালে জুটলো ময়দা সুন্দরী? আমরা বন্ধুরা অনেক কথা বললাম এ ব্যাপারে। নাহ সাজেদ ভাইয়ের সাথে এটা ঠিক হয়নি। উনার মত এত হ্যান্ডসাম ছেলের কপালে শেষ পর্যন্ত ময়দা সুন্দরী? .. একমাস পর......................... সারারাত জেগে থাকার পর শেষরাতে ঘুম ধরেছিল। তবে বেশিক্ষন ঘুমাতে পারিনি। কে যেন ফোন দিয়েছে। কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে চোখদুটো জ্বলছিল। মনে হচ্ছে চোখে কেউ মরিচ লাগিয়ে দিয়েছে। ফোন হাতে নিয়ে দেখি সাজেদ ভাইয়ের ফোন। মনে মনে গালি দিতে দিতে ফোন ধরলাম, - হ্যালে ভাই বলেন। - ওই ব্যাটা কই তুই? - ভাই ঘুমাচ্ছিলাম। - রাখ তোর ঘুম। আমার একটা কাজ করে দিতে হবে। - কি কাজ ভাই? - আমার সাথে বিকেলে যেতে হবে। - কোথায় যাবো ভাই? - তোর ভাবির জন্য একটা মোবাইল কিনতে হবে। আমি আবার মোবাইলের ব্যাপারে একেবারেই আনাড়ি। তুই একটু ভাল দেখে কিনে দিবি। - ঠিক আছে ভাই বিকালে আমি অপেক্ষা করবো হাজী মার্কেটে। ভাবিকে নিয়ে চলে আসবেন। ওখানে আমার এক বন্ধুর দোকান আছে। - আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে এখন রাখি। তুই ঘুমা। .. ফোন রেখে দিয়েই আবার চোখ বুজলাম। ঘুমের জগতে আবারে হারিয়ে গেলাম কিছুক্ষনের মধ্যেই। বিকালের আগেই তৈরি হয়ে চলে গেলাম হাজী মার্কেটে। মোবাইলের দোকানটা রাসেলের। আমার ছোটবেলার বন্ধু। ওর সাথে অনেকদিন হলো আড্ডা দেইনা। তাই আজ চলে এলাম আড্ডা দিতে। আড্ডার সাথে সাথে সাজেদ ভাইয়ের মোবাইলটাও কিনে দেয়া হবে। - রাসেল কি খবর তোর? - এইতো ভালই, দোকানের ভিতর আয় মামা। - হুম তা বেচাকেনার কি অবস্থা? - মামা অবস্থা ভালই। তা কি খাবি? ঠান্ডা না গরম? - যেটা মনে চায়। - আচ্ছা তাহলে ঠান্ডা নিয়ে আসি। তুই একটু অপেক্ষা কর। বেশ কিছুক্ষন কথা বলার পর মোবাইল আবারো বেজে উঠলো। সাজেদ ভাইয়ের ফোন। - হ্যালো ভাই কই আপনি? - আমি তো মার্কেটের নীচে। তোকে তো দেখছি না। - ভাই আপনি দাঁড়ান আমি আসতেছি। দোকান থেকে দৌড়ে নীচে নামলাম। মাত্র চারটা সিড়ি বাকি ছিল এমন সময় সাজেদ ভাইকে দেখলাম। এবং ভাইয়ের সাথে যাকে দেখলাম তাকে দেখে নিজের শরীরের ভারসম্য আর ধরে রাখতে পারলাম না। বাম পা একটু মচকে গেল আর সাথে সাথেই একেবারে ভূপাতিত। সাজেদ ভাই দৌড়ে আমার কাছে এসে আমাকে মাটি থেকে তুললো। পা মনে হয় খুব ভালভাবেই মচকেছে। কিন্তু আমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। আমি সাজেদ ভাইয়ের পাশের মেয়েটিকে দেখছি। সেই চোখ, সেই ঠোটের নীচের তিল, সেই চশমা সবকিছু এখনো আগের মতই আছে। - কিরে ব্যাথা পেয়েছিস নাকি? (সাজিদ ভাই) - নাহ ভাই কিছু হয়নি। আমি ঠিক আছি। - হুম তাহলে চল। - ভাই আপনার সাথে এই মেয়েটা কে? (ফিসফিস করে) - আরে বেকুব, এইটাই তো তোর ভাবি। বজ্রাঘাতে মানুষের অনূভুতি কেমন হয় আমি জানিনা, তবে নিজেকে আজ বজ্রাঘাতে মৃত মানুষের মত মনে হচ্ছে। বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো। মনে হচ্ছে কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে হৃদয়টা ফালাফালা করে দিচ্ছে। যে নিধিকে আপন করে পাবার স্বপ্ন দেখতাম সেই নিধি আজ সাজেদ ভাইয়ের বউ? হায় পৃথীবি, তুমি বড়ই বিচিত্র। .. নিধি নিজেও হয়তো আমার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছে। ওর ভ্রু দুটো এখনো কুঁচকে আছে, ঠিক যেমনটা আগে কুঁচকাতো। সাজেদ ভাই আর ভাবিকে (!) নিয়ে রাসেলের দোকানে গেলাম। মনটা তখনো ভারী হয়ে আছে। মাথাটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। একটু ঘুমাতে পারলে ভাল হতো। রাসেল নিজেও নিধিকে দেখে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছে। কারণ নিধিকে একবার এনেছিলাম রাসেলের সাথে দেখা করাতে। রাসেল মোবাইল দেখাচ্ছে নিধিকে, আর এদিকে সাজেদ ভাই দেখি একটু কেমন যেন করছে। - ভাই মাছের মত লাফাচ্ছেন কেন? - এদিকে টয়লেট আছে রে? খুব চাপ দিয়েছে রে। - ছোটটা না বড়টা? - বড় টা। - তাহলে তো ব্যাপার সিরিয়াস। সোজা গিয়ে বাম দিকের গলির শেষ মাথায় পাবেন। - আচ্ছা তোরা মোবাইল দেখ, আমি আসছি। - এই আপনি কই যাচ্ছেন? (নিধি) .. সাজেদ ভাই নিধির কথার জবাব না দিয়ে সোজা হাঁটতে লাগলো। তারপর সবাই নিরব। রাসেল তাকিয়ে আছে নিচের দিকে, আমি তাকিয়ে আছি একটা মোবাইলের দিকে আর নিধি আমার দিকে। - বিয়েতে অমনভাবে আটা ময়দা বা মাখলেও চলতো। আমার কথাটা শুনে নিধি চমকে উঠলো। হয়তো আমি ওর সাথে কথা বলবো এটা ও ভাবতেই পারেনি। - তুমি এমনিতেই সুন্দরী, মেকআপের কোন দরকারই ছিল না। জানো তোমাকে আমি চিনতেই পারিনি। নিধি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলে উঠলো, - কেমন আছো? - ভাল আছি। - চাকরি করো নাকি এখনো বেকার? - নাহ চাকরি নামক সোনার হরিন আমার কপালে নেই হয়তো। - ও আচ্ছা। - হুম। - আগের থেকে অনেক শুকিয়ে গেছ। খাওয়া দাওয়া করো না নাকি ঠিকমত? - আগে কেউ একজন ছিল প্রতিদিন খাওয়ার সময় খোঁজ নেওয়ার। এখন সে নেই, তাই খাওয়া হয়না নিয়ম করে। - (নিরবতা) - মোবাইল কোনটা ভাল লেগেছে? - আমাকে ক্ষমা করে দিও। - ক্ষমা করার আমি কে? আমি অতি তুচ্ছ প্রানি। ক্ষমা করা বা রাগ পুষে রাখার ক্ষমতা আমাকে দেয়া হয়নি। - (নিরবতা) - তোমার চোখে পানি। মুছে ফেলো তাড়াতাড়ি। সাজেদ ভাই দেখলে সন্দেহ করতে পারে। - (চোখের পানি মুছতে ব্যস্ত) - আমাকে ছেড়ে চলে গিয়ে ভালই করেছো। সাজেদ ভাই অনেক ভাল মানুষ। তোমাকে অনেক সুখে রাখবে। - (নিরবতা) - আচ্ছা এই মেবাইলটা খুবই ভাল। এটা প্যাক করে দিয়ে দে রাসেল। আর দামটা একটু কম রাখিস। আর সাজেদ ভাইকে বলিস আমার একটা জরুরি ফোন এসেছে তাই চলে গেছি। - ঠিক আছে। (রাসেল) - আমি যাই। - শোনো। (নিধি) - বলে ফেলো। - আমাদের সম্পর্কের কথাটা কাউকে.......... .। - নিশ্চিন্তে থাকতে পারো। আমি স্বার্থপর নই। কেউ জানবে না আমাদের অসমাপ্ত গল্পের কথা। .. বাম পা ব্যাথায় টনটন করছে। হাঁটতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তবু আমি হাঁটছি। চোখদুটো জ্বলছে। হয়তো একটু পরেই চোখ ফেটে বের হবে অশ্রু। এখন মনে প্রানে আমার একটাই কামনা, হে ধরনী আমি এখন বৃষ্টি চাই। কারন তাহলে আমার কান্না কেউ দেখবে না। .. লেখক: আরমান হোসেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমরা সবাই স্বার্থপর হয়ে গেছি:(:(:(
→ স্বার্থপর
→ স্বার্থপর লোক
→ আমি স্বার্থপর নই..
→ স্বার্থপর প্রেম
→ স্বার্থপর মেয়ে
→ #স্বার্থপর দুনিয়া পর্বঃ২
→ #স্বার্থপর দুনিয়া পর্বঃ১
→ স্বার্থপর মেয়ে
→ গল্প স্বার্থপর প্রেমিক লেখক => রাসেল খান
→ এক স্বার্থপর লোকের ঘটনা
→ স্বার্থপর
→ স্বার্থপর
→ স্বার্থপর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now