বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমাদের কাজের মেয়েটা সেদিন বিকেলে একটু দেরি
করে এলো! সে নতুন একটা কাজ ধরেছে বলে এখন থেকে
একটু দেরি হবে বলে জানালো।
আমার স্ত্রী-পুত্র সেদিন একটু বেরিয়েছিল। ঘরে একা
আমিই ছিলাম। নতুন একটা লেখা নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেও
ওকে ঘাড় নেড়ে জানাই যে খবরটা বৌদির কানে
পৌঁছে দেবো!
–‘চা দেবো বাবু?’
অন্যমনস্ক হয়ে বলি—‘দাও’।
ও চলে গেল রান্নাঘরে। শুনতে পেলাম বাসনপত্রের
আওয়াজ! বাসন মাজার শব্দ!
–‘কচি মেয়ে…কচি হৃৎপিন্ড!’ হঠাৎ একরাশ ঠান্ডা হাওয়া
আবার আমার কান ছুঁয়ে গেল! ফিসফিস করে বলল—
–‘কেমন লাগবে খেতে?’
সেই শেষ কথা…বিশ্বাস করুন তারপর আমার আর কিছু মনে
নেই! আমি কি করেছি না করেছি…কিচ্ছু বলতে পারবো
না!
শুধু যখন জ্ঞান এলো তখন দেখলাম…
মেয়েটা আমার সামনে পড়ে আছে…ভীষণ আতঙ্কে চোখ
দুটো খোলা…সারাঘরে রক্ত…আর রক্ত…! আমার গায়ে…
মুখে…হাতে…সর্বাঙ্গে…
আর লাশের পাশে পড়ে আছে কিচেনের একটা ছুরি!
সেটাও যেন রক্ত মেখে পাশবিক জিঘাংসায় হাসছে!
আমি কি করবো…কি করবো…লাশটা লুকোনো দরকার…
রক্তটা মুছে ফেলা দরকার…নিজের হাত পা পরিষ্কার…
কোনটা আগে করবো? ভীষণ কান্না আর ভয় বুকের মধ্যে
এসে ধাক্কা মারছে! ভয়ে, অনুতাপে কান্নায় ভেঙে
পড়লাম! কি কষ্ট! মৃত্যুযন্ত্রণার মতো…!আমি একটা
জানোয়ার…জানোয়ার…! খুনী…সাইকো…ওঃ ঈশ্বর!
অনেকক্ষন কান্নাকাটির পর মনের জোর ফিরে পেলাম।
লাশটাকে স্টোররুমে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে ফেলি।
স্টোররুমে এখন আর কেউ ঢোকে না! চতুর্দিকে শুধু ধুলো
আর মাকড়সার জাল! সেখানেই বর্জ্য জিনিসপত্রের
স্তূপে লুকিয়ে ফেললাম তাকে।
তখনই ফের নজরে পড়ল—সেই ছায়া! আমার ছোটখাটো
চেহারার ছায়ার ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে আছে! হ্যাট-কোট
পরা…লম্বা ছায়া…যেন তাকিয়ে দেখছে আমি কি
করছি!
না,ওর কাছে হেরে যেতে পারবো না আমি! এক্ষুনি কিছু
করতে হবে।
তাড়াতাড়ি সব দাগ মুছে ফেললাম। টয়লেটে ঢুকে স্নান
করছি এমন সময় কলিংবেলের আওয়াজ। আমার স্ত্রী
ফিরে এসেছেন। কোনমতে গা মুছে তাকে দরজা খুলে
দিই। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হলেন—‘তুমি এই
ভর সন্ধ্যায় স্নান করেছ যে!’
কি বলবো ভেবে পেলাম না। শুধু বলি—‘এই…মানে ইচ্ছে
করল’।
তিনি সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে আমায় একবার মেপে নিলেন।
–‘ভারতী এসেছিল?’
ভারতী আমাদের কাজের মেয়ের নাম।
ভয়ে কুলকুল করে তখনও ঘামছি। মুখ দিয়ে আওয়াজ
বেরোচ্ছে না। কোনমতে বলি—‘ভারতী? কই…ননননাঃ…
আসেনি তো!’
স্ত্রী বিরক্ত হয়ে বকবক করতে করতে কিচেনের দিকে
গেলেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বেরিয়ে এসে
বিস্মিত স্বরে বললেন—‘ভারতী আসেনি? তবে বাসনপত্র
কে মাজলো?’
কোনও উত্তর দিতে পারলাম না!
সেরাত্রে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর চুপিচুপি উঠে
রান্নাঘরে গেলাম। যেখানে যত ছুরি, কাঁচি, ধারালো
জিনিস আছে পাগলের মতো খুঁজতে শুরু করি। এক্ষুনি
এগুলো সরানো দরকার! আমার নিজের উপর নিজেরই
বিশ্বাস আর নেই। আমারই চরিত্র আমায় হারিয়ে দেবে!
অসম্ভব! কিছুতেই হারবো না আমি ওর কাছে!
সমস্ত ছুরি, কাঁচি, কাটার জিনিসপত্র আঁতিপাতি করে
খুঁজে জড়ো করলাম। তারপর প্যাকেট করে সব ফেলে
দিলাম আস্তাকুঁড়েতে। কাল সকালে ময়লা তোলার
লোক এসে নিয়ে যাবে প্যাকেটটা!
সমস্ত কাজ করার পর যেন অদ্ভুত স্বস্তিবোধ করলাম!
এবার আর কিচ্ছু হবে না! কিচ্ছু হবে না……! সব ঠিকঠাক
আছে…সব ঠিক…
ঘুমিয়ে পড়ার আগে চোখে পড়ল সেই লম্বা ছায়াটা
তখনও দেওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তৃপ্তির হাসি
হাসলাম—এইবার ওকে হারিয়েছি আমি! আর আমাকে ও
কষ্ট দিতে পারবে না।
মনে খুব শান্তি নিয়ে ঘুমোতে গেলাম! চমৎকার ঘুম হল।
কোন দুঃস্বপ্ন নয়, নিপাট সুখের ঘুম।
পরদিন বেশ দেরিতে ঘুম ভাঙে। তাকিয়ে দেখি বেলা
এগারোটা বাজে! অবাক হলাম! সে কি! এত দেরী!
আমার স্ত্রী আমায় ডাকেননি কেন! বেড টি ও বিছানার
পাশে নেই! কি অদ্ভুত!
অবাক হয়ে উঠে বসতেই চোখে পড়ল দৃশ্যটা!
আমার দুই হাতে, সারা গায়ে রক্ত! সারামুখে……!
বুকের ভিতরটা ধ্বক করে উঠল…আমার আর দিগবিদিক
জ্ঞান থাকলো না!…ছুটে গেলাম বাইরের ঘরের দিকে…
নেই…কেউ নেই…আমার স্ত্রী…আমার ছেলে…কেউ নেই…
ছাতে, বসার ঘরে, বাথরুমে, বাগানে…কোথাও নেই…
…হঠাৎ টেবিলের উপরে চোখ পড়ল!সেখানে একটা
পাত্রে দুটো হৃৎপিন্ড সাজানো! একটা বড়……আরেকটা
ছোট……!
বলতে বলতেই হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন তপন মিশ্র
—‘বিশ্বাস করুন! আমি…আমি সজ্ঞানে এসব করিনি!
আমি কি করে নিজের সন্তানকে মারবো!কি করে
আমি…নিজের হাতে নিজের ছেলেকে-স্ত্রীকে……’।
বাদবাকি কথাগুলো উচ্ছ্বসিত কান্নায় ঢেকে গেল।
ডাক্তারবাবু রুদ্ধশ্বাসে তার কথা শুনছিলেন। অসম্ভব
যন্ত্রণায় লোকটা বুকফাটা হাহাকার করে উঠল—
–‘আমার আর কেউ রইল না ডাক্তারবাবু…আমি…আমি…
একটা জানোয়ার…একটা সাইকো…একটা ঘৃণ্যজীব…ওঃ…
ওঃ ভগবান…আমি…আমি ভাবলাম এবার কি করবো! এবার
কি…বাঁচার আর কোন মানে রইলো না যখন…তখন কি
করি! তখন…তখন…বেডকভারটা দিয়ে ফ্যানে ফাঁস এঁটে…
ওঃ যন্ত্রণা! যন্ত্রণা!…আর পারছি না!…আমি আর
পারছি না ডাক্তারবাবু…আমি…’
–‘আপনি খুনি!’
লোকটা অস্পষ্ট মুখ তুলে তাকায়। তার চোখ চকচক করে
উঠল।
–‘আপনাকে এই মুহূর্তে পুলিশে দেওয়া দরকার’।
–‘পুলিশে দেবেন?’ শান্ত গলায় তপন মিশ্র বলে—‘দিন।
পুলিশে ফোন করুন। তাই ভালো…তাই ভালো’।
টিমটিমে বাতিটার পাশেই একটা বড় আলো থাকে।
রোগীরা সবসময় অন্ধকার পছন্দ করে বলেই বড় আলোটা
জ্বালান না তিনি। এবার পুলিশে ফোন করার জন্য বড়
আলোটার দরকার পড়ল!
কিন্তু আলোটা জ্বালিয়েই…চিৎকার করে উঠলেন ডক্টর
সিনহা!
সব যেখানে থাকার—আছে। দেওয়ালে দুটো ছায়া তখনও
মুখোমুখি বসে আছে! তপন মিশ্রের ধরানো সিগ্রেটটা
তখনও জ্বলছে!
কিন্তু………শূন্যে!
আর কেউ নেই!!!!!!!!! (সংগৃহীত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now