বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসা দিবস

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরমান হোসেন (০ পয়েন্ট)

X ভালবাসা দিবস .. .. লাশটার দিকে তাকালেই বুকটা কেঁপে উঠে। মেঝে থেকে তিনহাত উপরে ঝুলছে লাশটা। লাশের গলায় দড়িটা শক্ত হয়ে এটে আছে। দেখলে মনে হয় অতি আপন কেউ গলাটাকে জড়িয়ে রেখেছে পরম ভালবাসায়। লাশটা আর কারো নয়, তানিয়ার। যে কিছুদিন আগেও স্বপ্ন দেখতো এক রঙিন জগতের। সেই তানিয়াই আজ মৃত্যু নামক ধূসর দুনিয়ায় চলে গেছে। কে জানে মৃত্যুর রঙ ধূসর নাকি অন্যকিছু? সবার প্রথম যে এই লাশটা দেখেছে সে হচ্ছে তানিয়ার ছোট ভাই। ছেলেটা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হতে পারেনি। সে এখন ঠিক যেন পাথরের মুর্তি। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার বোনের নিথর দেহের দিকে। আসলে কি হয়েছিল তানিয়ার? কেনই বা তাকে অকালে চলে যেতে হলো? এর পেছনের কাহিনি কি? এটা হয়তো কেউ কোনদিন জানবে না। চলুন আপনাদেরকে এই অকাল মৃত্যুর দৃশ্যগুলো দেখিয়ে আনি। আমি নিজে সদ্যমৃত তানিয়ার ভূমিকায় অবতীর্ন হচ্ছি। .. আজ কলেজে খুবই মজার একটা ঘটনা ঘটেছে। এবং এটা আমার জন্য অানন্দের। আজ নাদিম আমাকে প্রোপোজ করেছে। একেবারে এত্তগুলো মানুষের সামনে আমাকে প্রোপোজ করেছে। লজ্জায় তো আমার চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল। আমি কোনমতে সেখান থেকে ছুটে পালিয়ে এসেছি। আজকের এই দিনের কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। নাদিম আমাদের কলেজের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র। এবং সে মোটামুটি সুদর্শন। কলেজের অনেক মেয়েরাই ওর জন্য পাগল। কিন্তু ও কাউকে কখনোই পাত্তা দেয়নি। কিন্তু আজ নাদিম আমায় প্রোপোজ করেছে। আমার এই কথাটা এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। আমি নাদিমের পাশে দাঁড়ালে মনে হবে অালোর পাশে অন্ধকার দাঁড়িয়ে আছে। তাহলে নাদিম কি কারণে আমাকে প্রোপোজ করলো? আমি তো দেখতে খুবই খারাপ। .. আজ অনেকদিন পর আয়নায় নিজেকে ভাল মত দেখছি। আজ আমার কাছে মনে হচ্ছে, নাহ আমি হয়তো দেখতে ততটা খারাপ না। নয়তো নাদিম কেন আমায় প্রোপোজ করবে? আমি কিন্তু নাদিমের প্রোপোজাল এখনো একসেপ্ট করিনি। দেখা যাক কাল কি হয়। .. - তানিয়া শোনো। মাত্রই কলেজের গেট দিয়ে ঢুকছিলাম এমন সময় নাদিম আমাকে ডাক দিল। আমি থেমে গেলাম। - কি হয়েছে বলেন। (আমি) - আমার উত্তর? - কিসের উত্তর? - আমি তোমাকে ভালবাসি। - তো আমি কি করবো? - তুমি কি আমায় ভালবাসো? - জানিনা। হনহন করে চলে এলাম নাদিমের সামনে থেকে। হার্টবিট এখন অনেক দ্রুত হয়ে উঠেছে। আমিও নাদিমকে ভালবাসি। কিন্তু এই কথাটা বলতে লজ্জায় আমি মরে যাচ্ছি। আমার কেন এত লজ্জা? এখন আমি কি করি? আর হাদারামটাও বোঝে না কেন যে আমি ওকে ভালবাসি? সব কথা কি মুখে বলা যায়? .. - তানিয়া একটু দাঁড়াও। - বলেন। - শেষবারের মত জানতে চাই তুমি কি আমায় ভালবাসো? - জানিনা। - মানে কি? - মানেও জানি না। - আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি। - তো আমি কি করবো? - ভালবাসো কিনা বলো। - বলবো না। - তার মানে ভালবাসো না? - আমি কি তাই বলেছি নাকি? - তার মানে তুমি আমায়........... আমি মাথা নিচু করে হাসছি। হয়তো নাদিম আমার মনের কথা বুঝে ফেলেছে। বিশ্ববিজয়ীর হাসি কেমন হয় আমি জানি না। তবে নাদিমের হাসিটাকে আমি অনায়াসে বিশ্ববিজয়ীর হাসি বলতে পারি। .. এভাবে আমাদের পথচলা শুরু। নাদিম খুব বেশিই আমাকে ভালবাসে। আমার খুব কেয়ার করে ও। খেয়েছি কিনা, শরীর ভাল আছে কিনা, কি করছি ইত্যাদি। ওর এই কেয়ার দেখে আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি। কারণ নাদিমের মত এত সুন্দর মনের অধিকারি একজন আমাকে ভালবাসে। ধীরে ধীরে ওর প্রতি আমার বিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওর প্রতি মায়াও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ওকে না দেখলে আমার সময় কাটেনা। ওর সাথে ফোনে কথা না হলে দম বন্ধ হয়ে আসে। একদিন নাদিমের ফোনে কল দিয়ে নাদিমকে পেলাম না। ফোন বন্ধ ছিল। প্রায় ঘন্টাখানেক হলো ওর ফোন বন্ধ। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। নাদিমের কিছু হয়নি তো? ও কখনো এত সময় ফোন বন্ধ করে রাখে না। পরে অবশ্য ও ফোন দিয়েছিল। সেদিন আমি বুঝেছি ভালবাসা কি। .. আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ভালবাসা দিবস। নাদিম আমাকে একটা নীল শাড়ি উপহার দিয়েছে আর সাথে ১০১ টা গোলাপ। ওর দেয়া নীল শাড়ি পরে আজ ওর সাথে ঘুরতে যাব। বিকাল তিনটায় ওর সাথে বের হলাম। .. - তানিয়া আমরা কোথায় যাচ্ছি বলতে পারবে? - কোথায় যাচ্ছি? - আমার আন্টির বাড়ি। - আন্টির বাড়ি কেন? - আমার আন্টি তোমাকে দেখতে চেয়েছে। আম্মু আব্বুর সামনে নিয়ে যাওয়ার সময় এখনো হয়নি। তাই আন্টির সামনে নিয়ে যাচ্ছি। - না গেলে হয়না? - কেন গেলে কোন সমস্যা আছে? - না নেই তবে....... - তাহলে আর কোন কথা নেই। .. - এই তানিয়া এই যে আমার আন্টি, সালাম করো। (ফিসফিস করে) আমি নাদিমের আন্টিকে সালাম করলাম। উনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম। - নাদিম তুই একটু অপেক্ষা কর, আমি একটু বাইরে থেকে আসি। (আন্টি) - আচ্ছা তাড়াতাড়ি যাও। আমরা একটু পরেই চলে যাবো। - আচ্ছা ঠিক আছে। .. আন্টি কোথায় যেন চলে গেল। আমি ঘরটার চারদিকে একটু নজর বুলালাম। খুব বেশি আসবাবপত্র নেই। - তানিয়া একটা দাও না। - কি দিব? - মিষ্টি। - ওমা আমি এখন মিষ্টি কোথায় পাব। - মিষ্টি তো তোমার কাছেই আছে। - কোথায় আছে? - তোমার ঠোটে। প্লীজ একটা মিষ্টি দাও। - যাহ দুষ্টু। .. নাদিম আমার কাছে চলে এসেছে। একেবারে কাছে। ওর গরম নিশ্বাস আমি অনুভব করতে পারছি আমি। ধীরে ধীরে ওর ঠোট দুটো এগিয়ে আসছে আমার দিকে। - এই আন্টি এসে পড়বে তো। - নাহ আসবে না। আর কোন বাঁধা দিতে পারলাম না। দুজোড়া ঠোট মিলে গেল। হারিয়ে গেলাম এক অদ্ভুত শীহরনের জগতে। তারপর সেদিন আমরা এমন কিছু করে ফেললাম যা আমাদের করা উচিত ছিল না। কিন্তু কি করবো আমি? নিজেকে আটকে রাখার অনেক চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সবই বৃথা চেষ্টা। হয়তো নাদিমকে আমি বিশ্বাস করতাম অনেক বেশি। তাই আমার কোন বাঁধাই কাজে আসেনি। .. এই কয়দিনে আমার বয়সটা অনেকখানি বেড়ে গেছে। চোখের নীচে কালি পড়ে গেছে। আয়নায় দেখলে নিজেকে নিজেই চিনতে পারিনা। মনের ভেতর থেকে বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা উধাও হয়ে গেছে। নাদিমকে বিশ্বাস করে আমার সব দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আজ আমার বিশ্বাসকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। - নাদিম তুমি এসব কি বলছো? - কেন বিশ্বাস হয়না? - তুমি এটা কিভাবে পারলে? - হা হা হা তুমি বোকা তানিয়া। - ভিডিওটা ডিলিট করো প্লীজ। - পাগল? এটাই এখন আমার অস্ত্র। যখন ফোন দিব চলে আসবে। - যদি না আসি? - ভিডিওটা তোমার পরিবারসহ গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যাবে তানিয়া। - তোকে বিশ্বাস করে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছি আমি। আমি তোর আন্টিকে জানিয়ে দেব। - হা হা হা হা হা। - হাসছিস কেন শুয়োর। - ওটা আমার আন্টি না। ওইদিনের জন্য ওই ঘরটা ভাড়া নিয়েছিলাম। .. এরপর আরো বেশ কয়েকবার নাদিমের কথা মত চলেছি। কি আর করতে পারি আমি? আমার হাত পা তো ১৪ই ফেব্রুয়ারিতেই বাঁধা পড়ে গেছে। তবে আর নাহ। এই অত্যাচার আর কি সহ্য করতে পারবো আমি? নাহ পারবো না আমি। এই নরক থেকে মুক্তির একটাই উপায়। দড়িটা অনেকদিন ধরেই নিজের কাছে রেখেছিলাম। এই দড়ি দিয়েই আজ আমি আমার পাপের বাঁধন খুলে ফেলব। .. এভাবেই বহু তানিয়া অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যায়। ভালবাসা একটা পবিত্র জিনিস। তবে কিছু মানুষরুপি পশু এই ভালবাসাকে অপবিত্র করে। আপনাদের কাছে অনুরোধ ভালবাসা দিবসে ভালবাসাকে অপবিত্র করবেন না। ভালবাসা দিবস মানেই শুধু যে প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যেই সিমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। আপনার মা,বাবা, ভাই বোন সবাইকে আপনি ভালবাসতে পারেন। আসলে ভালবাসার জন্য কোন দিবসের প্রয়োজন হয় না। ভালো কাটুক আপনার ভালবাসা দিবস। .. লেখকঃ আরমান হোসেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসা দিবস
→ ভালবাসা দিবস আর প্রপোজ
→ আজ’বিশ্ব ভালবাসা দিবস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now