বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাতের অন্ধকারে দুই লোক কবরস্থানে উৎপেতে আছে। একটু পর এখানে কবর দেয়ার জন্য একটা লাশ নিয়ে আসা হবে। এরা দুইজন ঐ লাশের জন্যই অপেক্ষা করতেছে এতক্ষণ। কারণ লাশটা কোন সাধারণ লাশ না, বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে তার। আর এরকম লাশের চাহিদা অনেক। এরকম লাশ থেকে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
অনেক্ষণ অপেক্ষা করার পর লোক দুইটা বিরক্ত হয়ে উঠল।
--বাশার ভাই, ওরা লাশ আনতে এত দেরি করছে কেন?" প্রথম লোকটার ধ্যৈর্যের বাধ যেন ভেঙে গেছে।
--আরেকটু অপেক্ষা করুন শফিক ভাই, ঐতো দূরে কিছু আলো দেখা যাচ্ছে, মনে হয় ওরা লাশ নিয়ে আসতেছে। লুকিয়ে পড়ুন, আমাদের দেখে ফেললে সমস্যা আছে।" দ্বিতীয় লোকটি বলল।
কিছুক্ষণ পর কিছু লোক লাশ নিয়ে এল। কবর আগে থেকেই খুঁড়া আছে। ওরা লাশটা কবরে রেখে দাফন করে দিল। আড়াল থেকে বাশার এবং শফিক অপেক্ষার প্রহর গুণল, কবে এরা লাশটাকে কবর দিয়ে চলে যাবে।, তর সইছেনা আর......
লোকগুলো লাশ কবর দিয়ে থেকে গেল, লাশ পাহারা দেয়ার জন্য। তারা জানে এই লাশ চুরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আড়াল থেকে এটা দেখে আরো বেশি বিরক্ত হয়ে উঠল বাশার ও শফিক।
--চল বাশার ভাই, এখন কাজ হবেনা, মধ্যরাতে আবার আসব এই লাশ চুরি করার জন্য।
--হুমমম......চল।
দু'জন ফিরে গেল ব্যর্থ আশা নিয়ে।
গভীর রাত। বাশার শুনতে পেল বাহির থেকে তাকে কেউ ডাকছে।
--বাশার ভাই, বাশার ভাই.....
--আসছি শফিক ভাই, দাড়াও...." বাশার তাড়াহুড়া করে উঠে বের হল। দু'জন এগিয়ে চলল লাশ চুরি করতে। কবরস্থানে এসে দেখল কবর আগে থেকেই খুঁড়া। তারমানে কেউ তাদের আগে এসে লাশ চুরি করে নিয়ে গেছে।
--শফিক ভাই এটা কি হল?" কথাটি বলে পিছনে ঘুরল বাশার। সাথে সাথে চমকে উঠল সে। দেখল, একটা বিভৎস চেহারা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যেন ঝলসে গেছে। আশেপাশে কোথাও শফিক নেই। বাশার ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করল: কে তুমি?
--আমাকে চিনলেনা? আমাকেই তো চুরি করতে এসেছ।
--নাহহ, আমি চুরি করতে আসিনি..." কথা শেষ না হতেই দৌড় দিল বাশার.....
এদিকে শফিক বাশারকে ডাকতে এল বাসায়। বাশারকে না পেয়ে ভাবল, শালা একাই লাশ চুরি করতে গেছে। তা হতে দেয়া যাবেনা।
শফিক জোরে জোরে পা চালিয়ে কবরস্থানে গেল। হঠাৎ থমকে দাড়াল সে, টর্চ লাইটের আলো নিভিয়ে দিল। সে দেখল, বাশারের মাথা বজ্রলাশের কবরে গেঁথে আছে। ধীরে ধীরে সে মাটির দিকে তলিয়ে যাচ্ছে। আর একটা বিভৎস চেহারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ভয়ংকরভাবে হাসছে।
শফিক ভয়ে দৌড় দিতে চাইল। কিন্তু তার পা টা কিসে যেন আটকে গেছে। দেখল একটা লতা তার পায়ে পেঁচিয়ে গেছে। এবং লতাটা তাকে টেনে কবরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জোরে কাঁদতে লাগল শফিক। চোখের সামনে সে তার বন্ধুকে কবরের ভেতর ঢুকে যেতে দেখেছে। তার ভাগ্যেও একই পরিণতি অনুমান করল সে। ভয়ে ভয়ে বলল: আমাকে মাফ করে দাও, আমি আর কখনো লাশ চুরি করবনা।
--কেন শফিক ভাই, আমাকে চুরি করতে এসেছেন, এখন কি চুরি করবেননা?" বিভৎস এক মুখ থেকে ভয়ংকর কণ্ঠে বের হল কথাগুলো। তারপর সে তার ঝলসানো একটা হাত দেখিয়ে বলল: এই যে আমার হাত দেখছেন, এখানে একটা আঙুল নেই। আঙুলটা যেখানে আমার মৃত্যু হয়েছে সেখানে ঝলসে পড়ে গেছে। চলেন শফিক ভাই, আঙুলটা খুঁজতে হবে, তারপর আমি, বাশার ভাই আর আপনি একসাথে এই কবরে থাকব।
শফিক ভয়ে ভয়ে হাটতে লাগল বজ্রলাশের সাথে। এক জায়গায় এসে ওরা আঙুল খুঁজতে লাগল। কিছুক্ষণ খুঁজার পর বজ্রলাশ খুশিতে লাফিয়ে উঠল।
--পেয়েছি পেয়েছি, আমার আঙুল পেয়েছি।" বলে সে তার ডানহাতে আঙুলটা লাগিয়ে দিল। অদ্ভুতভাবে লেগে গেল আঙুলটা। তারপর তারা আবারও এল কবরের পাশে। শফিক যেন তার দিশা হারিয়ে ফেলল হঠাৎ। সে তখন নিজ থেকেই কবরে নামতে লাগল। আর পাশ থেকে বজ্রলাশ লাফাচ্ছে। আপনাআপনি শফিকের পা দুইটা উপরদিকে উঠে গেল, মাথাটা নিচের দিকে আর সে শূন্যে ভাসতে লাগল। ধীরে ধীরে তার মাথাটা কবর স্পর্শ করল। হঠাৎ মসজিদ থেকে আযানের ধ্বনি ভেসে এল। শফিকের হুশ ফিরে এল তখন। তাড়াতাড়ি উঠে এল সে কবর থেকে। আর বজ্রলাশ কবরের ভেতর মিলিয়ে যেতে লাগল। একটু পর কবর বন্ধ হয়ে গেল। শফিক ভাবল,এই কবরের ভেতর এখন দুইজন আছে, একটা বজ্রলাশ, আরেকটা জীবন্তলাশ........
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now