বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূতসঙ্গী "শেষ পর্ব "

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রূপকথার রাজকন্যা (০ পয়েন্ট)

X এবার সে সবুজের হাতটা টেনে ধরে। সবুজ ভয় পাচ্ছে কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। প্রথানুযায়ী\, বাসে রাতে লাইট নেভানো থাকে। সেই নিয়মে বাসের লাইট অফ। কেউ দেখছে না কাউকে। শুধু হেড লাইটের আলোয় পথ দেখছে চালক। হাসির আওয়াজ অস্বাভাবিক। কিঁকঁ কিঁকঁ কেঁকঁ কেঁকঁ\, উদ্ভট আওয়াজ করে হাসছে সে। পাশাপাশি বসে আছে তারা দু’জন। রহস্য মানবটার শরীর এতই ঠাণ্ডা যথারীতি শীত ধরে গেছে সবুজের। মনে হচ্ছে তার গায়ে এক ফোঁটা রক্ত নেই। তার রক্তের প্রয়োজন। আসলেই রক্তের প্রয়োজন এই ভূতের। এবার সে নিজেই স্বীকার করলো। শোন্\, আমার শরীরের রক্ত ফুরিয়ে গেছে। রক্ত না হলে আমি মরে যাবো। আমি মরতে চাইনা। আমার রক্ত চাই। তোকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমি তোর রক্ত পান করবো। এমন অদ্ভূত কথা শুনে আরো ভয় পেয়ে যায় সবুজ। কাঁটাতারের বেড়া ছিঁড়ে যেতে পারেনা কেউ\, সেও পারে না। ড্রাকুলার মতো মাড়ির দু’পাশে বড় বড় দাঁত এই ভূতের। হা করা মুখটা এগিয়ে আসে সবুজের ঘারের কাছে। ভয়ে চোখ বন্ধ করে চিৎকার করার চেষ্টা করে সে। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। ভেতরের লাইট জ্বালিয়ে দিয়েছে চালক। সবুজকে অক্টোপাসের মতো আটকে ধরা হাতগুলো সেকেন্ডের মধ্যে মিলিয়ে গেলো শূন্যে। কোন চিহ্ন নেই এখন। সবুজ শুকনো কাশি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। ধীরে সরে পড়লো নির্দিষ্ট আসন ছেড়ে। চালকের দিকে এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলো গাড়ির সমস্যার বিষয়ে। গাড়িতে এখনো যাত্রীরা ঘুমে। কারো কোন সাড়া নেই। চালক এবং তার সহকর্মীরা নেমে গাড়ির ত্রুটি সাড়ে। ভোর ৫টা। অন্ধকার কেটে গেছে। গাড়ী চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যে গন্তব্য। এর মধ্যে নিজের সিটে যায়নি সবুজ। চালকের আসনের পাশে ইঞ্জিনের ঢাকনার উপর বসে আছে সে। অজুহাত দেখিয়েছে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য সিট ছেড়ে এইখানে বসেছে। সাড়ে ৬টা বাজে। কিছুক্ষণ আগে সূর্য উঠেছে। গ্রামে সূর্য ওঠা মানে পুরো সকাল। বান্দরবানে এখন পূর্ণ সকাল। বাস থেকে নেমেছে সবুজ। কাঁধে একটা ব্যাগ। একটা এনজিওতে কাজ করে সে। পাহাড়িদের জীবনমান নিয়ে একটি প্রতিবেদনের কাজে এসেছে সে। রাস্তার দু’পাশে পাহাড়িদের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। পাহাড়ি পোশাক নারীদের গায়ে জড়ানো। তবে এই মুহূর্তে একটু বিশ্রামের দরকার সবুজের। এমনিতেই লম্বা জার্নি তার উপর একটা দুঃস্বপ্ন তবে পরের ঘটনাটাকে সে বিশ্বাস করতে পারছেনা। এটা কি স্বপ্ন নাকি সত্যি। একটা স্বপ্ন একটা সত্য\, নাকি দুটোই স্বপ্ন। তালগোল পাকিয়ে ফেলছে সে। রাত ১০টা। সারাদিন এনজিওর কাজ করেছে। এসাইনমেন্ট কমপ্লিট। রাতের আহার শেষ করে হোটেলে ফিরেছে সবুজ। তার ইচ্ছে পরদিন নীলগিরি আর চিম্বুক বেড়াতে যাবে। কারণ স্বর্ণ মন্দির এবং মেঘলা আগের বার এসে বেড়িয়েছে। নীলগিরি যাওয়ার প্লান থাকলেও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা যাবে কি যাবে না। কারণ রাতের কথা মনে পড়ে যায়। যদি সত্যি সত্যি কিছু হয়ে যায়। পাহাড় পর্বতের বিশ্বাস নেই। সেই ধরনের ঘটনা না ঘটে অন্য কোন দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এইসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে চোখে ঘুম চেপে যায়। মনে হচ্ছে কেউ তার চোখ জোর করে বন্ধ করে দিচ্ছে। রাত ৩টা ২৩। আগের রাতে বাসের সেই গন্ধটা আবার ভেসে আসে সবুজের নাকে। ঘুম ভাঙ্গে তার। গন্ধটার সন্ধানে এদিক সেদিক তাকায় সে। কোথাও কেউ নেই। হোটেল কক্ষে মৃদু আলো আছে। আবারো চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করছে সবুজ। আবার গন্ধটা নাকে লাগে তার। কিঁকঁ কিঁকঁ করে আবার হাসির সেই আওয়াজটা তার কানে ভাসে। চোখ খুলে উঠে বসে পড়ে সে। এবার সেই রহস্য মানব সামনে তার। তবে আজ তার প্রিপারেশন ভিন্ন। বড় কালো কোর্তা পড়া চুল বড় বড়। হাতের নখগুলো কাঁটা চামচের মতো। ভয়ংকর কিছু একটা করার প্রস্তুতি তার। মিটিমিটি হাসছে কিঁককিঁক করে। লাইট জ্বালাতে চায় সবুজ কিন্তু সুইচ বোর্ডটার সামনে বাকা হয়ে দাড়ানো এই প্রাণীটা। সবুজ জানতে চায় কি চান? প্রত্যুত্তরে সে বলে আমি রক্ত চাই। গতকাল রাতে তোর রক্ত খেতে চেয়েছিলাম\, বেঁচে গেছিস। কিন্তু আজ কি করে রক্ষা পাবি বল। সবুজ দোয়া পড়ার চেষ্টা করছে কোন দোয়া মনে পড়ছে না তার। চিৎকার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কক্ষ জুড়ে লাফালাফি করছে\, সবুজকে ধরার চেষ্টা করছে ভূতটা। আর সবুজ চেষ্টা করছে রুমটার দরজাটা কোন মতে খুলতে পারলে বাঁচা যাবে। দু’জনের ভিন্ন দু’ উদ্দেশ্যে লম্ফঝম্ফ চলছে.. সংগৃহীত।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now