বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ১২টা ২৫ মিনিট। বাস চলছে\, বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। রাতের মধ্য প্রহরে মহাসড়কগুলোতে জনজীবনের অস্তিত্ব খুব একটা চোখে পড়ে না। সবুজের চোখে তন্দ্রা চেপেছে। বার বার হাই উঠছে। ঘুমরাজ্য হাতছানি দিচ্ছে তাকে। তার পাশের সিটের সিট পার্টনার গাড়িতে উঠেই চোখ বন্ধ করে আছে। দেখে মনে হচ্ছে পরিতৃপ্তির সাথে ঘুমাচ্ছে সে। এদিক সেদিক তাকিয়ে সিটে হেলান দিল সবুজ। সারাদিন কাজ করার পর কিছুটা ক্লান্ত। বাসের সিটে বসে ঘুম আসছে না তবু ক্লান্ত চোখ দু’টাকে খুলতে পারছেনা। সবুজের আপ্রাণ চেষ্টা ঘুমানোর\, চেষ্টায় সফলও হলো। নড়াচড়া বন্ধ হয়েছে\, অবশেষে ঘুমরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি মিলেছে তার। নীলগিরি পাহাড়ে উঠেছে সবুজ। এটা তার কাজের অংশ নয়। তবু উঠেছে। তার ও একটা কারণ আছে। কারণটা হলো নীলগিরিতে পাহাড় এবং আকাশ একসাথে মিশে যায়। অর্থাৎ পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে আকাশের ভেসে বেড়ানো মেঘগুলো মানবশরীর ছুঁয়ে যায়। আজ আকাশে রোদ তুলনামূলক কম। কারণ আকাশের মন খানিকটা খারাপ। আর তাই আজ আকাশে বেশি মেঘ উড়ছে। যে কোন সময় আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝড়তে পারে। সবুজ মেঘ ছোঁয়ার নেশায় পাহাড়ের পথে হেঁটে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে বড় একটা মেঘের খণ্ড ভেসে এলো সবুজের দিকে। সে হাত বাড়িয়ে দিল মেঘের স্পর্শ পাবার জন্য। বড় দাঁত সমেত একটা মুখ বেড়িয়ে এলো মেঘের সে ভেলা থেকে। সবুজ বিদ্যুৎ গতিতে হাত সরিয়ে নিল। দাঁত কেলিয়ে হাসতে শুরু করলো সেই মুখটা। সবুজ মাটিতে বসে পড়ল। কিন্তু না লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না। সময়ের সাথে মুখের ছবিটা ভয়ংকর হতে লাগলো। ভয়ে সবুজের কলিজা গলে যাওয়ার উপক্রম। এদিক সেদিক তাকাচ্ছে সে। কোথাও কেউ নেই। চিৎকার করার চেষ্টা করছে। কোন লাভ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। গলা থেকে কোন প্রকার আওয়াজ বের হচ্ছে না। এই অশরীরীর হাত থেকে রক্ষা পেতে পিছনে ফিরতে থাকে সবুজ। পেছনে আর জায়গা না থাকায় পাহাড় থেকে নিচে পড়ে যায়। সবুজ এখন শূন্যে ভাসছে। এর মধ্যে একটি হাত ধরে ফেলে তাকে। লম্বা একটি হাত। কার হাত তা দেখতে পারছে না সবুজ। হাতটি খানিক পিচ্ছিল। রক্ত মাখা হাতে কেউ একজন ধরে আছে তাকে। সবুজের চিৎকারে হাতটি ছেড়ে দেয় তাকে। আকাশ থেকে মাটিতে পড়তে লাগলো সবুজ। মাটিতে পড়ার আগে লাফিয়ে উঠে সে। ঘুম ভেঙে যায় তার। না\, পাহাড় কোথায়। এখনো তো বাসে বসা। তার পাশের লোকটি এখনো ঘুমাচ্ছে। রাত ৩টা বেজে ১৭ মিনিট। চোখ বন্ধ করে আছে সবুজ। বাস চলছে পাহাড়ি পথ ধরে। চলন্ত বাসে এমন একটা দুঃস্বপ্ন দেখে সে ভাবে এর অর্থ কি? কোন বিপদ আপদ সামনে অপেক্ষা করছে না তো। নানান ভাবনা তার মাথায় খেলা করছে। কিছু একটা গন্ধ ভেসে আসছে সবুজের নাকে। গন্ধটা অপরিচিত। কিসের গন্ধ ঠিক বুঝতে পারছেনা। কাউকে জিগ্যেস করে মনের কৌতূহল দূর করবে তার উপায় নেই। কারণ সবাই গভীর ঘুমে। এই মুহূর্তে পুরো বাসে পিনপতন নীরবতা। গাড়ির ইঞ্জিনের আওয়াজ ছাড়া আর কোন আওয়াজ নেই। চালক এক মনে গাড়ি চালাচ্ছে। ঘুমন্ত লোকটি একটু পর পর হেলে পড়ছে সবুজের কাঁধে। বেশ কয়েকবার সরিয়ে দিতে হাত বাড়াতেই আপনা আপনি সরে গেছে লোকটি। কিন্তু না এবার আর সরলো না। সবুজ ঠেলে কাঁধ থেকে সরানোর চেষ্ট করছে ঘুমন্ত লোকটির মাথাটাকে। মনে হচ্ছে সরাতে পারছে না। হয় অনেক ওজন মুণ্ডুটার অথবা সবুজের শক্তি লোপ পেয়েছে। শক্তি সঞ্চার করার চেষ্টা করছে সবুজ\, ঠেলে সরানোর প্রচেষ্টা এবারও ব্যর্থ হলো তার। কিন্তু এবার নতুন একটা বিষয় আবিষ্কার করলো সবুজ। লোকটার মুণ্ডুটা প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। মনে হচ্ছে ডিপ ফ্রিজ থেকে এই মাত্র বের করা হয়েছে। চমকে উঠে সবুজ একি তার পাশে যে লোককে সে দেখেছিল এটা সেই লোক না! অন্য কেউ। নাক মুখ কেমন চ্যাপ্টা\, চোখ নাই। চিৎকার করার চেষ্টা করছে সবুজ। এবারও তার গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। সিট ছেড়ে সরে যেতে চাইছে। কিন্তু না\, কাজ হচ্ছে না। মনে হয় শরীরের ইন্দ্রিয়গুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। এক ফোঁটা শক্তি পাচ্ছে না সে। অথচ এই উদ্ভট মানবটা তাকে ধরে রাখেনি। সবুজ হাত বাড়িয়ে সামনের সিটের যাত্রীকে ডেকে তোলার চেষ্টা করে। এই যাত্রায় সফল হতে পারে না সে। কারণ সামনের সিটে কোন যাত্রী নেই। পাশের সিটেও কাউকে দেখা যায় না। এবার পেছনের সিটে হাত দিয়ে দেখে সে সিটেও কেউ নেই। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায় সবুজ। ব্যাপার কি আশপাশের সিটের লোকজন কই গেল\, নাকি বাসে আর কোন যাত্রী উঠেনি তা মনে করতে পারছে না সে। মৃদু হাসে উদ্ভট মানবটা। ঠিক বোঝা যাচ্ছে না সে ভূত নাকি অন্য কিছু।এবার সে সবুজের হাতটা টেনে ধরে।----চলবে--'''
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now