বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুর পরে মায়ের চিঠি !

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RJ Raj (০ পয়েন্ট)

X মা মারা যাবার কিছু দিন পরে, মায়ের ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে মায়ের হাতের লেখা একটি চিঠি পায় তার ছেলে ! চিঠিতে লেখা থাকে... খোকা এই চিঠি যখন তোর হাতে পরবে তখন আমি তোর থেকে অনেক দুরে চলে যাবো !! যেখান থেকে কেউ কোনো দিন ফিরে আসে না ।। খোকা তোর অনেক কথা মনে নেই... তাই এই চিঠিতে লিখে গেলাম তোর মনে না থাকা সেই কথা গুলি। তুই যখন ছোট ছিলি একবার তোর জ্বর এসে ছিলো... আমি দিন রাত ঘুমাতে পারি নি তোকে বুকে নিয়ে বসে ছিলাম,,, কারন তোকে বিছানায় শুয়ালেই তুই কেঁদে উঠতি,,,তোর বাবা আমাকে বলেছিলো তোকে শুইয়ে রাখতে কিন্তু আমি পাড়িনি তোর বাবার কথা রাখতে... সে জন্য আমাকে অনেক গালাগাল দিয়ে ছিলো তোর বাবা। তোকে যখন রাতে বিছানায় শোয়াতাম, তুই প্রসাব করে বিছানা ভিজিয়ে ফেলতি তখন আমি তোকে শুকনো যায়গায় শোয়াইতাম, আর আমি তোর প্রসাবে ভিজানো সেই জায়গায় শুইয়ে থাকতাম, তোর বাবা যখন মারা গেলো, তখন অনেক কষ্টে আমাকে সংসারটা চালাতে হয়ে ছিলো... একটা ডিম ভেজে দুই টুকরা করে তোকে দু বেলায় দিতাম,এমন দিন গেছে শুধু লবন দিয়ে খেয়ে উঠেছি আমি, তোকে বুঝতেও দিয় নাই আমি। একদিন রান্না করার মতো কোনো চাল ছিলোনা আমার কাছে, তখন কোনো উপায় না পেয়ে একবাড়িতে কাজ করে কিছু চাল এনে ভাত রেধে খাইয়ে ছিলাম তোকে। হয়তো তুই ভুলে গেছিস, যখন তোর এসএসসি পরীক্ষা ফি দিতে পারছিলাম না তখন তোর বাবার দেয়া শেষ স্মৃতি নাক ফুলটা বিক্রি করে দিয়ে ছিলাম, আরো অনেক কথা আছে যা লিখতে গেলে হয়তো খাতা শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু লেখা শেষ হবে না। ভাবছিস এতো কথা তোকে কেন লিখে গেলাম, খোকা তুই যখন বড় হলি একটা ভালো চাকরি পেলি, কিছু দিন পরে বিয়ে করলি, আমি তোদের নিয়ে ভালোই ছিলাম। একদিন ঘর থেকে কিছু টাকা চুরি হলো, সেই দিন তুই আমাকে জিজ্ঞেস করে ছিলি আমি তোর টাকার ব্যাপারে কিছু জানি কিনা, তুই আমাকে সরাসরি কিছু না বললেও আমি বুঝতে পেরেছিলাম তুই আমাকে চোর ভেবে ছিলি। কিছু দিন পর তুই আমাকে চোরের অপবাদ দিয়ে অন্য একটি ঘরে রেখে দিলি। খোকা আমার সেই ঘরটিতে থাকতে অনেক ভয় করতো, কারন ঘরটি তোর থেকে অনেক দুরে ছিলো, খোকা তোকে একদিন বলে ছিলাম আমার একা একা থাকতে ভয় লাগে, তুই বলে ছিলি মরন আসলে যে কোনো যায়গায় আসবে। আমার হাটুর ব্যাথাটা বেড়ে ছিলো তোকে বলে ছিলাম খোকা আমাকে কিছু ঔষধ কিনে দিবি,, তুই বলেছিলি এই বয়সে ঔষধ খাওয় লাগে না, এমনি এমনি ঠিক হয়ে যাবে। খোকা বিছানা থেকে উঠতে পারতাম না, শরীরে ফোসকা পরে গিয়ে ছিলো... শরীর থেকে পচা গন্ধ আসতো... কতো দিন যে গোসল করিনি তা ঠিক বলতে পারবো না, খোকা তোর ঘরটা ছিলো আমার ঘরের থেকে অনেক দুরে, কখন আসিস কখন যাস আমি কিছুই দেখতে পারতাম না... শুধু পথের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, খোকা তুই যখন ছোট ছিলি আমি খেতে বসলে তোকে কোলে নিয়ে খেতে বসতাম, তখন তুই আমার কোলে পায়খানা করে দিতি, আমি তোর পায়খানা শরীরে নিয়ে খেয়ে উঠতাম কেন জানো একটুও ঘৃনা লাগতো না আমার, কিন্তু তুই যখন আমার কাছে আসতি তখন নাকে রুমাল দিয়ে আসতি, কেনোরে খোকা আমার শরীরে দিয়ে গন্ধ আসতো বলে। এক কাপরে আমাকে কতো মাস যে থাকতে হয়েছে তা আমি ঠিক বলতে পারবো নারে খোকা। তুই যখন অনেক দিন পর একবার আমাকে দেখতে এসে ছিলি আমার খুব ইচ্ছে হয়ে ছিলো তোকে বুকে জরিয়ে ধরি কিন্তু খোকা পাড়িনি তোকে বুকে জরিয়ে ধরতে, কারন আমার সরিরে তো অনেক ময়লা ছিলো...যদি তোর দামি দামি শার্ট প্যান্ট নষ্ট হয়ে যায় এই ভয়তে তোকে বুকে নিতে পাড়িনি খোকা। খোকা কখনো আমাকে একবারও জিজ্ঞেস করোনি মা তোমার কিছু খেতে মন চায়...খাওয়ার কথা থাক, কতো দিন যে তোর মুখে মা ডাক শুনি নি, তাও ঠিক বলতে পারবো না।খোকা আমার কি অপরাধ ছিলো, আমাকে তোর থেকে অনেক দুরে রাখলি, খোকা তুই কি পারতি না আমাকে তোর কাছে রাখতে, খোকা তুইকি পারতি না,, আমাকে একটা কাপড় কিনে দিতে, খোকা তুই কি পারতি না,, আমাকে একটা ডাক্তার দেখাতে। আমাকে একটা ডাক্তার দেখালে হয়তো এই পৃথিবীতে আরো কিছু দিন থাকতে পারতাম, খোকা কোনো মা তার সন্তানের কাছে পেট ভরে খেতে চায় না, শুধু মন ভরে মা ডাক শুনতে চায়, যা তোরা কখনো বুঝতে চাওনা। খোকা তোকে একটি শেষ অনুরোধ করছি,, আমার এই চিঠিটা তোর সন্তানদের পড়ে শুনাবি, কারন তুই বৃদ্ধ হলে তোর সাথে তোর সন্তানেরা যাতে এরকম টি না করে,ভালো থাকিস খোকা ইতি তোর মা.....!!! তাই মাকে অবহেলা নয় ।মায়ের একধার দুধের দাম কাটিয়া গায়ের চাম । মায়ের ঋন কখনো পরিশোধ করবার নয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now