বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাম জানা নেই

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরমান হোসেন (০ পয়েন্ট)

X নাম জানা নেই .. .. - আরমান ভুলেও তুই ওই কুকুরটাকে বাড়ি মারবি না বলে দিলাম। ছোট বেলায় একবার একটা কুকুর আমাকে কামড়েছিল। তারপর থেকেই কুকুর দেখলেই মেজাজ চড়ে যায়। আমাদের এলাকায় যত কুকুর আছে সব আমার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে। কুকুর পিটিয়ে যে কি শান্তি! আহ। আজ আম্মুর সাথে তার স্কুল জীবনের এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাচ্ছি। সাথে আমার বাবা আর আমার বোনও আছে। তো হঠাৎ দেখি রাস্তায় একটা কুকুর শুয়ে আছে। দেখেই আমার হাত নিশপিস করতে লাগলো। তখনই একটা যুৎসই লাঠি নজরে পড়লো। দেরি না করে লাঠিটা উঠিয়ে নিলাম। আর তখনই আম্মু একেবারে উপরের কথাটা বলে উঠলো। আমি আবার আম্মুকে খুবই ভয় খাই। তাই আম্মুর কথা শুনে লাঠিটা ফেলে দিলাম। তবে কুকুরটাকে মারার অদম্য ইচ্ছাটাকে কিছুতেই দমন করতে পারলাম না। কুকুরটার কাছাকাছি আসতেই আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। আম্মু আব্বু ততক্ষনে বেশ কিছুটা দূরে চলে গেছে। সুযোগ বুঝেই আমি দিলাম কুকুরটার পশ্চাৎদেশে কষিয়ে একটা লাথি। লাথি খেয়েই কুকুরটা কুঁই কুঁই চিৎকার করতে করতে পড়ি কি মরি করে ছুট দিলো। কিন্তু এখানেই ঘটে গেল একটা অঘটন। কুকুরটাকে লাথি মারার পরে ও একটা লাফ দিয়ে একটু ডানদিকে সরে গিয়েছিল। আর ঘটনাক্রমে তখনই দুজন অতি রুপবতী তরুনী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। কুকুরটা লাফিয়ে সরাসরি উনাদের সামনে গিয়ে পড়লো আর উনারা ভয় পেয়ে আউউউ করে একটা বিদঘুটে চিৎকার মারলো। শুধু চিৎকার মেরেই ক্ষান্ত হলোনা আমার দিকে বেশ কিছু বাণী ছুঁড়ে দিল। - অসভ্য ছেলে কোথাকার। (১ম জন) - ফাজিল একটা। বান্দর ছেলে। (২য় জন) - এইসব বখাটে ছেলেদের জন্য রাস্তায় হাঁটাও যায় না। - দেখ দেখ কেমন ভাবে তাকিয়ে আছে। - বখাটে ছেলেগুলো এমনই হয়। .. আসলেই আমি তাকিয়ে ছিলাম হা করে। ২য় মেয়েটাকে দেখেই হার্টবিট স্লো হয়ে গেছে। চোখে চশমা, ঠোটের নীচে তিল। প্রথম দেখাতেই ক্রাশের উপর ক্রাশ খেয়ে গেলাম। - আরমান কিরে তোর কি লজ্জা লাগেনা? (আব্বু) আব্বুর কথায় বাস্তবে অবতরন করলাম। ততক্ষনে চশমিশ মেয়েটা চলে গেছে। ইশ ও যদি আমার হতো। আমায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সবাই আবার পেছনে চলে এসেছে। - কিরে মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছিস কেন? (বোন) - তোর হবু ভাবিকে দেখছি। (আমি) - ওই কি বললি তুই? (আম্মু) - না মা কিছুনা। হাঁটো হাঁটো তাড়াতাড়ি হাঁটো। আর কতদূর তোমার বান্ধবীর বাসা? উফ পা ব্যাথা হয়ে গেছে। .. আম্মুর বান্ধবীর বাসায় আসলাম নাকি শশুর বাড়ি আসলাম বুঝতেই পারছি না। এমন আদর আপ্যায়ন মনে হয় শশুর বাড়িতেও করে না। আদর যত্নে একেবারে মেরে ফেলবে মনে হয়। আম্মুর বান্ধবী মানে আন্টির এক ছেলে আর এক মেয়ে। ছেলেটা বিশাল বিচ্ছু। আমার হাতের মোবাইলটা ছোঁ মেরে নিয়ে গেছে। তারপর থেকে আরেক অত্যাচার। একটু পরপরই ফেসবুক থেকে একেকটা মুখ বাকাঁ, চোখ ট্যারা সেলপি কুইনদের ছবি বের করে দেখাচ্ছে আর বলছে ' এটা কি তোমার গার্লফ্র্যান্ড?' উফ এই প্যারা আর ভাল্লাগে না। একদিকে আদর যত্ন, আরেকদিকে এই বিচ্ছুর প্যারা। কেমনে কি? .. এতক্ষন রাস্তায় দেখা সেই অপ্সরির কথা মনে ছিল না। এখন হঠাৎ মনে পড়ে গেল। কারণ আমার মা,বাবা,বোন আর আন্টিরা এখন ছাদে। আন্টি নাকি ছাদে সবজির বাগান করেছে। তাই দেখাতে নিয়ে গেছে। আমি নিচে বসে টম এন্ড জেরি দেখছি। .. জেরি দৌড়াচ্ছে, কিন্তু একটুও সামনে যেতে পারছে না। কারন টম তার লেজটা চেপে ধরে রেখেছে। খুবই উপভোগ্য দৃশ্য। এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো। অতঃপর আমি উঠে দরজা খুলে দিলাম। এবং দরজা খুলেই আমি স্ট্যাচু অব লিবার্টির মত স্থীর হয়ে গেলাম। রাস্তায় দেখা সেই চশমা পরা মেয়েটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা হয়তো আমাকে দেখে খুব একটা অবাক হয়নি। কারণ সে স্বাভাবিক ভাবেই আমাকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে চলে গেল। যাওয়ার সময় মেয়েটার গায়ের পারফিউমের ঘ্রান আমাকে পাগল করে দিল। আহ কোন দোকানের পারফিউম ব্যাবহার করে? .. একটু পরপরই হার্ট একটা করে বিট মিস করতে শুরু করেছে। তাহলে এটাই কি আন্টির মেয়ে? আমরা এসেছি সকালের দিকে। এখন প্রায় দুপুর। আমি এখনো বসে বসে কার্টুন দেখছি। মেয়েটাকে দেখার পর থেকে আর কিছুই ভাল লাগছে না। কেমন যেন একটা গা ছাড়া ভাব চলে এসেছে। হঠাৎ আমার কানে একটা শব্দ এসে ধাক্কা মারলো। অনেকটা নুপুরের রিনঝিন শব্দের মত। আমি একটু পেছনে ফিরে তাকালাম। পেছনে ফিরে আবারো স্ট্যাচু। আবারো সে আসছে। হার্টবিট এবার অনেক বেড়ে গেছে। কারন সে আমার দিকেই আসছে। .. সে এখন আমার পাশের সোফায় বসে আছে। আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না। মনে হচ্ছে অক্সিজেন ফুরিয়ে গেছে। - কার্টুন দেখতে ভাল লাগে? হঠাৎ বিনা গর্জনে বন্দুকের গুলির মত আমায় এই প্রশ্নটা করলো সে। - ইয়ে মানে ভালই লাগে দেখতে। - ও আচ্ছা। কুকুরের সাথে আপনার কিসের শত্রুতা? এবার কি জবাব দিব তাই বুঝতে পারছি না। - মানে ছোট বেলায় একবার কুকুর কামড় দিয়েছিল তাই....... - তাই আপনি এখন সেই কামড়ের প্রতিশোধ নিচ্ছেন? - হ্যা অনেকটা সেরকমই। - এই অভ্যাস বাদ দিন। কারন আমার সাথে হাঁটার সময় যদি এমন করেন তাহলে কিন্তু ঠ্যাং ভেঙ্গে দিব। .. তাহার এই বাক্য পরিপূর্ন ভাবে আমার মাথার উপর দিয়া উড়িয়া গেল। - মানে বুঝলাম না। - বোঝেন নাই? - নাহ একেবারে মাথার উপর দিয়ে গেছে। - আন্টি আপনাকে কিচ্ছু বলে নাই? - কি বলবে? - ওহ মাই গড!!!!! আন্টি, আন্টি। একটু পরেই দৃশ্যপটে আম্মুর আবির্ভাব। - আন্টি তুমি নাকি উনাকে কিচ্ছু বলো নাই? - নারে মা এখনো বলিনি। ও একটু একগুয়ে টাইপের। অনেকদিন ধরে বলার পরও বিয়ে করতে রাজি হয়নি। নাই এবার না বলেই নিয়ে এসেছি তোকে দেখানোর জন্য। - কি শুনলেন তো সব? .. আমার মনে হঠাৎ তুফানের আগমন হলো। সমুদ্রের মাঝখানে আমি এক পথহারা নাবিক। কি ঘটছে এখনো মাথায় ঢোকেনি। - এবার বুঝতে পারছেন সব? - উহু এখনো বুঝি নাই। - আরে গাধারাম আপনার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আপনার একটা ছবি একমাস আগে আন্টি আমাকে দেখিয়েছে। দেখেই আমি এই কিউটের ডিব্বার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি নাকি কোন মেয়ে দেখতে রাজি না। তাই আজ আপনাকে না জানিয়েই নিয়ে এসেছে। - ওওওওওওওও। - ও কি? বলুন বিয়ে করবেন কিনা? - নাহ করবো না। - কি বললেন? এক্কেবারে মেরে ফেলবো। - তাহলে যে বিধবা হয়ে যাবে। - মানে? - মানে হচ্ছে তোমার ঠোটের ওই তিলটা মনে হয় আমাকে টানছে। - যাহ শয়তান। .. অবচেতন এই মন যাহাকেই খোঁজে, সে কেন চলে আসে স্বপ্নের মাঝে? যখনই পেয়েছি তোমায় আপন করে, ছাড়বো না তোমায়, আগলে রাখবো জনমভরে। .. লেখকঃ আরমান হোসেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাম জানা নেই

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now