বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি ঐ কবরের দিকে এগিয়ে গেলাম.......কিন্তু এগিয়ে যেতেই আমার চোখে যা পড়লো তাতে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো ( কি ভাবছেন ভূত দেখেছি!!! না ভূত না তার থেকেও পীড়াদায়ক একটা জিনিস আমার চোখে পড়ে)
কবরের যেখানে মরহুমের নাম পরিচয় , জন্ম ও মৃত্যু তারিখ থাকার কথা সেখানে লেখা ছিলো শুধু দুটো বাক্য :
" ওরা আমাকে বাঁচতে দিলো না।। বিদায় নরপশুদের দল"
(ইতি : তৃষা)
বুকের ভেতরে অসম্ভব কষ্ট হতে লাগলো।। কি এমন হয়েছিলো এই মেয়েটার সাথে?? সেটা জানার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে উঠলাম।।। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে মনের ভেতর খুব কষ্ট হচ্ছিলো , আমি কোনোদিন কাঁদি না তবে এখন আমার কান্না পাচ্ছিলো।। ফিরে এসে সবার কাছে এই কবরের কাহিনী জানতে চাইলাম , আর এরপর যা শুনলাম তাতে আমার দুঃখ আরো বেড়ে গেলো
" আসলে তৃষা ছিলো গার্লস স্কুলের ছাত্রী।। মেয়েটা নাকি অসম্ভব সুন্দরী ছিলো তাই এলাকার কিছু বখাটে ছেলেদের নজর ওর উপর ছিলো।।। ও নাকি একদিন প্রাইভেট পড়ে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছিলো তখন কতগুলো বখাটে ছেলে ওকে তাড়া করে ও বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ছুটতে থাকে অবশেষে বাঁচার অন্য কোনো উপায় না দেখে একটা পুকুরে ঝাঁপ দেয় ....তবে জানোয়ার গুলো এতেও খান্ত হয়নি ওরা ওকে ঢিল ছুড়তে শুরু করে বাঁচার অনেক চেষ্টা করার পরও নাকি একটা ঢিল ওর মাথায় গিয়ে লাগে এবং ও জ্ঞান হারায়........সবথেকে বেদনা দায়ক কথা কি জানেন ?? তৃষা যখন বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে চিত্কার করছিলো তখন নাকি আশেপাশের বাসার মানুষরা নাকি শুধু জানালা দিয়ে এই নাটক প্রত্যক্ষ করছিলো একটি মানুষ ও ওকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেনি আর তার থেকেও পীড়াদায়ক কথা ও নাকি যখন ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছিলো তখন পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা জানোয়ার গুলো ওকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলো......একটা নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যুর মজা নিচ্ছিলো......"
এই কথাগুলো শোনার পর মানুষ হিসেবে নিজের উপর ঘৃণা হচ্ছিলো.......মানুষ হয়ে এসব কুকাজ করার থেকে কীট হয়ে জন্মানো ঢের মর্যাদার। আর একটা কথা এই ঘটনা শোনার পর আমার ভূতের বিশ্বাস সম্পুন্ন রূপে হারিয়ে যায়....কেন জানেন??? যদি ভূত বলতে সত্যি কিছু থাকতো তাহলে সৃষ্টিকর্তা কেন তৃষার মতো হাজারো অসহায় মেয়েদের সে ক্ষমতা দান করে না যাতে তারা এই মানুষরূপি জানোয়ারদের শাস্তি দিতে পারে????? তৃষার খুনিরা মনেহয় আজ মুক্ত কয়েকলাখ টাকার বিনিময়ে হয়তো আজ তারা স্বাধীন.........কিন্তু জাতির কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে মানুষের জীবনের মূল্য কি শুধু কয়েক লাখ টাকা???? যদি তাই হয় তাহলে খোদার কাছে আমার বিনিত আবেদন " এই জানোয়ারদের মধ্যে তিনি যেন আর কোনো অসহায় মানুষকে না পাঠান, ঘৃনিত এই সমাজে যেনো তৃশার মতো পরিনতি আর যেনো কোনো মানুষের না হয়"
আর ঐ জানোয়ারদের উদ্দেশ্যে বলি "হে নরপশুদের দল তোমরা কি ভাবছো?? তোমরা বেঁচে গেছো?? না সেটা ভূল .....উপরে একজন আছেন তিনি সবকিছু দেখছেন ......তোমাদের প্রাপ্য শাস্তি একমাত্র তিনিই দিতে পারেন কেননা মানুষের মৃত্যু শুধু একবারই হয় কিন্তু তোমাদের অপরাধের শাস্তি হাজার বার মৃত্যু অপেক্ষাও বেশি"
(গল্পের অধিকাংশই সত্যি তবে কিছুটা বিচ্যুতিও ঘটতে পারে ...তবে আপনারা তৃষার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ্ যেনো তাকে জান্নাত নসিব করেন)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now