বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিনের মত আজও সাইফুলকে নিয়ে কোচিং এর দিকে রওনা হলাম। দুদিন হল আম্মু, আব্বু ছোট বোনকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে গেছে। বাড়িতে কেউ নেই, কাজের বুয়া এসে রান্না বান্না করে দিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের হয়ে কোচিং এর দিকে হাটা শুরু করলাম। গল্প করতে করতে হাটছিলাম। হটাত আমার চোখ পরে ফুটপাতে বসে থাকা একটামেয়ের উপর। বয়সটা আমাদের মতই হবে। লম্বাতে আমার থেকে চার-পাচ ইঞ্চি ছোটব,গায়ের রঙ ফর্সা,বোরকা পরা যার কারনে চেহারাটা দেখা জাচ্ছে না,সন্ধানী চোখ দুটো রাস্তার সব মানুষের মুন্ডু গুলো চষে ফিরছিলো। হঠাত মেয়েটা আমার দিকে তাকালো। দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেলো, মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো, আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। আমি থমকে দারালাম। সাইফুল বলল, কিরে দাঁড়িয়ে পড়লি কেন??? মেয়েটি ততক্ষনে আমার সামনে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমার নাম কি রাফে??? আমিতো অবাক এই মেয়ে আমার নাম জানলো কি করে
আমি বললাম, হ্যা আমার নাম রাফে।আপনি কে??
মেয়েটির চোখ লাল হয়ে উঠে সে তার এক হাত দিয়ে তার মুখোশটা খুলে ফেলে।
আমার মনে হল আমি আকাশ থেকে পড়লাম,
নাবিলা!!! তুই???
নাবিলা তখন কিছু না বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ রাস্তার উপর একটা মেয়ে এভাবে একটা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছে দেখে অনেকেই আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। সাইফুল তো এসব দেখে থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি নাবিলাকে বললাম, নাবিলা সবাই দেখছে....
নাবিলা সরে দাঁড়ালো। আমি আর কোনো কথা না বলে সাইফুল কে চলে যেতে বললাম। সাইফুল বলল আজকে আর যাবেনা
আমি নাবিলার এক হাত ধরে হাটা শুরু করলাম।নাবিলার কস্ট হবে ভেবে একটা রিক্সায় উঠলাম তিন জন। কস্ট হল রিক্সায়। নাবিলার চোখ মুখ তখনও লাল হয়ে ছিল।
*ক্লাস থ্রী থেকেই নাবিলার সাথে আমার পরিচয়।
আমাদের পাশের গ্রামেই তারা থকতো।
বাড়ির গেটের সামনে নেমে সিঁড়ি ভেঙে সোজা তিন তলায় আমার রুমে চলে যাই। সাইফুল কে একটা চেয়ার দিয়ে বসতে বললাম। নাবিলাকে আমার খাটে বসিয়ে দিয়ে আমিও তার সামনে চেয়ার নিয়ে বসলাম।
কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই নাবিলা বলা সুরু করে দিল,
এই বছর নতুন স্কুলে ভর্তি হই। বায়ারি থেকে স্কুলে বাসে করে যেতে হয়।
একদিন স্কুল থেকে বাসায় যাচ্ছিলাম বাসে করে।হঠাত একজন লোক আমার নাকে কি যেন লাগিয়ে দেয়।আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে যায়।
তারপর আমি যখন ঘুম থেকে উঠি তখন আমি একটা মাইক্রোতে। গাড়ীর দরজাটা খুলে আমি গাড়ি থেকে আমার ব্যাগ নিয়ে নেমে পড়ি। কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলামনা। একটা নতুন জায়গা কিছুই চিনতে পারছিলাম না।তার উপর ছিল অন্ধকার। রাতের অন্ধকারে হাটা শুরু করলাম।কিছুই চিনিনা আমি। কথায় যাবো কি করব, রাস্তায় একটা মানুষও ছিলোনা যে কোনো সাহায্য চাইব কারোকাছ থেকে। তারপর এভাবেই এখানে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি আজ ৮ দিন ধরে। কারা আমাকে এখানে আনল, কেনইবা আনল,কিভাবে আনল তার কিছুই আমি জানিনা। কথা শেষ করেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়ল সে আমাদের চোখেও পানি চলে এসেছিল।
শান্তনা দিয়ে বললাম তাড়াতাড়ি তোকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করছি আমি।
নাবিলা কিছুক্ষন আমার দিকে চেয়ে রইল। চোখ দিয়ে কৃতজ্ঞার জল পড়ছিল তার।
আমি তাড়াতাড়ি করে তাকে কিছু খেতে দিলাম। সাইফুল কেও বললাম, কিন্তু সে না খেয়ে কাল আসবে বলে চলে গেল। তার জামা কাপড়গুল ময়লা, তাই তাকে আমার ছোট বনের জামা দিয়ে চেঞ্জ করে নিতে বললাম। রাতে আর কোনো কথা না বলেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।পরদিন সকালে রান্না ঘরে খুটুরমুটুর শব্দে ঘুম ভাঙলো। একটু বিরক্ত হয়েই ওদিকে গেলাম। দেখি নাবিলা কি যেন রান্না করছে।
এই যে মহারাণী এখানে কি করছেন হুমমম। আর এত সকাল সকাল আমার ঘুম ভাঙলে কেন।
Sorry মনে করেছিলাম তোকে একটা Surprise দিব
ওওও..আচ্ছা তুই তৈরি হয়ে নে। আমরা আজ দুপুরের বাসেই উঠবো
বাবার একমাত্র ছেলে হওয়ার কারনে যাওয়ার সময় ছোট হওয়া সত্তেও ATM কার্ড দিয়ে যায়। যার কারনে টাকার বিষয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় নই।
তারপর একটি বছর কেটে গেল আম্মু -আব্বু এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। তবে নাবিলার সাথে এখনও মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয়।
**আমার জীবনে আমি এই প্রথম একটা ঘটনা লিখলাম। আমি আপনাদের সবার ছোট ভাই। Class nine এ পড়ি।কোনো ভুল হলে ক্ষমা করবেন।**
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now