বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক গ্রামে খুবই রগচটা একটি ছেলে ছিল। সামান্য কারণেই কোনো কিছু চাওয়ামাত্র না পেলে সে রেগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলত। এভাবেই একদিন কোনো একটা কারণে মায়ের ওপর রাগ করে বাড়ি থেকে না খেয়ে বের হয়ে গভীর বনের দিকে যেতে লাগলো। বাড়ি থেকে বেড়োনোর সময় তার মা তাকে খাবার খাওয়ার জন্য বারংবার অনুরোধ করার পরেও যখনে সে খাবার খেল না তখন মা রেগে গিয়ে তাকে বলল, "এতবার আদর করে বলার পরেও তুই খেলিনা। তবে তোর ভাগ্যে থাকলে ওই খাবারই তোকে জুতোর বাড়ি খাওয়ার পরেও খেতে হতে পারে।"
মায়ের কথায় কান না দিয়ে সে যেতে লাগলো। অন্যদিকে, ছেলে না খেয়ে চলে গেছে তাই মায়ের মন মানেনা। তাই তিনি একজন চাকরকে সাথে সাথেই খাবার নিয়ে পাঠায়। কিন্তু, সাবধান করে দেয় যাতে তার ছেলে কিছুতেই টের না পায়। ছেলেটি হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয়ে একসময় একটি বটগাছের মোটা ডালের উপর হেলান দিয়ে বসে পড়ে। আর সেই চাকরটি চুপিসারে গাছের নিচে খাবারের থালা রেখে চলে যায়। ছেলেটি ক্লান্ত শরীরে একসময় ডালের ওপরেই ঘুমিয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, তিনজন ডাকাতের একটি দল ডাকাতি করে ফেরার পথে হাপিয়ে গিয়ে সেই গাছের নিচেই বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসতে গিয়ে দেখে একটি থালা ভরতি সুস্বাদু খাবার। তাই দেখে তাদের মধ্যে একজন সেই খাবার খেতে চাইলে তাদের সর্দার বারণ করে বললেন, "নিশ্চয়ই এতে কিছু মেশানো আছে। নাহলে কে এখানে এভাবে খাবার রাখলো? আর কেন কেউ খায়নি এতো সুস্বাদু খাবার?" এদিকওদিক খুজে দেখার পর তাদের একজন গাছের উপরে ঘুমন্ত ছেলেটিকে দেখতে পেয়ে তাকে গাছ থেকে নামিয়ে আনলো।
ছেলেটির কাছে তারা জিজ্ঞেস করে থালার খাবার সে রেখেছে কিনা, আর খাবারে কিছু মিশিয়েছে কিনা। ছেলেটি বারবার অস্বীকার করা সত্ত্বেও তারা বিশ্বাস করেনা। তারা ছেলেটিকে থালা থেকে খাবার খেয়ে প্রমাণ করতে বলে। কিন্তু ছেলেটি যেহেতু খুবই জেদি তাই সে খাবেনা বলে। ডাকাতদের মনের সন্দেহটা জোড়ালো হয়ে যায়। তারা ছেলেটিকে মারধোর করতে শুরু করে খাওয়ার জন্য। একপর্যায়ে তারা জুতো দিয়ে মারতে শুরু করে। অবশেষে মার সহ্য না করতে পেরে ছেলেটি বাধ্য হয়ে খাবার মুখে দেয়। আর তক্ষুনি তার মায়ের বলা কথাগুলো মনে পড়ে। সে মনেমনে প্রতিজ্ঞা করে আর কখনো রাগ করবেনা।
কেউ তার ভাগ্যের লিখনকে পরিবর্তন করতে পারেনা। যার ভাগ্যে যা আছে তার সাথে সেটা ঘটবেই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now