বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একদিনের জন্য ছেলেকে মেয়ে আর মেয়েকে ছেলে ভাবুন।"
১)
রাতুল বাসা থেকে বের হতে এখন ভয় পায়।আজ কয়েকদিন নানা রকম খবর কানে আসছে।গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে কিছু ভন্ড-বদমাইশ মেয়ে নাকি আড্ডা মারে।ছেলে দেখলেই নাকি শিস দেয়।সেদিন নাকি কোন ছেলের শার্টের বোতাম টেনে ছিঁড়ে ফেলছে।এসব ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে রাতুলের।কিন্তু আজ একটা ইনপর্টেন্ট ক্লাস আছে।না গেলে অনেক প্রবলেম হবে।তাই অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বুকে ফুঁ দিয়ে বাসা থেকে বের হলো।
গলির মোড়ের কাছে যেতেই রাতুলের দিকে চোখ পড়লো নুসরাতের।নুসরাত মৌমিতার চামচা।রাতুলকে দেখেই নুসরাত মৌমিতাকে বলে উঠলো, বস দেখেন দেখেন মালটা জোস না?নতুন মনে হচ্ছে,আগেতো দেখিনি।মৌমিতা রাতুলকে ডাক দিলো,"এই হ্যান্ডসাম, এদিকে আয়তো।"রাতুল না শুনার ভান করে জোরে জোরে হাঁটতে লাগলো।পেছন থেকে খপ করে রাতুলের হাতটা ধরে ফেলল মৌমিতা।তখন রাতুল হাত ছাড়িয়ে বলে উঠলো," তোর ঘরে কি বাপ ভাই নাই?এখন যদি আমি তোর ভাই হতাম,এভাবে হাত ধরতে পারতি?বাবার জাতীকে সম্মান করতে শিখ।"মৌমিতার মাথা গরম হয়ে গেল।চড় দেওয়ার জন্য হাত উঠাতেই নায়িকার মত উড়ে এসে হাত ধরে ফেলল মায়া।ঠুস-ঠাস কয়েকটা মারার পরই মৌমিতার দল দৌড়ে পালালো।আর যাওয়ার সময় বলে গেল,"তোকে আমি দেখে নিব মায়া।"
তারপর তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হলো।বন্ধুত্ব থেকে ভালোলাগার সৃষ্টি।একদিন হাঁটু গেড়ে ফুল দিয়ে রাতুলকে প্রোপোজ করে মায়া।রাতুলও রাজি হয়ে হয়ে যায়।কারণ সেও মায়াকে পছন্দ করে।তারপর মায়া রাতুলকে কথা দেয়, ভালো একটা চাকরী পেলে ঘরের জামাই করে নিবে।
২)
অনেকক্ষণ ধরেই বাসের জন্য অপেক্ষা করছে রাতুল।আশেপাশের মেয়ে গুলা মনে হয় জীবনেও ছেলে দেখেনি।হা করে তাকিয়ে আছে।ওর ইচ্ছে করছিল গিয়ে দুটো চড় মেরে আসতে।কিন্তু ভয়ে পারছে না।যদি কোনদিন একা পেয়ে তার সর্বনাশ করে দেয়।সমাজে মুখ দেখাবে কিভাবে?মা স্টোক করবে,ছোট ভাইয়ের বিয়ে হবে না।তাই চুপ করেই দাঁড়িয়ে রইলো।
একটু পরই বাস চলে আসলো।কিন্তু বাসে একটুও জায়গা নেই,সব জ্যাম হয়ে আছে।হেলপার মেয়েটা বাসে উঠাবার নাম করে গায়ে হাত দিচ্ছে।পুরুষের জন্য সংরক্ষিত আসলগুলোও পূরণ হয়ে গেছে।ড্রাইভার মহিলাটাও আড়চোখে তাকাচ্ছে।ওকে বাধ্য হয়েই মহিলাদের সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে।যুবতী একটা মেয়ে ওর পাশে সিটে বসে আছে।রাতুুলের ওকে বলতে ইচ্ছে করছিল,"লজ্জা করে না? যুবতী মেয়ে হয়ে বসে বসে যাচ্ছে,পাশে যে অবলা ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে সে খেয়াল নেই।"এসব মেয়েরা জীবনে মানুষ হবে না।একটু পর খেয়াল করলো ওর মার বয়সি একটা মহিলা ওর পিঠে হাত দিয়ে গুতো দিচ্ছে।ভাবলো হয়তোবা অনিচ্ছাকৃত।কিন্তু একটু পর আবার পিঠের মাঝ বরাবর গুতো দিলো।সে আর মাথা ঠিক রাখতে পারেনি।ঠাস করে মার বয়সি মহিলাটির গালে চড় বসিয়ে দিল।আর বলতে লাগলো, "তোর লজ্জা করে না তোর ছেলের বয়সি একটা ছেলের গায়ে হাত দিতে।তোদের তো জুতো পেটা করা উচিতরে কামহিলা।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলারাও ওর পক্ষ নিয়ে মহিলাটাকে আরেক দফা পিটিয়ে বাস থেকে ফেলে দিল।তখন ভয়ে পাশে সিটে বসা যুবতিটা উঠে তাকে বসতে দিল।
তারপর কলেজে গিয়ে সব বন্ধুদের ডেকে ডেকে হট নিউজটা শুনালো।সবাই বলতে লাগলো,"তোর অনেক সাহস রে রাতুল।আমরা হলে তো জীবনেও পারতাম না।এসব লুচু মেয়েদের এভাবেই করা উচিত।তোর কাজ দেখে অনেক অনুপ্রেরণা পেলাম।এবার আমিও করে দেখাবো।আসুক এবার গায়ে হাত দিতে।দেখাবো মজা।"
৩)
আজ রাতুলকে মেয়ে পক্ষ দেখতে আসবে।কিন্তু রাতুল কিছুতেই এ বিয়েতে রাজি নয়।ও পড়ালেখা শেষ করে তারপর বিয়ে করবে।রাতুলের বাবা ওকে অনেক বুঝিয়েছে,দেখতে আসলেই তো বিয়ে হয়ে যাচ্ছে না।মেয়ের তোকে আগে পছন্দ হতে হবে।তবে মেয়ে মাশাআল্লাহ বহুত হ্যান্ডসাম।দেখতে শুনতে ভালোই,তবে একটু কালো আর কি।মেয়েরা কালো হলেও সমস্যা হয় না।মেয়ে বড় চাকরী করে।বাবা তোকে অনেক সুখে রাখবে।না বাবা আমি এখন বিয়ে করবো না।আমার কোন বোন নেই,তোমাদের বুড়ো হলে কে দেখবে শুনি?তুমি মাকে বুঝাও।তুই তো জানিসই তোর মায়ের কথাই শেষ করা।তার উপর আমার কথা চলে না।
রাতুল এইমুহুুর্তে কি করবে বুঝতে পরছে না।মায়ার কথা বিষণ মনে পড়ছে।মায়া ওকে কথা দিয়েছে, চাকরী পেলেই জামাই করে নিবে।মায়ার কাছে টাকা-পয়সাও নেই,পালিয়ে গেলে খাবে কি?থাকবে কোথায়?অনেক চিন্তা ভাবনা করে আর পালানোর সাহস পায়নি।অনেক বুঝিয়ে-সুজিয়ে বিয়ে বন্ধ করেছে রাতুল।
দুমাস পর মায়া চাকরী পেয়েছে।আজ রাতুলের বিয়ে। জামাই সাজে রাতুলকে অনেক সুন্দর লাগছে।দেখতে জ্বীনের (মেয়ে হলে পরী,ছেলে হলে জ্বীন) মত লাগছে।ডানা দুটো লাগিয়ে দিকে জ্বীন হয়ে যেত।
দিন শেষে আজ রাতুলের বাসর রাত।রাতুল কত স্বপ্ন দেখেছে এই রাত নিয়ে।আজ সব সত্যি হলো।বড় করে গোমটা দিয়ে খাটের মাঝখানে বসে আছে রাতুল।বাইরে মায়া দাঁড়িয়ে আছে।লজ্জা কারণে আসতে পারছে না।বান্ধবীরা জোর করে ভেতরে পাঠালো।মায়াকে ভেতরে আসতে দেখে রাতুল উঠে গিয়ে পা ধরে সালাম করলো।শুরু হলো তাদের নতুন জীবন।
দু মাস পর শুনা গেল, রাতুল বাবা হতে চলেছে।এ খবর শুনে খুশিতে মায়া রাতুলকে কোলে তুলে নিলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now