বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি জার্মান ছাত্রের নৈশাভিযান

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "একটি জার্মান ছাত্রের নৈশাভিযান" . লেখক ওয়াশিংটন আরভিং . ফরাসি বিপ্লবের বিক্ষুব্ধ সময়। ঝোড়ো রাত। পুরনো প্যারিসে পথ ধরে নিজের আবাসে ফিরছে এক জার্মান ছাত্র। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। বাজের কড়কড়ানিতে সেই সুন্দর সংকীর্ণ গলিপথগুলি কেঁপে কেঁপে উঠছিল—কিন্তু সেকথা থাক। আগে আসুন, এই তরুণ জার্মানটির সম্পর্কে আপনাদের কিছু বলে রাখি। . গটফ্রায়েড উলফগ্যাং সম্ভ্রান্ত বংশের যুবক। কিছুকাল গটিঙেনে[1] পড়াশোনা করেছিল। কিন্তু স্বভাবের দিক থেকে ছিল বড্ড কল্পনাপ্রবণ আর বেশি মাত্রায় উদ্যমী। তাই যে সময় বিষয়ে গড়পড়তা জার্মান ছাত্রদের ধাঁধা লেগে যেত, সেই সব অদ্ভুত রহস্যময় বিষয়ের মধ্যেই বিচরণ করতে বেশি দেখা যেত তাকে। বিচ্ছিন্ন জীবন, কঠোর পরিশ্রম আর অদ্ভুত ধরনের পড়াশোনার প্রভাব পড়েছিল তার শরীর ও মন দুইয়ের উপরেই। স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। কল্পনাশক্তিতেও ঘুন ধরেছিল। আধ্যাত্মিক ব্যাপারে অদ্ভুত সব কল্পনা নিয়ে সে মজে থাকত। অবশেষে সুইডেনবর্গের[2] মতো সেই তার চারপাশে মনের মতো একটা পরিবেশ পেয়ে গেল। ঠিক কী কারণে জানি না, তার ধারণা হয়েছিল যে, তার উপর কোনো একটা অমঙ্গলের ফাঁড়া আছে। কোনো অশুভ শক্তি বা প্রেতাত্মা তাকে ধরে শয়তানের দুনিয়ায় নিয়ে যেতে চাইছে। একেই ছেলেটি ছিল একটু বিষণ্ণ প্রকৃতির। তার উপর এই সব চিন্তাভাবনা তার উপর আরও খারাপ প্রভাব ফেলছিল। কষ্ট পাচ্ছিল। দুর্বলও হয়ে পড়ছিল দিন দিন। তার বন্ধুরা বুঝতে পারছিল, মানসিকভাবে সে খুবই অসুস্থ। ওরা ভেবেছিল, অন্য কোথায় পাঠিয়ে দিলে হয়ত কিছু উন্নতি হতে পারে। তাই লেখাপড়া শেষ করার জন্য তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হল বিলাসিতা ও আনন্দপ্রবাহের শহর প্যারিসে। বিদ্রোহ ঘোষণার ঠিক কিছুদিন পরেই উলফগ্যাং প্যারিসে এসে হাজির হল। গণআন্দোলনের ঘটনাটা প্রথমেই তার অত্যুৎসাহী মনকে আকর্ষণ করল। সেই সময় রাজনৈতিক ও দার্শনিক চিন্তাভাবনাগুলিও তার মনকে দারুণভাবে নাড়া দিল। কিন্তু রক্তারক্তি ঘটতে শুরু করলে, তার সংবেদনশীল মনটা ধাক্কাও খেল খুব। সমাজ ও পৃথিবীর উপর তার বিতৃষ্ণা জন্মাল। নিজেকে সে সমাজবিচ্ছিন্ন করে নিল। পেজ লাতিন ছাত্রাবাসের একটি নির্জন কামরায় সে স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে থাকত। সরবন ভবনের[3] অল্প দূরে একটা নির্জন রাস্তায় সে পায়চারি করতে ভালবাসত। মাঝে মাঝে সে চলে যেত প্যারিসের কোনো বিখ্যাত লাইব্রেরিতে। সেখানে তার অস্বাস্থ্যকর ক্ষুধার খাদ্যান্বেষণে মৃত লেখকদের ধুলোয় ঢাকা বিস্মৃত রচনাবলির পাতা উল্টিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাত। কতকটা লুপ্ত সাহিত্যের গোরস্থান-বাসী লাইব্রেরি-ভূতের মতো হয়ে গিয়েছিল। তবে যতই নির্জনবাসী হোক না কেন, উলফগ্যাং ছিল গভীর আবেগপ্রবণ। কিন্তু ব্যাপারটা কেবল তার কল্পনার উপর দিয়েই যেত। লাজুক প্রকৃতির ছেলে ছিল খুব। আর কিছুটা অজ্ঞও ছিল এই দুনিয়া সম্পর্কে। তাই মেয়েদের দিকে হাত বাড়াতো না। যদিও নারীর সৌন্দর্যের সে ছিল উপাসক। তার দেখা নারীমুখ ও নারীশরীরের ধ্যান করত সে কামরায় বসে বসে। সেই ধ্যানে বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যেত প্রেমের প্রতিমা। মন যখন তার এই রকম উত্তেজিত, সেই সময় একটা স্বপ্ন তার উপর আশ্চর্য রেখাপাত করে গেল। একটা অপূর্ব সুন্দরী মেয়ের মুখ দেখেছিল সে সেই স্বপ্নে। তার ফল হল এই যে, স্বপ্নটা বারংবার তার কাছে ফিরে ফিরে আসতে লাগল। দিনে সেই স্বপ্নের চিন্তা তাকে তাড়া করত, রাতে স্বপ্নটা। ছেলেটা সে স্বপ্নের ছায়ার প্রেমে হাবুডুবু খেতে লাগল। এত দিন ধরে এই ব্যাপারটা চলল যে, তার বিষণ্ণ মনের উপর এটা একটা বাতিকে পরিণত হল। এই হল গটফ্রায়েড উলফগ্যাঙের চরিত্র। আর সময়টার কথা তো আগেই বললাম। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ শেষ রাতে সে বাড়ি ফিরছিল। স্থানটি হল পুরনো প্যারিসের মারাইসের[4] একটি প্রাচীন নির্জন পথ। সরু গলির মাথার উপর বড়ো বড়ো বাড়িগুলি ঝড়ে কাঁপছিল। হাঁটতে হাঁটতে সে পৌঁছে গেল প্লেস ডে গ্রেভ চকে। এখানে অপরাধীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হত। সুপ্রাচীন হোটেল ডে ভিলের চূড়ায় বিদ্যুৎ চমকালো। আলোয় একবার সামনের জায়গাটুকু আলোকিত হয়ে উঠল। চক পেরোনোর সময় নিজেকে গিলোটিনের কাছ দিয়ে যেতে দেখে সে একবার কুঁকড়ে গেল। তখন সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে পুরোদমে। এ সময় এই যন্ত্রটাকে সদাপ্রস্তুত থাকতে হত গুণী ও বীরেদের রক্তপাত ঘটানোর জন্য। আজও অবিশ্রাম নরহত্যা চলেছে এই মঞ্চে। এখন শহর যখন ঘুমাচ্ছে, তখন এই যন্ত্রটা দাঁড়িয়ে আছে গম্ভীর হয়ে— তাজা শিকারের অপেক্ষায়। উলফগ্যাঙের হৃদপিণ্ডটা যেন ভিতরে কুঁকড়ে গেল। কাঁপতে কাঁপতে সে সেই ভয়ঙ্কর যন্ত্রটার থেকে দূরে সরে গেল। তারপর সে সেই ফাঁসিমঞ্চের সিঁড়ির নিচের ধাপে একটা সন্ত্রস্ত ছায়ামূর্তি দেখতে পেল। হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানিতে মূর্তিটা খানিকটা স্পষ্ট হয়ে গেল। একটি মেয়ে। কালো পোষাক পরা। ফাঁসিমঞ্চের সিঁড়ির নিচের ধাপটিতে সামনের দিকে ঝুঁকে বসে আছে মেয়েটি। কোলের মধ্যে মুখ লুকানো। লম্বা বেণী মাটিতে লুটাচ্ছিল বৃষ্টির জলধারার সঙ্গে। উলফগ্যাং থমকে দাঁড়াল। এই নির্জন বিষাদমিনারের যেন কিছু একটা তাকে আকর্ষণ করছিল। মেয়েটির চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল সে অন্যরকম। সে জানত সময়টা ভাগ্যের উত্থানপতনের সময়। অনেক মেয়ে যারা আগে সুখশয্যায় রাত কাটাতো, এখন তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে গৃহহীন হয়ে। হয়তো মেয়েটির খুব কাছের কাউকে আজ গিলোটিনে প্রাণ দিতে হয়েছে। মেয়েটি তাই এখন হতবুদ্ধি হয়ে এখানে বসে আছে। কী করবে, কেমনভাবে বাকী জীবনটা কাটাবে কিছুই বুঝতে পারছে না। সে এগিয়ে গিয়ে সহানুভূতি-মাখা স্বরে মেয়েটিকে সম্বোধন করল। মেয়েটি মাথা তুলল। তার দৃষ্টি এলোমেলো। বিদ্যুতের আলো খেলতেই ছেলেটি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। এই মুখখানাই তো তাকে স্বপ্নে দেখা দেয়। সেই পাণ্ডুর বিষণ্ণ মুখ, কিন্তু অসামান্য সুন্দর। আবেগের উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে উলফগ্যাং তাকে আবার সম্বোধন করল। রাতের এই সময় ঝোড়ো আবহাওয়ায় বাইরে থাকার বিপদের কথা বলল। মেয়েটির পরিজনের কাছে তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলল। মেয়েটি খুবই অর্থপূর্ণভাবে গিলোটিনের দিকে আঙুল দেখালো। বলল, “এই পৃথিবীতে আমার কোনো পরিজন নেই।” উলফগ্যাং বলল, “কিন্তু একটা বাড়ি তো আছে?” “আছে—কবরে!” ছেলেটার মনটা গলে গেল। সে বলল, “তুমি আমাকে চেনো না। কিন্তু ভুল বুঝো না। আমি তোমাকে সত্যিই সাহায্য করতে চাই। আমার সঙ্গে আমার বাসায় চলো। আমাকে বন্ধু মনে করো। এই প্যারিস শহরে আমার কোনো বন্ধু নেই। আমি বিদেশি। কিন্তু জীবন দিয়েও তোমাকে সাহায্য করতে পারি। তোমাকে আমি সব রকম বিপদ থেকে রক্ষা করব।” যুবকের ভাবেভাবে একটা সৎ অভিপ্রায় ফুটে উঠছিল। তার বিদেশি উচ্চারণভঙ্গিটাও তাকে একটু সুবিধে করে দিল। মানে সে যে প্যারিসের লোক নয়, সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছিল। তার উদ্যমের মধ্যেও যে সততা ছিল তাও ভাল বোঝা যাচ্ছিল। গৃহহীনা সে অপরিচিতা এই ছাত্রের উপর পূর্ণ আস্থা রাখল। নেম সেতুর কাছে চতুর্থ হেনরির মূর্তিটা উপড়ে ফেলেছিল বিদ্রোহীরা। সেখান দিয়ে আসতে মেয়েটির অসুবিধে হচ্ছিল। ছেলেটি তাকে সাহায্য করল। ঝড় থেমে এসেছিল। দূরে মেঘ ডাকছিল। সারা প্যারিস নিঃস্তব্ধ। মানুষের ক্রোধের সেই বিরাট আগ্নেয়গিরিটি তখন সুপ্ত। পরদিন জেগে ওঠার জন্য শক্তিসঞ্চয় করছে। ছেলেটি পেজ লাতিনের প্রাচীন পথ ধরে সরবনের পাঁচিলের কাছে এসে উপস্থিত হল। এখানেই একটা বড়োসড়ো নোংরা হোটেলে সে উঠেছিল। বুড়ি মেয়ে-দারোয়ানটা সদাবিষণ্ণ উলফগ্যাঙের সঙ্গে একটা মেয়েছেলেকে দেখে একটু অবাকই হয়েছিল। কামরায় ঢুকে ঘরের এই রকম এলোমেলো দরিদ্র ছন্নছাড়া ভাবটা দেখে এই প্রথম লজ্জায় পড়ল ছেলেটি। ঘরে একটাই কামরা—সেকেলে- ফ্যাশানের অতিথিশালার ঘর—নানারকম কারুকার্যমণ্ডিত এবং পূর্বগৌরবের যেটুকু উচ্ছিষ্ট আছে তা দিয়ে দারুণ পালিশ করা। এটা সাবেক লুক্সেমবার্গ প্রাসাদ এলাকার হোটেল ছিল কিনা এককালে। অভিজাতেরা ব্যবহার করতেন। কামরায় ছড়ানো বই, কাগজপত্র আর ছাত্রদের ব্যবহার্য সব যন্ত্রপাতি। এক কোণে তার বিছানাখানি পাতা। আলো আনা হলে উলফগ্যাং আগন্তুকের চেহারাটা ভাল করে দেখার সুযোগ পেল। ছেলেটাকে মেয়েটার রূপের নেশায় পেয়ে বসেছিল। মেয়েটার মুখটা পাণ্ডুর। কিন্তু অত্যন্ত উজ্জ্বল। সেই মুখের পিছনে কালো চুলের ঢল। বড়ো বড়ো দীপ্ত চোখ। অনেকটা বন্য ভাব। কালো পোষাকে তাকে আরও সুন্দর দেখাচ্ছিল। যদিও পোষাকটা খুবই সাদামাটা। তার গলায় অলংকারের মতো একটা মোটা হিরে-বসানো কালো ব্যান্ড দেখা যাচ্ছিল। উলফগ্যাঙের এবার চিন্তা হল, এই অসহায় মেয়েটিকে কার হাতে সমর্পণ করা যায়। সে ভেবেছিল এই কামরাটা তাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নেবে। কিন্তু মেয়েটার রূপে সে তখন মুগ্ধ। সেই রূপের জাদুতে এমন বাঁধা পড়ে গিয়েছিল যে, কিছুতেই তাকে সে ছেড়ে যেতে পারছিল না। মেয়েটির হাবভাবও কিছুটা অদ্ভুত রকমের দুর্বোধ্য। সে আর গিলোটিনের কথা বলছিল না। তার শোক প্রশমিত হয়েছে। ছাত্রটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রথমে তার আত্মবিশ্বাস জন্মেছিল। এখন সে হয়ত তার মনটাও জয় করে নিয়েছে। মেয়েটিও তার মতো প্রবল উদ্যমী। রতনে রতন চেনে। ক্ষণেকের দুর্বলতায় উলফগ্যাং মেয়েটির কাছে হৃদয় নিবেদন করে বসল। সে মেয়েটিকে তার রহস্যময় গল্পের ইতিহাস শোনালো। বলল, তাকে দেখার আগেই কেমন করে সে তার হৃদয় জুড়ে বসেছিল। মেয়েটাও সেই কথা শুনে অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া জানাল। বলল, সেও ছেলেটির প্রতি একই রকম দুর্বোধ্য আকর্ষণ অনুভব করছে। তখন সময় বেপরোয়া তত্ত্ব আর উদ্দাম খেলার। পুরনো কুসংস্কার ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে এই “যুক্তিদেবী”র সামনে। ভাঙা দিনের ঢেলার মধ্যে দিয়ে বিবাহের রীতিপ্রক্রিয়াগুলিকে মহৎ মনের সবচেয়ে বড়ো প্রতিবন্ধক মনে হচ্ছে। সামাজিক চুক্তিগুলিকে মিথ্যা মনে হচ্ছে। উদার মতের সামনে দাঁড়িয়ে উলফগ্যাঙের মনে হচ্ছে সে বড্ড তাত্ত্বিক হয়ে গিয়েছিল। সে বলল, “তাহলে আমরা আর একে অপরকে ছেড়ে যাব কেন? যুক্তি আর সম্মানের চোখে আমাদের দুই চোখের মিলন হয়েছে। আমরা এক হয়ে গিয়েছি। দুটো মহৎ আত্মাকে এক সূত্রে বাঁধতে আর ওই নোংরা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কী আছে?” আগন্তুক মেয়েটি আবেগভরে শুনল তার কথা। মনে হল, কথাগুলি তার মনে ধরেছে। ছেলেটি বলে চলল, “তোমার বাড়িও নেই, পরিবারও নেই। আমাকেই তোমার সর্বস্ব করে নাও না। বা আমাদের একে অপরকে একে অপরের সর্বস্ব হয়ে যেতে দাও। অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হলে, অনুষ্ঠান পালন করা হবে। আমি আমাকে চিরতরে তোমার হাতে সমর্পণ করছি।” মেয়েটি শান্ত গলায় জিজ্ঞাসা করল, “চিরতরে?” উলফগ্যাং উত্তর দিল, “চিরতরে।” মেয়েটি দুহাতে তাকে জড়িয়ে ধরল। তার বুকে মাথা রেখে বলল, “তাহলে আমি তোমার!” পরদিন সকালে বধূকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে ছাত্রটি বের হল দুজনের বসবাসের উপযুক্ত একটু বড়ো জায়গার খোঁজে। ফিরে দেখল, মেয়েটি বিছানায় মাথা ঝুলিয়ে শুয়ে। হাত দুপাশে ছড়ানো। সে মেয়েটিকে ডাকল। কিন্তু সাড়া পেল না। মেয়েটাকে ওইরকম অদ্ভুত শয়নভঙ্গি থেকে তুলে দেওয়ার জন্য সে তার কাছে গেল। হাতটা ধরতেই দেখল সেটা ঠান্ডা। নাড়ির কোনো লক্ষণ নেই। মুখখানা বীভৎস রকম ফ্যাকাসে। এককথায় মেয়েটার মৃতদেহ ওটা। ছেলেটা খুব ভয় পেয়ে গিয়ে লোক জড়ো করল। সবাই বেশ ঘাবড়ে গেল। পুলিশে খবর দেওয়া হল। পুলিশ অফিসার ঘরে ঢুকে মৃতদেহটার দিকে তাকাতেই চমকে উঠলেন। তিনি বললেন, “হা ঈশ্বর! এই মেয়েটি এখানে এল কীভাবে?” উলফগ্যাং সাগ্রহে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “আপনি চেনেন একে?” অফিসার সবিস্ময়ে বললেন, “আলবাত। একে তো কালকেই গিলোটিনে তোলা হয়েছিল।” অফিসার এগিয়ে গিয়ে গলার কালো কলারটা খুলতেই কাটা-মাথাটা আলগা হয়ে গড়িয়ে পড়ল মাটিতে। ছেলেটা পাগলের মতো করে উঠল, “শয়তান! শয়তানে ধরেছে আমাকে! আমি গেলাম এবার!” সবাই তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। কিন্তু কোনো লাভ হল না। সেই মরার প্রেতাত্মা তাকে ভর করেছে—এই ধারণা তাকে গ্রাস করল। ছেলেটা পাগল হয়ে গেল। পাগলা-গারদেই সে মারা গিয়েছিল। ভুতুড়ে চেহারার বুড়ো এখানেই তার গল্প শেষ করল। জিজ্ঞাসু ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করলেন, “এসব কী সত্যি ঘটনা?” বুড়ো বলল, “সত্যি বলে সত্যি! কার থেকে জেনেছি জানো এই ঘটনার কথা? সেই ছাত্রটি নিজে বলেছিল। আমি তাকে প্যারিসের সেই পাগলা-গারদে দেখেছিলাম।” ... সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now