বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাইমা নতুন বাবাকে ছেড়ে দিয়ে বলল, বাবা তুমি আর কখনও কাঁদবা না বুচ্ছহ । যদি কাঁদো তাহলে আমি অনেক রাগ করবো। নতুন বাবা বলে উঠলেন, আমি কখনও কাঁদব না প্রমিস করলাম। নাইমা যে মিশন নিয়ে এসেছিল, নতুন বাবার সাথে পরিচিত হয়ে সেটা ভুলেই গেছে । কামিল মনে করিয়ে দিল নাইমাকে! নাইমার এখন আর তাড়াহুড়ো নেই। বাবা বলে ডেকেছে যখন বাবা নিশ্চয় তাকে একদিন সব বলবেন। এবার বিদায় নিতে হবে। বাবার কাছ থেকে ফোন নাম্বার চেয়ে নিজের কাছে রাখল। বিদায় নিয়ে দুজনই গাড়ীতে করে হোস্টেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো । নাইমার নতুন বাবা এখনও আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। বহুদিন পর উনার মনে অনেক স্বস্তি এসেছে। টাকা-পয়সা ধনদৌলত কোনো কিছুরই অভাব নেই তার! শুধু অভাব ছিল একটা মেয়ের। নাইমা এসে সেই অভাবটা গুছিয়ে দিল। মেয়ের মুখে বাবা ডাক শোনার প্রবল আগ্রহ কেন ছিল? সেটা তিনি এখনই বুঝতে পারছেন। একসময় তিনি খোদার কাছে চাইতেন, অভিশপ্ত এই পৃথিবী থেকে আল্লাহ যেন তাকে উঠিয়ে নেন, কিন্তু এখন এরকম ভাবছেনই না! মনে মনে বারবার খোদার কাছে মেয়ের সাথে হাজার বছর বেঁচে থাকতে চাইছেন!
নাইমা হোস্টেলে পৌছে গেছে। ফোন করল বাবাকে।বাবা আমি নাইমা বলছি।
হ্যাঁ, মা বলো? অনেকটা খুশির আবাস নতুন বাবার কণ্ঠে নাইমা সেটা বুঝতে পারছে । বাবাকে জিজ্ঞাস করলো, বাবা তুমি এখন কোথায়? (নাইমা)
আমি এখনও কলেজের পাশে দাঁড়িয়ে আছি! (বাবা)
কিহ! এখনও কলেজে! এতো রোধের মধ্যে তুমি কলেজের পাশে আছো ! তুমি বাসায় যাবা নাকি আমি ফোন রেখে দিবো? (নাইমা)
হেসে হেসে বললেন, রাগ করিসনা, এইতো যাচ্ছি।
আচ্ছা যাও, বাসায় গিয়ে ফোন দিও, বলে ফোন রাখল নাইমা। সায়েমের আব্বা মুচকি হেসে চিন্তা করলেন, একদিনের মধ্যেই মেয়েটি বাবাকে শাসন করা শুরু করে দিয়েছে! পরবর্তীতে না জানি কি করে? সত্যিই মেয়ের শাসন অনেক মধুর। গাড়ীতে বসে ড্রাইভারকে বাসার দিকে যেতে বললেন।
এদিকে নাইমা সকালের খাবার খেয়ে বসে ম্যাগাজিন পড়ছে। মোবাইলে একটা ফোন আসে, চেয়ে দেখে তার নতুন আব্বা ফোন দিয়েছেন। ফোন ধরল। মোবাইলে বাবার সুমিষ্ট কণ্ঠটি ভেসে উঠল, "মা আমি এসে গেছি বাসায় "। (বাবা)
এই তো আমার ভালো আব্বু! এবার লক্ষি ছেলের মত সকালের খাবার খেয়ে নাও । (নাইমা)
সায়েমের আব্বা যেন নাইমার বাধ্য ছেলে। মেয়ে যা বলছে, অক্ষরে অক্ষরে তিনি সেটা পালন করছেন। তিনি নিজেও ভেবে পাচ্ছেন না,কেনো নাইমার সবকথা নির্দিধায় পালন করছেন? অদ্ভুত এক মায়াটান। বৃদ্ধা সকালের খাবার খেতে বসলেন, খেতে মন চাইছেনা! মেয়েটিকে দেখতে মন চাইছে! বুয়াকে বললেন, খাবার গুলো টিফিনে ভরে দিতে! বুয়া যথাযত ভাবে টিফিনে খাবারগুলো ভরে দিল। সায়েমের আব্বা টিফিন হাতে বেরিয়ে পড়লেন। গাড়ীতে বসে নাইমাকে ফোন দিলেন। নাইমার ঠিকানা জানতে চাইলেন, নাইমা ঠিকানা বলল, তিনি ফোন রাখলেন।
ড্রাইভারকে নাইমার হোস্টেলের দিকে যেতে বললেন, সে ওইদিকেই যাচ্ছে। এইতো সামনে নাইমার হোস্টেল দেখা যায়। ড্রাইভারকে গাড়ী থামাতে বললেন, ড্রাইবার গাড়ী থামায় । হোস্টেলের সামনে দাঁড়িয়ে নাইমাকে ফোন দিয়ে নিচে আসতে বলেন।
কোনো কিছু না ভেবে নাইমা নিচে চলে আসে। নতুন বাবাকে দেখে সে অবাক!
বাবা তুমি এখানে! (নাইমা)
খুব দেখতে মন চাইছেরে মা, তাই চলে আসলাম (বাবা)
ভালো করেছো। আচ্ছা চলো আমরা এখন পার্কে গিয়ে বসি। (নাইমা)
ঠিক আছে চল। গাড়ী থেকে টিফিনটি হাতে নিয়ে পার্কের দিকে চললেন। নাইমা জিজ্ঞাসা করে টিফিনটি কিসের জন্য?
নতুন বাবা হেসে হেসে বলেন, আমি সকালে খেতে বসছিলাম কিন্তু খেতে পারিনি। খুব ইচ্ছা করছিলো মেয়ের হাতে খাবার খেতে! তাই আমি টিফিনে করে খাবার নিয়ে আসছি। আমাকে কি একটু খাইয়ে দিবে মা? এই কথা বলে নাইমার নতুন বাবা চোখে পানি এনে ফেললেন! নাইমা ধমক দিয়ে বলল, বাবা তোমাকে না আমি বলছি, কান্না না করতে, তারপরও চোখে পানি আনছো! যাও তোমার সাথে কথা নাই।
ধুর পাগলি মেয়ে, এইটা দুঃখের কান্না নয় আনন্দে কান্না চলে আসছে। (নতুন বাবা)
দুঃখে হোক আর সুখে হোক কোনো কারণে কাঁদতে পারবেনা । যদি আর একবার চোখে পানি দেখি তাহলে, খবর করে ছাড়মু! এখন গাড়ীতে চল, তোমাকে খাইয়ে দেই। (নাইমা)
গাড়ীতে বসে কেনো খাবো? পার্কে চল, সেখানে খোলা মাঠে গাছের নিচে বসে আমাকে খাইয়ে দিবে! (নতুন বাবা)
কি বল বাবা? মানুষ দেখলে কি বলবে? (নাইমা)
খালেক আব্দুল্লাহ আর মেয়েকে কিছু বলার সাহস এখানে আছে কারো? খবর করে ছাড়মু (নতুন বাবা)
বাবা তোমার নাম খালেক আব্দুল্লাহ । আমাকে তো বলনাই। (নাইমা)
তোকে নাম বলবো কেমনে? তুইতো জিজ্ঞাসা করস নাই। আর তুই নাম দিয়ে কি করবে? তোর বাবার নাম "আব্বু"! তুই আব্বু বলে ডাকবি কেমন? (নতুন বাবা)
ঠিক আছে আব্বু, চল পার্কে। কত দেরি হইছে, খাইয়ে দিবো ।
নাইমা আর তার বাবা বসে আছেন পার্কের বেঞ্চে! নাইমা আস্তে আস্তে টিফিন খুলে বেঞ্চে সাজিয়ে রাখলো। নিজের হাত ভালো করে টিস্যু দিয়ে মুছে খাবারের বাটি থেকে খাবার হাতে নিয়ে বাবাকে হা করতে বলে। খালেক সাহেব হা করলেন, একজন মা যেভাবে তার ছোট শিশুকে আদর করে খাওয়ায় ঠিক ওইভাবে নাইমা তার নতুন বাবাকে মুখে তুলে খাওয়াচ্ছে। খালেক সাহেব শুধু চেয়ে আছেন মেয়ের দিকে! কান্না চলে আসছে তার! মেয়েকে কথা দিয়েছেন,আর কান্না করবেন না। কিন্তু এটা যে সুখের কান্না! ইহা কি আটকে রাখা যায়। খাবার মুখে নিচ্ছেন আর মেয়ের দিকে অবুঝ শিশুর মত তাকিয়ে আছেন। বাধ্য ছেলে যেন মায়ের কথামত চলছে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now