বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গর্জন

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গর্জন (জেনার থ্রিলার) . বড্ড দুর্গম এলাকায় আমার বাস। এখনো বিয়েথা করিনি। বনবিভাগে চাকরির সুবাদে বনের পাশের একটা পুরনো কটেজে একা একা থাকতে হয়। আমার কটেজের পাশে একটা ছোট্ট ঘর। ও ঘরে নিখিল নামে এক যুবক থাকে,পেশায় শিক্ষক। ছেলেটাও আমার মতো একাই থাকে। সে এই এলাকার নাইট স্কুলে পড়ায়। এখানে আসার পাঁচ-ছ মাসের মধ্যেই আমার সাথে বেশ খাতির জমেছে ছেলেটার। রাতে আমার ঘুম হয় না। ঘরে একা একা সময় কাটাতেও ভালো লাগে না। তাই মাঝেমাঝে রাতে নাইট স্কুলে পড়িয়ে এসে নিখিল আমার সাথে আড্ডা দেয়। আড্ডা চলে রাত ১২ টা পর্যন্ত। কথা বলতে বলতে কত দ্রুত সময় পার হয়ে যায় বুঝতেই পারি না। আমাদের মধ্যে শিক্ষা,সাহিত্য, রাজনীতি নিয়েই বেশি কথা হয়। নিখিল যখন কথা বলে তখন কেমন অদ্ভুত একটা গন্ধ পাই আমি যদিও এটাকে গায়ে মাখিনা। আমি নিখিলের পরিবার সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলে ও সুকৌশলে এড়িয়ে যায়। কোনভাবেই পরিবার সম্পর্কে একটা কথাও বের করতে পারিনি ওর মুখ থেকে। লোকে বলে নিখিলের বাবা নাকি বেঁচে নেই। পাঁচবছর আগে অন্য এক গ্রাম থেকে রাতের বেলায় এক গ্রামে আসে নিখিল। তারপর গ্রামের মাতব্বরের সাথে বেশ সুসম্পর্ক হয়ে যায় ওর। সেই মাতব্বর বনের পাশে তার জন্য এই ঘরখানা করে দেয়,তারপর থেকে নিখিল অজান্তাপুরের বাসিন্দা হিসাবেই আছে। তবে দিনের বেলা তাকে কখনো বাইরে বের হতে দেখেনি আমি, গ্রামের লোকও নাকি রাতের বেলা নাইট স্কুলেও ছাড়া ওকে সচরাচর দেখে না । যদিও সারাটা দিন আমি অফিসেই কাটাই, সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ি আসি। কিন্তু ছুটির দিকে নিখলকে কখনো ওর বাড়ির ধারেকাছে পাওয়া যায় না। দরজায় ইয়া বড় তালা ঝুলতে দেখা যায়। কোথায় থাকে কে জানে! কিছুদিন পরের কথা। শুনলাম গ্রামে নাকি বন্য বাঘের উপদ্রব বেড়েছে। অভিযোগ এসেছে আমার কাছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নাইট স্কুলে পড়তে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে তাদের কে বনের ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সারা শরীরের নখের আচর। কিছু অংশ থেকে মাংস খুবলে খাওয়া। বোঝাই যাচ্ছে বাঘের আক্রমণ। ছেলেমেয়ে গুলোর ছেড়া পোশাক, পাশে পড়ে থাকা বই খাতা দেখে ওদের সনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিলো। আজ নাকি আরো দুজনকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। যথারীতি তাদের লাশ ওই একই জায়গায় ক্ষতবিক্ষত ভাবে পাওয়া গেছে। আমি গিয়ে লাশ দেখে এলাম। কি বীভৎস। এরকম তো আর চলতে দেওয়া যায় না। আমি বনের পাশে থাকি বলা যায় না আমার উপর আক্রমণ হতে পারে কারণ রাতেই বন থেকে বের হয়ে লোকালয়ে আসে বাঘটা। সেদিনই আমি লোকজন নিয়ে খুঁজতে বের হলাম, সরকারি কর্মকর্তা, বনে বাদাড়ে যেতে বাধ্য। নাহ,বাঘের দেখা পাওয়া গেলো না। হতাশ হয়েই ফিরে আসলাম। . রাত প্রায় দশটা। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেলাম। খুলে দিতেই দেখি নিখিল এসেছে। বেশ কয়েকদিন বেচারার আসেনি। ওর স্কুলের ছাত্রছাত্রী এভাবে মারা যাওয়ায় খুবই শোকগ্রস্ত দেখাচ্ছিলো ওকে। অনেকক্ষণ দুঃখ করলো। নিখিলও নাকি বাঘ খুঁজতে বের হয়েছিলো কিন্তু সে আমার মতোই ব্যার্থ। আমিও যে উঠেপড়ে লেগেছি তা নিখিলকে জানালাম। রাত ১২:০০ বাজতেই ও বিদায় নিলো। আমি কপাট লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ কোনকিছুর গর্জনে ঘুম ভাঙলো। কান খাড়া করে শুনলাম। এ তো বাঘের গর্জন! খুব কাছ থেকেই আসছে। বিছানা ছেড়ে উঠে বন্দুক আর টর্চ হাতে নিয়ে বাইরে গেলাম। বাইরে যেতেই গর্জন থেকে গেলো। চারিদিকে নীরবতা নেমে আসলো। এই রাতের বেলা একা একা বনে ঢোকার সাহস হলো না। ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম যদিও বাকি রাতটা ঠিকমতো ঘুম হয়নি। মনে হয়েছে এই বুঝি বাঘের গর্জন শুনতে পাবো। . এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলো। সেদিন রাতের পর থেকে বাঘের গর্জন শুনিনি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েও উধাও হয়ে বাঘের থাবায় পিষ্ট হচ্ছে না। ভাবলাম এবার বুঝি সব শান্ত হলো। বাঘ বাবাজির খিদে মিটেছে তাহলে। অফিসও ছুটি হয়ে গেলো কয়েকদিনের জন্য। প্রায় বারো দিন ছুটি, বেশ লম্বা সময়। এরকম ছুটি পাওয়াই যায় না। আমিও দেরি না করে বাড়ি চলে গেলাম। তখনো ছুটি শেষ হওয়ার সাতদিন বাকি আছে কিন্তু অফিসের বসের ফোন। আমি বাড়ি চলে আসতেই নাকি বাঘের উপদ্রব শুরু হয়ে গেছে। আমাকে তাড়াতাড়ি অজান্তাপুর যেতে হবে। আমি তারপর দিন সকালের ট্রেনে রওনা হলাম কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। এই চাকরি আমাকে শান্তি দিলো না। পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত। কটেজের কাছে গিয়ে দেখি নিখিলের ঘরে আলো জ্বলছে না। তারমানে বাড়িতে নেই অথবা ঘুমোচ্ছে। তবে বাড়িতে থাকলেও আলো জালতে তো দেখা যায় না। আমি ঘরে ঢুকে ব্যাগপত্র রেখে, হাতমুখ ধুয়েই শুয়ে পড়লাম। সারাদিনের জার্নিতে হাত পা ভেঙে আসছে। রাত দুটো নাগাদ আমার ঘুম ভেঙে গেলো। বাঘের গর্জন শুনতে পাচ্ছি। এবারো খুব কাছে থেকে। বন্দুক আর চর্ট নিয়ে বের হলাম। বাঘটাকে দেখতে পেলাম। জ্বলজ্বল করছে বাঘের চোখদুটো। নিখিলের ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে গর্জন ছাড়ছে। মুখে তাজা রক্ত। আজকেও নিশ্চয় কাউকে হত্যা করেছে বাঘটা। আমাকে দেখেই গর্জন বেড়ে গেলো। দেরি না করে বন্দুক দিয়ে গুলি করতে লাগলাম। ঠিক কটা গুলি করেছি তা খেয়াল করলাম না। বাঘটা যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়লো তখন থামলাম। হ্যাঁ,মারা গেছে। অবশেষে বাঘটাকে মেরেছি এই নিয়ে খুব আনন্দ হলো। ইতোমধ্যে গ্রামের কিছু লোকজন এসেছে গুলি ছোড়ার আওয়াজ পেয়ে। তারা মৃত বাঘটা দেখলো। তাদের সে কি আনন্দ, সবাই আমার প্রশংসা করতে লাগলো। আমি তাদের বললাম বাঘটা এখানেই পড়ে থাক কাল সকালে এটার ব্যবস্থা করা যাবে। যারা ছুটে এসেছিলো সে রাতে তারা আমার ঘড়েই কাটালো। সকালবেলা সবাই মরা বাঘর ব্যবস্থা করার জন্য বের হলাম। কিন্তু যা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কোথায় বাঘ! এ যে নিখিল! বাঘটা যেখানে মারা গিয়েছিলো সেখানেই মরে পড়ে আছে নিখিলের গুলিবিদ্ধ লাশ। সবাই তো হতবাক। গ্রামের লোকজন তো মৃত বাঘটাকে নিজের চোখেই দেখেছে কাল রাতে,সবাই একসাথে ভুল দেখতে পারি না। তবে নিখিল এখানে কিভাবে এলো? ভালোভাবে খেয়াল করে দেখলাম নিখিলের ঠোঁটের দুপাশ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে দুটি তীক্ষ্ণ দাঁত! আর সেগুলো রক্তে লাল হয়ে আছে,আর হা করা মুখের ভেতর তাকাতেই দেখলাম দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে লেগে রয়েছে মাংস! --------------------- ---------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আইন জালুত - এক চিতাবাঘের গর্জন
→ জল কন্যা ও মেঘের গর্জন (চঞ্চল বউ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now