বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বিয়ে বাড়াবাড়ি

"মজার অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সালমান ফারসী (০ পয়েন্ট)

X গল্পটি লিখুন আজ সকালে একবন্ধু ফোন দিয়ে বলল," বিয়ে খেতে যাবি?" আমি বললাম,"গরীবের নাকি বড়লোকের?" গরীবের বিয়ে অনেক খেয়েছি, কিন্তু বড়লোকের বিয়ে নামক বিশেষ রিয়েলিটি-শো এ আমার যাওয়া হয় নি। সে বলল," আরে ব্যাটা আমি যাকে প্রাইভেট পড়াই, তার বোনের বিয়ে। চিটাগাং এর অরিজিনাল শীপ ব্যবসায়ী তারা। আমিও তৎক্ষণাত রাজি হয়ে গেলাম। আজ দুপুর আর রাতের মিলটাও বন্ধ করে দিলাম। এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে সু এবং আরেকজনের কাছ থেকে ব্লেজার ধার করে, হালকা প্রসাধনী মেখে রওনা দিলাম। জুমার নামাজ পড়ে বিয়ে বাড়ীর দিকে রওনা হলাম। গিয়ে দেখি বিয়ে বাড়ী কই? এ দেখি কমিউনিটি সেন্টার! তাও আবার ৫ তালায়, নামটাও দেখি গোট গোট ইংরেজি অক্ষরে। মোস্তফা জাব্বার সাহেব এখানে আসলেও দাওয়াত খেত কি না জানি না! শুনলাম ওনি আবার ইংরেজীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করছেন। . যাক, সিঁড়ি বেয়ে ৫তালায় উঠলাম। উঠে দেখি খাবার দাবারের আয়োজন কই? সবদেখি ফটো তোলা নিয়ে ব্যস্ত। আমার এদিকে খিদায় পরাণ যায়। সকালে কি খেয়েছি না খেয়েছি।, স্বভাবতই জুমার নামাজটা পড়ারর পরই আমার খিদা লেগে যায়। আর শুনেছি জুমার পরে সকল নামাজীই নাকি খিদা অনুভব করে। . একটু পরে দেখলাম এরশাদ মার্কা আন্টি এলো। এসেই আমার বন্ধুটির সাথে হালকা কোলাকুলি করল। আমি তো অবাক!! তার কানের দিকে আমার মুখ নিয়ে বললাম," আরে ব্যাটা কি করস? আজ তো ঈদ না!"। সে আমাকে উল্টা গাধা সম্ভোধন করে বলল, " এটাকে 'হাগ' বলে। আমি সামান্য হেসে উঠলাম। নোয়াখালীয় ভাষায় 'হাগ' বলতে যেটা বুঝি, সেটা মনে পড়াতেই হাসি পেল। . এদিকে আমার খিদেয় পেট চো! চো! করছে। একটু পরে বলেই ফেললাম," বন্ধু খিদা লাগছে, একটা ব্যবস্থা কর"। সে আমাকে বলে, " আরে গাধা এটা বড়লোকের বিয়ে," প্রথমে ফটো সেশন হবে, তারপর হালকা ডিজে হবে, এর পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেই বিয়ের মূল পর্ব শুরু হবে। আমার তো মাথায় হাত!! অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম। শত হোক দামী খাবার বলে কথা! . একটু পরে দেখলাম," বর-কণে মঞ্চে আগমন করলেন, তাদের ঘিরে শুরু হলো ফ্লাশ লাইটের ঝলঝলানি। বুঝতে বাকী রইল না," এটা আরেকটা ইভেন্ট। ওমা! একি!! মাইয়া পোলা সবাই দেখি তাদের ঘেষাঘেষি করে ছবি তুলছে। বিশেষ করে বরের দিকে মেয়েরা আর কণের দিকে ছেলেরা। আমিও মজা নিতে থাকলাম। . একটু পরে নতুন ইভেন্ট শুরু হলো, এখন নাকি বর-কণের সাথে তাদের বন্ধু বান্ধরা হালকা শরীল লাড়বেন। আমারও আসরের নামাজের সময় হয়ে গেল। নিছে এসে একটা ৫টাকা দামের রুটি কিনে খেয়ে নামাজে গেলাম। নামাজ পড়ে গিয়ে দেখি তাদের নতুন ইভেন্ট শুরু হলো। এবারের ইভেন্ট টা সম্পূর্ণ ভিন্না। এর আগে এমন চমক আর দেখি নি। সেটা হলো," খাওয়ার ইভেন্ট" যার জন্য আমি ব্যাকুল ছিলাম। কিন্তু ছোটবেলায় দাদার একটা উপদেশ মনে পড়ে গেল। তিনি বলতেন," আসরের পরে খাওয়া, ঘুম, আর পড়া নিষেধ।" উপদেশটি ছোটবেলায় ভালোই মানতাম, কারন,' এতে করে খেলায় সুবিধা পাওয়া যেত, মা পড়া, খাওয়া, কিংবা ঘুমের জন্য বকতেন না। . দাদার উপদেশটি মনে পড়াতেই খাবার খেতে ইচ্ছে করল ন। তাই পকেট থেকে মোবাইল বের করে, ফোন দিলাম," ছোটভাই আমার রাতের মিল টা চালু করে দাও। আমার মনে হয় বড়লোকের খাওয়া আমার পেট সহ্য করতে পারবে না। আমিও বন্ধুটিকে বলে আসলাম, তুই খেয়ে নে, আমি যাচ্ছি।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now