বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চন্দ্রকান্ত (৫ম ও শেষ পর্ব) ।।।
লিখেছেনঃ আরিয়ান শুভ।
.
‘যদি এটা বাস্তব হয়,’ দ্রুত শ্রেষার একটা হাত ধরলাম
আমি, ‘তবে আর কিছুই করার নেই। পালাতে হবে
এখান
থেকে।’
‘তুমি যাও,’ জোড় করে হাতটা ছাড়িয়ে নিলো ও।
‘মানে কি?’ খেঁকিয়ে উঠলাম আমি, ‘মাথা ঠিক আছে
তোমার?’
‘মাথা আমার ঠিকই আছে শুভ,’ খেয়াল করলাম
কাঁপুনিটা বেড়েছে ওর, ‘আমার সারা জীবনের
স্বপ্ন
ছিল চন্দ্রকান্ত উদ্ধার করা। উদ্ধার করেছি। ব্যস,
আর
কি চাই আমার?’
‘দুররর বাল,’ আবার ওর হাত ধরলাম আমি, ‘চলো
আমার
সাথে।’
‘কোথায় যাবো আমি?’ কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে
উঠলো
ও, ‘সুপার মুন দেখতে পাচ্ছো না আকাশে?
জোয়ারের
মাত্রা কতো তা জানো এখন? আমাকে নিয়ে মূল
দ্বীপে যেতে পারবে তুমি?’
‘জানি না,’ দৃঢ়কন্ঠে বললাম আমি, ‘তবে চেষ্টা
করতে
তো দোষ নেই। পারবো কি পারবো না, জানার
উপায়
তো একটাই, তাই না?’
আর কথা না বাড়িয়ে ছুটতে শুরু করলাম আমি।
শ্রেষার
বা হাত আমার ডান হাতে জোড় করে ধরে
রেখেছি
আমি। বলতে গেলে একপ্রকার টেনে
হেঁচড়ে নিয়ে
চলেছি ওকে।
বেশ কিছুক্ষন দৌড়ানোর পর ছেড়াদিয়ার উত্তর
প্রান্তে পৌছলাম আমরা। সাগর যেন ফুসে
উঠেছে
এখানে। স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বড় ঢেউ দেখা
যাচ্ছে। এর মধ্যে কোন পাগলেও সাতার কাটতে
চাইবে না।
কিন্তু আমি পাগলও নই, আবার এই পরিস্থিতিতে
স্বাভাবিকও নই। কোনকিছুর পরোয়া নেই আমার।
কোনকিছুর পরোয়া করলে চলবে না এখন।
বাঁচতে হবে
আগে।
ঢেউগুলো একটার পর একটা এসে আছড়ে
পড়ছে তীরে।
এক ঝলক পেছনে তাকালাম আমি। এগিয়ে আসছে
ওরা।
পূর্ণচাঁদের আলোতে অদ্ভুত লাগছে দেখতে।
স্বাভাবিকের চাইতে হয়তো একটু বেশীই
ভীতিকর।
‘চলো,’ শ্রেষার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি।
‘এখনো সময় আছে,’ কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ও,
‘আমাকে রেখে পালিয়ে যাও।’
‘বেশী কথা বলো না তো,’ জোড় করে
ওকে টানলাম
আমি। ঝাপিয়ে পড়তে হবে সাগরে।
‘শুভ,’ এমনসময় বলে উঠলো ও, ‘চন্দ্রকান্তটা
বের করো।’
‘চন্দ্রকান্ত!’ আবার খেঁকিয়ে উঠলাম আমি, ‘এই
সময়
আবার কেন?’
‘বের করো বলছি,’ মিনতি ঝরে পড়লো ওর
গলায় যেন,
‘প্লিজ।’
‘ওকে,’ ওর হাত ছেড়ে দিয়ে পকেট হাতড়ে
পাথরটা
বের করলাম আমি, ‘এবার?’
‘চাঁদের দিকে ধরো এটাকে,’ ভয়ে সাদা হয়ে
গেছে ওর
চেহারা, তবুও হাসার চেষ্টা করলো ও।
ওর কথামতো পাথরটা উচু করে চাঁদের দিকে
ধরলাম
আমি। অদ্ভুত সুন্দর লাগছে পাথরটাকে। অনেকটা
উজ্বল স্ফটিকের মতো দেখতে পাথরটা, সাদা।
যেন
একটা হীরের টুকরো।
‘এবার আমার সাথে উচ্চারন করো,’ ধীরে
ধীরে
উচ্চারন করলো ও, ‘পিয়েদ্রা দা ভিদা।’
‘মানে কি এর?’ অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম আমি।
‘তোমাকে যা করতে বলছি করো,’ আমাকে তাড়া
দিলো শ্রেষা, ‘জলদি।’
‘ওকে,’ আবার পাথরটার দিকে তাকালাম আমি,
বললাম, ‘পিয়েদ্রা দা ভিদা।’
তারপর ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘হয়েছে? এবার
খুশী
তো?’
‘হ্যাঁ,’ মৃদু হেসে উঠলো মেয়েটা, ‘খুশী আমি।
খুব, খুব
খুশী।’
এমন সময় হঠাত করেই আমার হাতে ধরে রাখা
পাথরটা
যেন আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। আমি অবাক
হয়ে লক্ষ্য
করলাম, পাথরটা থেকে এক প্রকার সাদা আলো
আমার
হাত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সারা শরীরে বয়ে
যাচ্ছে।
দ্রুত আমি পাথরটা হাত থেকে ছেড়ে দিতে
চাইলাম,
কিন্তু কোন এক অজানা কারনে তা আমার হাতের
সাথেই আটকে থাকলো।
‘হচ্ছেটা কি?’ শ্রেষার দিকে তাকিয়ে বললাম আমি,
‘শ্রেষা?’
‘শুভ,’ শান্তভঙ্গিতে বললাম আমি, ‘একটা কথা
অনেকদিন ধরেই তোমাকে বলবো বলে
ভাবছিলাম।
আজকে বলেই দিই। পৃথিবীতে সবসময়
ছেলেরাই
মেয়েদের সামনে হাটু গেড়ে তাদের
ভালোবাসার
কথা বলে। আমিই হয়তো প্রথম, যে তার
উল্টোটা করতে
যাচ্ছি।’
কথাটা বলেই আমার সামনে হাটু গেড়ে বসে
পড়লো ও।
তারপর বললো, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি শুভ।
আর
ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে চন্দ্রকান্তটা তোমার
জন্য আমার উপহার।’
এমনসময় কে যেন হেড়ে গলায় গেয়ে
উঠলো,
The bell has been raised from its watery
grave
Do you hear its sepulchral tone?
A Call to all, pay heed to the squall
And turn your sail towards home!
দ্রুত নড়ে উঠলাম আমি, সেই সাথে শ্রেষার একটা
হাত
জাপটে ধরে ঝাপ দিলাম সাগরে।
.
০৮
.
সূর্যটা নিজের তেজ হারাতে হারাতে পশ্চিমে
হেলে
পড়েছে। আর কিছুক্ষন পরই নেমে আসবে
সন্ধ্যা। তারপর
রাত।
বসে আছি আমি। হাটু গেড়ে বসে আছি আমার
তাবুর
পাশে। হাতে জ্বলছে সিগারেট, চোখে একরাশ
শূন্যতা। তাকিয়ে আছি একরাশ জলরাশির দিকে।
যেখান থেকে উঠে আসে ভয়ানক বিভীষিকা।
একটা বছর কেটে গেছে এর পর। সেই রাতে
আমি
শ্রেষাকে নিয়ে সাগরে ঝাঁপ দিয়েছিলাম ঠিকই,
ওকে নিয়ে সাতড়ে অনেকখানি পাড়িও দিয়েছিলাম,
কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারিনি। বাঁচাতে পারিনি
ওকে। শ্রেষা নামের সেই অদ্ভুত সুন্দর
মেয়েটাকে
বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছি আমি। ফুসফুসে পানি ঢোকার
কারনে মারা গেছে ও।
দ্রুত সাতার কাটার কারনে নিঃশ্বাস নিতে পারছিল
না ও। আর আমি বোকার মতো তবুও ওকে
টেনে নিয়ে
যাচ্ছিলাম মূল দ্বীপের দিকে। মূল দ্বীপের
কাছাকাছি পৌছে বুঝতে পারলাম, মারা গেছে ও।
ও মারা যাওয়ায় কতোটা কষ্ট পেয়েছি আমি বলে
বোঝাতে পারবো না। কেনই বা হঠাত করে
এদেশে
এলো, কেনই বা চন্দ্রকান্ত উদ্ধার করলো, আর
কেনই বা
সেটাকে আমার হাতে দিয়ে নিজেকে সেই
বিভীষিকার হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল, সেটা
আজও
অজানা আমার কাছে।
গত এক বছর ধরে ব্যাপক পড়াশোনা করেছি আমি
চন্দ্রকান্ত আর এই সংক্রান্ত বিষয়ের উপর।
অনেককিছুই জানতে পেরেছি এর ফলে। কিন্তু
এই
প্রশ্নগুলোর জবাব আজো খুঁজে পাইনি আমি।
তবে একটা কথা আছে। অজানা জিনিস বেশীদিন
অজানা থাকে না। এই জিনিসটাও আর অজানা
থাকবে না আমার কাছে। আর মাত্র কয়েকটা ঘন্টা,
তারপরই হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে
যাবো আমি।
পকেটে হাত দিতেই পাথরটার অস্তিত্ব টের
পেলাম
আমি। আকাশের দিকে তাকালাম। সন্ধ্যা হয়ে
আসছে।
আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই সেই মাহেন্দ্রক্ষন
উপস্থিত
হবে।
কারন, আজকের আকাশেও সুপারমুন দেখা
দেবে।
.
সমাপ্ত
[*ভাল লাগলে রেটিং দিন আর খারাপ লাগলে কেন খারাপ লাগছে তা মন্তব্য করুন*]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now