বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চন্দ্রকান্ত (২য় পর্ব)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X চন্দ্রকান্ত (২য় পর্ব) ।। লিখেছেনঃ আরিয়ান শুভ . ০৩ . হাঁপিয়ে উঠেছি আমি। অনেকদূর হাটতে হয়েছে আমাকে। অবশ্য সাথে শ্রেষাও ছিল। ব্যাগপ্যাকদুটো বালির উপর ছুড়ে দিয়ে বালির উপরই শুয়ে পড়লাম আমি। আর কুলাচ্ছে না। আমার দেখাদেখি শ্রেষাও শুয়ে পড়লো। সেন্ট মার্টিনে পৌছতে পৌছতে সকাল আটটা বেজে গেছিল আমাদের। ঘন্টাখানেক এদিক ওদিক ঘুরে একটা হোটেলে খেতে যাই আমরা। তারপর ভাটা পড়েছে কনফার্ম হয়ে আমরা রওনা দিই ছেড়াদিয়ার উদ্দেশ্যে। দু’ঘন্টা একটানা জোড় কদমে হাটার পর অবশেষে পৌছলাম ছেড়াদিয়ায়। ততোক্ষনে আবার জোয়ার আসা শুরু করেছে। ক্লান্তিতে চোখদুটো বন্ধ হয়ে আসছে আমার। শ্রেষাকে বলেছিলাম প্রিন্স হেভেনে রুম বুক করে রাতটা বিশ্রাম নিতে। কিন্তু শুনলো না ও। আজই ওর ছেড়াদিয়ায় আসা চাই। সুপারমুনের এই সৌন্দর্য কিছুতেই নাকি মিস করবে না ও। আর সেই সাথে ডাইভ দেবে সাগরে। এখন বুঝো মজা! ‘শুভ,’ ক্লান্তি জড়ানো গলায় বললো ও, ‘প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে আমার।’ ‘এই রৌদ্রের মধ্যে তো ঘুমানো যাবে না,’ আকাশের দিকে আঙ্গুল তুলি আমি, ‘সূর্যটার অবস্থা দেখেছো? একেবারে পুড়িয়ে দেবে। দশ মিনিটের জন্য না হয় ঠিক আছে, কিন্তু শান্তিতে ঘুমানোর জন্য ঠিক নেই।’ ‘তাবু টানাতে হবে,’ হতাশ সুরে বলে ও। ‘হ্যাঁ,’ সম্মতি জানাই আমি। মাথা নেড়ে অনিচ্ছাসত্বেও উঠে পড়ে ও। নিজের ব্যাগপ্যাকটার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে, ‘উঠো। হাত লাগাও।’ ******* ‘এই,’ যেন বহুদূর থেকে ভেসে আসছে ডাকটা, ‘এই শুভ। উঠো।’ মন নারাজ। কানে কানে উঠতে মানা করছে। বলছে, ঘুমিয়ে থাকো। বাইরে প্রচন্ড রোদ। উঠে কাজ নেই। কিন্তু কানের কাছে একটানা বেজেই চলেছে, ‘এই শুভ, উঠো বলছি।’ অনিচ্ছাসত্বেও উঠে বসলাম আমি। শ্রেষা ডাকছে। ‘কি?’ ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললাম আমি। ‘বিকেল হয়ে গেছে,’ ওর কন্ঠে তাড়া, ‘উঠে পড়ো।’ ‘দুরররর,’ মন খারাপ করে বললাম আমি, ‘আর একটু ঘুমাতে চেয়েছিলাম!’ ‘ঘুম পরে,’ ওর কন্ঠে তাড়া, ‘আগে কিছু খেয়ে নাও।’ এই জন্যই ভ্রমনে মেয়েমানুষ পছন্দ করি না আমি। সব কাজে মাতব্বরি ফলাবে। আগেই বলেছিলাম যে আজকে আসার দরকার নেই। আগের মানুষ ঠিকই বলতো, ‘পথে নারী বিবর্জিতা’। ধীর পায়ে তাবু থেকে বের হলাম আমি। বাইরে সূর্যটা নিজের তেজ হারাচ্ছে ধীরে ধীরে, সেই সাথে পশ্চিমে হেলে পড়েছে। হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকালাম আমি। ছয়টা বাজে! খেতে বসার পর আরেক ঝামেলা! ‘এই তাড়াতাড়ি খাও, সাগরে নামবো,’ ‘এই, মুখ দ্রুত চলে না কেন?’ ‘তুমি তো দেখি খেতে খেতে রাত কাবার করে দেবে,’ একের পর এক চলছেই। অথচ আমি আমার স্বভাবমতো দ্রুতই খাচ্ছি। নাহ, এই মেয়েকে নিয়ে আর পারা গেলো না! খাওয়া শেষ হতেই আবার শুরু করলো ও, ‘এই, সাগরে নামবো।’ ‘এখন?’ মাথা নেড়ে বললাম আমি, ‘ভাটা চলছে তো।’ ‘তো?’ ভ্রু কুঁচকে বললো ও। ‘ভাটার সময় সমুদ্রে নামা বিপদজনক,’ শান্তকন্ঠে বললাম আমি। ‘কিন্তু,’ দ্রুত বলে গেলো ও, ‘জোয়ার আসার আগেই জিনিসটা আমাকে খুঁজে পেতে হবে।’ ‘জিনিস!’ ভ্রু আরো কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম আমি, ‘কি জিনিস?’ আমার প্রশ্ন শুনে যেন কিছুটা থতমত খেলো ও। নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, ‘না না, কিছু না।’ ‘কি জিনিস,’ তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম আমি, ‘জোয়ারের আগে কি জিনিস খুঁজে পেতে হবে তোমাকে? ‘আছে একটা জিনিস,’ বেশ কিছুক্ষন ইতস্তত করার পর বললো ও, ‘তুমি বুঝবে না।’ ‘শুনি তো আগে,’ নাছোড়বান্দার মতো বললাম আমি, ‘তারপর বলতে পারবো বুঝবো কি বুঝবো না। এখানে এমন কি জিনিস খুজছো তুমি?’ বেশ কিছুক্ষন চুপচাপ থাকার পর অবশেষে যেন মনস্থির করে ফেললো ও। মাথা নেড়ে নিজের সাথেই হয়তো বোঝাপড়া করে নিলো। ‘সুর্যপাথর সম্পর্কে কিছু জানো,’ জিজ্ঞেস করলো শ্রেষা, ‘কিংবা চন্দ্রকান্ত?’ ‘না,’ মাথা নেড়ে বললাম আমি, ‘এগুলো আবার কি?’ মুচকি হাসি দেখা গেলো ওর মুখে। বললো, ‘শুনতে চাও? বলছি।’ . ০৪ . ‘ভাইকিংদের নাম শোনা আছে তোমার নিশ্চয়। জনশ্রুতি আছে, ভাইকিং নাবিক ও জলদস্যুদের কাছে থাকত এক বিশেষ ধরনের পাথর, যাকে বলা হতো ‘সূর্যপাথর’, যা দিয়ে মেঘলা দিনে কিংবা রাতেও সূর্যের অবস্থান নির্ণয় করতে পারত তারা। উজ্জ্বল স্ফটিকের মতো, অনেকটা হাতের কব্জির সমান হতো ওগুলো। জনশ্রুতির সেই সূর্যপাথরটি অবশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু আইসল্যান্ডের অলডারনি উপকূলের কাছে ডুবে যাওয়া এলিজাবেথীয় যুগের একটি জাহাজ থেকে ১৫৯২ সালে উদ্ধার করা ‘আইসল্যান্ড স্পার’ নামের একটি খনিজ পাথরের মধ্যে পাওয়া গেছে অবিকল সেই বিস্ময়কর ক্ষমতা। ভাবা হচ্ছে, এটিই হচ্ছে ভাইকিংদের হারানো সেই সূর্যপাথর। স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চলের নাবিকদের ডাকা হতো ভাইকিং নামে। তবে জাহাজি হিসেবে তারা যত না বিখ্যাত, ইতিহাসে তার চেয়েও বেশি কুখ্যাতি অর্জন করেছিল জলদস্যুতার কারণে। খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে ১১ শতক পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ইউরোপের সাগর পারে বসবাস করত তারা। সমুদ্রেও তাদের অভিযাত্রাগুলো হতো উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর। সাগরে দস্যুবৃত্তি করার কারণে মধ্যযুগের পুরো ইউরোপ তাদের ভয়ে তটস্থ থাকত। ইংরেজ, ফরাসি, স্পেনীয় জাহাজ দেখলেই পিছু নিত ওরা। স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে তাদের ছিল দোর্দণ্ড প্রতাপ। এমনকি ইতিহাসে এ-ও বলা আছে, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের উত্তর আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবিষ্কারের আগে ভাইকিং জলদস্যুরাই সেই অঞ্চলটি আবিষ্কার করে সেখানে গোপন ঘাঁটি করেছিল। সাগরের লুটের মাল সেই অঞ্চলের কোথাও লুকিয়ে রাখত তারা। আটলান্টিক মানেই ঝড়ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বিশাল মহাসাগর। এর মধ্যে জেগে আছে বিশাল বিশাল ডুবো পাহাড়, শীতে সেই সাগরের পানি হিম হয়ে আসে। মেঘলা আবহাওয়ায় সূর্যের মুখ দেখা যায় না প্রায় সময়েই। অথচ ভাইকিং জলদস্যুরা সাগরে ছুটত ক্লান্তিহীন। সেটা সম্ভব হতো কী করে? লোকশ্রুতি বলে, সূর্যের অবস্থান শনাক্ত করার মতো বিশেষ পাথর ছিল তাদের। মেঘলা আবহাওয়াই হোক অথবা রাতই হোক, তাদের পাথরে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হতো সূর্যের অবস্থান। ফলে দিক নির্ণয়ে তাদের কখনো ভুল হতো না। বিশেষ পাথরে অদৃশ্য সূর্যের অবস্থান নির্ণয় করে রাতের আঁধারেই তারা চালিয়ে যেত দ্রুতগতির জাহাজ, তা ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা জলদস্যুতা, যে উদ্দেশ্যেই হোক না কেন। ভাইকিংদের লোকগাথা অনুযায়ী, এক অন্ধকার মেঘাচ্ছন্ন রাতে রাজা ওলাফ সিগার্ডের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। এ সময় সিগার্ড রাজার কাছে ওই মুহূর্তে সূর্যের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। রাজা সূর্যপাথরটি বের করে রাতের আকাশে মেলে ধরেন। আকাশের মৃদু আলোতেই ওই পাথরে সূর্যের অবস্থান দিব্যি শনাক্ত করেন তাঁরা। সূর্যের অবস্থান নির্ণয়কারী এই পাথরটির কথা অন্য নাবিকদের শোনা থাকলেও ভাইকিংদের কাছ থেকে সেটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একটু আগেই বলেছি, ১৫৯২ সালে ভাইকিংদের দ্বারা ডুবিয়ে দেওয়া একটি এলিজাবেথীয় যুগের জাহাজ থেকে ঘটনাচক্রে প্রথম উদ্ধার করা সম্ভব হয় ‘আইসল্যান্ড স্পার’ নামের একটি বিশেষ স্বচ্ছ খনিজ পদার্থ। এত দিন এর গুণাগুণ না জানা থাকলেও সম্প্রতি রেনে ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই পাথরটি নিয়ে গবেষণা করে রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যান। গবেষক দলের প্রধান ড. গাই রোপার্স জানান, দিগন্ত রেখায় সূর্য ডুবে যাওয়ার পরেও এই পাথরে কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত সূর্যের অবস্থান চমৎকারভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে আরো গবেষণা চলছে। তাঁরা ধারণা করছেন, এটিই হচ্ছে রূপকথার সেই ‘ভাইকিং স্টোন’ (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now