বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। চন্দ্রকান্ত (১ম পর্ব) ।।
লিখেছেনঃ আরিয়ান শুভ
.
Yo, Ho haul together, hoist the colours high
Heave ho, thieves and beggars, never shall
we die
Yo, Ho haul together, hoist the colours high
Heave ho, thieves and beggars, never shall
we die
The King and his men stole the queen from
her bed
and bound her in her bones
The seas be ours and by the powers
Where we will…we’ll roam
Yo, Ho haul together, hoist the colours high
Heave ho, thieves and beggars, never say we
die
Some men have died and some are alive
And others sail on the sea
With the keys to the cage
And the devil to pay
We lay to Fiddler’s Green!
Yo, Ho haul together, hoist the colours high
Heave ho, thieves and beggars, never shall
we die
The bell has been raised from its watery
grave
Do you hear its sepulchral tone?
A Call to all, pay heed to the squall
And turn your sail towards home!
Yo, Ho haul together, hoist the colours high
Heave ho, thieves and beggars, never shall
we die
.
টেনে টেনে হেড়ে গলায় কারা যেন গাইছে
গানটা।
কাদের গলা এটা, ঠিক ঠাহর করতে পারছি না। মনে
হচ্ছে কোন ঘোরের মধ্যে আছি। একবার
মনে হচ্ছে
গানটা আমার খুবই পরিচিত। আবার মনে হচ্ছে, না,
কখনো শুনিনি এটা।
কে গাইছে এই গান!
.
০১
-‘ছেড়াদিয়া?’
-‘হ্যাঁ। ছেড়াদিয়া বা ছেড়াদ্বীপ।’
-‘নামটা সুন্দর তো। একটু অদ্ভুতও বটে।’
-‘তা বলতে পারো।’
ওপাশে বেশ কিছুক্ষন কোন কিছুর আভাস পেলাম
না।
মেয়েটা অফলাইনেও যায়নি। তাহলে কিছু বলছে না
কেন?
-‘কি হলো? একেবারে চুপ?’
এবার ওপাশ থেকে আভাস পাওয়া গেলো। কিছু
একটা
লিখছে মেয়েটা।
-‘যাচ্ছো কবে?’
-‘নেক্সট উইক। সেমিস্টার ফাইনাল শেষ করেই
দৌড়
দেবো ভাবছি।’
-‘সাথে কে যাবে?’
-‘কে আবার যাবে? আমি একাই যাবো।
বোহেমিয়ান
মানুষ তো। কাউকে লাগে না।’
-‘ভেরি গুড। আসছি আমি। আই এম ইন্টারেষ্টেড
এবাউট
ইট।’
-‘মানে?’
-‘ছুটি পেয়েছি বললাম না! বাংলাদেশে আসছি আমি।
তোমার সাথে ছেড়াদিয়ায় যাবো।’
-‘কিই?’
-‘হ্যাঁ। ফাইনাল এটা। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব টিকেট
যোগার করার চেষ্টা করবো।’
এবার এপাশে আমি চুপ। কি বলবো ভাবছি। এভাবে
মেয়েটা হঠাত ছেড়াদিয়ার ব্যাপারে আগ্রহ
দেখাবে,
বুঝতে পারি নি। ওপাশ থেকে পাঠানো
মেসেজের
শব্দে ফিরে তাকালাম স্ক্রিনের দিকে।
-‘তোমার আবার কি হলো?’
-‘কিছু না। সত্যি তুমি আসছো?’
-‘হুম। আই এম কামিং। একসাথে দুই কাজ করা যাবে।
তোমাকে সামনাসামনি দেখা যাবে, সেই সাথে
ছেড়াদিয়ায়ও যাওয়া যাবে।’
-‘হঠাত ক্ষেপে উঠলে যে?’
-‘ক্ষেপিনি। আগে থেকেই ইচ্ছে ছিল
তোমাদের
ওখানে যাবার। এবার ছুটিটাও আছে। আর, তুমি
যেহেতু
যাচ্ছোই, আমিও সাথে যেতে চাই।’
কিছুক্ষন ইতস্তত করার পর আবার টাইপ করলাম আমি।
-‘কিন্তু তোমার না বাড়ি যাবার কথা?’
-‘বাড়ি তো যাবোই, কিন্তু তার আগে ছেড়াদিয়া।’
-‘সময়ে কুলাবে কিভাবে? মানে, গুজরাট থেকে
বাংলাদেশ, কয়েকদিন এখানে থেকে আবার
কোলকাতা! তাছাড়া ভিসার ব্যাপারটাও আছে।
বুঝতেই পারছো।’
-‘নো টেনশন। প্রবলেম হবে না। ঠিক ম্যানেজ
করে
নেবো।’
-‘আর ইউ শিওর?’
-‘অফকোর্স।’
-‘ওকে। তোমার যদি সমস্যা না হয়, তাহলে আমারও
কোন সমস্যা নেই।’
-‘ওকে। তাহলে আমি তোমার সাথে ছেড়াদিয়া
যাচ্ছি।’
-‘হ্যাঁ, যাচ্ছো।’
-‘ঠিক আছে। এখন আমি যাই। অনেক কাজ বাকি। তুমি
তো নেক্সট শুক্রবারে যাবে, তাই না?’
-‘হ্যাঁ।’
-‘ওকে। আমি তার আগেরদিন বা শুক্রবার সকালে
পৌছনোর চেষ্টা করবো। এখন বাই।’
-‘বাই।’
কিছুক্ষন পরই শ্রেষা নামের পাশের সবুজ বিন্দুটা
অদৃশ্য হয়ে গেলো। অফলাইনে চলে গেছে
ও।
.
০২
‘সেন্ট মারটিনস থেকে ছেড়াদিয়ায় যাওয়ার উপায়
কি?’ আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো শ্রেষা।
‘হাটা ধরতে হবে,’ শান্তকন্ঠে বলে উঠলাম আমি,
‘সোজা উপায়।’
‘মানে?’ অবাক হলো ও, ‘তুমি না বলেছিলে যে
ছেড়াদিয়া আলাদা একটা দ্বীপ? বাংলাদেশের
একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত?’
‘হ্যাঁ,’ মাথা নেড়ে বললাম আমি, ‘তবে হেটে
হেটেই
ছেড়াদিয়ায় যাওয়া যায়। অবশ্যই সেটা ভাটার সময়।
জোয়ার এলে ট্রলারে যেতে হবে। ঐ পাশ
থেকে
ট্রলার পাওয়া যায়।’
জেটির দিকে আঙ্গুল তুলে দেখালাম আমি। আগ্রহ
নিয়ে ঐদিকে তাকালো মেয়েটা।
গত শুক্রবার, মানে ৮ই আগস্ট সন্ধ্যায় হযরত
শাহজালাল
আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে পৌচেছে ও। সেদিন
রাতেই ওকে নিয়ে যাত্রা করি আমি চট্টগ্রামের
উদ্দেশ্যে। শনিবার, মানে গতকাল সকালে আমরা
পৌচেছি কক্সবাজার। সেখানে কিছুক্ষন বিশ্রাম
নিয়ে দুপুরের দিকে টেকনাফ রওনা দিই আমরা।
রাতটা কোনমতে কাটিয়ে ভোরে ট্রলারে উঠে
বসি।
অবশেষে এই মাত্র এসে পৌছলাম সেন্ট
মারটিনসে।
শ্রেষার দিকে তাকালাম আমি। শ্রেষা সেন, আমার
ফেসবুক ফ্রেন্ড। অপূর্ব সুন্দর এবং আশ্চর্য এক
মেয়ে।
শ্রেষার বাড়ি কোলকাতার দক্ষিণ দমদমের ক্ষুদিরাম
বোস রোডে। কোলকাতাতে বাড়ি হলেও ও
পড়াশোনা
করছে গুজরাটের বারোদায় অবস্থিত মহারাজা
শিবাজী রাও ইউনিভার্সিটিতে। ডিপার্টমেন্ট অফ
আর্কিওলজি এন্ড এনসিয়েন্ট হিস্ট্রিতে।
কোলকাতাতে এতো নামীদামী কলেজ ভার্সিটি
থাকতেও পড়ে আছে গিয়ে গুজরাটের মতো
এক
জায়গায়।
‘আচ্ছা,’ ওর কথায় ওর দিকে ফিরে তাকালাম আমি,
‘এখানে নাকি অনেক প্রবাল পাওয়া যায়?’
‘হ্যাঁ,’ মাথা নাড়লাম আমি, ‘পাওয়া যায়।’
‘গুড,’ হেসে উঠে মেয়েটা।
বেশ কিছুক্ষন হাটার পর আবার বলে ও, ‘আচ্ছা, তুমি
কি আজকেই ছেড়াদিয়ায় যাবে?’
‘নাহ,’ ওর দিকে তাকিয়ে জবাব দিলাম আমি, ‘একা
হলে যেতাম। কিন্তু তুমি সাথে, তাই আজকে
যাবো
না।’
‘কেন?’ কিছুটা অবাক, আর কিছুটা হতাশার সাথে
জিজ্ঞেস করলো ও, ‘আমি আবার কি করলাম?’
‘কারন,’ ব্যাখ্যা করলাম আমি, ‘ছেড়াদিয়ায় কোন
হোটেল নেই। আর তাছাড়া, ওখানে মানুষও থাকে
না।
জোয়ারের সময় ছেড়াদিয়া মূল দ্বীপ থেকে
বিচ্ছিন্ন
হয়ে পড়ে। আর তার উপর আজকে পূর্ণিমা। যেই
সেই
পূর্ণিমা নয়, আজকের আকাশে থাকবে সুপার মুন।
অন্যদিনের তুলনায় চাঁদকে আজ দেখা যাবে ১৪
শতাংশ বড় ও ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল।’
‘তাই নাকি?’ চোখ দুটো গোল গোল করে
বললো ও।
‘হ্যাঁ,’ মৃদু হেসে জবাব দিলাম আমি, ‘আজকে
পৃথিবীর
খুব কাছাকাছি আসবে চাঁদ। উপবৃত্তাকার কক্ষপথে
পৃথিবী থেকে চাঁদের এ নিকটতম অবস্থানকে
বলা হয়
অনুভূ (পেরিজি)। পৃথিবী থেকে চাঁদের গড়
দূরত্ব তিন
লাখ ৮৪ হাজার ৪০২ কিলোমিটার। আর আজকে
রাতে
এই দূরত্ব কমে হবে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৯৯১
কিলোমিটার। আগামী বছরের আগস্ট মাসের
আগে আর
পৃথিবীর এতটা কাছাকাছি আসবে না চাঁদ।’
‘ওয়াও,’ খুশীতে যেন নেচে উঠলো ও, ‘এই
সুযোগ আমি
মিস করতে পারবো না। আমি ছেড়াদিয়ায় গিয়ে এই
দৃশ্য দেখবো।’
‘উহু,’ মাথা নেড়ে বললাম আমি, ‘তা হবে না। আমি
একা হলে কোন সমস্যা ছিল না। আমার জন্য চিন্তা
করার কেউ নেই। কিন্তু তোমাকে নিয়ে এই
রিস্ক আমি
নিতে পারবো না।’
‘রিস্ক?’ আবার কালো হয়ে গেলো ওর চেহারা,
‘কিসের রিস্ক?’
‘আছে,’ ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করলাম আমি, ‘স্বাভাবিক
জোয়ারের সময় সেন্ট মারটিনস থেকে
ছেড়াদিয়া
একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হেটে কেন,
বিপদ হলে
সাতরেও মূল দ্বীপে ফেরা যাবে না। আর
পূর্ণিমার
সময় পানি আরো বেড়ে যায়। আজকে আবার
সুপার মুন।
স্বাভাবিক পূর্ণিমার সময় যে চাঁদ দেখা যায়, তার
চেয়ে ১৪ শতাংশ বড় দেখা যাবে আজকের চাঁদ।
তাহলে জোয়ারের পরিমান কতোটা বাড়বে, তুমি
নিজেই ভেবে দেখো। যখন তখন বিপদ হতে
পারে।’
‘কিন্তু,’ শুকনো মুখে বললো ও, ‘তুমি তো এর
মধ্যেই
যেতে চেয়েছিলে!’
‘হ্যাঁ,’ শান্তকন্ঠে বললাম আমি, ‘চেয়েছিলাম। কিন্তু
সেটা আলাদা ছিল, এটা আলাদা। আমি একা থাকলে
কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি এই দেশে নতুন,
আমার
দেশের মেহমান তুমি। তোমার কোন বিপদ
হোক, তা
আমি চাই না।’
‘কচু হবে,’ মুখ ঝামটা দিয়ে বললো ও, ‘কিচ্ছু
হবে না
আমার। আমি যাবোই।’
‘শ্রেষা,’ ওর মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়ালাম আমি,
‘বোঝার
চেষ্টা করো। আমরা এখানে আরো দুদিন আছি।
সময়
তো আছেই। আমরা কাল যেতে পারি।’
‘না,’ নিজের জেদ বজায় রেখে বললো ও,
‘আমি
আজকেই যাবো। ছেড়াদিয়ায় সুপারমুন দেখা আমি
মিস করতে পারি না।’
‘মাথা খারাপ তোমার,’ মাথা নেড়ে বললাম আমি।
‘জানি,’ মুচকি হেসে বললো মেয়েটা।
আরো আধঘন্টা ধরে বোঝানোর পরও টলানো
গেলো
না ওকে। অবশেষে বাধ্য হয়ে আমি রাজি হলাম
ছেড়াদিয়ায় যেতে। তবে তার আগে খাবারটা
সেরে
নিয়েছি এবং দোকান থেকে কিছু প্রয়োজনীয়
জিনিসও কিনে নিয়েছি।
(চলবে)
রেটিং দিয়ে আমার দেয়ে গল্পের সাথেই থাকুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now