বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অর্পির মা মেয়েকে এই অবস্থায় বিয়ে কিভাবে দিবেন?? তিনি না করে দিলেন। বৃত্ত এটা মেনে নিতে পারলো না । মায়ের কাছে কর জোড়ে মিনতি শুরু করলে মা নিজেই অর্পির মায়ের কাছে দেখা করার জন্য রওনা হলেন।
বৃত্ত এখন খুব খুশি। অমিকে জানালো এই সংবাদ। অমি Best of luck বলে ফোন রেখে দিল।
অর্পির বাড়ীতে বৃত্তের মা উপস্থিত।
অর্পির মায়ের সামনে বসে আছেন।
প্রস্তাব দিলেন অর্পিকে নিজের পুত্রবধু নেওয়ার । এবারও অর্পির মা না করে দিলেন। বৃত্তের মা অনেক রিকোয়েস্ট করে রাজি করে নিলেন অর্পির মাকে! কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে অর্পির মতামত।
এতটুকু কথাবার্তা শেষ করে চলে আসলেন বৃত্তের মা। অর্পির মা ধীরে ধীরে অর্পির রুমের দিকে যাচ্ছেন। দাঁড়ালেন দরজার সামনে। সাহস পাচ্ছেন না ভেতরে যাওয়ার ।
এমন ট্রাজেডিময় সময়ের মধ্যে দিয়ে সময় পার করছে মেয়েটি। তার ওপর এই প্রস্তাব দিলে কি ভাববে?
দরজায় কলিং বেল বাজালেন। দরজা খুলল অর্পি । মেয়েটি কেমন হয়ে গেল এই কয়েকদিনে। চোখের চারপাশ একদম কালো হয়ে গেছে । দরজা খুলে অর্পি মাকে বলল, কোনো দরকার?
হ্যা, একটা কথা বলতে চাইছিলাম।
বল কি বলবে (অর্পি)
আসলে আমার কথাটা বলা ঠিক হচ্ছে কিনা বুঝতে পারছিনা। তাই একটু ভয় পাচ্ছি কথাটা বলতে!
মা বলোতো, কোনো সমস্যা নাই (অর্পি)
তুইতো অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে আছিস। তাই আমি চাইছিলাম তোর বিয়ে দিতে! যাতে এই পরিণতি থেকে মুক্তি পেতে পারিস ।
অর্পির মুখটা একদম কালো হয়ে আসলো । তারপরও মাকে বলল,
মা তুমি কি মনে কর? আমি বিয়ে করলে এসব ভুলে যাব, না মা! কখনই পারবোনা।(অর্পি)
মা রে ভেবে দেখ। আর ছেলেটাও ভালো। সুহানের বন্ধু বৃত্ত। আমার মনে হয় তুই ওকে বিয়ে করলে সুহানের স্মৃতি ভুলতে সমস্যা হবে না।
মা তুমি এখন যাওতো... আমায় বিশ্রাম নিতে দাও । আমার দ্বারা বিয়ে করা সম্ভব না।
অর্পির মা বুঝতে পারলেন মেয়ের মোড আরো খারাপ হয়ে গেছে । তিনি চলে আসলেন।
অর্পির মন আবার খারাপ হয়ে গেল। নিজেকে ফিরে পেতে চলে গেল ছাঁদে।
ছাঁদে বসে চাঁদ দেখছে আর চোখের পানিতে নিজেকে আবদ্ধ করছে।
ফোন আসছে মোবাইলে । অচেনা নাম্বার!
ফোন ধরার ইচ্ছা নাই তবুও ফোন ধরল।
প্রায় পাঁচ মিনিটের কথা বলল।
ফোন রেখে ধপাস করে বসে পড়লো। একি শুনলো সে! নিজেকে এখনই শেষ করে দিতে চাইছে! ছাঁদের কিনারে উঠে পড়ল। লাফ দিতে যাবে তখনই নেমে আসলো। সিদ্ধান্ত চেঞ্জ! এখন বিয়ে করবে সে! ছাঁদ থেকে নেমে মায়ের কাছে গিয়ে বলল,
বিয়েতে সে রাজি!
মা অনেক খুশি । অর্পি চলে গেল তার রুমে। অর্পির মা ফোন দিলেন বৃত্তের মাকে।
অর্পি বিয়ে করতে রাজি হয়েছে।
বৃত্তের মা ফোন রেখে দিয়ে অর্পি বিয়েতে রাজি এই খবরটি জানালেন বৃত্তকে! বৃত্ত তো মহাখুশি । জোরে সাউন্ড দিয়ে গান বাজানো শুরু করলো। অর্পি বিয়েতে রাজি!! ইয়াহু এটাতো বিশ্বাসের অযোগ্য।
অর্পি রাজি এটা কিভাবে সম্ভব??
ধুর কি ভাবছি এসব? রাজি হইছে আর কি লাগে।
মাকে গিয়ে বলল, তাড়াতাড়ী যেন বিয়েটা হয়!
মা নির্লজ্জ ছেলের কান্ড দেখে কি আর করবেন, অর্পির মায়ের কাছ থেকে সামনে শুক্রবার বিয়ের তারিখ ঠিক করলেন!
আর মাত্র ৫ দিন!
এদিকে সুহানের বাড়ীর অবস্থা বেহাল। সুহানের মা, পুত্র আর স্বামী শোকে পুরো পাগল! এখন গ্রামের এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন! ছোট বাবুনিটা বাবা আর ভাইকে হারিয়ে একদম অসহায়। চাচার কাছে কিন্তু সারাক্ষণ বাবা, বাবা আর ভাইয়া ভাইয়া বলে কাঁদতেছে।
আজ শুক্রবার। আর কিছুক্ষণ পর বৃত্তের বিয়ে! অর্পিকে সাজানো হয়েছে পরীর মত! বৃত্তের সামনে এনে বসানো হলো অর্পিকে!
অর্পির চেহারা দেখে বৃত্ত তো পুরাই মুগ্ধ!
বিয়ে পড়াতে এতো দেরি হচ্ছে কেনো?
রাত ৮ টা।
কাজী সাহেব ইতিমধ্যেই বিয়ে পড়ানো শেষ করলেন। অর্পিকে নিয়ে গাড়ীতে তোলা হলো। বৃত্ত পাশে বসা । অর্পির তাকাচ্ছে আর নিজেকে স্বপ্নাদ্য ব্যাক্তি মনে হচ্ছে।
অর্পি আজ তার বউ! এটা সে বিশ্বাসই করতে পারছেনা।
বৃত্তের বাসায় এসে থামলো গাড়ী। নামানো হলো নতুন পুত্রবধূকে। সবারই মুখে হাসির ঢল।
রাত বারোটা।
অর্পি এখন বাসরঘরে!
ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। বৃত্ত ধীরে ধীরে বাসর ঘরে প্রবেশ করছে । অর্পি এসে পায়ে ধরে সালাম করলো।
বৃত্ত হাত ধরে দাঁড় করালো অর্পিকে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now