বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দাদুবাড়ি

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আলি এরশাদ(guest) (০ পয়েন্ট)

X ( পরিত্যক্ত দাদুবাড়ি ) --- ||Ali Ershad || ---- পর্ব -- ১ ----- পুরান ঢাকার সরু গলি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একটি সাদা ৯০ মডেলের প্রাইভেটকার আর তার পিছনে মাল বোঝাই পিকাপ। বেশ কিছু নতুন পুরাতন আবার কিছু জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি পেরিয়ে এগিয়ে চলছে... এসব ঘরবাড়ি দেখে মনটা কেমন দমে গেলো আমার। ছোটবেলা থেকে অভিজাত গুলশানে বড় হয়েছি, এদিকটায় কোনদিন আসা হয়নি। শুধু মায়ের মুখেই শুনেছি যে পুরাণ ঢাকায় আমার দাদুর বাড়ি। তবে বাড়িটি আমার জন্মের পর থেকেই নাকি পরিত্যক্ত। বাবা কোনদিন এখানে আমাদের আনেননি, এমনকি কোনদিন দাদু বাড়ির গল্প পর্যন্ত করেননি। আমার বাবা খুব উচ্ছল প্রাণবন্ত মানুষ কিন্তু দাদু বাড়ি প্রসঙ্গে কথা উঠলেই তিনি গম্ভীর হয়ে যান। এমনকি আমাদের মাঝ থেকে উঠে যান। মনে একটু খটকা লাগলেও ওটা নিয়ে তেমন মাথা ঘামাইনি কখনো। ভেবেছিলাম হয়তো কোনদিনও আমাদের দাদুবাড়ি দেখা হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে বাবার অফিসে কি একটা ঝামেলায় বাবাকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সাসপেন্ড করায় গুলশানে জীবন যাপনে কিছুটা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আর তাইতো ভাড়া বাড়ি ছেড়ে বাধ্য হয়ে বাবা আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন দাদুর পরিত্যক্ত বাড়িতে। প্রথমে অবশ্য বাবা একদম রাজি ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন , কি দরকার পুরানো জঞ্জাল এর ভিতরে গিয়ে থাকার ওর থেকে অন্যকোথাও কম ভাড়ায় বাসা পাই কিনা দেখি। কিন্তু মায়ের জিদ এখানেই আসবেন। নিজেদের বাড়ি থাকতে কেন ভাড়া বাড়ি উঠতে হবে। - ব্রেক কষায় ভাবনায় ছেদ পড়লো, চেয়ে দেখলাম যেখানে গাড়ি থেমেছে তার বামে লোহার বেশ বড় দু'পাল্লার একটি জং ধরা গেট তাতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে লতা পাতা, পরগাছা , যেন ওদের রাজত্ব । আর ডানে একটি তিনতলা ভবন যার নিচতলায় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে জনা তিন চার লোক অবাক দৃষ্টিতে আমাদের দিকে চেয়ে আছে। বাবা আগে নেমে গিয়ে গেটের তালা খুলার চেষ্টা করতে লাগলেন কিন্তু জং ধরা তালা খুলতেই পারছিলেন না। এমন সময় পিকাপ এর হেল্পার তাদের গাড়ি থেকে গ্রিজ নিয়ে তালায় লাগাতেই কিছুক্ষণের চেষ্টায় খুলে গেল। আমরা গাড়িসহ ভেতরে প্রবেশ করলাম। গাড়ি থেকে নেমেই বাড়িটাতে চোখ বুলাতে লাগলাম। দোতলা বাড়ি, যত্নের অভাবে দেয়ালে শ্যাওলা পড়ে গেছে, বোঝার উপায় নেই সর্বশেষ এর গায়ে কি রং চড়ানো হয়েছিল। দোতলার জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে, জানালার কাঠের পাল্লাগুলিও বেরঙ হয়ে গেছে। দোতলায় উঠার সিঁড়িটা বাড়ির সামনেই এক কর্ণার দিয়ে উঠে গেছে। একনজরেই বুঝা যায় বেশ পুরাতন আমলের বাড়ি। এবার নজর দিলাম বাড়ির চারপাশটাতে, সামনে এককালে হয়ত বাগান জাতীয় কিছু ছিলো কিন্তু এখন কালের বিবর্তনে আর পরিচর্যার অভাবে জায়গায় জায়গায় ঝোপঝাড় আর আগাছায় ভরে গেছে কিছু কিছু গাছপালা মরে গিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। বাড়িটির চারপাশেই বেশ প্রশস্থ জায়গা, মাঝবরাবর দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটি। বাউন্ডারিও আগাছা আর শ্যাওলায় ভরে গেছে। সব মিলিয়ে আদর্শ একটি ভুতুরে ফিল্মের লোকেশন এতে কোন সন্দেহ নেই। এখানে ভৌতিক ফিল্ম বানালে নির্ঘাত বাণিজ্যিক সফল হতো। তীক্ষ্ণ চিৎকারে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটলো , উপরে তাকাতেই দেখতে পেলাম মা দু' হাত অনবরত নাড়িয়ে চিৎকার করছেন। আমরা সবাই ছুটে উপরে গেলাম, মা হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে হড়বড়িয়ে যা বললেন তার সারমর্ম হল , বাবা মাকে চাবি দিয়ে পাঠিয়েছিলেন ঘরের দরজা খুলতে আর মা দরজা খুলতেই ভ্যাবসা গন্ধ আর ঘরের যত্রতত্র মাকড়শারজাল আর আস্তর আস্তর ধুলাবালি দেখে ভয়ে আতঙ্কে চিৎকার করেন এই ভেবে কে করবে এসব পরিস্কার ! সব শুনে হাসবো না পরিস্কারের ভয়ে কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। টানা তিন ঘন্টা মা, বাবা, আমি, শিশির ( একমাত্র ছোট ভাই) আর পিকাপের দুই হেল্পার মিলে ঘরদোর কোনরকমভাবে থাকার উপযোগী করে তুললাম। বাবা হোটেলে গেলেন খাবারে খোঁজে আর আমরা দুই ভাইবোন নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যার যার ঘরে চলে এলাম। আমি আর শিশির উত্তরের দিকের রুম দুটি বেছে নিলাম আর দক্ষিণে বাবা মার ঘর। নিচতলা টা সম্পূর্ণ খালিই থাকলো। শিশির অবশ্য বাবাকে বলেছিলো নিচতলা টা পরিস্কার করে বন্ধু বান্ধব নিয়ে মাঝে মাঝে আড্ডা দিবে, একথা শুনতেই বাবার মুখের সমস্ত রক্ত সরে গিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিলো। বাবা সঙ্গে সঙ্গে কড়া গলায় বলেছিলেন নিচতলায় কেউ যাবেনা কখনওই না। কারন জানতে চাইলে কিছু না বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। -- সারাদিনের হাড় ভাঙা পরিশ্রমে সেদিন সকাল সকালই সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো শিশিরের ডাকে। আপি চল তোকে একটা জিনিস দেখাবো, ওর চোখে মুখে যেন কৌতুহল উপচে পড়ছে। আমাকে এক প্রকার টেনে জানালার ধারে নিয়ে এলো। নিচের দিকে আঙুল দিয়ে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করতে লাগলো। বেশ কিছুক্ষণ চোখ বুলিয়ে আমার চোখে ধরা পড়লো , সূর্যের আলো পড়ায় কিছু একটা চিকচিক করছে তাও বেশ উজ্জ্বল ভাবেই। সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে এলাম দু'ভাইবোন। কিন্তু নিচে এসে অবাক হলাম, জিনিসটা আর দেখা যাচ্ছে না। চোখের ভুল ভেবে দুজনে উপরে উঠে এলাম। সেদিনটাও বেশ ব্যস্ততায় দিন কাটলো সবার। পরদিন আবারো ঘুম ভাঙলো শিশিরের ডাকে, ওর দিকে বিরক্ত ভরা চোখে তাকালাম আজও সেই দৃষ্টি! অবাক হলাম উঠে গিয়ে দেখি সেই একই জায়গায় কি যেন চিকচিক করছে। নিচে গেলাম কিন্তু আবারো হতাশ হলাম এমন কিছুই নজরে এলো না যা থেকে কোন আলোর দ্যুতি বের হতে পারে। ফিরে এলাম, যথারীতি দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম, কলেজ, পড়া, মায়ের সাথে টুকটাক কাজ ইত্যাদি। পরদিন আমিই আগে আগে ঘুম থেকে উঠলাম। কৌতুহল বশত জানালা খুলে উকি দিলাম বাড়ির পেছনের ফাকা জায়গাটায়। চমকে উঠলাম, কি আশ্চর্য ! আজও চিকচিক করছে কেমন রুপালি দ্যুতি ছড়াচ্ছে তাও বেশ জোড়ালো ভাবে। সিদ্ধান্ত নিলাম আজ শিশির কে নিয়ে জায়গাটা খুঁড়ে দেখবো কি আছে ওখানে আর কেনই বা উপর থেকে দেখা যায়, নিচে গেলে বেমালুম গায়েব!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দাদুবাড়ি (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now