বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মহাবিপদ

"মজার অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Suborna Akhter Zhumur (০ পয়েন্ট)

X আকরাম সাহেব একজন মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবী। তার জীবনের একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে তাকে কেউ মূল্যায়ন করেনা। পাড়াপড়শি, অফিস কলিগরা এমনকি নিজের স্ত্রী, একমাত্র ছেলের কাছেও তিনি একজন মূল্যহীন ব্যক্তি। তার স্ত্রী আর ছেলের কাছে তার মতামতের কোনো গুরুত্বই নেই। এইতো গতকাল স্ত্রী আর ছেলে কি একটা বিষয়ে আলোচনা করছিল। তিনি যেচে তাদের আলোচনায় যোগ দিতে গেলেই স্ত্রী বলে উঠলো, "আহ! দেখছো তো একটা সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলছি ডিস্টার্ব কোরোনা।" স্ত্রীর কথা শুনে আকরাম সাহেব মনেমনে ভাবলেন, "আমিতো কোনো আনসিরিয়াস কিছুই বলিনি। কেন যে এরা আমাকে এতো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বুঝতে পারিনা।" আরেকদিন অফিসে যাওয়ার পথে তিনি দেখলেন তার অফিসের একজন কলিগ ভাড়া নিয়ে সিএনজিওয়ালার সাথে বারগেডিং করছে। সিএনজিওয়ালা ন্যায্য ভাড়ার তুলনায় বেশি চাচ্ছে। আকরাম সাহেব বেশ ভাব নিয়ে কলিগকে বললেন যে ব্যাপারটা তিনি হ্যান্ডেল করবেন। এরপর সিএনজিওয়ালা ছেলেটাকে ধমকে বললেন, "এই বয়সেই মানুষ ঠকানো শুরু করে দিয়েছো? মগেরমুল্লুক পেয়েছো? তুমি যা বলবে সেটাই মেনে নিতে হবে নাকি?" ছেলেটা তাকে বলে উঠলো, "যাওয়ার হলে এই ভাড়ায় যাবেন, নাহলে যাবেন না। বেশি ঝামেলা করলে এর ফল ভালো হবেনা বলে দিচ্ছি।" ছেলেটার কথা শুনে তিনি বেশ দমে গেলেন। সামান্য সিএনজিওয়ালার কাছেও তার কথার কোনো মূল্য নেই, এটা ভেবে তার নিজেকে নিজের কাছে খুব ছোট মনে হল। অন্যদিকে, অফিসে পৌছে সেই কলিগ বললেন, "যেকাজটা পারবেন না আগ বাড়িয়ে কেন সেটা করতে গেলেন? আপনার জন্য আমাকেও অপমানিত হতে হলো।" কথাটা শুনে আকরাম সাহেবের মনটা খারাপ হয়ে গেল। আরেকদিন তার আরেকজন কলিগ আফজাল সাহেব আকরাম সাহেবকে তার মেয়ের হবুস্বামীর ছবি দেখালো, মাস খানেকের মধ্যেই বিয়ে হবে। ছবির ছেলেটাকে দেখে আকরাম সাহেবের পছন্দ হলোনা। তিনি কোনোকিছু না ভেবেই বললেন, "ছেলেটাকে বেশি সুবিধার মনে হচ্ছে না অন্যকোনো ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিলে ভালো হতো।" তার কথা শুনে আফজাল সাহেব তার উপর ভীষন বিরক্ত হয়ে তাকে বেশকিছু কঠিন অপমানজনক কথা শুনিয়ে দিলেন। মাস খানেক পরে একদিন অফিসে যাওয়া মাত্রই আফজাল সাহেব এগিয়ে এসে আকরাম সাহেবের হাত ধরে বললেন, "ভাই, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমি আপনাকে ভুল বুঝেছিলাম। আমি বুঝতেই পারিনি যে, আপনি ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন।" আকরাম সাহেব বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "আমি আবার কখন কার ভবিষ্যৎ বলে দিয়েছি?" আফজাল সাহেব বললেন, "আপনি যে সেইদিন বলেছিলেন, যে ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছি ছেলেটা সুবিধার নয়। আপনার কথাই সত্যি। গতকাল ছেলেটাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে চোরাকারবারির সাথে যুক্ত থাকার জন্য। ভাবুন তো বিয়ের পর ঘটনাটা প্রকাশ পেলে মেয়েটার কতো বড় সর্বনাশ হয়ে যেত! অথচ আমি এই ছেলেটার হয়ে আপনাকে সেদিন যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করেছিলাম। এখন আপনি আমাকে ক্ষমা না করলে আমি কিছুতেই শান্তি পাবোনা।" আকরাম সাহেব বেশ বিনম্রভাবে বললেন, "আপনি এতো ব্যস্ত হবেন না। আমি সেদিন কিছুই মনে করিনি।" এভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে তার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় তিনি বেশ খুশি হলেন। আসলে সেদিন তিনি কোনো কিছু না ভেবেই আন্দাজে কথাগুলো বলেছিলেন। কারণ ছেলেটার চোখদুটো তার কাছে কেমন যেন তীক্ষ্ণ আর চেহারাটা নেশাখোরদের মতো মনে হয়েছিল। আর ঝড়ে বক মরায় যেমন ফকিরের কেরামতি জাহির হয়, তার ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। পরদিন সকালে ছেলেকে বাইক নিয়ে কলেজে যেতে দেখে তিনি বললেন, "দিনকাল ভালোনা। কলেজে এসব বাইক নিয়ে না যাওয়াই ভালো। কখন কি হয়ে যায় কে জানে!" স্ত্রীও তার সংে একমত হয়ে ছেলেকে বাইক নিয়ে যেতে বারন করলেন। বাসায় ফেরার সাথে সাথেই আকরাম সাহেবের ছেলে তার পায়ে পড়ে বললো, " বাবা, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি আর কক্ষনো তোমার অবাধ্য হবোনা, তুমি যা বলবে তাই মেনে চলবো।" ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি হতভম্ব হয়ে ভাবতে লাগলেন, "সূর্য কি আজকে উল্টো দিকে উঠেছে? নাকি কোনো কারণে ছেলের মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে।" ছেলের কাছে আকরাম সাহেব জানতে চাইলেন কি হয়েছে? আর কেন সে এভাবে পা ধরে বসে আছে? উত্তরে ছেলে বললো, "কলেজ থেকে আজকে দুজনের বাইক চুরি হয়েছে। তুমি নিষেধ না করলে তো আমিও আমার বাইকটা নিয়ে যেতাম। আর এতক্ষণে হয়তো আমার সখের বাইকটাও চুরি হয়ে যেতো। বিশ্বাস করো বাবা, আমি যদি আগেই তোমার এই অলৌকিক ক্ষমতার ব্যাপারে জানতাম তাহলে কখনোই তোমার অবাধ্য হতাম না।" ছেলে যখন কথাগুলো বলছিলো স্ত্রী তখন দূরে দাড়িয়ে সবই শুনতে পেয়েছে, এরপর থেকে স্ত্রীও তাকে সমঝে চলে। হঠাৎ করেই সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠাটা আকরাম সাহেব বেশ উপভোগ করছেন। তার স্ত্রী এবং ছেলে এখন তার কথার বাইরে কিছুই করেনা। খুঁটিনাটি সব বিষয়েই তার মতামত শিরোধার্য। কিন্তু এরপরে যা ঘটতে শুরু করলো, তাতে তার মনের শান্তি আর চোখের ঘুম দুটোই পালিয়েছে। কারণ আকরাম সাহেবের স্ত্রী প্রতিবেশীদের ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলে বেড়িয়েছেন যে, তার স্বামী ভবিষ্যৎদ্রষ্টা, তিনি সবকিছু আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারেন। তারপর থেকেই তার বাড়ির সামনে লোকজনের উপচে পড়া ভীড়, সবাই ভেবে নিয়েছে আকরাম সাহেব অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যা বলছেন সবই সত্যি হয়ে যাচ্ছে। তাই সবাই আসে নিজেদের ভবিষ্যৎ জানতে। দিন নেই, রাত নেই মানুষের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে তার প্রাণ ওষ্ঠাগত। শান্তিতে খাওয়ার বা ঘুমানোর সময়টুকুও তিনি পাচ্ছেন না। এখন তার মনে হচ্ছে গুরুত্বহীন হয়ে থাকাটাই বেশ ভালো ছিল। উপায়ন্তর না পেয়ে সমস্যার সমাধানে তিনি গেলেন এক পীরবাবার কাছে। লোকমুখে তিনি শুনেছেন যে এই বাবা সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তিনি সেখানে গিয়ে সেই বাবার পায়ে পড়ে বললেন, "বাবা, দয়া করুন আমায়। কিছু একটা করুন যাতে সবার কাছে আমি গুরুত্বহীন হয়ে যাই, আমার কথায় যাতে কেউ ভ্রুক্ষেপ না করে।" পীরবাবা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তুই এরকমটা কেন চাইছিস? সবাই সবসময় চায় সবার কাছ থেকে বেশি করে গুরুত্ব পেতে, কিন্তু তুইতো উল্টোটা চাইছিস।" আকরাম সাহেব বাবাকে সবকিছু খুলে বললেন। আর বলা শেষ করা মাত্রই পীরবাবা তার হাত শক্ত করে চেপে ধরে বললেন, "তোকে তো ছেড়ে দেয়া যাবেনা। আগের মতো আমার কথা সত্যি হয়না বলে আমার ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে, লোকজন আমার কাছে তেমন একটা আসেনা। তাই তোকে আমি রেখে দেবো আমার পার্মানেন্ট সেক্রেটারি করে। তুই লোকজনের ভাগ্য বলে দিবি, আমার ব্যবসাও ভালো হবে।" পীরবাবার কাছ থেকে একদিন পর কোনোরকমে পালিয়ে এসে আকরাম সাহেব ভাবতে লাগলেন যে, যা করার নিজেকেই করতে হবে। যেহেতু, তার কথার জন্যেই এতকিছু ঘটছে তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে এখন থেকে তিনি পুরোপুরি বোবা সেজে থাকবেন। কিন্তু এতকিছু করার পরেও শেষ রক্ষা হলোনা। কমার বদলে সমস্যা আরো বেড়ে গেল। সবাই ভাবলো এই একদিন আকরাম সাহেব কোথাও ধ্যানমগ্ন অবস্থায় ছিলেন। আর ধ্যানমগ্ন থাকায় তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে তিনি বোবা হয়ে গেছেন। এরপর থেকে সবাই তাকে বোবা বাবা বলে ডাকতে শুরু করলো। দিনদিন বোবা বাবার ক্ষমতার কথা চারদিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে। সবাই হা পিত্যেস করে বসে অপেক্ষা করে বোবা বাবার কাছ থেকে যেকোনো ইশারা পাওয়ার জন্য। ইশারা না পেলে তারা বোবা বাবার পা ধরে বসে থাকে। বাধ্য হয়েই তাকে মাথা নাড়িয়ে বা ইশারা করে কিছু একটা বলতে হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মোবারক হোসেন মহাবিপদে
→ সেরা কিশোর গল্প » মোবারক হোসেনের মহাবিপদ
→ বিজ্ঞান ডেকে আনছে আজ মহাবিপদ
→ ভ্রমণে মহাবিপদ
→ মহাবিপদ
→ মোবারক সাহেবের মহাবিপদ4
→ মোবারক সাহেবের মহাবিপদ3
→ মোবারক সাহেবের মহাবিপদ2
→ মোবারক সাহেবের মহাবিপদ1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now