বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যুথিকা আর আকাশ যখন পনিটুলার বাসা ছেড়ে সাগরদীঘিতে এলো, তখন থেকেই বিষয়টার শুরু। নতুন বাসায় এক রাত্র পার হয়েছে মাত্র। বাসা বদলের ঝক্কিঝামেলা সামলিয়ে তাদের ঘুমটা যদিও একটু বেলা পর্যন্ত হওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ খুব ভোরেই ,এই তরকারী .......রাখবেন তরকারী .......ডাক শুনে যুথিকার ঘুম ভেংে যায়। সে দ্রুত বারান্দায় যেতেই সবজি বিক্রেতার কন্ঠ আরো স্পষ্ট হয়। একটি অল্পবয়স্ক বিক্রেতা তার সবজির ডালা নিয়ে প্যালেসের নিচে এেসে দাঁড়িয়ছে, তার ডালার সবুজ আর তরতাজা সবজিতে যেন সজীবতা ভর করেছে। আর সে যেন যুথিকাকেই খুজছিল। বারান্দার দিকে চোখ মেলে আবারো বললো, " লইবেন করলা......ডেংা.........মিষ্টি লাউ......।
যুথিকা একঝলক চিন্তা করে নেয়, ফ্রিজটা এখনও চালু করা হয়নি। শর্টকাট রান্নার ব্যবস্থা করতে হবে, গোছগাছের অনেক কাজ এখনো বাকি। সময় স্বল্পতায় নিরামিষ রান্না করতে হবে। সে ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করে - "বেগুন নেই?" ছেলেটি উত্তর দেয়," না নাই। বেগুন দিয়া কি করবেন? তাজা ডেংা আর মিষ্টি লাউ লইয়া যান।" ছেলেটা বেশ বিরক্তি সহকারে কথাগুলো বলে। যেন এসব করলা, লাউ থাকতে কেউ আবার কালচে রংের বেগুন খুঁজতে পারে!! যুথিকা বলে,"এইগুলার দরকার নেই আমার।" ছেলেটা এবার বেশ আন্তরিকভাবে বলে ওঠে, " নিজেগো ক্ষেত থেইক্কা তুলছি, একবার খাইয়া দ্যাহেন, স্বাদ পাইবেন। আমার ডেংায় কোনো আশ নাইক্কা।"
এরপর নাছোড়বান্দার মতো ছেলেটা যুথিকাকে জোরাজুরি করতে থাকে সবজি কেনার জন্য। ছেলেটা যুথিকার কাছে কিছু কমে হলেও বিক্রি করবে বলে জানায়, যুথিকা তার প্রথম কাস্টমার, সে যদি তরকারী কেনে তবে তার বিক্রি-বাট্টা ভালো হবে। ছেলেটা যুথিকাকে বাধ্য করে এক কেজি করলা আর একটা আস্ত লাউ কিনতে। আকাশ ঘুম থেকে উঠলে যুথিকা সব জানানো শেষে নিজেই বললো, "ছেলেমানুষ তো, হয়তো বিক্রি তেমন একটা হয়না তাই আমাকে একপ্রকার জোর করেই সবজিগুলো দিয়ে গেল।"
বিষয়টা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু পরেরদিন ভোরে আবার সেই তরকারীওয়ালার চিৎকারে যুথিকার ঘুম ভেংে গেল। যুথিকা না না করেও একগাদা লাউশাক আর টমেটো কিনলো আর বিরক্তি প্রকাশ করে আকাশের কাছে বললো, "ছেলেটা নাছোড়বান্দা আর উদ্ধত। একেবারে সকালবেলা চিৎকার চেঁচামেচি করে ঘুমটাই মাটি করে দেয়। অসহ্য!" আকাশ বিষয়টাকে সহজ করতে বললো, " ছেলেমানুষ তাই জোরাজুরি করে। তাছাড়া ভালোই তো তোমাকে আর কষ্ট করে বাজারে যেতে হচ্ছে না। বাড়ি বসেই পছন্দমত সবকিছু পেয়ে যাচ্ছ।"
যুথিকা তবুও বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারলোনা। ছেলেটা এখন তাকে তুমি করে কথা বলে, অদ্ভুত ভংীতে তাকায়। আর সামনে গেলে কিছুতেই না কিনে আসা যায়না। পরেরদিন সকালে পুনরায় সেই তরকারীওয়ালার ডাক ভেসে আসে। যুথিকা এবার বিছানায় শুয়েই রেগে ভাবতে লাগল, " ছেলেটা কি পেয়েছে? শুধুমাত্র আমাকেই কেন জোর করে? আমার কাছেই বিক্রি করতে হবে!" আকাশ যুথিকার অন্যমনস্কতা লক্ষ্য করে বললো, " কান দিও না। কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করে এম্নিতেই চলে যাবে। যুথিকা সচেতনভাবেই নিজেকে বিছানায় আটকে রাখলো। আর এভাবে আটকে থাকায় তার মনের ওপরে যে চাপ পড়ছিল, তার শরীরের ছটফটানিতে তা স্পষ্ট প্রকাশ পাচ্ছিলো। ছেলেটা যেন তাকে সম্মোহিত করে ফেলেছে।
এভাবে বেশ কয়েকদিন চলল। ছেলেটা তরকারী, তরকারী বলে চিৎকার করে, আর যুথিকা ঘুম থেকে জেগে ঘরের ভেতর পায়চারী করে ছেলেটার কাছ থেকে নিজেকে লুকোনোর জন্য। তখন তাকে দেখে মনে হয় যেন সে ছুটে যেতে চাইছে আবার নিজেকে বেধে রাখছে। এভাবে কিছুদিন পর থেকে ছেলেটা সত্যি সত্যিই আর আসছে না। কিন্তু যেদিন থেকে ছেলেটার ডাক আর শোনা যাচ্ছেনা, সেদিন থেকে যুথিকা খুব সকাল থেকেই বারান্দা আর জানালায় কি যেন খোঁজার চেষ্টা করে। ছেলেটা আসেনা বলে তার আফসোস হতে থাকে।
একদিন আকাশকে বললো, " বলেছিলাম না ছেলেটা আমার কাছেই সবজি বেচতে আসতো। এই কদিন আমি সাড়া দেইনি তাই এখন আর আসছেনা?" ওর কথা শুনে আকাশ হেসে বলে,"শুধু তোমার কাছে বিক্রি করলেই ওর চলবে? হয়তো অসুখ করেছে, তাই আসছেনা।" তখনকার মতো যুথিকা আকাশের যুক্তিটা মেনে নিলো। কিন্তু প্রতিনিয়ত ভোরে সে ছেলেটার অপেক্ষায় পায়চারী করতে লাগলো। বেশ কিছুদিন পর একদিন সকালে ক্ষিপ্ত ভংীতে আকাশকে ঘুম থেকে ডেকে তুলল। আচমকা ঘুম ভাংায় বিব্রত আকাশ জিজ্ঞেস করলো, "কি ব্যাপার যুথি?" আকাশকে অবাক করে যুথিকা বললো, "তুমি তো না জেনেই বললে, ছেলেটা হয়তো অসুস্থ। এতদিন কারও অসুখ থাকে?" আকাশ মাথামুণ্ড না বুঝে প্রশ্ন করে," এই কথার মানে কি? তুমি কার কথা বলছ?" যুথিকা শান্তভাবে জবাব দেয়, ওই যে সবজিওয়ালা ছেলেটা, ওর কথাই বলছি।"
এই অকারণ উদ্বেগে আকাশের মনে খটকা জাগে।যদিও যুথিকা জানায়, তার আজ খুব কাঁচামরিচের প্রয়োজন ছিল। তাই সে ছেলেটাকে খুঁজছে। আকাশ মনে সন্দেহ নিয়ে সেই সকালেই কাঁচামরিচ কিনতে বেরিয়ে পড়ে। তারও কিছুদিন পর যুথিকা আকাশের কাছে অভিযোগ তুলল যে, ছেলেটা এসেছিল। এত পাজি যে, জোর করে যুথিকাকে চারটা শালগম আর লালশাক ধরিয়ে দিয়েছে। এবার আকাশের মনে হয় যুথিকার মধ্যে কোনো সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টির নিশ্চয়তা মেলে যখন সে লক্ষ্য করে যখন ছেলেটা সবজি বিক্রির জন্য চিৎকার করে তখন যুথিকা এ রুম থেকে ও রুমে পালিয়ে বেড়ায় যেন সে কিছুতেই ধরা দেবেনা। কারন, তার মনে হয় ছেলেটা শুধু তার কাছেই বিক্রির জন্য আসে। আর ছেলেটা না আসলেই আবার যুথিকার ছেলেটার জন্য চিন্তা শুরু হয়ে যায়।
যুথিকা ছেলেটির মধ্যে অশুভ ফন্দির খোজ পেতে লাগল। আকাশ ভেবে পায়না, কেন যুথিকাকেই ছেলেটা টার্গেট করবে! তাছাড়া বাচ্চা একটা ছেলের মাথায় বিক্রির উদ্দেশ্য বাদে অন্য কোনো চিন্তা আসতে পারে বলে তার মনে হয়না। কিন্তু যুথিকা জানায়, ছেলেটার চাহনি অন্যরকম। আকাশকে যুথিকা এটাও বলে যে, তার ধারনা ছেলেটা তার প্রেমে পড়েছে। এদিকে পরিচিত সবার কাছেই যুথিকা জনে জনে নাছোড়বান্দা ছেলেটির কথা বলে বিরক্তি প্রকাশ করছে। এরমধ্যে একদিন যখন ছেলেটার তরকারী......বলে ডাক ভেসে এলো, আকাশ দ্রুত বারান্দায় গিয়ে ধমক দিতে লাগল, এত সকালে এই বাসার সামনে আর যেন তাকে না দেখা যায়। সেইসময় যুথিকা বারান্দায় দাঁড়াতেই ছেলেটা বললো, " এই ব্যাডায় কেডা? ব্যাডায় জম্মের খারাপ।" আকাশ রেগে ছেলেটার দিকে তেড়ে যেতেই যুথিকা তাকে বাধা দিয়ে টেনে ঘরে নিয়ে যায়। অথচ ছেলেটার বিরুদ্ধে তারই অভিযোগ ছিল বেশি। তাই আকাশ আরো বেশি চিন্তিত হয়ে যুথিকাকে মানসিক ডাক্তার সুব্রতর কাছে নিয়ে যায়।
সুব্রতর কাছে আকাশ সবকিছু খুলে বলে। কিন্তু সুব্রত যখন যুথিকার সাথে আলাদাভাবে কথা বলে তখন বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। যুথিকা জানায় তার কোনো সমস্যাই নেই, সমস্যা আছে মূলত আকাশের! যখন ওরা সাগরদীঘিতে এসেছে তখন থেকেই। নতুন বাসায় প্রথম দিনই আকাশ বাক্সপেটরা খুলে সর্বপ্রথম বের করে পাপোশ। কারন, ঘরবাড়ি সাফসুতরো নিয়ে আকাশের ভীষন খুঁতখুতে স্বভাব। কিন্তু সমস্যাটা দেখা দিলো পরেরদিন সকালে। আকাশ ডিম কিনতে বের হওয়ার সময় সদর দরজার পাপোশে পা রাখতেই মিষ্টি একটা আলসে "মিউ" শব্দ হলো। আকাশ তাকিয়ে দেখে একটি সাদা বিড়াল পাপোশে দখল নিয়েছে। দ্রুত পা সরিয়ে আনলেও বিড়ালের কোনো ভাবান্তর নেই। তাড়া দিলেও সে নড়ছেই না। যুথিকাও এসে তাড়া দিলো, সে আবার "মিউ" ডেকে মাথাটাকে গুজে নিয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করলো।
উপরের সিঁড়ি দিয়ে তখন প্রতিবেশী আশফাক সাহেব নামছিলেন, হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে।নতুন প্রতিবেশীকে বিড়ালের সামনে অসহায় ভংীতে দাড়িয়ে থাকতে দেখে হেসে বললেন, "এটা এই বিল্ডিংয়ের কাউকেই ভয় পায়না, শুধুমাত্র শোভনকে ছাড়া।" তিনিই ব্যতিব্যস্ত হয়ে শোভনকে ডাক দিলেন। বিড়ালটাকে দেখে সোভনের চোখ জ্বলজ্বল হয়ে উঠলো এবং সে পা-টাকে কিক করার জন্য উঁচু করতেই ঘুমন্ত বাঘেরমাসি দৌড়ে পালালো। আপাতদৃষ্টিতে সমস্যা সমাধান হলেও আকাশের সমস্যার শুরু তখন থেকেই।
সে যুথিকাকে বলতে লাগল যে, বাড়িওয়ালাকে বলে ওটাকে তাড়াতে হবে। ব্যাটা দুপুর হলেই রান্নাঘরের পাশের দেয়ালে উঠে পায়চারী করে, কখন আবার মাছ-মাংসে মুখ দেবে! আর ইতিমধ্যে বিড়ালটা আকাশের পাপোশটাকে পার্মানেন্টলি তার বিছানা বানিয়ে ফেলেছে। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে আকাশের কাজ হচ্ছে দরজা খুলে চেক করা ওটা এসেছে কিনা,এলে তাড়িয়ে দেওয়া। এমনকি ঘুম থেকে জেগেও দরজা খুলে দেখে নেয় বিড়াল ঘুমিয়ে আছে কিনা। এ ব্যবস্থা শুরুর পর থেকে বিড়াল গভীর রাতে আসা শুরু করে এবং সকালে তাকে পুনরায় পাপোশে দেখা যায়। আর আকাশের চিন্তাও বেড়ে যায়। কারন, তার মতে বিড়াল হচ্ছে ভয়ানক নোংরা প্রাণী। তাছাড়া, আকাশ বিড়ালটাকে ময়লার ড্রামে নেমে খাবার খুঁজতে দেখেছে।
আকাশ পাপোশটাকে রাতে ঘুমানোর আগে ঘরের ভেতরে এনে রাখতে শুরু করলো। পরেরদিন খেয়াল করলো তাদের ব্যালকনিতে থাকা আরাম কেদারায় বিড়ালটা ঘুমিয়ে আছে। পরে যুথিকা সেটাকেও ভেতরে নিয়ে এলো। আরাম কেদারা যেদিন তুলে আনা হলো তার পরদিন আকাশের চিৎকার একটু বেশিই হলো। যুথিকা এসে দেখে দরজার সামনে পাপোশে বিড়াল বমি করে একাকার করে ফেলেছে। যুথিকা অবাক হয়ে আকাশকে জিজ্ঞেস করে," কাল রাতে তুমি পাপোশটাকে ঘরে তোলোনি? আকাশ নির্বিকার ভংীতে জবাব দেয় যে সে ভুল গিয়েছিল। অথচ যুথিকার স্পষ্ট মনে আছে আকাশ পাপোশটাকে তুলেছিল। অর্থাৎ পরে ইচ্ছে করেই রেখে দিয়েছে, যাতে বিড়ালটা ঘুমাতে পারে। কারন, আরাম কেদারাটাও ঘরে তোলা ছিল।
এই নিয়ে দুজনের একচোট ঝগড়া হয়ে গেল। এখানেই শেষ নয়। যুথিকার অভিযোগ, আকাশ গোপনে মাছের কাঁটাগুলো বিড়ালটাকে দিতো। আসলে সে বিড়ালটাকে পছন্দ করে কিন্তু কিছু একটা নিয়ে ঝামেলা বাধানোর জন্য এসব করে।তাদের চৌদ্দ বছরের সংসার জীবনে তেমন কোনো ঝগড়াঝাঁটি ছিলনা। তাছাড়া, সময় কাটানোর জন্যও তাদের কোনো উপায় ছিলনা। কারন, তাদের কোনো বাচ্চাকাচ্চা নেই। তাই সামান্য বিড়াল আর সবজি বিক্রেতা যেন তাদের সময় কাটানোর আর ঝগড়ার অবকাশ করে দিলো। ডাক্তার সুব্রত তাদের কথা শুনে আর ব্যক্তিগত তথ্য জেনে ধারণা করে নি:সংগতাই তাদের সমস্যার মূল কারন। তাই সুব্রত মন্তব্য করে," আপনাদের একটা বাচ্চা থাকলে হয়তো এমন সমস্যা হতো না। তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। অন্য কোনো বিষয়ে মাথা ঘামানোর সময় পেতেন না। তার কথায় আকাশ আর যুথিকা দুজনেই রেগে যায়। তারা সুব্রতর মানসিকতার সমালোচনা করে বলে, " এই এক সমস্যা, বিয়ে করলেই বাচ্চা থাকতে হবে? দুজন মানুষ ভালোবেসে একসাথে থাকলে সবার যে কেন এতো জ্বালা! যার যার ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকা উচিৎ, অযাচিত পরামর্শ দেয়া সমাজের একটা রোগ।"
সুব্রত তাদের মন্তব্যে বিব্রত হয়ে এমন পরামর্শ দেয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেয় এবং বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাসা পাল্টানোর বুদ্ধি দেয়। তারা রাগ জারি রেখেই কিছু না বলে সুব্রতর রুম ত্যাগ করে। সুব্রত এ জীবনে এমন কেস আর পায়নি। ঘটনাটা সে প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। কিন্তু বছরখানেক পরে ঘাসিটুলায় একটা জেনারেল স্টোরের সামনে সুব্রতর সাথে পুনরায় ওদের দেখা হয়া যায়। আকাশই সুব্রতকে দেখে এগিয়ে এসে বলে, " আরে ডাক্তার সাহেব, কেমন আছেন?" সুব্রত তাদের দেখে একইসাথে কৌতূহল আর শংকাও বোধ করলো। তবুও কুশল বিনিময় করে জিজ্ঞাসা করলো আগের সমস্যা আছে কিনা। যুথিকা এগিয়ে এসে জবাব দেয়, " না না আপনার কথামতো বাসা পাল্টানোর পর একেবারেই কোনো সমস্যা নেই। এ বাসায় আমরা টুশি নামের মিষ্টি বিড়াল পেয়েছি। আমার যা ন্যাওটা!" সুব্রত যেন কথা হারিয়ে ফেললো।আকাশ যোগ করলো, " টুশির বাচ্চাটাও চমৎকার। চলুন না বাসায় গিয়ে দেখবেন।" সুব্রত ঢোক গিলে বললো, " না না আজ নয়।" তারপর প্রসংগ পাল্টাতে জিজ্ঞেস করলো, " আপনারা কোথা থেকে ফিরলেন?" আকাশ বলতে লাগল," আমরা তো টুকের বাজার থেকে ফিরলাম। আসলে যে বাচ্চা ছেলেটা আমাদের সবজি এনে দেয় তার ভীষন জ্বর, কদিন ধরে আসছিল না। তাই মোবাইলে ওর বাসার ঠিকানা জেনে নিয়ে দেখে এলাম।" ওদের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে সুব্রত ব্যস্ত হয়ে সেখান থেকে দ্রুত বিদায় নেয়।
সুব্রত শংকিত হয়ে ভাবে, যুথিকা আর আকাশের সমস্যা আসলে যায়নি, বরং ডাইভারট হয়েছে। এরপর ডালপালা গজিয়ে ভবিষ্যতে আরো মারাত্মক হয়ে দাড়াবে। ভাবতে ভাবতে একটা সিএনজিতে উঠে বসে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ "মিউ" শব্দ শুনে চমকে উঠলো। সুব্রত এদিক-ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগল। ড্রাইভার সুব্রতকে ওভাবে খুজতে দেখে মুখ খোলা একটা ব্যাগ থেকে একটা বিড়ালের বাচ্চা বের করে হেসে বললো, "এইখান থাইক্কা শব্দ আইতাছে।" সুব্রত অবাক হয়ে দেখে বিড়ালের বাচ্চাটা নীল চোখ মেলে একদৃষ্টে তার দিকেই তাকিয়ে আছে........।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now