বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক : সায়েমুস সুহান
গতকয়েকদিন থেকে অর্পির মোবাইলে একটা অচেনা নাম্বার থেকে প্রতিদিন একটাই এসএমএস আসে!! "হবে কি আমার? অনেক ভালোবাসবো" যখন রাত ১২ টা বাজে ঠিক তখনই!!
অর্পি সাথে সাথে ফোন ব্যাক করে কিন্তু দেখে ফোন বন্ধ!
ব্যাপারটা অর্পির কাছে অদ্ভুত মনে হয়।
অর্পি ভাবল এ বিষয়টা নিয়ে সুহানের সাথে কথা বলবে ।
যখনই ভাবছে সুহানকে বলবে তখন থেকেই অর্পির জ্বালা দিগুন হয়ে গেছে, চোখে ঘুম নেই, আর সহ্য করতে পারছেনা।এটা অর্পির একটা দোষ বলা যায় ।
রাত ৩.২০ মিনিট!!
অর্পি ফোন দিল সুহানকে!!
ফোন বাজতেছে কিন্তু সুহান ফোন ধরে না, অর্পির বিরক্তি আরো তিনগুণ বেড়ে গেল। তার মনে হচ্ছে এখন যদি সুহানকে সামনে পেত তাহলে আস্ত চিবিয়ে খেত। পাঁচবার শেষ করে যখন ষষ্টবার ফোন দিল Emperor সাহেব ফোন ধরলেন!
হহহহহ্যালো!!! (সুহান)
এই Bull ফোন ধরছ না কেন??(অর্পি)
Bull!!! (সুহান)
হ্যা তুই ষাড়ই!!! নতুবা ষাড়ের মত ঘুমাতে না। (অর্পি)
তুই একটা....(অর্পি)
বল বল আমি কি.... হুহ(অর্পি)
তুই একটা witch, ewe, hind আরো অনেক কিছু!!! (সুহান)
সুহান ভালো হচ্ছেনা কিন্তু! (অর্পি)
ভালো হবে কিভাবে? এত রাতে কোনো মানুষ ফোন দেয় ? (সুহান)
শোন ঝগড়া করিসনা, তোর সাথে একটা কথা শেয়ার করার খুবই প্রয়োজন (অর্পি)
বল তাড়াতাড়ি, আমি ঘুমাবো (সুহান)
একটা ছেলে প্রতিদিন আমাকে এসএমএসে ভালোবাসি বলে, তারপর মোবাইল বন্ধ করে দেয়, ফোন দিলে ফোন বন্ধ দেখায়, এটা কেনো করে, ভালোবাসি বললে তো সামনে এসেই বলতে পারে তাই না। (অর্পি)
.........(সুহান)
এই সুহান (অর্পি)
.......
ধুরর গাঁদাটা ঘুমিয়ে পড়েছে বলে অর্পি ফোন কেঁটে দিল, কিন্তু কোনো ভাবেই সে ঘুমাতে পারলো না। সারারাত না ঘুমিয়ে চোখ লাল করে ফেললো, সকালে খুব তাড়াতাড়ী ঘুম উঠে ৮ টার সময় কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিল! কলেজে পৌছালো ৮.৩০ মিনিটে!!
গিয়ে দেখে কলেজের গেটে তালা লাগানো। কিছুতেই ভালো লাগছে না, এই দিকে সুহানকে ফোন দিতে দিতে ধরছেনা।
হঠাৎ রাস্তার ওপাশে চোখ পড়লো অর্পির, দেখলো একটা ছেলে তাকে দেখে দোকানের পাশে লুকিয়ে গেল, অর্পি কিছুটা ভয় পেল, তারপরও দাঁড়িয়ে থাকলো!
কিছুক্ষন পরপর অর্পি থাকাচ্ছে আর দেখছে, ঐ ছেলেটি এখনও তাকে অনুস্বরণ করেই যাচ্ছে! অর্পি মনে মনে ভাবলো তাহলো কি এই ছেলে আমাকে এসএমএস করে??
না এই ছেলে করবে কেনো? সে কি আমাকে চেনে? পড়ে গেল আরেক চিন্তায়! ভেবে কিছুই মাথায় আসছে না। এদিকে কলেজের গেট কবে খোলা হইছে সেদিকে কোনো খেয়াল নেই, পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখলো গেট খোলা, প্রবেশ করলো ক্যাম্পাসে। আবার ফোন দিল সুহানকে, এবার ফোন ধরে বললো সে গাড়ীতে আছে, তারমানে আসছে! 'আসো বাচাধন আজকে তোমার বারোটা বাজাবো ' বলে ক্যাম্পাসের ছাউনীতে বসে সুহানের অপেক্ষা করতে লাগলো । ১০ টার সময় সুহান আসলো।
এসেই ক্লাসের দিকে যাওয়া শুরু করলো, অর্পি পেছন থেকে এসেই সুহানের কলারে জাপটা মেরে ধরলো! এই কোথায় যাছ!!(অর্পি)
কেনো? ক্লাসে ! ১০.১৫ টা তে তো রিহান স্যারের ক্লাস! (সুহান)
আজব! আমি সেই রাত থেকে তোকে অস্থির হয়ে খুজতেছি, সকাল থেকে অনর্গল ফোন দিয়েই যাচ্ছি, আর তুই এসেই কিনা ক্লাসে চলি যাবি? তোর কাণ্ড জ্ঞান বলতে কিছু নাই নাকি? (অর্পি)
আচ্ছা এতো প্যাঁচাল পারিস না, বল কি হইছে? ( সুহান)
সবকিছু সুহানকে বললো, সুহান হেসে বললো, চিন্তা করিস হয়তো একদিন এসে ঠিকই তোর সামনে দাঁড়িয়ে বলবে আমি তোকে ভালোবাসি!! (সুহান)
তুই কি এখন আমাকে ভালোবাসি বললি!! (অর্পি)
ধুর আমি কখন ভালোবাসি বললাম? (সুহান)
এইতো বললি, তুই আমাকে ভালোবাসিস! (অর্পি)
এইটা উদাহরণ স্বরুপ বললাম, আর এমনি তো তোকে ভালোবাসি। ভালোবাসা ছাড়া তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হলি কেমনে?? " ভালোবাসা ছাড়া বন্ধুত্ব হয় না "(সুহান)
হইছে হইছে, তোর কাব্যিক ভাব গুলো আমার কাছ তুলে ধরিস না, সহ্য হয় না! পঁচা লাগে (অর্পি)
" সুহাসিনী গো, যাই বলো,এই কাব্যগুলোই একদিন তোর সঙ্গী হবে (সুহান)
কাব্য হবে আমার সঙ্গী ! মোরে কি পাগলা ভুতে কামড়াইছে যে কাব্য প্রেমী হমু (অর্পি)
আচ্ছা হইছে ভাব মারিছ না, চল এবার ক্লাসে! বলে সুহান ক্লাসের দিকে হাঁটা শুরু করলো,
অর্পিও তার সাথে সাথে ক্লাসে প্রবেশ করলো, গিয়ে দুজন দুইদিকে বসে পড়লো। অর্পি যেইনা বসে পড়লো ঠিক ঐসময় আবার মনে পড়লো ঐ ছেলের কথা যাকে রাস্তার ওপাশে দেখেছিল। বারবার অর্পি চিন্তা করতে লাগলো, কে এই ছেলে? কি চায় তার কাছে? এতো তাকিয়ে থাকার কারণ কি?
এসব ভাবতে ভাবতে ক্লাস শেষ হয়ে গেল, অর্পি পড়ালেখায় একটুও মনোযোগ দিতে পারলোনা। ক্লাস থেকে সুহানের সাথে করে বের হয়ে যেতে লাগলো বাহিরে হঠাৎ করে অর্পির চোখ পড়লো হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দিকে, দেখে ঐ ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে, তার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যে, জীবনে মনে হয় মেয়ে মানুষ দেখেনি। অর্পি লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল। সুহানের সাথে করে গিয়ে আবার ছাউনীতে বসলো। ছেলেটিও এসে তারপাশের ছাউনীতে বসলো। এবার স্পষ্ট দেখতে পেল ছেলেটিকে! অনেক স্মার্ট, হালকা দাঁড়িতে অসাধারণ সুন্দর লাগছিল। কিছুক্ষণ সুহানের সাথে গল্প করে বেলা ২ টার সময় ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে রওনা দিল বাসার দিকে। বাসায় গিয়ে কোনো কিছুতেই মন বসছেনা অর্পির! বারবার ঐ ছেলের কথা আর এসএমএসের কথা মনে পড়ছে।
এদিকে অর্পির এমন অবস্থা হইছে যে খাবার দাবারে কোনো মনই নেই।অর্পি তার মায়ের ডাকে কিছুটা বাস্তব্য সময়ে ফিরে এসে খাওয়ার জন্য টেবিলে বসলো, খেতে বসেও খেতে পারলোনা। খাওয়ার টেবিল থেকে উঠে নিজের রুমে চলে গেলো,
আবার সেই কথা গুলো ভাবতে লাগলো।মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকলো অর্পি কখন যে রাত ১২ টা হবে সেই অপেক্ষাতেই আছে সে!!
সময় যেন ফুড়িয়ে যেতে চায়না। এখনও ৩০ মিনিট বাকি!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now