বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেজি উপন্যাসের ২য় গল্প— নিউরাল কম্পিউটার (১ম প্রর্ব)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নিউরাল কম্পিউটার বিজ্ঞাপনটি শরীফ আকন্দের খুব পছন্দ হল। ছোট টাইপে লেখা ঃ সব সমস্যার সমাধান থাকে না― কিন্তু যদি থাকে আমরা সেটা বের করে দেব ! পাশে একটা চিন্তিত মানুষের ছবি। মানুষটিকে ঘিরে পটভূমিতে কিছু কঠিন সমীকরণ, কিছু যন্ত্রপাতি। একটা ভাস্কর্য, কয়েকটা খোলা বই। কঠোর চেহারার একজন সৈনিক এবং কিছু ক্ষুধার্ত শিশুর ছবি। বিজ্ঞাপনটি দেখলেই বোঝা যায় ‘সমস্যা‘ বলতে শুধু বিজ্ঞান বা গণিতের সমস্যা বোঝানো হচ্ছে না, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি এমনকি রাজনীতির সমস্যও বোঝানো হচ্ছে। শরীফ আকন্দ জিভ দিয়ে পরিতৃপ্তির একটা শব্দ করে চেয়ারে হেলান দিয়ে সামনে বসে থাকা নজীবউল−াহকে জিজ্ঞেস করল, “কী মনে হয় তোমার নজীব ? এইবারে কী হবে ?“ কথার মাঝে জোর থাকল ‘হবে‘ কথাটির মাঝে। নজীব আঙ্গুল দিয়ে টেবিলে ঠোকা দিয়ে বলল, “কেমন করে বলি ? এর আগেরবারও তো ভেবেছিলাম হয়ে যাবে - সেবারেও তো হল না।“ শরীফ ভুরু কুঁচকে বলল, “কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায় তার সংজ্ঞা নিয়ে সমস্যা ! এবারে অন্তত সেরকম কিছু তো নেই।“ “তা নেই। কিন্তু কোনো ঝুঁকি নেব না। যখনই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে আমাদের সিস্টেম কী - প−াটফর্ম কী - আমরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছি। বড়জোর বলা হবে নিজস্ব সুপার কম্পিউটার, আলট্রা কম্পিউটার আর নিউরাল কম্পিউটার !“ “নিউরাল কম্পিউটার !“ শরীফ দরাজ-গলায় হা হা করে হেসে উঠল, “এই নামটা খুব ভালো দেয়া হয়েছে।“ নজীব ভ্রুকুটি করে বলল, “কেন ? নিউরাল কম্পিউটার কি ভুল হল ?“ পৃষ্ঠা - ১৪ “না না - ভুল হবে কেন ?“ শরীফ আকন্দ দুলে দুলে হেসে বলল, “ভুল নয় বলেই তো তোমাকে বলছি।“ শরীফ টেবিলে রাখা গ−াসের তরল পদার্থে একটা চুমুক দিয়ে বলল, “তোমার এই বিজ্ঞাপনের রি-একশান কী ?“ “ভালো। খুব ভালো। কাল পর্যন্ত তেতালি−শটা খোঁজ এসেছে।“ “কারা কারা সমস্যার সমাধান চাইছে ?“ “সব রকম আছে। দুজন মন্ত্রী, তিনটা কর্পোরেশনের সি.ই.ও. থেকে শুরু করে স্মাগলিং সিণ্ডিকেটের মাস্তান এবং ব্যর্থ প্রেমিকও আছে।“ “কী মনে হয় তোমার ! পারব তো করতে ?“ “কেন পারব না ?“ নজীব সোজা হয়ে বসে বলল, “আমরা কয়টা টেস্ট কেস করলাম ? কমপক্ষে দুই ডজন, সবগুলো ঠিক হয়েছে।“ শরীফের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল, বলল, “ঠিকই বলেছ। কয়েকটা কেস দেখে ভয় লেগে যায়। বিশেষ করে সেই-যে আÍহত্যার কেসটা - মনে আছে ?“ “হ্যাঁ। দিন তারিখ সময় থেকে শুরু করে কিভাবে আÍহত্যা করবে সেটাও বলে দিল।“ “চিন্তা করলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। এই দেখ।“ শরীফ তার হাতটা এগিয়ে দেয়। সত্যিই তার গায়ের লোমগুলো দাঁড়িয়ে গেছে। নজীব আঙ্গুল দিয়ে টেবিলে ঠোকা দিয়ে বলল, “আমাদের সবচেয়ে বড় কাস্টমার হবে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। চিন্তা করতে পার আমাদের এই ‘নিউরাল কম্পিউটার‘ কীভাবে μাইম সলভ করবে ?“ “হ্যাঁ।“ শরীফের চোখ চকচক করে উঠে, “ঠিকই বলেছ।“ “তবে আমাদের খুব সাবধান থাকতে হবে। বাঘে ছুঁলে আঠার ঘা আর পুলিশে ছুঁলে বত্রিশ ঘা !“ হঠাৎ করে শরীফ সোজা হয়ে বসে বলল, “আচ্ছা নজীব -“ “কী হল ?“ “আমাদের এই প্রোজেক্ট কাজ করবে কি না সেটা আমাদের নিউরাল কম্পিউটারকে জিজ্ঞেস করলে কেমন হয় ?“ পৃষ্ঠা - ১৫ নজীব চিন্তিত-মুখে শরীফের দিকে তাকাল, বলল, “হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ। আমরা জিজ্ঞেস করতে পারি। কিন্তু -“ “এর মাঝে আবার কিন্তু কি ? এত টাকাপয়সা খরচ করে এত হৈ চৈ করে একটা প্রোজেক্ট শুরু করেছি, সেটা যদি কাজ না করে খামোখা তার পিছনে সময় দেব কেন ?“ “ঠিকই বলেছ।“ নজীব চিন্তিত-মুখে বলল, “কিন্তু―“ “কিন্তু কি ?“ “আমাদের এই নিউরাল কম্পিউটার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে, কখনো কখনো কি হবে তার ভবিষ্যৎবাণীও করে দিতে পারে কিন্তু সেগুলোর সাথে তার নিজের ভবিষ্যত জড়িত থাকে না। কিন্তু এটার সাথে নিউরাল কম্পিউটারের নিজের ভবিষ্যত জড়িত।“ “তাতে কী হয়েছে।“ “এটা একটা প্রকৃতির সূত্র, কেউ যদি নিজে একটা সিস্টেমের ভেতরে থাকে তাহলে তারা সেই সিস্টেমকে বিশে−ষণ করতে পারবে না। অনেকটা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সূত্রের মতো।“ “রাখো তোমার বড় বড় কথা। গিয়ে চলো জিজ্ঞেস করে দেখি।“ “সত্যি জিজ্ঞেস করতে চাও ? আমার মন বলছে কাজটা ঠিক হবে না।“ “কেন ঠিক হবে না ? চলো যাই। ওঠো।“ “এখনই ?“ “অসুবিধে কি ? জিজ্ঞেসই যদি করতে হয় পুরোপুরি শুরু করার আগেই জিজ্ঞেস করা যাক।“ “ঠিক আছে।“ নজীবউল−াহ খানিকটা অনিচ্ছা নিয়ে উঠে দাঁড়াল। টেবিলে রাখা পানীয়টা এক ঢোকে শেষ করে দিয়ে হাতের পেছন দিয়ে মুখ মুছে বলল, “চলো।“ দুজন বিল্ডিঙের সংরক্ষিত লিফটে করে সাততলায় উঠে যায়। লিফটের দরজা খোলার আগে দুজনকেই রেটিনা স্কেন করে নিশ্চিত হতে হল যে তারা সত্যিই μন কম্পিউটিং-এর মালিক শরীফ আকন্দ এবং চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার নজীবউল−াহ। ধাতব দরজাটি খোলার সাথে সাথে সার্ভেলেন্স ক্যামেরাগুলো তাদের দুজনের উপরে স্থির হল। শরীফ আকন্দ মাইμোফোনে মুখ লাগিয়ে বলল, “সিকিউরিটি, দরজা খুলো।“ পৃষ্ঠা - ১৬ “কিছু মনে করবেন না স্যার। পাসওয়ার্ডটি বলতে হবে।“ বাড়াবাড়ি সিকিউরিটি দেখে শরীফ আকন্দ বিরক্ত না হয়ে বরং একটু খুশি হয়ে উঠল, হা হা করে হেসে উঠে বলল, “এই কোম্পানিটি আমার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি।“ “হতে পারে স্যার। কিন্তু আমরা প্রফেশনাল।“ “আজকের পাসওয়ার্ড হচ্ছে, ‘ব−্যাক হোল‘। কালো গহ্বর।“ খুট করে একটা শব্দ হতেই ঘরঘর শব্দ করে দরজা খুলে গেল, দেখা গেল অন্যপাশে অনেকগুলো মনিটরের সামনে দুজন সিকিউরিটির মানুষ বসে আছে। একজন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “ওয়েলকাম স্যার - আমাদের এই নির্জন কারাবাসে আমন্ত্রণ।“ “নির্জন বলছ কেন ?“ শরীফ আকন্দ হেসে বলল, “তোমার এই ফ্লোরে সবচেয়ে বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে চৌদ্দজন।“ সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা মানুষটি বলল, “আপনি যদি ব্যাপারটা এভাবে দেখেন তাহলে অবশ্যি আমার কিছু বলার নেই।“ খুব উঁচুদরের একটা রসিকতা করা হেয়েছে এরকম ভঙ্গি করে শরীফ আকন্দ এগিয়ে গেল। নজীবউল−াহ পকেট থেকে ছোট একটা কার্ড বের করে দরজায় প্রবেশ করাতেই একটা ছোট শব্দ করে দরজা খুলে গেল। লম্বা করিডর ধরে তারা একেবারে শেষপ্রান্তে গিয়ে থেমে গেল। জায়গাটি শীতাতপ নিয়স্ত্রিত তবুও শরীফ আকন্দের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে যায়। একটা বড় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “নজীব দরজাটা খুলো।“ নজীবের মুখে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠে, সে চোখ মটকে বলল, “তোমার কাছেও চাবি আছে।“ শরীফ মাথা নাড়ল, “কিন্তু আমার খুব নার্ভাস লাগে - এখনো আমি অভ্যস্ত হতে পারিনি। প্রত্যেকবার বুকের ভিতরে কেমন যেন ধ্বক করে ধাক্কা লাগে। তুমি বিশ্বাস করবে না আমি এখনও মাঝে মাঝে দুঃস্বপড়ব দেখি।“ “কী দুঃস্বপড়ব দেখ ?“ “দুঃস্বপড়ব দেখি যে আমি একটা ছোট বাথটাবে শুয়ে আছি আর আমার চারপাশে বারোটা -“ “বারোটা কি ?“ “তুমি জানো কি ! দরজা খুলো নজীব।“ পৃষ্ঠা - ১৭ নজীব পকেট থেকে ম্যাগনেটিক কার্ড বের করে দরজায় প্রবেশ করিয়ে কার্ডটা আবার বের করে নেয়। তারপর দরজার হেণ্ডেল ঘুরিয়ে দরজা খুলে ভিতরে উঁকি দিল। দৃশ্যটি অনেকবার দেখেছে তার পরেও সে নিজের অজান্তে একবার শিউরে উঠল। ভেতরে বারোজন বিকলাঙ্গ শিশু। শরীরের তুলনায় তাদের মাথা অতিকায় এবং অপুষ্ট শরীরের এই বিশাল মাথা বহন করতে একধরনের অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়। তাদের লিকলিকে হাত পা, তবে হাতের আঙ্গুলগুলো দীর্ঘ - দেখে মাকড়শার কথা মনে পড়ে যায়। কোটরাগত চোখ জ্বলজ্বল করছে। মুখের জায়গায় এক ধরনের গর্ত এবং সেখান থেকে লাল জিভ বের হয়ে আছে। নাক অপরিণত - দেখে মনে হয় কুষ্ঠরোগে বসে গিয়েছে। তাদের মাথার পিছন থেকে একধরনের কো-এক্সিয়াল কেবল বের হয়ে এসেছে, সেটি একটা ছোট যন্ত্রের সাথে যুক্ত। যন্ত্রটি তাদের মাথার পিছন থেকে ঝুলছে। শিশুগুলো দরজায় শব্দ শুনে ঘুরে তাকাল এবং শরীফ আকন্দ তখন আবার শিউরে উঠল - প্রত্যেকটা শিশু হুবহু একই রকম। এদেরকে একসাথে ক্লোন করা হয়েছে এবং একইভাবে বড় করা হয়েছে। সরাসারি মস্তিষ্কে ইলেকট্রড বসিয়ে মস্তিষ্কের একই জায়গা একই সময়ে স্পন্দিত করা হয় - কাজেই তারা একই সাথে অনুরণিত হয়। শিশুগুলোর বয়স ছয় বৎসর কিন্তু দেখে সেটা অনুমান করার উপায় নেই - তাদেরকে মানুষ বলে মনে হয় না - কাজেই মানুষের বয়সের কোন কাঠামোতে তাদেরকে ফেলা যায় না। শরীফ আকন্দ বা নজীবউল−াহ শিশুগুলোকে কোনোরকম সম্ভাষণ করল না - এদেরকে সামাজিক কোনো ব্যাপার শেখানো হয় নি - নিজেদের কাজ শেষ করা ছাড়া আর কিছুই তারা জানে না। নজীবউল−াহ এক পা এগিয়ে এসে বলল, “তেতালি−শ বি-এর সমাধান কি শেষ হয়েছে ?“ “হ্যাঁ। শেষ হয়েছে। নেটওয়ার্কে আপলোড করেছি।“ “চুয়াত্তর এক্স টু ?“ “কাজ করছি। ডাটা অনেক বেশি। নিউরন ওভারলোড হয়ে যায়।“ “কখন শেষ হবে।“ “দুই ঘণ্টা পর। দুই ঘণ্টা সাত মিনিট।“ [চলবে...]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now