বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক : সায়েমুস সুহান
"কেন যে মন খারাপের
নেমেছে রাত পাড়াতে ,
বসেছি সব হারাতে
খুঁজে দাও ... খুঁজে দাও... ।
যে পথে এগিয়েছে পা
সে ও আমায় চেনে না ,
আমি তো ফিরে যেতে চাই
আমাকে ফিরিয়ে নাও ।
আমি যে কে তোমার তুমি তা বুঝে নাও ,"
গানটি একমনা হয়ে শুনছে রাজ! গানটি তার জীবনের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত।
প্রতিদিন সকালে এই গানটি শোনে দুচোখ ভিজিয়ে তার সারাদিনের পথচলা শুরু হয়। আজ একটু বেশি কাঁদছে। প্রায় তিনমাস পর প্রিয় মানুষটি ফোন করেছে! এটা ভাবতেই যেন কলিজাটা দুটুকরা হয়ে যায়।
নাহি! রাজের গার্লফ্রেন্ড।
একবছরের বেশি কিছু সময় ধরে তারা একে অপরকে ভালোবাসে।
এটা কে ঠিক ভালোবাসা বলে কি না? বুঝতে পারছিনা। মনে হয় একপেশে ভালোবাসা! অগোছালো, পাগলাটে টাইপের ছেলে রাজ! সারাক্ষণ হাসি খুশি আর চেঁচামেচি মানুষকে বিরক্ত করা এসব নিয়েই তার জীবন। বন্ধুদের সাথে খুনসুটি না করলে তার দিনটাই ফালুদা! এই ছেলেটার মনেও যে একটা বড় কষ্ট আছে, সেটা কেউ বুঝতেই পারবেনা। মৃদু হাসিটা সারাক্ষণ ঠোঁটে লেগে থাকে। আর যখন
একা তাকে তখন শুধুই কাঁদে । মানুষের কাছে কোনো জবাবদিহিতা করতে চায় না বলেই একা বসে বসে কাঁদে।
রাতে ঘুমাতে পারেনা, ঘুমাবে কি করে চোখের পানিতে যদি বালিশ ভিজে যায়?
প্রতিদিন সকালে মা রাজকে ঘুম থেকে উঠাতে যান, তখনই ছেলের বালিশটি ভিজে জবজব অবস্থা দেখতে পান! তিনি মা, তাই সবকিছু বুঝতে পারেন। শুধু একটি কথাই বলেন "বাবারে কান্না মানুষের সবকিছুর সমাধান নয়, ধৈর্য ধর! নিশ্চয় উপরওয়ালা তোমাকে হতাশ করবেন না " রাজ কিছুই বলে না, শুধু মাকে জড়িয়ে ধরে দুফোটা চোখের পানি ফেলে। মায়ের এই কথাটির ওপর বিশ্বাস করে এখনও পথ চেয়ে আছে নাহির! রাজের বিশ্বাস, একদিন ঠিকই এসে অনেক ভালোবাসবে। রাজ কতটুকু ভালোবাসে সেটাও উপলব্ধি করতে পারবে । রাজ হয়তো পাগলামি একটু বেশি করে, অভিমান করে এটাতো তার দোষ নয়! ভালোবাসার মধ্যে এইগুলো যদি না থাকে তাহলে কি ভালোবাসা হয়? হয় না! এটা পাখির বাসার মত হয়ে যায়! পাখির বাসা যেমন কিছুদিন পর নিচ থেকে আস্তে আস্তে ভেঙ্গে পড়ে, ঠিক ভালোবাসার মধ্যেও এইসব পাগলামি না থাকলে একদিন ভেঙ্গে পড়ে । এতোদিন হলো তাদের ভালোবাসার কিন্তু রাজ এখনও প্রিয় মানুষটির হাত ধরে হাঁটতে পারে নি। একটা বার চোখে চোখ রেখে বলতে পারে নি, প্রিয় অনেক ভালোবাসি তোমায়। পথের ধারে যখন হাঁটে রাজ দেখতে পায়, জোড়ায় জোড়ায় মানুষ কত সুন্দর করে একজন আরেকজনের হাত ধরে হাঁটছে । নিজের মনের মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। ছেলেটি আদর করে নাক টেনে দিচ্ছে। মেয়েটি তুলোর মত নরম হাত দিয়ে ছেলেটিকে ভালোবাসাময় কিল ঘুষি মারছে। ছেলেটি অভিনয় করে উফফ বললে মেয়েটি কান্নাজড়িত কন্ঠে সরি বলে জড়িয়ে ধরছে। মাঝে মাঝে অভিমান করছে। ছেলেটি হাত ধরতেই অভিমান ভেঙ্গে পাগল বলে বুকে লুকাচ্ছে। রাজ নিরবে এগুলো দেখে আর চোখের জল ফেলে।
সেও তো এরকম ভালোবাসা চায়। এতোটুকু পাবেনা, এটা ভালোই জানে! সে এতটুকু আশাও করে না। যা চায় তা অতি সামান্যই বলা যায়। প্রতিদিন অন্তত একবার ফোন দিয়ে ভালোবাসার মানুষটি তার সুরেলা কণ্ঠে ভালোবাসি কথাটি বলুক, এত রাত জেগে থাকো কেনো কথাটি বলুক, কিছু খেয়েছো কথাটি একবার জিজ্ঞাসা করুক, অগোছালো জীবনটাকে সাজাতে একটু পরামর্শ দিক, মাঝে মাঝে পাগল বলে একটু হাসুক! এই গুলোই তার সবচেয়ে বড় চাওয়া। এই চাওয়াটা কি খুব বেশি? ছেলেটি প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর সারাদিন অপেক্ষা করে, সারারাত অপেক্ষা করে শুধু নাহির জন্য! তারমনে হয় এই আমার জানুটা ফোন দিবে! আমি যদি ঘুমিয়ে পড়ি তাহলে তো শুনবো না।
নাহ, আরেকটু অপেক্ষা করি! এভাবেই প্রতিটা রাতে দুটো-তিনটা বেজে যায়, রাজ ঘুমায় না শুধু অপেক্ষা করে তার প্রিয় মানুষটির। সে জানে না কখন এই অপেক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটবে। নাহি কাছে এসে অন্তত হাতটি ধরে বললে, বাবু আর কখনও তোমাকে এতো কষ্ট দিবো না। আর কখনও চোখের জলেশ্বরীকে দিয়ে বালিশ ভিজতে দিবো না। মানুষকে দেখানো হাসি নয়, তোমার মন থেকে পাওয়া হাসিটা আমি ফিরিয়ে এনে সবাইকে দেখাবো!
অনেক ভালোবাসবো তোমায়।
রাজের এই কল্পনা কতটুকু বাস্তব হবে সে নিজে জানে না । তারপরও পথের ধারে, নির্জন বনে দাঁড়িয়ে নাহির অপেক্ষা করছে।........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now