বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হত্যাকারী

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X ভোর বেলা হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে একটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠল হোটেলে স্টাফ রা। ভেতর থেকে ছুটে এল সবাই।এই ভোরে কি হল আবার! সকলের চিৎকার -চেঁচামেচি তে ঘুম ভেঙে গেল শিউলির।পাশে নরেন কে দেখতে পেল না।ছুটে নেমে এল নীচের তলায়। চাপ বাঁধা জমাট রক্ত মৃত নরেনের মাথার চারিদিকে।শিউলি দৌড়ে গিয়ে কেঁদে পড়ল নরেনের মৃত শরীরের উপর।দেহে যে প্রান নেই সেটা দেখলেই বোঝা যায়।নরেনের বডি টা এমন জায়গায় পড়ে আছে দেখলে মনে হয়, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে সুসাইড ই করছে।হয়তো পোস্ট মোর্টেম রিপোর্ট সেটাই বলবে।কিন্তু নরেন সুসাইড করতে যাবে কেন? কোনো ঝগড়া, ঝামেলা, ঋন-দেনা -কিছুই তো ছিল না নরেনের।তবে.........? গতকাল রাতের ঘটনা।মাঝ রাতে দরজায় দু'বার ঠক ঠক করে আওয়াজ হল।মনে হল বাইরে থেকে কেউ নরম হাতে দরজায় চাপড় মারছে।হয়তো আরও আগে থেকে আওয়াজ টা হচ্ছে।নরেনের যখন ঘুম ভাঙলো,তখন দুবারই শুনলো।খাটের উপর উঠে বসে, দু'হাতে চোখ কচলালো নরেন। -"এত রাতে আবার কে এল? রাত একটা বাজে।বাইরে তখনও ঝড়ের চোখ রাঙানি।মেঘের তীব্র গর্জন,সেই সাথে বিদ্যুতের চিরিক।পাশে কোথাও যেন বিকট শব্দে বাজ পড়ল।বুকের ভেতরটা চমকে উঠল নরেনের। যেদিন থেকে হোটেলটি তে এসেছে সেদিন দিন থেকে এই রাক্ষুসে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভালো করে চোখ রগড়ে,পাশে তাকালো নরেন।শিউলি ঘুমিয়ে আছে।কোনো সাড়া শব্দ নেই।যেন মড়া পড়ে আছে।গায়ে হাত দিয়ে দেখলো,চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে।তাই নিশ্বাস-প্রশ্বাস এর শব্দ ও আসছে না।নরেন বিরক্ত হল। কয়েক বার ধাক্কা দিল বউ কে। -"এই শুনছো!" -"কি হল আবার,এত রাতে?" শিউলি আবার পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল। কিছুক্ষন চুপচাপ।শব্দটা আর নেই।ঢুলু ঢুলু চোখে বউ এর চাদরের নীচে নরেন যেই ঢুকতে যাবে,ঠিক তখনি আবার দরজা চাপড়ানোর আওয়াজ কানে এল।বিরক্ত হয়ে এবার বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল নরেন।কারেন্ট নেই সেই সন্ধ্যে থেকে।দেওয়ালে ইন্ডিকেটরের দিকে তাকালো সে।না,এখনো কারেন্ট আসেনি।আসলে,নিশ্চয় আলো জ্বলতো।সন্ধ্যা বেলা রুম বয় এসে খবর দিয়ে গিয়েছিল,রাস্তার পাশের ট্রান্সমিটারে বাজ পড়ে আগুন ধরে গেছে।কখন আবার কারেন্ট আসবে তার ঠিক নেই! মরতে,কেন যে এই সস্তার হোটেলে উঠতে গেলাম! মনে মনে নিজেকে গালাগালি করলো নরেন।অবশ্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী,এই হোটেল তাদের পক্ষে আদর্শ। টাকা-পয়সা যে ছিল না,এটাও ঠিক বলা যায় না। আসলে শিউলির পিছনেই সব খরচ হয়ে গেছে।বালিশের নীচে থেকে হাতড়ে হাতড়ে টর্চ লাইট টা খুঁজে পেল নরেন।সুইচ টা টিপতেই সারা ঘর আলো।তারপর খাট ছেড়ে উঠে দরজার কাছে গিয়ে,দরজা খুলে বাইরে তাকাতেই,একরাশ ঝোড়ো হাওয়া,বৃষ্টিকে সঙ্গে করে এনে মুখে ঝাপটা মারলো নরেনের।ঘুটঘুটে কালো অন্ধকার বাইরের টানা করিডোরে।মাঝে মাঝে বিদ্যুৎতের ঝলকানি এসে আলো জ্বালিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।বিদ্যুৎতের চমকানি থেমে গেলেই আবার সেই নিকষ কালো অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে হোটেল টা।নরেন টর্চ মারলো টানা লম্বা বারান্দায়।কই,কেউ নেই তো! সে টর্চ জ্বালিয়ে সিঁড়ির মুখ পর্যন্ত গেল।নীচের তলায় নামার সিঁড়ির মুখ থেকে একটা সিঁড়ি ডান দিয়ে ঘুরে উপরের ছাদে উঠেছে।নরেন সিঁড়ি দিয়ে নেমে নীচের তলায় টর্চের আলো ফেলল।পরিষ্কার দেখা গেল সব।না,নীচের বারান্দায় ও কেউ নেই। তবে কে দরজা ধাক্কালো?টর্চ টা নিভিয়ে আবার উপরে উঠে এল নরেন।নিজের রুমের দরজার কাছে আসতেই,আৎকে উঠল সে। ঘরের ভেতরে শিউলির অস্পর্ষ্ট গোঁগানোর আওয়াজ পেল।জোর পায়ে ঘরে ঢুকে টর্চ জ্বাললো।শিউলি উঠে বসেছে।হাতের একটা আঙুল উঁচু করে ঘরের ডান কোনের দিকে তাক করে রাখা।মুখ দিয়ে অস্ফুট আওয়াজ বেরুচ্ছে।মুখ দেখে মনে হচ্ছে,কোনো কিছু দেখে সে খুব ভয় পেয়েছে।ছুটে গিয়ে শিউলির পাশে গিয়ে বসল নরেন।বলল-"কি, কি ওখানে?" কাঁপা কাঁপা গলায় শিউলি বলল,-"ওখানে কে একটা দাঁড়িয়ে ছিল।হাসছিল আমার দিকে চেয়ে।" -"কে,কে.. কিরকম?" নরেনের গলার স্বর বেড়ে গেল। শিউলি বলল,-"অস্পর্ষ্ট চেহারা,আবছায়া।কিছু বোঝা যাচ্ছিল না।" নরেন সারা ঘরে টর্চ মেরে ভালো করে দেখলো।কোথাও কিছু নেই। -"কই, কিছুই নেই তো!"বলল নরেন। শিউলি জোর গলায় বলল,-"আমি সত্যি বলছি,বিশ্বাস কর,ওখানে কেউ দাঁড়িয়ে ছিল।" -"ও সব তোমার চোখের ভুল শিউলি।মনের ভ্রম।আমি বাইরে গিয়ে নীচের তলা পর্যন্ত দেখে এসেছি,কেউ কোথাও নেই।" -"না,তা কি করে হয়।আমি নিজের চোখে দেখেছি।" -"তোমার মন টা এখন ভালো নেই শিউলি, তাই তুমি শুধু ভুল ভাল জিনিষ কল্পনা করছো।" নরেনের সাথে তর্কে শিউলি পারে না।তাই সে চুপ করে বসে রইল।টেবিলের উপর থেকে সিগারেটের প্যাকেট টা হাত বাড়িয়ে নিয়ে একটা সিগারেট ধরালো নরেন।ধোঁয়া ছাড়লো।তারপর শিউলির কাঁধের দু'পাশ টা ধরে বললো,-"একটু শান্ত হয়ে ঘুমোও।সব ঠিক হয়ে যাবে।" চাদর টা টেনে আবার শুয়ে পড়ল শিউলি।বাইরে ঝড়ের দাপট একটু কমেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ এর ঝলকানি আর বৃষ্টির ধারা সেই একই ফর্ম অব্যাহত রেখেছে।নরেন হাতের ঘড়ির উপর টর্চের আলো ফেলল।রাত দু'টো বেজে গেছে।চোখের ঘুম ভাব টা আর নেই।অনেক আগেই চলে গেছে।এবার হয়তো তাকে সারাটা রাত জেগে কাটাতে হবে।কপালের উপর হাত টা রেখে শুয়ে পড়ল নরেন।এরকম ঘটনাশিউলি আগেও ঘটিয়েছে।আসলে তার পেটের ভিতরে বাচ্চা টি মরে যাওয়ার পর থেকেই শিউলি মাঝে মাঝে এরকম করতে শুরু করেছে।মাঝ রাতে কখনো ভয়ে চিৎকার করে ওঠে।বলে,আমার পাশে কে এসে দাঁড়িয়েছে।আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই পেটে সন্তান এসেছিল শিউলির।প্রথম সন্তান, তাই শিউলি মনে মনে খুব খুশি ছিল।সবাই যেমন থাকে।মনে মনে অনেক কিছু স্বপ্ন বোনাবুনি চলছিল।কি নাম রাখবো বাচ্চার,কি ড্রেস পরাবো,কি খাবে, সারক্ষন কাঁদবে না,হাসবে,.......কার মতো দেখতে হবে,এরকম অনেক কিছু।নরেনের মা বলেছিল আমার দাদুভাই চাই।নরেনের বাবাও তাই। এমন কি নরেন ও শেষ পর্যন্ত বলল,আমার ছেলে দরকার।শিউলি প্রশ্ন করেছিল,-"কেন?মেয়ে হলে কি ক্ষতি?আমার মেয়েই ভাল। মেয়ে বড় হলে,চিরুনি দিয়ে তার চুল আঁচড়ে দেবো,তেল দিয়ে দেবো,লাল ফিতে দিয়ে চুল বেঁধে দেবো...সব সময় আমার কাছে থাকবে।" -"রাখতো তোমার ন্যাকামোপনা। প্রথম সন্তান ছেলে হওয়াই ভাল।" -"না,মেয়ে হওয়াই ভালো।"শিউলিও জেদ ধরেছিল। নরেন আর কোনো কথা বলেনি।রাগ করে উঠে চলে গিয়েছিল শিউলির পাশ থেকে।এরপর বেশ কিছুদিন কেটে গেল।এ বিষয় নিয়ে আর কোনো কথা হয় নি।একদিন রাতে শিউলির বুকে হাত রেখে নরেন বলল,-"এ্যাই,তুমি রাগ করেছো?আসলে আমি সেদিন ওরকম ভাবে বলতে চাইনি!" শিউলি হেসে বলল,-"ধুর না,আমি রাগ করি নি।" নরেন মাথাটা আরও বুকের কাছে নিয়ে গিয়ে বলল,-"এই তো,লক্ষী সোনা বউ আমার।কাছে এসো একটু আদর করে দিই।" শিউলি আরও কাছে সরে এল।নরেনের কোলের মধ্যে।নরেন বউ কে আদর করতে করতে বলল,-" জানো,আমরা একটা জিনিষ আগে থেকে খুব জানতে ইচ্ছে করছে!" -"কি?" -"আমাদের ছেলে না,মেয়ে হবে?" -"ধুর,আগে থেকে জেনে কি হবে!যখন হবে,তখন দেখতে পাবে।" -"সে তো পাবো।কিন্তু আমার এখন খুব ইচ্ছে হচ্ছে।চলো না,কাল ডাক্তারের কাছে যাই।" শিউলির ও যে ইচ্ছে ছিল না,তা নয়।তার ও খুব জানতেইচ্ছে করছিল।নরেনের চুলের ভেতর হাত বুলিয়ে বলল,-আচ্ছা,ঠিক আছে কালকে যাব।" বউ এর কথা শুনে খুব খুশি হল নরেন। আরও জোরে কাছে টেনে নিল শিউলি কে। -"আ! কি করছো,লাগবে তো!"শিউলি হাসলো। -"কিচ্ছু হবে না।" বলল নরেন। পরদিন সকালে শিউলি কে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেল নরেন।তার বাবার পরিচিত ডাক্তার। ডাক্তার বাবু সব কিছু দেখে, ইউ.এস.জি (আল্ট্রাসনোগ্রাফি) করালেন।রিপোর্ট হাতে নিয়ে, ভালো করে দেখে তিনি বললেন,-"ফিমেল বেবি।" শিউলি মনে মনে খুব আনন্দিত হল।নরেনের দিকে তাকিয়ে বলল, -"আমি বলেছিলাম না,আমাদের মেয়ে হবে।" নরেন হাসলো।ডাক্তার কিছু ওষুধ লিখে দিলেন। বললেন,-"এ গুলো নিয়ম করে খাবে।" ফার্মেসী থেকে ওষুধ গুলো কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরে এল দু'জন। পেটের ভেতর বাচ্চা টি কে মারতে বেশি সময় লাগেনি নরেনের।সামন্য কয়েকটা ট্যাবলেটেই কাজ হয়ে গিয়েছিল।সেদিন বাড়ি ফিরে,নরেন তার মাকে কন্যা সন্তানের কথা বলতেই,হায় হায় করে উঠেছিল তার মা।কি হবে এখন! মেয়ে কোন কাজে লাগবে?এখানেও খাবে,আবার পরের বাড়ি যাওয়ার সময় এক গোছা নিয়ে যাবে।এই বাজারে একটা মেয়ে মানুষ করতে কম খরচ লাগে! নরেন বলেছিল,-"তুমি চিন্তা করো না মা।আমি সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি।" -"কি করবি এখন আর?যা হবার তো হয়ে গেছে?" নরেনের মা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলেছিল। -"কি আর করবো,বাচ্চা টি কে মেরে ফেলবো।" -"কি বলছিস তুই?" -"ঠিকই বলছি।" -"বৌমা যদি জেনে ফেলে?" -"কেউ জানতে পারবে না।" -"দেখিস,আমার যেন কেমন ভয় করছে!" -"ভয়ের কোনো কারন নেই মা, ডাক্তার, নার্সিংহোম আমার সব ফিট করা হয়ে গেছে।এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।" বেশ কিছুদিন ধরে মাথা টা ঝিম ঝিম করছিল শিউলির।ডাক্তারের থেকে ওষুধ নিয়ে এল নরেন। নিজে হাতে আদর করে বৌকে ওষুধ খাইয়ে দিল।সন্দেহর কোনো জায়গা ছিল না শিউলির মনে।কিছুদিন পর থেকে একটু একটু করে বাচ্চার নড়া-চড়া বন্ধ হয়ে গেল পেটের ভেতরে।একদিন মাথা ঘুরে টয়লেটে পড়ে গেল শিউলি।পেটে সামন্য আঘাত পেল।আর নরেনের সাপে বর হল। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে, ডাক্তার আবার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে বললেন, বাচ্চা মৃত।শিউলি নরেন কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে পড়ল।-"আমি নিজে হাতেই বাচ্চা টাকে শেষ করেছি! আমি খুনি একটা" নরেন ও কাঁদলো। নাকি কান্না।বউ এর পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দিল।এত কিছু কান্ড করতে গিয়ে-ডাক্তার নার্সিংহোম,পেটের ভেতর থেকে মৃত বাচ্চা বের করার জন্য আপারেশন বাবদ নরেনের বেশ কিছু টাকা খসলো।আর তাই আজ এরকম একটা সস্তার হোটেলে এসে উঠতে হয়েছে তাকে। বাড়িতে থাকতে শিউলি মাঝে মাঝে এরকম ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠত।বলতো,কে যে সবর্দা আমার পাশে পাশে হাঁটছে।সারক্ষন মনমরা হয়ে বসে থাকতো চুপ করে।নরেনের মা বলেছিল,-"বাবু,বৌমা কে নিয়ে বাইরে একটু বেড়িয়েআয়, না।বেচারি সারক্ষন ঘরে বসে থাকে।মন টাও একটু হালকা হবে।" তাই মায়ের কথা মতো,শিউলি কে নিয়ে দীঘার এই হোটেলে এসে উঠেছে নরেন।কিন্তু ঘোরার ভাগ্য কই হল! যেদিন থেকে হোটেলে উঠেছে,সেদিন থেকে অবিরাম ধারায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।সকালে একটু বেড়িয়ে আসে।আর বিকেল নামলেই,আকাশে পোড়া ব্যাটারির মতো কালো মেঘ।ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়,যেন বড় বড় দৈত্যরা আকাশ পথে ছুটে আসছে। কপালের উপর হাত রেখে,এই অবিরত বর্ষনমুখর,নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ময় রাতে এসব কথা গুলো বার বার ভাবছিল নরেন।চোখে ঘুম আসছে না।বেড়াতে এসেও শান্তি নেই! শিউলির দিকে পাশ ফিরে শুয়ে চোখ বন্ধ করে আবার ঘুমোনোর চেষ্টা করলো নরেন।সবে মাত্র একটু ঝিমুনি এসেছে,ঠিক তখনি আবার দরজা চাপড়ানোর আওয়াজ এল। ওমনি সজাগ হয়ে গেল নরেন। সত্যিই তো!এবার কেউ যেন বার বার দরজা চাপড়াচ্ছে।দ্রুতো টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দরজা খুলল নরেন।না,কেউ কোথাও নেই। চারিদিকে টর্চ মেরে ভালো করে দেখলো। ফাঁকা করিডোর।কিন্তু সে যে পরিষ্কার শব্দ টা শুনতে পেল। টর্চের আলোটা নেভাতেই এবার শব্দটা কানে এল।পদ শব্দ।কেউ যেন বারান্দায় হাঁটছে।ধীরে ধীরে।আকাশে বিদ্যুৎ এর চিরিক কাটতেই নরেন দেখতে পেল,কেউ যেন সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠে গেল।একটা অস্পর্ষ্ট ছায়া।টর্চ টা জ্বালিয়ে নরেন সেই পদশব্দ অনুসরন করে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলো।ছাদের দরজা তো রাতে বন্ধ থাকে।কিন্তু এ দরজা খুললো কে?ধীরে ধীরে দরজা দিয়ে ছাদের উপর দাঁড়ালো নরেন।বারে বারে বিদ্যুৎ এর ঝলকানি তে ছাদের উপর স্পর্ষ্ট সব দেখা যাচ্ছে।বৃষ্টি পড়ছে অবিরাম ধারায়।কিন্তু নরেনের সে সব খেয়াল নেই। এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে জিনিষ টার দিকে। একটা ছোট্টো বাচ্চা যেন গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে ছাদের ঠিক মাঝখানে।বাচ্চা টা এত ছোটো যে বোঝা যাচ্ছে না।যেন একটা বড় মাংস পিন্ডের দলা।হঠাৎ ই একটু একটু করে সেই মাংসপিন্ড শিশুর রুপ নিল।হামাগুড়ি দিতে দিতে এগিয়ে আসতে লাগলো নরেনের দিকে।সারা শরীর হিম হয়ে গেল নরেনের।মাথা টলতে লাগলো। গায়ের লোম গুলো সজারুর কাঁটার মত খাড়া হয়ে উঠেছে।পিছন ফিরে পালাতে গিয়েও পালাতে পারলো না।অদৃশ্য শেকল দিয়ে কেউ যেন তার পা দু'টো বেঁধে দিয়েছে। শিউলি বলে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরুলো না।গলা শুকিয়ে কাঠ।শিশুটি এখন দাঁড়িয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের সেই ঝাঁঝালো আলোয় নরেন পরিষ্কার দেখতে পেল,একটা ছোটো শিশু কন্যা।বছর চারেকের মতো বয়স। নতুন কথা বলতে শেখা বাচ্চাদের মতো করে,শিশু টি বলল, -"বাবা!" একটা ঢোক গিলল নরেন।কি বীভৎস সে চাহনি মেয়েটির! -"আমাকে মারলে কেন তুমি?" কিছু বলতে পারলো না নরেন।হাত-পা ঠক ঠক করে কাঁপছে। -"তুমি একটা খুনি।" আকাশে মেঘের হুঙ্কার আগের থেকে বেড়ে গেছে।সাথে বিদ্যুৎ এর ঝলকানি।ছোট্টো মেয়েটি ধীরে ধীরে হেঁটে গেল ছাদের কার্নিশের দিকে।নরেন কে অদৃশ্য কেউ যেন টানছে।নিজের উপর আর কোন নিয়ন্ত্রন নেই। সে এবার চলতে চলতে ধীর পায়ে হাঁটতে লাগলো বাচ্চা মেয়েটির পিছন পিছন।বাচ্চা মেয়েটি এখন কার্নিশ বেয়ে তার উপর উঠে দাঁড়ালো।তার পর ঝাঁপ মারলো নীচে।নরেন কে ও আজানা নেশায় পেয়ে বসল। নেশাগ্রস্তের উঠে পড়লো কার্নিশের উপর।তারপর বাচ্চা মেয়েটিকে অনুসরন করে ঝাঁপ দিল নীচে। .........হোটেলের সবার ঘুম ভেঙে গেছে। নরেনের মৃতদেহ কে ঘিরে হোটেলের সমস্ত লোকজন জোড়ো হয়ে আছে।পুলিশ এল সাত টার দিকে।তারপর নরেনের মৃত লাশ টি কে নিয়ে থানায় চলে গেল। সমাপ্ত.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আত্মহত্যাকারী ব্যাক্তির আত্মকথা
→ হত্যাকারী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now