বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
»এবারতো বিয়েটা কর বাবা,আর কতদিন এভাবে থাকবি আমাদেরও তো নাতি নাতনীর সাথে খেলতে মন চায়।(মা)
:-এসব বিয়ে শাদী আমার দ্বারা হবে না মা। (আমি)
»কেন হবে না?নাকি আমার মরনের পর বউ আনবি?
:-তুমি কিন্তু একদম মরার কথা বলবেনা মা। »তাহলে কি বলব তুইতো কিছু শুনিসনা। :-আচ্ছা আমাকে ২দিন ভাবতে দাও বলেই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে হাটতে হাটতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীড়ে এসে বসলাম।অনেক কথাই হল এবার পরিচয়টা দেয়া যাক আমি জাবের একটা কোম্পানীতে চাকরি করি এইটাই আমি আর এতোক্ষন আমার মায়ের সাথে উপরের কথাগুলো হল আমি বিয়ে করব না আর মা আমাকে বিয়ে না করিয়ে ছাড়বেনা।এখন আমি কি করতে পারি এগুলাই নদের পাড়ে বসে ভাবছি ঠিক ঐ মহুর্তে ফোনটাতে আমার বন্ধু নিহাদের নামটা ভেসে উঠলো.. »হ্যালো(আমি)
»জাবের তুই কই?
»আমি ব্রহ্মপুত্রে সাতার প্রতিযোগিতায় আছি।
»শালার মজা রাখ এক্ষুনি চিলমারী হাসপাতালে আয় তোর ভাবীর ডেলিভারি হয়েছে রক্ত লাগতেছে রক্তের গ্রুপ ও পজেটিভ।
»ওকে আসতাছি। হাসপাতালের দিকে দ্রুত যাচ্ছি কারন আমার রক্তের গ্রুপ যে ও পজেটিভ।হাসপাতাল গেটে এসে দেখি নিহাদ দাড়িয়ে আমার অপেক্ষাতে.দেখা হওয়া মাত্রই আমাকে নিয়ে রক্ত সন্চালন রুমের দিকে ছুটল।
সেখানে যাবার পর তারা আমার থেকে সিরিন্জে করে একটু রক্ত নিলো আগে পরিক্ষা করবে তারপর নিবে,ততক্ষন আমাকেি বসে থাকতে হবে,তাই আমিও বাইরে এসে এদিত ওদিক দেখছিলাম হঠাৎ একজনকে দেখে আমার চোখটা আটকে গেল আরে এতো নীলার মত লাগছে,আরেকটু নিশ্চিত হবার জন্যে ওর দিকে গেলাম হ্যা এটাই নীলা আর কোলে ৬মাস বয়সের একটা কচি বাচ্চা,বাচ্চাটা কি দুষ্ট এইটুকুন বয়সে ওর মায়ের সাথে কিভাবে খেলছে,নীলা আমাকে দেখতে পায়নি সেও বাচ্চার সাথে মেতে আছে।আর আমি ভাবছি যে এই সন্তানের বাবাটা আমিই হতে পারতাম কিন্তু নিয়তি তা হতে দেয়নি।হয়তো ভাবছেন এই নীলাটাকে আসুন রক্ত পরিক্ষার ফাকে নীলার পরিচয়টা করিয়ে দেই।
.
.
আজ থেকে ৬ বছর আগের কথা আমি সেদিন মামার বাড়িতে যাই আর সেখানেই নীলার সাথে দেখা।নীলা হচ্ছে আমার মামাতো বোন রুপার বান্ধবী অনার্স ১ম বর্ষ,মেয়েটাকে এক দেখাতেই ক্রাশ খেয়ে যাই,কি কাজল কালো টানা টানা চোখ মায়াবী মুখ হাসলে গালে টোল পরে আর এই মায়াবী মুখটার মায়ায় পরে যাই আমি।এক কথা লাভ এট ফার্স্ট সাইট।যে ছেলে মামার বাড়ি যেতো না এরপর হতে প্রায় মামার বাড়ি যেতাম আর নীলাকে দেখার জন্যে ছল করে রুপাকে কলেজে পৌছে দিতাম।এভাবে বেশকিছুদিন যাতায়াতের পর হঠাৎ একদিন রুপা আমাকে বলছে
»ভাইয়া এভাবে আর কতদিন? »»মানে?
»ভেবেছো কিছু জানি না,সব জানি আগে বছরেও আমাদের বাড়ি আসতেনা আর নীলাকে দেখার পর এখন সপ্তাহ না পেরোতেই আসো। »»(এরে কাম সারছে এতো দেখি সব জানে)কি করব বল ওকে না দেখে যে থাকতে পারিনা। অনেকটা করুন সুরে বললাম। »যাক আর এসব ন্যাকামো
না করে প্রোপোজটা কর নীলা সব জানে। তারপরদিন রুপার সাথে কলেজে গিয়ে,রুপার দারা নীলাকে কলজের পাশের পার্কটাতে ডেকে নীলাকে প্রপোজ করী আর সেও হ্যা বলে দেয় সেই থেকে আর পিছু ফিরতে হয়নি,ঝগাড়া খুনসুটি আর অভিমানে আমাদের ভালবাসাটা অবিরত চলতে লাগল।কিন্তু হঠাৎ একদিন কল করে
»কালকে ১০টায় পার্কে দেখা করবে জরুরী কথা আছে বাই।
»»ওকে
আমিও আর দেরি না করে মামার বাড়িতে ছুটলাম কারন প্রেয়সির ডাক বলে কথা,নীলাকে আমি প্রচন্ড ভালবেসে ফেলি তাই ওর বলা কথাগুলো পালন করতেও যেন আলাদা একটা শান্তি পাই মনে।পরদিন সময়মত কলেজের পাশের পার্কটাতে যাই কিছুক্ষন পর নীলাও আসলো
»আমার নীলা পাগলিটা কেমন আছে? »»এসব কথা বলার সময় নেই,যে জন্য ডেকেছি তা কি বলব?
»হ্যা বল(গলাটা কেপে কেপে) »»আমি এই রিলেশনটা আর কন্টিনিউ করতে পারছিনা।
»মানে?
»»আমি তোমার থেকে মুক্তি চাই,বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে তাই আমি এ সম্পর্কটা রাখছিনা।
»»প্লীজ এভাবে বলোনা নীলা আমি তোমাকে খুব ভালবাসি,তোমাকে ছাড়া আমি একাকি কল্পনা করতে পারিনা। »দেখ জাবের এসব আবেগ দিয়ে জীবন চলেনা,জীবন চলতে গেলে টাকা লাগে আর যার সাথে বাবা বিয়ে ঠিক করছে তার সব আছে আশা করি তুমি বাধা দিবে না আমায় বলেই সেখান থেকে চলে যায় নীলা।সেদিন পার্কে বসে প্রচুর কেদেছি কিন্তু ফেরে নি নীলা,নীলাকে এতোটা ভালবেসেছি যে অন্য মেয়েকে বিয়ে করার কথা ভাবতেই পারিনা,তাই তো আজকে মায়ের সাথে কথার কাটাকাটি হল।
.
.
হঠাৎ বন্ধুর ডাকে ভাবনাটা কেটে গেল জাবের চলে আয় পরীক্ষা হয়ে গেছে এখন রক্তটা দে।রক্ত দেবার জন্যে উঠে দাড়িয়েছি ঠিক সেই আমার সামনে দিয়ে স্বামীর হাত ধরে ঢলতে ঢলতে চলে যায় নীলা,আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন চেনেনা।ওর সাথে কথা বলব বলে এগিয়ে ডাক দিলাম কিন্তু ও না শোনার ভান করে চলে গেল,ওর ব্যবহারটা বড্ড ভাবাচ্ছে,না হয় তুমি আমার হওনি তাই বলে কি কথা বলা যাবেনা।আবার নিহাদ ডাকলে আমিও আর দেরি না করে রক্তটা দিলাম।রক্ত দিয়ে আবার সেই ব্রহ্মপুত্রের তীরে বসে ভাবতে লাগলাম আচ্ছা নীলা যদি আমাকে ভুলতে পারে আমি কেন পারবনা?ও যদি স্বামীর পরিবারে সুখে থাকতে পারে তবে আমি কেন পরিবারে বাবা মার দুঃখের কারন হব?
ও যদি মা ডাক শুনতে পারে তবে আমি কেন বাবা হতে পারিনা।হ্যা,অনেক হয়েছে আর নয় এবার আমিও বিয়ে করব বিয়ে করে ওকে দেখিয়ে দেব যে আমি আর একা নই।আমার মনে আর নেই নীলার বসবাস ফিরে পাওয়া এ মনে বউ নামে কেউ একজন করবে হাল চাষ।পকেট থেকে ফোনটা বের করে মাকে কল দিলাম,, »হ্যালো,মা আমি বিয়ে করব। »»সত্যি তো বাবা?
»হ্যা মা সত্যি তুমি মেয়ে দেখ আমি আগামি ৪৮ ঘন্টার ভিতর বিয়ে করতে চাই। »ওকে বাবা কালকেই বিয়ে,মেয়ে আমরা দেখে রেখেছি তোর রাহাত আংকেলের মেয়ে।এতোদিন তোর মতের অপেক্ষায় ছিলাম।
অতঃপর কালকে আমার বিয়ে সকলে আসবেন কিন্তু।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now