বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক টানাপড়েনের সংসার। কোনো কিছু না ভেবে হুট করেই ভালোবেসে নিলয় বিয়ে করে ফেলল বিভাকে। তবুও সে সৌভাগ্যবান কারণ, বিভা তাকে কখনো মানসিকভাবে হতাশ হতে দেয়নি। এত অভাবের মাঝেও বিভার সহনশীলতা অসম্ভব।
বিয়ের প্রায় দুই বছর হয়ে গেল। অথচ তাকে নিলয় একটা ভালো শাড়িও দিতে পারেনি। সে কষ্টের কথা কখনো কাউকে বলতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে নিলয় ঠিকই পুষিয়ে রেখেছে। বিভা কখনোই মুখ ফুটে কিছু চায় না। দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকীতে সুন্দর একটা শাড়ি বিভাকে দেবে বলে গোপনে নিলয় একটু একটু করে চার হাজার টাকা জমায়। এই টাকাগুলো জমানোর জন্য প্রায়ই সে অফিস থেকে বাসা পর্যন্ত অতোটা রাস্তা হেটে ফিরতো। বিভা এসবের কিছুই জানেনা। জানলে ভীষণ মন খারাপ করতো। বিভাকে বিয়ের এতদিন পর একটা গিফট দিতে পারবে ভেবেই নিলয়ের দারুন লাগছিল।
আর একদিন পরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! নিলয় আর বিভার বিবাহ বার্ষিকী। নিলয় শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। রাতে খাবারের পর একটু আগেভাগে শুয়ে পড়ে তারা। অন্যদিকে নিলয়ের কিছুতেই ঘুম আসছেনা। সে অস্থির হয়ে এপাশ ওপাশ করছে আর ভাবছে কখন রাতটা কেটে যাবে। প্রচন্ড শীত পড়ছে। হঠাৎ কোনো বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো তার কানে। মা বাচ্চাটিকে থামানোর চেষ্টা করছিলো, কান্না কিছুতেই থামছে না।
একটু পর তাদের বাসার জানালার ঠিক পাশেই পটপট শব্দ পেয়ে নিলয় জানালা খুলে দেখে এক মহিলা খড়কুটো জ্বেলে কোলে সেই বাচ্চাটা নিয়ে বসে আছে আগুনের পাশে। পাশে আরো দুটো ছেলেমেয়ে। মাথার উপরে চাঁদের আলো। মাঝে মাঝে আগুনের ফুলকিগুলো দ্রুত উপরে মিলিয়ে যাচ্ছিল কোথায়। অপলক তাকিয়ে দেখছিল নিলয় সবকিছু। আগুনের ভালোবাসায় শিশুটির কান্নাও থেমে গেছে ততক্ষণে। বিভা তখন গভীর ঘুমে। নিলয় তাকে জাগিয়ে দিয়ে বাইরের দিকে তাকানোর জন্য ইশারা করলো।
বিভা দ্রুত উঠে জানালা দিয়ে চোখ রাখলো বাইরে। দুজনে এইভাবে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিল তার ঠিক নেই। তাদের দুজনের চোখেও যেন কোনো অজানা ওম লাগছিল। পৃথিবীর সব কষ্ট কেমন যেন তুচ্ছ, হাল্কা মনে হতে লাগলো। একসময় জানালা লাগিয়ে দুজনে ঘুমিয়ে পড়ল।
পরেরদিন বিভাকে নিয়ে নিলয় প্রথমেই ফুলের দোকানে গিয়ে অনেক ফুল কিনে দিলো। বিভা ফুল পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল। তারপর নিলয় শাড়ির দোকানে ঢুকলে বিভা অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো, "এই কি করো! শাড়ির দোকানে ঢুকলে কেন?" নিলয় মিষ্টি হেসে বলল, "তোমার জন্য সুন্দর একটা শাড়ি কেনার আমার অনেকদিনের সাধ"। বিভা লাজুক হেসে উত্তরে বলল, "শাড়ি তো আমার আছেই। তার চেয়ে চলো আমরা আমাদের আরেকটা ইচ্ছে পূরন করি। দেখি, কালকের সেই বাচ্চাগুলোর জন্য কিছু করতে পারি কিনা।" নিলয় বাধা দিয়ে ব্যস্ত হয়ে বলল, "কিন্তু তা হয়না বিভা। আমি তোমাকে একটাও ভালো শাড়ি কিনে দিতে পারিনি। এটা আমার অনেকদিনের স্বপ্ন"। বিভা সান্ত্বনা দিয়ে বলল,"কিচ্ছু হবে না। শাড়িটা না হয় পরেও কেনা যাবে। তাছাড়া, আমি তো তোমার বুকভরা ভালোবাসা পেয়েছি আমার আর কি চাই!!"। নিলয় আর কোনো কথাই বলতে পারলো না, তার মন বিভার প্রতি শ্রদ্ধায় ভরে গেলো।
পাশের একটা মার্কেটে ঢুকে বিভাই বেছে বেছে দুটো মোটামোটা কম্বল কিনলো, বাচ্চাগুলোর জন্য শীতের কিছু গরম কাপড় আর মহিলাটির জন্য একটা চাদরও কিনলো। পরে রিকশা নিয়ে সোজা সেই কুঁড়েঘরে দুজনে হাজির হল। ওদের দেখে মহিলাটি ভীষন অবাক হলো আর বাচ্চাগুলোও বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল। ওদের চোখে কি মায়া!
কম্বল আর কাপড়গুলো বিভা মহিলার হাতে দিয়ে বলল, "নিন, আপনাদের জন্য কিছু উপহার আনলাম"। মহিলা কাপা কাপা হাতে সেগুলো নিয়ে বলল, আপনারা খুবই ভালো মানুষ। আরো কিছু বলতে চাইছিল কিন্তু কান্নার স্রোতে কথাগুলো আটকে গেল।আর বাচ্চাগুলো সংে সংে কাপড়গুলো পরতে শুরু করলো। ওদের চোখে খুশি চকচক করছে।
প্রশান্তির ঢ্ল বয়ে গেলো নিলয় আর বিভা দুজনেরই হৃদয়ে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now