বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Suborna Akhter Zhumur (০ পয়েন্ট)

X শরীফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন এমন সময় একজন লোক আসলেন তার মায়ের চিকিৎসার জন্য কিছু সাহায্য চাইতে। শরীফ সাহেব বড়লোক হলেও কাউকে কখনো সাহায্য করতেন না, দান-সদকা দিতেন না। তিনি ভীষণ অহংকারী আর স্বার্থপর মানুষ। এই লোকটাকেও তিনি অপমান করে বললেন,"আহ! শান্তিতে খেতে পর্যন্ত দিচ্ছে না। যাও তো আর বিরক্ত কোরোনা। আবারো যদি ঘ্যানঘ্যান কর, মেরে পিঠের ছাল তুলে ফেলব। বেড়িয়ে যাও এক্ষুনি।" এই বাড়ি থেকেও আয়ান কিছু না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেল। বাবা মারা যাবার পর টিউশনি করেই নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালাচ্ছে। আর গ্রামের বাড়িতে বাবার পেনশনের সামান্য টাকায় মায়ের কোনোমতে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তার মায়ের ব্রেন টিউমার হলে তার চিকিৎসার খরচ যোগাতে আয়ান সাহায্য চাইতে নামে। কিন্তু একপর্যায়ে তার সমস্ত চেষ্টা মিথ্যে করে দিয়ে তার মা মারা যায়। তিন বছর পর....... আয়ান আজ একজন সফল ব্যবসায়ী। তার টাকা, পয়সা, বাড়ি, গাড়ি সবি আছে। আজ থেকে আড়াই বছর আগে সে লটারীতে পাচ কোটি টাকা পায়।এই টাকা দিয়ে প্রথমে সে নিজের একটি কোম্পানি খোলে। মার্কেটে তার কোম্পানির সুনাম এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আর তার সততায় মুগ্ধ হয়ে বিনিয়োগকারীরা তার কোম্পানিতে ইনভেস্ট করতে থাকে। ধীরেধীরে তার ব্যবসা আরো ছড়িয়ে পড়ে। এখন তার নিজস্ব কারখানা আছে, হাজার হাজার লোক সেখানে কাজ করে। শুধু তার একটাই আফসোস তার মাকে সে টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি। শরীফ সাহেবের কোম্পানির প্রোডাক্টে ভেজাল ও নিম্নমানের উপাদান ধরা পড়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের ইনভেস্টমেন্ট ফিরিয়ে নিয়েছেন, মার্কেটে তার প্রোডাক্টের চাহিদা কমে গিয়েছে। এর ফলে বিশাল অংকের টাকা লোকসান হয়ে যায়। কর্মচারীদের দুইমাসের বেতন বাকি থাকায় তারা বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে। চাপের মুখে সে ব্যাংক থেকে অনেক টাকা লোন নিয়ে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে দেন। কয়েকমাস পরে, ব্যাংক লোন শোধ না করতে পারায় তার বাড়ি, গাড়ী সবকিছু ব্যাংক সিজ করে নেয়। সবকিছু হারিয়ে সে পথের ভিখারিতে পরিণত হন। তার শ্বশুর শরীফ সাহেবের স্ত্রী অর্থাৎ, তার মেয়েকে নিয়ে চলে যান। তার স্ত্রী যদিও থেকে যেতে চাইছিল তার সংে কিন্তু তার শ্বশুর কিছুতেই নিজের মেয়েকে এই হতদরিদ্র অবস্থায় রেখে যেতে রাজী হননি। কিছুদিন পর, শ্বশুরের চাপের মুখে তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন। এছাড়া আর কীইবা করার ছিল, নিজেকেই তো কিছুদিন পরে ভিক্ষা করে খেতে হবে। স্ত্রীকে কি খাওয়াতেন? তার চেয়ে ডিভোর্স হয়ে তার জন্যে ভালোই হয়েছে। ডিভোর্স হওয়ার দেড় বছরের মাথায় তার শ্বশুর তার মেয়েকে পুনরায় বিয়ে দেন শরীফের চেয়ে আরো ধনী ব্যবসায়ীর কাছে। আয়ান আর অনিমা স্বামী-স্ত্রী একসাথে বারান্দায় বসে কথা বলছে এমন সময় একজন ভিক্ষুক ভিক্ষা চাইতে আসে। আয়ান বারান্দা ছেড়ে বাইরে ভিক্ষা দিতে গিয়ে ভিক্ষুকের মুখটা দেখে সে হতভম্ব হয়ে গেলেও কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে ভিক্ষুককে অনেক বেশী টাকা ভিক্ষা দেয়। লোকটা প্রথমে এতগুলি টাকা ভিক্ষা পেয়ে কিছুটা অবাক হলেও পরক্ষনে খুশি মনে চলে যান। ভিক্ষা দিয়ে ফিরে এসে আয়ান বিসন্ন মনে বসে থাকে। আয়ানকে এইভাবে বিসন্ন মনে থাকতে দেখে অনিমা প্রশ্ন করে যে তার কি হয়েছে? আয়ান উত্তর দেয়,"ভিক্ষুক লোকটার জন্য আমার মন ভীষন খারাপ। একদিন এই লোকটার বাড়ি, গাড়ি, অর্থ, সম্পদ সবকিছু ছিল। তুমি হয়ত চিনতে পারোনি, আমি ঠিকই চিনেছি। ঐ লোকটা তোমার প্রথম স্বামী শরীফ। তোমার মনে আছে, একদিন তোমরা যখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলে আমি ঠিক এভাবেই সাহায্য চাইতে গিয়েছিলাম, উনি আমাকে দূরদূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আজ সেই মানুষটাই আমার কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল। যে মানুষটা সমাজের উচ্চস্তরে ছিল, সে আজ মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা নিচ্ছে। ভাবতেই আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তার স্থানে আমি ও একদিন ছিলাম, তাই আমি জানি কারো কাছ থেকে হাত পেতে ভিক্ষা নিতে ঠিক কেমন লাগে। কাউকে কখনো অবহেলা অথবা অপমান কোরোনা। কারণ, ভাগ্য সবসময় সবার সহায় থাকেনা। হয়ত, এমন একদিন আসবে যেদিন তোমার অবস্থা তার থেকেও বেশী খারাপ হবে আর তোমাকে তার চেয়ে আরো অনেক বেশী অপমান সহ্য করতে হবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now