বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসার দ্বিতীয় অধ্যায়

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Suborna Akhter Zhumur (০ পয়েন্ট)

X লিসার সাথে রাহুলের সম্পর্কটা দুই বছরের। প্রথমে বন্ধুত্ত দিয়ে শুরু হলেও শেষমেশ ভালোবাসায় পরিণত হয়। ভার্সিটির ক্যাম্পাসে লিসাকে দেখে সেদিন রাহুলের চোখই সরছিলনা। এরপর রাহুল অন্যদের কাছ থেকে ওর ঠিকানা, নাম সবকিছু জেনে নেয়। লিসার যেকোনো প্রয়োজনে, বিপদে রাহুল পাশে দাড়ায়। এভাবে লিসা একসময় রাহুলের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। লিসা কনজারভেটিভ মাইন্ডের মেয়ে তাই রাহুল মাঝে মাঝে হাত ধরলে ও সে হাত ছাড়িয়ে নেয়। এরইমধ্যে একদিন লিসাকে রাহুলের বাবা-মা দেখতে চায় একথা বলে রাহুল তাদের বাসায় নিয়ে গিয়ে জোড় করে ওর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। লিসা এতে মানসিকভাবে খুবই ভেংে পড়ে। রাহুল তাকে আশ্বাস দেয় খুব শীঘ্রই বাবা-মার সাথে কথা বলে তাকে বিয়ে করে ঘরে তুলবে। এরপর থেকে রাহুল লিসাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে। গিরগিটির মতো রং পাল্টানো এই রাহুলকে লিসার অচেনা লাগে। এরপর লিসা প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়লে রাহুলকে এই ব্যাপারে জানিয়ে তাকে বিয়ের কথা বললে রাহুল বলে, "তুমি ভাবলে কি করে যে আমি তোমার মতো নোংরা মেয়েকে বিয়ে করব, যে মেয়ে বিয়ের আগেই পরপুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে বিয়ের পড়ে যে সে অন্য কারোর সাথে করবেনা তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে?" লিসা অভিমানে, ঘ্রিনায় আর কোনো কথা না বলে চলে আসে। নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। কারন সে জানে তার বাবা-মা এতোবড় আঘাত সহ্য করতে পারবেননা, তারা লিসাকে খুব বিশ্বাস করে। তাছাড়া, এসব জানাজানি হলে সমাজে মুখ দেখাতে পারবেনা। তাই লিসা ঠিক করে নেয় সে সুইসাইড করবে। নিলয় ধনী পরিবারের ছেলে। কিন্তু বর্তমান যুগের ছেলেদের মতো মেয়েদের সাথে টাইমপাস করা তার অপছন্দ। একটা মেয়েকে সে খুব ভালবাসে মেয়েটির হচ্ছে, স্নিগ্ধা। প্রথম দেখায়ই তার প্রেমে পড়ে নিলয়। এরপর ওকে প্রপোজ করে, কদিন পরে স্নিগ্ধা ও রাজি হয়ে যায়। ধীরেধীরে নিলয় ওর প্রেমে অন্ধ হয়ে যায়, আর স্নিগ্ধাও এই সুযোগটাকে কাজে লাগায়। মূলত, স্নিগ্ধা সুযোগসন্ধানী মেয়ে বিভিন্ন ছেলেদের সাথে সম্পর্ক করে তাদের কাছ থেকে অনেককিছু হাতিয়ে নেয়। নিলয়ের কাছ থেকেও অনেক দামী গিফট নিয়েছে। সে সরাসরিভাবে কিছু না চেয়ে ছেলেদের সাথে মার্কেটে গিয়ে দামী কিছু পছন্দ করে পরক্ষনে বলে - "না থাক এটার দাম অনেক বেশী, আমার কোনোকিছুই লাগবে না।" তার কথা শুনে তার প্রেমিকরা তাকে সেইটাই কিনে দেয় তাকে খুশি করার জন্য। আর স্নিগ্ধা খুবই সুন্দরী তাই তাকে কেউ অবিশ্বাস করেনা। কিন্তু একদিন নিলয়ের চোখে সত্যিটা পরিস্কার হয়ে যায় যখন সে স্নিগ্ধাকে একটি ছেলের হাতে হাত রেখে রেস্টুরেন্টে ঢুকতে দেখে। নিলয় ওদের মুখোমুখি একটি টেবিলে বসলে নিলয়ের সাথে স্নিগ্ধার চোখাচোখি হতেই সে শিউরে উঠে চোখ সরিয়ে নেয়, আর নিলয় একবুক রাগ আর ঘ্রিনা নিয়ে চলে আসে। এরপরের কয়েকটা দিন নিলয় নিজেকে ঘরবন্দী করে রাখে, মনের মধ্যে বেদনার ঝড় বয়ে যায়। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে কদিন পর বাসার পাশে রেললাইনের কাছে ঘুরতে যায়। হঠাৎ দেখে অপরদিক থেকে আসা ট্রেনটা প্রায় কাছাকাছি আসতেই একটা সুন্দরী মেয়ে রেললাইনের মাঝে গিয়ে দাড়ায় নিলয় মেয়েটার উদ্দেশ্যটা বুঝতে পেরে দ্রুত মেয়েটির হাত ধরে টেনে নিয়ে আসে সাথেসাথে ট্রেনটা চলে যায়। নিলয় মেয়েটাকে বলে,"কি করতে যাচ্ছিলেন আপনি? আরেকটু হলেই তো ট্রেনের নিচে কাটা পড়তেন।"ওই মেয়েটি ছিলো লিসা। লিসা নিলয়ের কাছে সব খুলে বলার পর বলে ওঠে - "আপনি আমাকে বাঁচালেন কেন? আমার কাছে সুইসাইড করা ছাড়া কোনো পথই খোলা নেই, কয়েকদিন পরে সবকিছু জানাজানি হয়ে গেলে আমার বাবা-মা সমাজে মুখ দেখাতে পারবেনা। তাছাড়া, আমি যে তাদের বিশ্বাস ভেংেছি এই আঘাতটাই তো তারা সহ্য করতে পারবেনা।" নিলয় লিসাকে বলে, "এসবের কিছুই হবেনা।আপনি আপনার বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে, আপনি মরে গেলে তো তারা মারাত্মক শক পেয়ে জ্যান্তলাশে পরিণত হবে এটাতো ভাবলেননা। আমি আপনাকে বলছি, কদিনের মধ্যে সবকিছু ঠিক না হলে আপনি এইখানেই সুইসাইড করবেন, কেউ আপনাকে বাধা দেবেনা"। নিলয় লিসাকে বাসায় দিয়ে এসে নিজের রুমে বসে ভাবতে থাকে, লিসাকেও তার মত ঠকানো হয়েছে। আর মেয়েটা খুব সরল তাই ঠকে গেছে। সে মনেমনে ঠিক করে নেয় এই মেয়েকেই সে বিয়ে করবে। একটা স্বার্থপর, ছলনাময়ী মেয়েকে বিশ্বাস করে যদি তার পিছনে এত টাকা খরচ করতে পারি তবে মেয়েটিকে বিয়ে করলে ক্ষতি কি? সেতো কোনো দোষ করেনি।নিলয় তার মাকে মিথ্যে করে বলে যে সে একটা মেয়েকে ভালবাসে, তাকেই বিয়ে করতে চায়। নিলয়ের মা খুশি হয় কারণ এর আগে উনি নিলয়ের বিয়ের কথা বলেছেন নিলয় পাশ কাটিয়ে গেছে। নিলয়ের মা নিলয়ের বাবাকে সবকিছু জানালে তিনিও অমত করেনি। পরদিন তারা লিসাদের বাসায় প্রস্তাব দিলে ঐ বাসার সবাই রাজি হয় কারণ ধনী পরিবারের একমাত্র ছেলে, আপত্তি করার কোনো কারণই নেই। কয়েকদিনের মধ্যে তাদের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পড়ে একবারের জন্যেও লিসার অতীতের কথা তোলেনি।বরং সবসময় তার খেয়াল রাখে, চাওয়ার আগেই সবকিছু এনে দেয়। আর নিলয়ের বাবা-মা লিসাকে তাদের মেয়ের জায়গাটা দিয়েছে। আর লিসাও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের মত শ্রদ্ধা করে। লিসা মাঝেমাঝে ভাবে, "এতো সুখও আমার ভাগ্যে লেখা ছিল ভাবতেই পারিনি। ভেবেছিলাম সব পুরুষ মানুষ একইরকম। কিন্তু উনি সবকিছু জেনেও যে আমাকে বিয়ে করবে ভাবতেই পারিনি।" আর নিলয় দেখে লিসা মুখ ফুটে কোনোকিছুই চায়না। তাই সে ভাবতে থাকে সব মেয়েরা একরকম হয়না, পৃথিবীতে স্নিগ্ধার মতো লোভী মেয়ে যেমন আছে লিসার মতো ভালো মেয়েও আছে। ধীরেধীরে তারা একে অপরকে ভালবেসে ফেলে। সুখের সংসার হয় দুজনার। দুই বছর পর, রাহুলের বিয়ে হয়েছে দেড় বছর হতে চলল। লিসার সাথে সম্পর্ক ভাংার পাচ মাসের মাথায় সে বিয়ে করে।তার স্ত্রী ভীষণ আলট্রা মডার্ন ।সে প্রায়ই লেটনাইট পার্টি করে, বয়ফ্রেন্ডকে সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এই নিয়ে তার মনে অশান্তির শেষ নেই, দিনরাত ঝগড়া, অশান্তি হতেই থাকে। আজ সে বুঝতে পারে লিসাকে ঠকিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে সে কত বড় ভুল করেছিল। আরেকদিকে স্নিগ্ধার বিয়ে হয় এক বড়লোকের সাথে। স্বামী তাকে অবহেলা করে অন্য মেয়েদের সাথে রিলেশন করে, মদ খায়। কিছু বলতে গেলেই কথায় কথায় মারধোর করে। স্নিগ্ধার মাঝেমাঝে মনে হয় সে জাহান্নামে আছে। আর ভাবে, নিলয়ের সাথে বিয়ে হলে নিলয় তাকে ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতো। এটা ভেবে সে চোখের পানি ফেলে। কাউকে ধোঁকা দিয়ে,ঠকিয়ে সুখী হওয়া যায়না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now