বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঠিক এই মুহূর্তে,
মেয়েটা প্রাইভেটে পড়তে এসে তার ম্যাডামকে জানালো- ম্যাম আজকে পড়াটা হয়নি।
-কেন?
-শরীরটা খুব খারাপ ছিল তার উপর আবার বাবা আর দাদার লুচি খাবার ইচ্ছা হল। এত লুচি বানাতে হল। মা তরকারীটা বানালো।
- দাদাকে বলতে পারতিস, ময়দাটা মেখে দিতে। বা অন্যদিন খেতে।
-মা বলেছে রান্নার কাজ ছেলেদের জন্য নয়। বাড়িতে মেয়ে থাকতে ছেলেদের এই সব কাজ শোভা পায়না। আর তারা আজ যখন মুখ ফুটে খেতে চেয়েছে। তাদের জন্য শরীর খারাপ নিয়েও খাবার বানানোটা কর্তব্য।
ঠিক এই মুহূর্তে,
একজন মা তার ছেলেকে আস্তে আস্তে বলে উঠলেন,"বাবু স্মার্টফোনটা তুমি মাস ছয় বাদে পাবে, আর এটা নিয়ে অশান্তি করেও লাভ হবেনা। কারন তোমার দিদি সেমিস্টারের টাকাটা এই মাসেই দিতে হবে,ওটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। "
ঠিক এই মুহূর্তে,
কলেজের ডিপার্টমেন্টের টমবয় গোছের জনপ্রিয় সুন্দরী মেয়েটি,যার অনেক বন্ধু ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে, প্রকাশ্যে তার সিগারেটেও আপত্তি নেই। আর গালি দিতেও। হঠাৎ তার নামে ছড়িয়ে গেল মিথ্যা গুজব মেয়েটির নাকি বহু ছেলের সাথে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক।
ডিপার্টমেন্টের পড়াশোনায় সবচেয়ে ভালো মেয়েগুলির নির্জনে আলোচনা, "এইবারে বেশ জব্দ হয়েছে। ছেলেগুলো ওর পেছনে বড্ড বেশী পাগল ছিল। কি আছে ওর মধ্যে? এখন মিথ্যা রটনায় কলেজে মুখই দেখাতে পারবে না"।
ঠিক এই মুহূর্তে, (কিছু দিন পর)
গুজব রটানোর মূল মাথাটি কলেজের, সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা পিছলে আছড়ে পড়ে মাটিতে সজোরে। কপাল ফেটে গলগল করা রক্তে ভেসে ওঠে মেঝে। প্রিয় বান্ধবীরা হতচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে। ছুটে এসে টমবয় মেয়েটা ওড়না দিয়ে চেপে ধরে কাটা জায়গাটা, ধমকে বলে ওঠে, " এই শালা সুমন রিক্সাটা ডাক, হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে"।
ঠিক এই মুহূর্তে,
বাসে বসে থাকা মেয়েটা, তার বান্ধবীর হাতটা ধরে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে -একদম এই বুড়িটাকে জায়গা ছাড়বিনা তোর বেলা কেউ ছাড়বে?"
ঠিক সেই মুহূর্তে,
বান্ধবীটি বন্ধুটিকে গ্রাহ্য না করে, সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো-জেঠিমা আপনি বসুন।
ঠিক এই মুহূর্তে,
বিয়ে বাড়িতে কনের গলা জড়িয়ে পাশের বাড়ির কাকিমা বলে উঠলেন, "আমার কিন্তু এটা নিজের মেয়ে!"
একটু পরে বেরিয়ে অবিবাহিতা মেয়েকে পাশে বসিয়ে, পাড়ার এক পরিচিতাকে আস্তে করে বল দিলেন "ছেলেটাতো খুবই ভালো কিন্তু মেয়েটা কালো তো তাই একদম মানায়নি"।
ঠিক এই মুহূর্তে,
মেয়ে হবার পর থেকে মেয়েটির কপালে জুটছিল চরম অপমান আর লাঞ্চনা, শ্বশুর, শ্বাশুরি,ভাসুর, জা এর অকথ্য কথা আর অমানুষিক খাটুনি। একদিন প্রতিবাদ করলো মেয়েটির স্বামী। ফলস্বরুপ সে ত্যাজ্যপুত্র হলো। বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার দিন, কেউ জিজ্ঞাসা করলো না খাবার কথাটুকুও। পাশের বাড়ির জেঠিমা গেট থেকে নিয়ে এল তাদের তিনজনকে, নিজের বাড়িতে। তিনি জানতেন এটাই হবে। তাই ওদের জন্য রান্না করেই রেখেছিলেন।
ঠিক এই মুহূর্তে,
বান্ধবীর ছেলে বেশী নম্বর পেয়েছে শুনে, নিজের ছেলেকে ঘা কতক দিয়ে দিল মা, "আমার সম্মানটা মাটিতে মিশিয়ে দিলি! "
ঠিক এই মুহূর্তে,
কম নম্বর পাওয়া ছেলের চোখ মুছিয়ে মা টি শিক্ষা দিলেন, "তুই তোর মতো চেষ্টা করেছিস। পাগল ১ বছর তুই কত নম্বর পেয়েছিলি সেটাই ভুলে যাবি। তুই অনেকদিন আঁকিস নি। মাকে একটা আঁকা গিফটদে দেখি। "
ঠিক এই মুহূর্তে,
ছেলের জন্য মেয়ে দেখতে এসে, মহিলাটি বেশ টিপেটুপে মেয়েটির হাত দেখলেন হাতের লেখা দেখলেন....মাথায় হাত বোলানোর অছিলায় চুলটা আসল কিনা দেখলেন.... তারপর বললেন এই মেয়েকে তার ছেলে উদ্ধার করে দেবে লাখ পাঁচেকের বিনিময়ে....
ঠিক এই মুহূর্তে,
হবু বউমা বাইক চালাতে পারে জেনে, শ্বাশুড়ি বলে উঠলেন, "আরে বেশ বেশ! সব কিছু শিখে রাখা ভালো। কখন কিসের দরকার পরে যায়! "
ঠিক এই মুহূর্তে,
ধনী বাবা মার অতি আদরে বিগড়ে যাওয়া মেয়েটা, অভাবী স্বামীর সাথে সামান্য ঝগড়াকে বিশাল বানিয়ে, মিথ্যা ৪৯৮ এ ধারায় গ্রেপ্তার করালো ছেলেটাকে। চাকরী গেল। এক গভীর রাতে ছাদ থেকে লাফ মেরে ছেলেটাও গেল।
ঠিক এই মুহূর্তে,
বেকার ছেলেটাকে মেয়েটা বললো, সময় নাও। বিয়ে তোমাকেই করবো।
ঠিক এই মুহূর্তে,
ছাত্রির শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত শিক্ষিত স্বামীকে আড়াল করে নিকটমহলে, স্ত্রী বলতে থাকলেন "মেয়েটার চরিত্র ভালো ছিলনা,ঢলানি স্বভাব ছিল"....
ঠিক এই মুহূর্তে,
ইভটিজিং এ অভিযুক্ত ছেলেকে প্রকাশ্যে চড় মেরে মা টি গর্জে উঠলেন, "আমার লজ্জা হচ্ছে এমন ছেলের মা হয়ে,তোর শাস্তি হোক"
ঠিক এই মুহূর্তে,
সার্জেন্ট বাপি সেনের মৃত্যু হয়েছিল যেই মেয়েটার রেপ হতে বাধা দিতে গিয়ে, আততায়ীদের আঘাতে।যে মেয়েটা বাপি সেনের মা বউ এর চরম আকুতিতেও প্রকাশ্যে আসেনি, নিজের সম্মানের কথা ভেবে....এখন হয়তো সুখেই জীবন কাটাচ্ছে।
ঠিক এই মুহূর্তে,
মুম্বই এর নিষিদ্ধ গলি থেকে, পুলিশের সাহায্যে, এক ঝাঁক পাচার হওয়া নাবালিকাদের নিয়ে মাথা উঁচু করে বেড়িয়ে আসছেন,ডঃ সুনিথা কৃষ্ণন ....১২ বছরে বয়সে গ্যাংরেপড হন উনি.....তারপর একসময় গড়ে তোলেন এন জি ও "প্রজ্জ্বলা"......প্রতি বছর অজস্র অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া প্রাণগুলি বেড়িয়ে আসছে আলোর স্রোতে তার হাত ধরে.....
ঠিক এই মুহূর্তে,
লেখক মাথা পেতে স্বীকার করে নিচ্ছে, এই সমাজ প্রবল পুরুষতান্ত্রিক। কিন্তু তার দায় কি একা শুধু পুরুষেরই? একটা মেল শভিনিষ্ট একটা মেয়ের জীবনে আসতেও পারে আবার নাও আসতে পারে। কিন্তু বাস্তব জীবনে একটা মেয়েকে কিন্তু একাধিকবার মানসিক ভাবে পর্যদুস্ত হতে হয় অপর কোনো মহিলার কাছেই-তার শিক্ষিকা,বন্ধু,আত্মীয়া, এমন কি মায়ের কাছেও। উগ্র নারীবাদি(মৌলবাদি) মহিলা যিনি বলেছিলেন "all men ar potential rapist" তিনি কি এটা ভেবে দেখেছেন কোনদিনও, সমাজে সমানাধিকারীতার জন্য বহু পুরুষও নিজের প্রাণ বিপন্ন করেছেন, এখনো করে চলছেন বার বার। তা সেই সময়ে রাম মোহন- বিদ্যাসাগরই হোক বা অধুনা বাপি সেনরা। তাই পুরুষতন্ত্রকে উৎখাত করতে তাদেরও উচিৎ, নিজের মননের insecurity গুলিকে ভেঙে হাতে হাত ধরে,এক সাথে চলা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now