বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
-জবা,কি হয়েছে তোর?কখন থেকেই দেখছি মন খারাপ,কারো সাথে কথা বলছিস না।চোখ দুটোও ফুলে আছে তোর।কি ব্যাপার?
-কিছুই হয় নি আমার।
-জুইয়ের সাথে কি কিছু নিয়ে ঝগড়া হয়েছে তোর?
-না।
-কিছু একটা তো অবশ্যই হয়েছে।তোকে কখনো এইভাবে চুপচাপ দেখি নি।
-খামাখা এতো কথা ভাবছো!অন্যসময় তো আমিই সারাক্ষণ বক বক করে তোমার আর জুইয়ের কান নষ্ট করি।এখন থেকে না হয় চুপচাপ হয়ে গেলাম।তুমি আর জুই আমার বাড়তি কথা শোনার পিরা থেকেও মুক্তি পাবে।
-বেশী কথা বলছিস কেন?
জবা উঠে গেলো।নিহিলা বললো-
-আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি।না বলে উঠে গেলি কেন?
-কিছু বলতে ভালো লাগছে না আপু।
-এইটুকু বয়সে খুব বড় বড় ভাব ধরা শিখে গিয়েছিস।
-আমি বড় হয়েছি আপু।কতোদিন পর এস এস সি পরীক্ষা দিয়ে কলেজে উঠে যাবো।
নিহিলা সামান্য হেসে বললো-
-বুঝেছি।খুব বড় হয়েছিস যে বড় বোনের কাছেও কথা চেপে রাখতে শিখে গেছিস।
জুই এতোক্ষণ শুয়ে শুয়ে ওদের কথা শুনছিলো।জুই বললো-
-নিহিলা আপু,আমি জানি জবা আপুর কি হয়েছে।
জবা জুইয়ের দিকে কঠিন চোখে তাকালো।জুই আবার নিহিলা আপুর কাছে বলে দিবে না তো সব!জুই রসিকতা করে বললো-
-আমি জবা আপুর মন খারাপের কথা জানি।আপু নিশ্চয়ই আজ অংক স্যারের হাতে মার খেয়েছে।আর নয়তো বাড়ির কাজ করে নি বলে স্যার সবার সামনে আপুকে হাই বেঞ্জে দাড় করিয়ে শাস্তি দিয়েছে।আর নয়তো পরীক্ষার খাতা দিয়েছে।এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটাই জবা আপুর মন খারাপের কারন।তাই না জবা আপু?
জবা রাগান্বিত চোখে জুইয়ের দিকে তাকালো।জুইয়ের রসিকতাও অসহ্য লাগছে।মেয়েটা খুব বেশী কথা বলে।জবা চেঁচিয়ে বললো-
-বাজে কথা বলবি না তো জুই।
জুই বললো-
-আমি কোথায় আবার বাজে কথা বললাম!
-তুই যা বলছি এগুলো কিছুই না।চুপচাপ থাকলেই কারো মন খারাপ হয়ে যায় না।আমি চুপচাপ বসে আছি এর মানে এই না যে আমার মন খারাপ।আমি কি কারন ছাড়া হাহা করে হাসবো নাকি!
নিহিলা বললো-
-জবা,এতো রাগ দেখাচ্ছিস কেন?তোর যে কিছু একটা হয়েছে এইটা আমরা বুঝতে পারছি।জুই তোকে হাসানোর জন্যই কথাটা বলেছিলো।তুই শুধু শুধুই কথায় কথায় রাগ দেখাচ্ছিস।
জবা কিছু না বলেই রুম থেকে চলে গেলো।
.
নিহিলার ফোন বাজছে।ফোনের কল লিস্টে এখন হেমন্তর নামই থাকে।নিহিলা ফোনের আওয়াজ পাওয়া মাত্রই ফোন নিয়ে বারান্দায় চলে গেলো।নিহিলা ফোন ধরে বললো-
-আপনি এতো ফোন করেন কেন?বিয়ের পর তো সারাক্ষণই কথা বলতে পারবেন।
-উহু।বিয়ের আগেই কথা বলার উপযুক্ত সময়।বিয়ের আগে যেই পরিমাণ কথাবার্তা হয়ে থাকে বিয়ের পর তার এক পার্সেন্টও কথা হয়ে উঠে না।বিয়ের পর দেখা যাবে আমরা সংসার নিয়ে দুজন ব্যস্ত হয়ে পরবো।তখন এক সাথে থাকলেও সংসারের ব্যস্ততা আমাদেরকে সময় দিবে না।
-আপনি এতোকিছু বুঝেন কি করে বলবেন?
-এইটা হচ্ছে আমার নতুন একটা থিওরি।ধীরে ধীরে তুমিও এই থিওরি বুঝে যাবে।
-আপনি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে আর বুঝিয়ে কথা বলতে জানেন।
হেমন্ত হেসে বললো-
-তোমাকে আরেকটা কথা তো এখনো জানানোই হয় নি।আমি সপ্তাহে একদিন ফেসবুকের কয়েকটি পাবলিক পেজ থেকে লাইভে এসে লাভগুরু অনুষ্ঠান করি।সেখানে যে যেইভাবে প্রেম বিষয়ক সমাধান চায় আমি তাকে সমাধান দেয়ার চেষ্টা করি।
-আগে ফেসবুক চালাতাম।এখন আমি ফেসবুক চালাই না।
-এই যুগে খুব কম মেয়েই আছে যে ফেসবুক চালায় না।
-কথাটা শুনে কি অবাক হলেন?ভাবছেন এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন যে মর্ডান যুগে বাস করেও ক্ষ্যাত।
-না..মোটেও এইরকম ভাবছি না।
নিহিলা হেসে বললো-
-আমি কিন্তু আপনার ব্রেইন পড়ে বুঝতে পারছি।
হেমন্ত হাসতে হাসতে বললো-
-নট ব্যাড।ব্রেইন পড়ার প্র্যাক্টিস চালিয়ে যাও।তবে একটা কথা,আমার জন্য তোমাকে পরিবর্তন হতে হবে না।তুমি তোমার মতো করেই ঠিকাছো নিহিলা।
-আপনার সাথে কথা বলতে বলতে সাইকিয়াটিস্টের রোগ ছোঁয়াচে হয়ে গেছে আমার।আমি মাঝেমাঝে আপনার মতো করে কথা বলে ফেলি।
-ভারী গুড।আমি যেমন আমার বউয়েরও তেমনি হওয়া উচিত।এইরকম একটা বৈশিষ্ট্য থাকা ভালো।
নিহিলা হেসে ফেললো।হেমন্ত বললো-
-হাসছো কেন?
-আপনার কথা শুনে হাসছি।
-শোনো,তোমাকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটা টিপস দেই।ডেইলী দিনে কমপক্ষে পাঁচবার তিন সেকেন্ড করে হাসার চেষ্টা করবে।তাহলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
-আচ্ছা।ঠিকাছে।
-আচ্ছা বললেই হবে না।পালন করতে হবে।এর আগেও তোমাকে একটা ওষুধ বলে দিয়েছিলাম।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জাগার পর ও রাতে ঘুমানোর আগে দশবার মনে মনে বলবে "আমি বুদ্ধিমান মেয়ে"।আর যখন ভয় তোমার কাছাকাছি থাকবে বা তুমি পাচ্ছ ঠিক ওই মুহূর্তে মনে মনে দশবার বলবে "আমি সাহসী মেয়ে"।এইগুলো কি পালন করো?
নিহিলা ধীরস্বরে বললো-
-মনে থাকে না।
-মন কোথায় থাকে তাহলে?
নিহিলা হেসে বললো-
-কেন?আপনার কাছে আমার মন থাকে।এতোকিছু বোঝেন আর এইটা এখনো বুঝতে পারলেন না?
হেমন্ত হাহা করে হেসে বললো-
-সত্যিই তো,আমি এইটা কেন বুঝলাম না..
নিহিলা হাসলো।হেমন্ত বললো-
-আরেকটা কথা শোনো,আমাকে 'আপনি আপনি' করে বলা আজ থেকে নিষিদ্ধ।
-যদি ভুল করে বলে ফেলি?
-তাহলে জরিমানা হবে।আর জরিমানা হিসেবে থাকবে এক দিন,এক রাত ফোনে ননস্টপ কথা বলে যাওয়া।
নিহিলা হেসে বললো-
-এই জরিমানা পছন্দ হয়েছে আমার।তাহলে বার বার ভুল করবো।
-করো।ভুল করলে শুধরে নেয়ার মন্ত্রও আমার জানা আছে ম্যাডাম।
-সেটা কি?
-এখন বলবো না।বিয়ের পর বলবো।
-এমন কি মন্ত্র যা এখন বলতে পারবেন না কিন্তু বিয়ের পর বলতে পারবেন।
-এর পেছনে একটা বাজে লজিক আছে।এখন বললে মাইন্ড করবে কিন্তু বিয়ের পর বললে মাইন্ড করবে না।বরং শুনে হাসবে।
নিহিলা কিছুই বুঝলো না।শুধু বললো-
-ওহহ..আচ্ছা।
-আর মাত্র আটাশ দিন আছে বিয়ের।
-জানেন,আমার খুব ভয় লাগছে।
-কিসের ভয় পাগলী?
-জানি না কিসের ভয়।
-আমি তো থাকবোই তোমার সাথে।বিয়ে নিয়ে এতো কিসের ভয়?
-বিয়ের আগে এই ভয়টা বেশীর ভাগ মেয়েদেরই হয়ে থাকে।কিন্তু ভয়টা যে কিসের তা কোনো মেয়ে আজ পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারে নি।
-ভয়টা সম্পূর্ন মনের একটা ব্যাপার।আমার দেয়া ভয়ের ওষুধের কথা তুমি আবারও ভুলে গিয়েছো।যখন ভয় পাবে তখন মনে মনে দশবার বলবে "আমি সাহসী মেয়ে"।এখন ভয় লাগলে এখনি এই নিয়মটা স্টার্ট করো।দেখবে নিজেকে হাল্কা লাগছে।
-পরে করবো।
-তোমার এইসবে বিশ্বাস হচ্ছে না?
-না..আসলে এইরকম কিছু না।
-তাহলে এতো সময় নিয়ে কি ভাবছো?যা বলেছি তা করো।এখনি।আমি শুনবো।তুমি স্টার্ট করো।
-ঠিকাছে করছি।"আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে"।
-থামলে কেন?মাত্র তো পাঁচ বার..
-"আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে" "আমি সাহসী মেয়ে"।
-এই তো..ভেরী গুড।
-ভয় তো কাটে নি।
-বিশ্বাস রাখতে হয়।নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো।
নিহিলা হাসলো।আর বললো-
-আপনি একটা পাগল।আমি এখন ফোন রাখি।অনেক্ষণ আপনার সাথে কথা বলেছি।ছোট বোনগুলোর সামনে কথা বলতে এমনিতেও ভালো লাগে না।
-ভয় পাও নাকি লজ্জা পাও?
-দুটোই পাই।ফোন রাখি এখন?
-ঠিকাছে রাখো।তবে প্রমিজ করতে হবে রাতে ফোন করলে ফোনটা ধরতে হবে।
-ঠিকাছে ধরবো।এখন রাখি।
এই বলে নিহিলা ফোন রেখে দিলো।নিহিলা রুমে গিয়ে দেখলো সাবেরা চা নিয়ে এসেছে।দাঁড়িয়ে মুখ টিপে হাসছে।নিহিলা বললো-
-কি হলো হাসছিস কেন?
সাবেরা চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললো-
-কিচ্ছুনা।আমি কিচ্ছু শুনি নাই।
নিহিলা ভ্রু কুঁচকে বললো-
-কি শুনিস নি?
সাবেরা বললো-
-কিচ্ছু না।কানে হাত দিয়া বারান্দায় গেছি।কানে হাত দিয়াই আবার ফিরা আসছি।
নিহিলা এইবার সব বুঝলো।বোকাটা বারান্দায় গিয়েছিলো নিশ্চয়ই।ফোনে কথা বলতে দেখেই হাসছে।নিহিলা বললো-
-তোর হাসি দেখে বিরক্ত লাগছে।যা তো আমার সামনে থেকে।
সাবেরা হাসি থামিয়ে বললো-
-যাইতাসি।
সাবেরা যাওয়ার পর জুইও হাসতে লাগলো।নিহিলা বললো-
-এখন আবার তুই হাসছিস কেন?
-জ্বর হয়ে ভালোই হলো।শুয়ে শুয়ে অনেক লাইভ শো দেখছি।কিছুক্ষণ আগে জবা আপু আর এখন..
এই বলে জুই চুপ হয়ে গেলো আর হাসতে লাগলো।নিহিলা রাগান্বিত স্বরে বললো-
-তোরা সবাই পাগল হয়ে গেছিস।শোন,তোদের একটা ওষুধ দেই।ডেইলী মনে মনে দশবার বলবি "আমি পাগল না"।দেখবি পনেরো দিনের মাথায় তোরা পাগল থেকে সুস্থ মানুষ হয়ে উঠেছিস।
জুই অবাক হয়ে পিটপিট করে তাকিয়ে রইলো।এইবার নিহিলা নিজে নিজেই হাসতে লাগলো।
To Be Continued..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now