বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
অরনিতা রুনার রুমে গেলো পরীকে দেখতে।পরী রুনার সাথে শুয়ে আছে।রুনা ঘুমাচ্ছে কিন্তু পরী শুয়ে শুয়ে পুতুল খেলছে।অরনিতা পরীকে ফিসফিসিয়ে বললো-
-পরী চলো আমরা ছাদে যাই।যাবে আমার সাথে?
পরী হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো।অরনিতা বললো-
-ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামো।নয়তো তোমার দাদুর ঘুম ভেঙে যাবে।
পরী ধীরে ধীরেই নেমে পরলো।পরী অরনিতার হাত ধরে ছাদে উঠলো।পরীকে দেখে খুব মায়া হচ্ছে।অরনিতা পরীকে নিয়ে ছাদে হাটতে লাগলো।এমনসময় উদয়ও এলো।অরনিতা পরীর হাত ধরে ছাদে হাটছে।উদয়কে দেখে অরনিতা চমকে গিয়ে বললো-
-আপনি এইখানে যে?
-তোমাদেরকে আসতে দেখে আমিও আসলাম।
-তা ভালোই করেছেন।আকাশ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিলো।একা একা আকাশ দেখলে আমার মন খারাপ হয়।তাই পরীকে নিয়ে চলে এসেছি।
-আমাকে ডাকলেই পারতে।ডাকলে না কেন?
-আপনি বসে বই পড়ছিলেন।তাই আর ডাকি নি।
-আজ আকাশটাকে অন্যরকম লাগছে।তাই না অরনিতা?
অরনিতা হেসে বললো-
-আচ্ছা,বলুন তো।আপনি কি আমাকে ভয় পান?
-ভয় পাবো কেন?
-প্রত্যেক স্বামীরা তার বউকে ভয় পায়।আপনি ব্যাতিক্রম হবেন কেন?তবে কেন হঠাৎ করে এই কথাটা বললাম,জানেন!আপনি আগে আমাকে 'অরু' বলে ডাকতেন।'অরু' নামে ডাকতে আপনাকে নিষেধ করায় আপনি এখন আর অরু বলে ডাকেন না আমাকে।
-তোমাকে আমি আমার মতো করেই ডাকতে চাইতাম।কিন্তু তুমি 'অরু' নামে ডাকাতেই রাগ হতে।যদি আমার মতো করে ডাকতাম তাহলে হয়তো রেগে আগুন হয়ে যেতে।
-আপনার মতো করে আমাকে ডাকলে কি নামে ডাকতেন আমায়?
-'বউ' বলে আর নয়তো 'বাবুর মা' বলে ডাকতাম।
অরনিতা হেসে ফেললো।পরী এইবার হাত ছেড়ে হাটতে লাগলো।উদয় পরীকে দেখিয়ে অরনিতাকে বললো-
-এইরকম একটা পুতুল আবদার করলে আমাকে এনে দিতে পারবে?
অরনিতা লজ্জিত ভঙ্গিতে হাসতে লাগলো।মেয়েটির এই লজ্জা মিশ্রিত হাসিই যেন দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ হাসিগুলোর মধ্যে একটি।এই মুহূর্তে অরনিতাকে দেখে উদয়ের তাই মনে হচ্ছে।উদয় চুপ হয়ে গেলো।অরনিতা ওকে নিরব থাকতে দেখে বললো-
-কি হলো?হঠাৎ চুপ হয়ে গেলেন যে?
-হিটলার বউয়ের হাসি নিয়ে ভাবছিলাম।
অরনিতা অভিমানী গলায় বললো-
-আপনি আবারও আমাকে হিটলার বলছেন?এখন থেকে আমাকে হিটলার বলা নিষেধ।
উদয় হেসে বললো-
-যদি হিটলারের সাথে বউ যুক্ত করি।তাহলে কি 'হিটলার বউ' ডাকা যাবে?
অরনিতা রাগী রাগী ভাব নিয়ে বললো-
-আপনি আমাকে রাগাবেন না তো।আমি কিন্তু রাগ করে থাকতে পারি।
-উহু।রাগ করে থাকতে পারো না তুমি।তুমি একদিন রাগ করে আমার সাথে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে।মনে আছে?কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে নিজেই ব্যর্থ হয়েছো।কারন তুমি কথা ছাড়া থাকতে পারো না।
-কথা না বলে থাকার প্র্যাক্টিস করছি।
-এই চেষ্টা কখনোই সফল হবে না তোমার।
এই বলে উদয় হাসতে লাগলো।অরনিতা বললো-
-আপনি বোদ্দয়া না দিলে ঠিকই সফল হবো।
-আমি তোমাকে বর্দোয়া দিয়েছি?
-দিয়েছেন।
-কখন দিলাম?
-এই মাত্রই তো দিলেন।
-ঠিকাছে।আরও বেশী করে বর্দোয়া দিলাম।কথা না বলে থাকার চেষ্টা ব্যর্থ হোক তোমার।
অরনিতা বললো-
-আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই।
উদয় হেসে বললো-
-একটু পরই আমার সাথে আবার কথা বলতে চলে আসবে।তখন কিন্তু আমি কথা বলবো না তোমার সাথে।বলে দিলাম।
অরনিতা ভাব নিয়ে বললো-
-ভুল ধারণা আপনার।আমি আপনার সাথে কথা বলতে আসবোই না।
অরনিতা পরীর হাত ধরে বললো-
-চলো পরী,এখান থেকে চলে যাই।তোমাকে আজ ব্যাঙ রাজকুমারের আরেকটা গল্প শোনাবো।
অরনিতা পরীকে নিয়ে নিচে নেমে পরলো।উদয় ছাদে দাঁড়িয়ে একা একা হাসতে লাগলো।মেয়েটির এই রাগী ভাবটা হচ্ছে তার সৌন্দর্যের আরেকটি অপরুপ দৃশ্য।এই দৃশ্যপট এখন বার বার দেখতে ইচ্ছে হয়।খুব বেশী দেখতে ইচ্ছে হয়।
.
.
নিহিলা ঘর গোছাচ্ছে।কিছুদিন পরই এই বাড়ি বিয়েবাড়িতে পরিণত হবে।তাই এইখানে গোছগাছ আর পরিপাটির আলাদা একটা ব্যাপার আছে।হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো।নিহিলা সাবেরাকে চেঁচিয়ে বললো-
-দরজা খুলে দে তো সাবেরা।
কিছুক্ষণ পর সাবেরা এসে নিহিলাকে বললো-
-বুবু,রুমন স্যার আসছে।
নিহিলা অবাক হয়ে বললো-
-এখন এসেছে কেন?জুই পড়তে পারবে না অসুস্থ আর জবা স্কুলে গেছে।তা তো সে ভালো করেই জানে।এই সময়ে আসলো কি কারনে?
-ক্যামনে কমু?মনে হয় কিছু কইতে আইসে।
-তাকে বসতে বলেছিস?
-হু।ড্রয়িং রুমে বইসা আছে।
-ঠিকাছে।দেখছি আমি।তুই গিয়ে তার জন্য চা বানিয়ে আন।
নিহিলা ড্রয়িংরুমে গেলো।রুমন ড্রয়িং রুমে বসে আছে।নিহিলাকে দেখে নড়ে বসলো।নিহিলা বসে বললো-
-কেমন আছেন?
-জি ভালো।আপনি ভালো আছেন তো?
-হ্যা।কিন্তু আপনি এখন আসলেন যে..!জবা স্কুলে আর জুইয়ের জ্বর।সন্ধ্যায় আসলে শুধু জবাকে পড়াতে পারবেন।
রুমন শুকনো গলায় বললো-
-আমি আসলে পড়াতে আসি নি এখন।বিদায় নিতে এসেছি।
-মানে?বুঝলাম না।
-আমি আজ সিলেট চলে যাবো।আমার চাকরি হয়েছে সেখানে।সন্ধ্যায় আসতে পারবো না বলে এখনি বিদায় নিতে চলে আসলাম।
-কিন্তু জবা আর জুই তো..
-আপনি ওদেরকে বলে দিলেই হবে।
-আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।হয়তো জানেন।আপনার সাথে মাঝেমাঝে বন্ধুর মতো কথাই বলে গেছি।আপনাকে বন্ধুর মতোই ভাবি।আপনি আমার বিয়েতে আসলে আমি খুশি হবো।
কথাটা শোনা মাত্রই রুমন থমকে গেলো।কষ্টকে ঢাকবার জন্যই দূরে সড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছিলো এই টিউশনি ছেড়ে।রুমন নিজেকে সামলে নিয়ে বললো-
-আসবো।আপনার নতুন জীবনের জন্য অনেক শুভ কামনা রইলো।
নিহিলা সামান্য হেসে বললো-
-থ্যাংক ইউ।
-আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
-করুন।
-আপনি কি এই বিয়েতে খুশি?
নিহিলা চমকে গিয়ে বললো-
-জি..
-আপনাকে যে পাবে সে খুব ভাগ্যবান।
হুট করে তার এই কথা বলার অর্থ নিহিলা বুঝে উঠতে পারলো না।নিহিলা কিছুটা অবাক হয়ে বললো-
-ভুল বললেন।সবাই তার নিজ নিজ স্থানে ভাগ্যবান-ভাগ্যবতী।
রুমন কঠিন চোখে তাকিয়ে বললো-
-আমি তা বিশ্বাস করি না।
নিহিলা অবাক হলো।লোকটি হঠাৎ এইরকমভাবে কেন বলছে!নিহিলা প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বললো-
-সিলেট গিয়ে আমাদেরকে ভুলে যাবেন না তো!কখনো যদি এইখানে আসা হয় তাহলে আমাদের বাড়িতে আসবেন?
-কোন বাড়িতে আসবো!আপনার শ্বশুর বাড়িতে নাকি এই বাড়িতে?
-না মানে..আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে এইখানে কখনো আসলে জুই জবার সাথে দেখা করে গেলে ওরা খুশি হবে।অনেক বছর যাবত পড়িয়েছেন ওদেরকে।আজ ওদের সাথে দেখা না করেই হঠাৎ চলে যাবেন..
-এইখানে আসবোই বা কেন?আসার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।
এই বলে রুমন উঠে পরলো।নিহিলা কিছু না বুঝেই বললো-
-বসুন।সাবেরা চা বানাচ্ছে।চা খেয়ে যান।
-চা খাবো না।এক গ্লাস পানি দিন শুধু।
নিহিলা উঠে গেলো পানি আনতে।গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে এসে দেখলো রুমন ড্রয়িং রুমে নেই।নিহিলা আবারও অবাক হলো।দরজা খোলা।লোকটি চলে গেছে।
.
.
স্কুল থেকে এসে রুমন স্যারের চলে যাওয়ার ব্যাপারটা শুনেই জবা কেঁদে যাচ্ছে।নিহিলা এসে জিজ্ঞেস করলো-
-কি রে জবা..তোর চোখ এতো ফুলে আছে কেন?মন খারাপ?কেঁদেছিস?
জবা কোনো জবাব দিলো না।নিহিলা যখন রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো ওই মুহূর্তে জবা ওর লক করে রাখা ড্রয়ার খুলে জ্যামিতি বক্সের ভেতর থেকে চিঠি বের করে চিঠিটা নিয়ে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেললো।জুই শুয়ে শুয়ে বললো-
-আপু,তুই কি করছিস এসব?শান্ত হয়ে বস।
জবা কাঁদতে কাঁদতে বললো-
-তোর তো খুশি হওয়ার কথা।আমাকে কাঁদতে দেখে তোর সবচেয়ে বেশী খুশি হওয়ার কথা।
-কি বলছিস আপু এসব?
-স্যারের চলে যাওয়ার ব্যাপারটা তুই আগেই জানতি।সব জেনেও আমাকে কিছু বলিস নি।তাই না!
-কি বাজে কথা বলছিস আপু!আমি জানবো কি করে!স্যার যখন বিদায় নিতে এসেছে তখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম।স্যার নিহিলা আপুকে বলে চলে গিয়েছে।
-তোর জন্য আমি ওইদিন চিঠিটা দিতে পারি নি।
-যা হয়েছে ভালোই হয়েছে।
-কিছুই ভালো হয় নি।মিথ্যা সান্ত্বনা আমাকে দিস না প্লিজ।
-ঠিকাছে।তবে তুইও জেনে রাখ আপু রুমন স্যার তোকে কখনোই অন্য চোখে দেখে নি।তুই সবসময় একটা নামহীন ভালোবাসায় বসবাস করে এসেছিস।
-আমাকে কিছু শিখাতে আসবি না জুই।
-তোকে কিছুই শিখাচ্ছি না আপু।আমি যা বুঝেছি তুই তার কিছুই বুঝিস নি।
-কি বুঝেছিস!শুনি।
জুই বলতে গিয়েও বললো না।রুমন স্যার মনে মনে নিহিলা আপুকেই পছন্দ করেছে।নিহিলা আপুর বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারনই হচ্ছে তার হুট করে চলে যাওয়ার কারন।
জবা চেঁচিয়ে বললো-
-কি হলো বলছিস না কেন?কি বুঝেছিস?
জুই নিচু স্বরে বললো-
-কিছু না আপু।আমি আসলেও কিছুই বুঝি নি।অযথা বাড়াবাড়ি করছি।
জবা আর কিছু বললো না।মুখ ঢেকে কেঁদে গেলো।
To Be Continued..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now