বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছবি থেকে শোনা দু’টি অনুগল্প

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD.Belal Hosan (০ পয়েন্ট)

X এক ছোট বোনের আঁকা এই ছবিটা চোখে পড়লো সকাল। AfrinJahanArtলিখলাম “ছবি দেখার সময়, অনেক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই সেটা দেখি। এই যেমন: শিল্পির হার্ডওয়ার্ক, ক্রিয়েটিভিটি, কালার কম্বিনেশন, টেক্সচার, ইত্যাদি। এর যে কোনোটাই দর্শক হিসাবে আমাকে আকৃষ্ট করলে, ছবিটা দীর্ঘক্ষন নিয়ে দেখে যাই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আন্দোলিত হই, যখন প্রথম দর্শনেই ছবিটা একটা গল্প শোনায়। তখন শুধু ছবিটা দেখেই ক্ষান্ত হই না, তা মনের মধ্যে গেঁথে যায় গল্পটা সহ। সামনে না থাকলেও ছবিটা ভেসে ভেসে ওঠে মনের পর্দায়। তোমার এই ছবিটার বিশেষত্ব হলো, এটা আমাকে একটা না, দুই-দুইটা গল্প শুনিয়েছে। আর তাই সেগুলা বলতেই এই কমেন্টে আগমন। শুনবা, গল্পগুলা?” ছোটবোন তখন গল্প শুনতে আগ্রহ দেখালো। এই দুইটা অনুগল্প লিখে পাঠালাম তাঁকে গল্প-১: সংশয় অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা রেস্তোরায় গিয়ে পৌছুলো নীলা তাদের উইকএন্ড আড্ডায়। সবাই তখনো এসে পৌছেনি। কিন্তু আজও সমির ঠিকই এসে অপেক্ষা করছে। আর নীলাকে দেখে আজও ওর মুখেটা খুশিতে একইভাবে আলোকিত হয়ে উঠলো। নীলার চোখ এড়ালো না। বাকিরা এসে পৌছুনোর আগে আটপৌরে আলাপই চললো ওদের মধ্যে, যা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বারুনোর পর গত দশ বছর ধরে চলে আসছে। আড্ডা ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ঘড়ির কাটা প্রায় বারো ছুই ছুই করছে। আজ নীলা দেখলো, সমির অন্য দিন থেকে একটু ভিন্ন। বেশ ক’সপ্তাহ ধরেই সে বুঝতে পারছে, সমির কিছু বলতে চায়, আজ কি সেই দিন, কিছু একটা বলার? আজো বাসায় ফেরার সময় সমির লিফট দিল। কিন্তু অন্যদিনের মত বকবক করছে না। সারা গাড়ি জুড়ে থমথমে নিরবতা। নীলা বুঝতে পারছে, সমির প্রস্তুতি নিচ্ছে কিছু একটা বলার জন্য। কিন্তু নীলা বুঝতে পারছে না, সে নিজে কি প্রস্তুত, শোনার জন্য? নীলা বোঝে, “চুপ করে আছিস, যে? কিছু বল?” বা এজাতিয় কিছু বললেই আজ সমির উগরে দেবে তাঁর যাবতিয় মনের কথা, কিন্তু বলি বলি করেও সেটা বলা হয়ে ওঠে না তাঁর। গাড়ি পৌছে যায়, তাঁর বাসার গেইটে। নিঃশব্দে নেমে যেতে যেতে নীলা বলে, “আরেকদিন শুনবো তোর কথা। আজ বাই…” সম্বিত ফিরে পেয়ে কিছু বলতে গিয়ে সমির দেখে ততক্ষনে গেইট পেরিয়ে গেছে নীলা। নিজের কক্ষে গিয়ে পোষাক ছাড়তে ছাড়তে নীলা ভাবে, কাজটা কি ঠিক হলো তাঁর??? গল্প-২: ক্লান্তি “ঐ যে দোলা এসে গেছে। আর কোনো চিন্তা নাই কারো……” ঢোকার সময় কথাটা কানে এলো দোলার। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো, কথাটা বলেই কি নিশ্চিন্ত একটা হাসি মুখে এঁকে বসে আছে মিতু। “হ, আমিই তো হৈলাম তোদের কামলা। আমি সব সামাল দেবো, আর তোরা খালি পায়ের উপ্রে পা তুইলা মজা নিবি”। কপট রাগ দেখিয়ে এগুতে এগুতে বলে দোলা। “ডার্লিং, মাইন্ড খাইস ক্যান? তুই তো জানিসই যে তোর জন্যই আজ এত কিছু। তুই না থাকলে আমরা আজ কোথায় ভেসে যাতাম যে যার মতো। এই যে ক’বছর ধরে তুই আমাদের বেঁধে রেখেছিস, মাসে মাসে এভাবে ডেকে ডেকে, তার জন্য আমরা শুধু কৃতজ্ঞই না ঋণীও”। “বুঝছি, বুঝছি, ঐ একই প্যাচাল আবার শুরু করবি। তারচেয়ে এসে হাত লাগা, সব ঠিক ঠাক করি আগে। একটু দেরী হয়েছে আমার, আর কেউ কিছুই দেখি রেডি করিস নাই। টূ ব্যাড!!” বলতে বলতে বসার এরেঞ্জমেন্ট ঠিক করতে, রান্না-বান্নার অগ্রগতি তদারক করতে এগিয়ে যায় দোলা। মাসিক এই আয়োজনটা ক্লাবের রেস্তোরায় করছে বেশ কিছুদিন ধরে। ওরাও আজকাল জেনে গেছে, কি কি চাহিদা দোলা ম্যাডামের। খুব একটা কিছু আজকাল করতে হয় না তাঁকে। তবুও যা যা করে, মনের সবটুকু ভালবাসা উজার করেই, মনের আনন্দেই তা করে সে। আজও এতে কোনো ব্যাতিক্রম হয় না দোলার। সবাইকে আগে থেকে জানানো, ভেন্যু-মেন্যু ঠিক করা, এডভান্স দেয়া, সকালে সবাইকে রিমাইন্ড করা, কস্ট এস্টিমেট করে জানানো, টাকা কালেক্ট করা, আর সবশেষে বিলটিল দিয়ে সবাই কে বিদায় করে সবার শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়া। পুরো কাজটা এতটাই উৎসাহ আর উদ্দিপনার সাথে সে করে যে কে বুঝবে, এ কাজটা শেষে ওর মনের অবস্থা কেমন হয়? আসলেই তো, সেটা বোঝা কি আর ওদের কারো পক্ষে সম্ভব? সম্ভব না। কারন ওরা কেউ তো আর মেলা ভাঙ্গার পর ওর সাথে বাসায় ফিরবে না। ওরা সবাই মেলা ভাঙ্গার উত্তেজনা নিয়ে স্বামী-সন্তানসহ বাসায় ফিরবে, আর এই ফুর্তিটা এবং উইক এন্ডটা সেলিব্রেট করবে বাচ্চাকে দ্রুত ঘুম পড়িয়ে। সকালে উঠে দেখবে ভাইবারে একে একে ফিরিস্তি আসছে সারারাত ধরে কে কবার কি কি ভাবে সেলিব্রেট করলো আজকের এই গেট টুগেদারের আনন্দ। ওদের এসব ভাইবার আলাপে দোলার কোনো পার্টিসিপেশন থাকে না। পার্টিসিপেট করার মত কোনো কথাও যে নেই তাঁর কাছে। দোলা জানে বাসায় ঢোকার পর রাজ্যের ক্লান্তি এসে ভর করবে শুধু তাঁর দেহেই না, মনেও। কি ভাবে যে তা কাটবে, তাও জানে না সে। ক্লান্তি কাটাতে নয়, ভুলতে, হয়তো দু’টো টাকিলা শট নিয়ে এভাবেই বিছানায় গা এলিয়ে দেবে সে। নয়তো একটু হালকা হয়ে, কেওয়াই জেলিটা হাতে নিয়ে কম্ফোর্টারের নীচে ঢুকে যাবে………


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now