বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চোখে কাজল দিতে দিতে আয়নার দিকে তাকিয়ে হাসে অস্মি! নিজের চোখ দেখে নিজেই প্রেমে পড়ে যায় সে। সেও ভালো করে জানে আজ অরণ্য পাগল হয়ে যাবে চোখ দেখে। অরণ্যকে হাড়ে হাড়ে চেনে সে। বাঁকা হাসি হেসে মোবাইল আর পার্সটা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোয় অস্মি।
সরোবরের ধারে পৌঁছে দেখে অরণ্য হাজির ঠিক আগেই। তাকিয়ে হাসে অস্মি। নাহ! বুঝে কথা বলতে হবে। অরণ্য কে চাই তার। এই নিয়ে অরণ্যকে তিনবার আনঅফিসিয়ালি ছেড়ে গেছে সে। যতবার ফিরেছে ততবার ফিরিয়ে নিয়েছে অরণ্য তাকে। এক কমন ফ্রেণ্ড সৌমিতার মাধ্যমে পরিচয় অরণ্যর সাথে। ফেসবুকে কথা হয় প্রথম। তারপর ফোনে। দুদিনেই বুঝতে পারে অরণ্য দূর্বল হয়ে গেছে ওর প্রতি। অস্মিও মজেছে অরণ্যতে ততক্ষণে! সৌমিতার কাছ থেকে সব খবর নিয়ে তারপর সম্পর্কে আসে অস্মি।
বেশ সুন্দরী অস্মি। ছেলে বন্ধুরা সব পাগল ওর জন্যে। মাঝে মাঝে অস্মিও নিজের তাল হারায়। জড়িয়ে যায় কারুর না কারুর সাথে! কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ফিরে আসে ঠিক অরণ্যর কাছে। ছেলেটা বড্ড সহজ, সরল! সব জেনেও আবার ফিরিয়ে নেয় অস্মি কে! মাঝে একবার সৌমিতা অরণ্যর ব্যাপারে জিগ্যেস করায় অস্মি বলেছিল, “ ছেলেটা অতিরিক্ত সহজ সরল, ঠিক করে মানুষ চেনেনা! এত অপরিণত!! আমাকে কিকরে বুঝবে??!! এই যে আমি ওর কাছে বারবার ফিরে যাচ্ছি আর ও ফিরিয়ে নিচ্ছে, একে বোকামি ছাড়া আর কি বলা যায়!! এমন বোকার সাথে সারাজীবন কাটানো??!! এত মেরুদণ্ডহীন! না বাবা না! ও অসম্ভব!” প্রত্যুত্তরে সৌমিতা কি বলেছিল আজ আর মনে পড়ছেনা অস্মির!!
নাহ! একটু দুঃখী মুখ করতে হবে! চোখের কাজলটা একটু ঘেঁটে নেয় অস্মি! ওর চোখে কাজল ঘাঁটা আর অরণ্যর সেটা চোখে পড়বেনা আর অরণ্য সেটা ঠিক করবেনা এ হতেই পারেনা!
“কি হয়েছে তোমার মিতু?” অস্মিতা, অস্মির পুরো নাম। মিতু বলেই ডাকে ওকে অরণ্য। আদরের ডাক। “চোখের কাজল অমন ঘাঁটা কেন? কাঁদছিলে বুঝি?” এক টানে বলে অরণ্য।
নাহ! ওর চোখে পড়েছে ঠিক। নিজের পিঠ চাপড়ে নেয় মনে মনে অস্মি। একটু চাতুরি সে করেছে ঠিকই, কিন্তু এবার তো সে সত্যিই পাকাপাকি ভাবে ফিরতে চায় অরণ্যর কাছে। দুজনে একটা বেঞ্চে বসে পড়ে। পকেট থেকে রুমাল বার করে এগিয়ে দেয় অরণ্য। “কাজল টা ঠিক করে নাও মিতু।“
পুরোনো একটা ঘটনা মনে পড়ে অস্মির। সেদিনো এমন বিকেল ছিল। বিনা কাজলে এসেছিল সে। অরণ্য বলেছিল তার চোখ কাজল ছাড়া মানায় না। “যদি কাজল না থাকে আমার, তবে?!” বলেছিল অস্মি। “তবে আমি কাজল হয়ে যাবো মিতু!” আদর মাখানো গলায় বলেছিল অরণ্য। ন্যাকামি যত্ত! মনে মনে হেসেছিল অস্মি! আজ ও হাসি পেল আবার। ছেলেটা এত্ত বোকা!
“বলো কি হয়েছে?” অরণ্যর প্রশ্নে সম্বিত ফেরে অস্মি’র।
“আমি তোমার কাছে থাকতে চাই, তোমাকে চাই। আমি জানি তোমার মত করে আমায় কেউ ভালোবাসবে না। তুমি ছাড়া কেউ আমায় বুঝবে না। কেউ আমার খেয়াল রাখতে পারবে। কেউ আমায় সামলাতে পারবেনা। সাপোর্ট করবেনা। তুমি ছাড়া অসম্পূর্ণ আমি অরণ্য। আমি তোমার কাছে ফিরতে চাই পাকাপাকি। এই শেষবারের মত স্বীকার করে নাও আমাকে।“ বলা থামায় অস্মি। চোখ ভিজে গেছে তার।
“জল খাও! শান্ত হও মিতু” জলের বোতল এগিয়ে দেয় অরণ্য। ঢক ঢক করে সব জল শেষ করে অস্মি। চারিদিক প্রায় চুপচাপ। এদিক ওদিকে প্রেমিক প্রেমিকারা বসে গল্প করছে কেবল। আর সরোবরের জলে ঢেউ বাতাসের হাল্কা ছোঁয়ায়। চাঁদের প্রতিবিম্ব কাঁপছে ঢেউয়ে। “চলো, ওঠা যাক এবার। অনেকটা যেতে হবে আমাকে। তুমিও তো ফিরবে।“ বলে অরণ্য।
অবাক হয় অস্মি। এই প্রতিক্রিয়া??!! “তুমি কিছু বলবে না!!??” হতভম্ব ভাবে জিগ্যেস করে অস্মি।
“ নাহ! কিছু বলার নেই আমার।“ অরণ্যর গলার স্বর শুনে চমকে যায় অস্মি। এত নরম ভাবে কথা বলা ছেলেটার গলায় এত দৃঢ়তা এলো কি করে?!
“আমার কিছুই বলার নেই। নিজের অনুভূতি কে, ভালোবাসাকে বারংবার অপমান হতে দেবার মত মানুষ আমি নই। আমার সরলতা তোমার কাছে বোকামি হতে পারে, আমার ভালোবাসা, আদর তোমার কাছে ন্যাকামি হতে পারে। কিন্তু আদতে তা নয়। আর দশটা ছেলের মত সহজলভ্য ভেবোনা আমায়। আমি সহজ হয়েছিলাম কারণ আমি ভালোবাসতাম তাই। আমি নরম হয়েছিলাম কারণ তুমি ভালোবাসা আমার তাই। আমি সাধারণ হয়েছিলাম কারণ তুমি হৃদয় আমার তাই। আমার অস্থিরতা কে তুমি গায়ে মাখোনি। আমার অনুভূতি কে তুমি ন্যাকামির নাম দিয়েছ। আমার নিজেকে বিলিয়ে তোমাকে চাওয়া কে তুমি বোকামির নাম দিয়েছ। কিন্তু অরণ্য কোন খেলনা নয় যে তুমি যখন খুশি আলমারী থেকে বার করবে আর নিজের ইচ্ছে মত খেলবে। তোমার কাছে হয়তো অনেক অপশান আছে, কিন্তু বিশ্বাস করো আমি অপশান নই। আমি অরণ্য, এই আমার অস্তিত্ব। সেই অস্তিত্ব কে সঁপেছিলাম তোমায়, কারণ হৃদয় থেকে চেয়েছিলাম তোমায়। মস্তিষ্ক থেকে নয়। তাই বারংবার ফিরিয়ে নিয়েছি তোমায়। না রাগ নেই তোমার উপর। রাগ ও একটা অনুভূতি ওটাও আসেনা তোমার জন্যে।“ হতচকিত হয়ে যায় অস্মি। সে স্বপ্নেও ভাবেনি এই অরণ্যকে দেখবে। তার আন্দাজ ই ছিলো না যে এত দৃঢ় ব্যক্তিত্ব আছে ছেলেটার।
“আমি মানছি আমি ভুল করেছি, কিন্তু আজ তো আমি তোমাকে ভালোবাসি সত্যি ই। আজ তো মিথ্যে নেই আমার চোখে। তুমি নিজেই তো বলো, চোখ নাকি হৃদয়ের আয়না। সেখানে সব দেখা যায়। তুমি কি তোমার মিতু’র চোখে ভালোবাসা পাচ্ছো না?” ধীরে ধীরে বলে অস্মি।
“যে অরণ্য তোমার চোখে ভালোবাসা খুঁজেছিল সেই অরণ্যকে অবহেলা করেছ তুমি মন প্রাণ দিয়ে। আর আজ তাকে হৃদয় দিয়ে চাইলে হবে অস্মিতা? সেই অরণ্যকে তো আর পাওয়া যাবেনা অস্মিতা। সে তোমার অপশান দের ভিড়ে থাকতে ভালোবাসেনা!” বাঁকা হাসি হাসে অরণ্য কথা গুলো বলে। অস্মিতা অবাক হয়ে যায়, ছেলেটা কি ম্যাজিক জানে। ওর মধ্যে থাকা অরণ্যর প্রতি অনুভব গুলো জানলো কি করে!? কিভাবে ভেতর অব্দি পড়ে ফেললো অরণ্য? ও ভয় পায় রীতিমত এবার।
“ভাবছ বুঝি, যে কিভাবে জানলাম তোমার ভেতরকার কথা গুলো? খুঁজতে যেও না! অরণ্য কে ধরা তোমার সাধ্যে নেই। যেমন ভাবে ঐ পুকুরের জলে ভাসা চাঁদের প্রতিবিম্ব কে ধরা ঢেউয়ের সাধ্যে নেই! ” স্থির হয়ে বসে থাকে অস্মি অরণ্যর কথা শুনে। কথা খুঁজে পায়না আজ সে। এত নিরীহ ছেলে যে এত দৃঢ় ভাবে কথা বলতে পারে সেটা স্বপ্নেও ভাবেনি। তার মনে হয় অরণ্য যেন তার গালে থাপ্পড় মেরেছে।
“নাহ! মেয়েদের গায়ে হাত তোলার শিক্ষা দেয়নি মা আমায়! আসি তবে! অনেকটা পথ একলা যেতে হবে! ভালো থেকো অস্মিতা” অরণ্যর কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় অস্মি। ঝাপসা চোখে মনে পড়ে অরণ্যর ব্যাপারে বলা সৌমিতার প্রত্যুত্তর টা। “ অরণ্য মানুষের ভেতর অব্দি পড়ে ফেলতে পারে। মানুষ চেনে না বলিসনা অস্মি! কেবল যাকে ভালোবাসে তার চোখ পড়বার চেষ্টাই করেনা। অরণ্য বলে, ভালোবাসা বুঝবার জন্যে ভালোবাসাই যথেষ্ট। সেখানে চোখ পড়ে সতর্ক হবার দরকার নেই। ওটা আমি ভালোবাসার মানুষ ছাড়া সবার ক্ষেত্রে করি।“
ঝাপসা চোখে সরোবরের দিকে তাকায় অস্মি! তখনো ঢেউইয়েরা চাঁদের প্রতিবিম্ব কে ধরবার চেষ্টা করে যাচ্ছে!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now