বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রাপ্তির প্রাপ্যতা___

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Shohidul Islam Sahid (০ পয়েন্ট)

X বিকেল বেলা কেন জানি ছাদে যাওয়াটা আমার একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে।না গেলে মন ভাল থাকেনা। আর মন ভাল না থাকার আর একটা কারন ও আছে।সেটা হল দিহান আর দিহানের লাভ বার্ড।দিহানের মতই ওর পাখি গুলা অনেক কিউট।একদম যেন কিউটের ডিব্বা। . প্রতিদিন দিহান বিকেল বেলা ছাদে যাই ওর পাখি গুলা নিয়ে।একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন নিয়ে আসো পাখিগুলা?তখন গাধাটা আমাকে যা বলল তাতে আমি পাগল হয়ে গেলাম।গাধাটা নাকি পাখিগুলাকে বিকেল বেলার গোধুলি লগ্ন দেখাতে নিয়ে আসে।মানুষের মতই নাকি পাখিগুলারো গোধুলি লগ্ন দেখতে ইচ্ছে করে। মানুষ কত শখ করে ভালবাসার মানুষকে নিয়ে বিকেল বেলাই গোধুলি লগ্ন দেখতে আসে,ভালবাসা ছড়াতে আসে আর এই গাধাটা ভালবাসার মানুষকে না নিয়ে এসে পাখি নিয়ে আসে।এই সব কাজের জন্যেইতো আমি ওকে গাধা বলে ডাকি।যত্তসব আবোল তাবোল ভাবনা ওর। . একি ফ্লাটে থাকার ফলে ওদের সাথে আমার পরিচয়। আমার পরিবারের সাথে ওর পরিবারের অনেক মিল কিন্তু ওর সাথে আমার কোন মিলই নাই।মিল কেমনেই হবে বলুন? গাধারা কি ভালবাসার কিছু বুঝে?যদি বুঝতোয় তবে আমার অঙ্গভঙ্গি বুঝতো।কিইনা করেছি ওকে বোঝানোর জন্যে।কিন্তু আমি ব্যার্থ। . একবার চিন্তা করলাম আগের সব কিছু বাদ।নতুন ভাবে ওকে বোঝাতে হবে যে আমি ওকে ভালবাসি।একদিন গাধাটা ছাদে প্রতিদিনের মতই পাখি দম্পতিদের নিয়ে গোধুলি লগ্ন দেখতে ছিল।আমি একটা ছোট্ট ইটের মধ্যে একটা চিরকুট ভাজ করে ওর দিকে ছুড়ে মারলাম আর আমি ছাদের আড়ালে লুকিয়ে গেলাম।হালকা ইটের ওই চিরকুট্টি গাধাটার গায়ে গিয়ে পড়ল আর গাধাটা মাগো মা বলে চিল্লিয়ে উঠল।আমি হাসি আর ঠেকাতে পারিনা।মানুষ এতটা গাধা হতে পারে তা ওকে না দেখলে বোঝা যাইনা।কিন্তু এই গাধার প্রেমেই আমি হাবুডুবু খাচ্ছি।ইট থেকে চিরকুটটা বের করে গাধাটা ছাদ থেকে নিচে চলে গেল।আমিও কিছু সময় পরে নিচে গিয়ে দেখি গাধাটা ওর আম্মুর হাতে চিরকুটটা দিয়ে দিয়েছে। ভাগ্যিস কোন নাম লেখা ছিল নাহ।আমি না বোঝার ভান করে আন্টির কাছে গিয়ে বললাম, --কি হইছে আন্টি? . আন্টি বলল, --দেখ উরমি,আমার গাধা ছেলেটাকে কে যেন চিরকুট দিয়েছে।আমিতো ভাবতেই পারছি নাহ।আমার এই গাধা ছেলেটাকে কে ভালবাসবে?চিঠির নিচে নাম লিখলে তো তাকে আগেই দেখে আসতাম। . আমি হেসে ফেললাম।আমার হাসি দেখে গাধাটা রাগে গজগজ করতে ছিল।আমি ওর দিকে তাকিয়ে আন্টিকে বললাম, --তোমার এই গাধা ছেলেকেও মেয়েরা চিরকুট দেই?হায় আল্লাহ দেশ থেকে লজ্জা সব উঠে গেল নাকি?কোন মেয়ে এই গাধা টাকে ভালবাসবে? . আমার কথা শুনে দিহান আরো রেগে গেল।রেগে গিয়ে ও ওর আম্মুর পাশে গিয়ে বলল, --আমাকে গাধা বলল,আর তুমি ওকে কিছুই বলছোনা কেন? . আমি গাধাবাবুর নাকে টান দিয়ে বললাম, --আন্টি কিছুই বলবেনা বুঝলে গাধা। . আমি ওখানে না দাড়িয়ে থেকে রুমে চলে আসলাম।আর ভাবতে লাগলাম যাক বাবা ভাল হইছে,আন্টি ধরতে পারেনি।কিন্তু নাম লিখলে আরো ভাল হত মনে হয়। সরাসরি বলা হয়ে যেত।যাক পরের বার ট্রাই করা যাবে। . একদিন সকালে রুমে শুয়ে শুয়ে গান শুনতে ছিলাম।আর এমন সময় আন্টি এসে আমাকে বলল,তার গাধা ছেলেটা নাকি বাসায় নেই আর আংকেলতো অফিসে তাই আমি যেন এখনি তাদের বাসায় গিয়ে বাজারের লিস্টটা করে দেই। আমার লিস্ট করা হলেই কাজের ছেলেটাকে দিয়ে বাজারে পাঠাবেন।আমি আন্টির কথামত তার পেছন পেছন গিয়ে কাগজ কলম নিয়ে বসে গেলাম।আন্টি বলতে লাগল আর আমি লিখতে লাগলাম।লিখা শেষে আমি রুমে চলে আসলাম। . প্রতিদিনের মতই আজকেও বিকেলে ছাদে গেলাম।সেই একি কাজ,একি গোধুলি বেলা,একি গাধা আর একি লাভ বার্ড।দিনে দিনে গাধাটার প্রতি যে আমি এত দুর্বল হয়ে পরছি তা বলে বোঝাতে পারব নাহ। . রাত্রি বেলায় ঘুম ভাংল আম্মুর ডাকে।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি রাত ৮ টা।কি হইছে জানতে চাইলে আম্মু আমাকে বলল, --দিহানের আম্মু আমাকে দেখা করতে বলেছে।কি কথা আছে নাকি আমার সাথে। . আমি ভাবতে লাগলাম কি হইছে আল্লাহই ভাল জানে। কোন কিছু না ভেবে ওদের বাসায় গেলাম।গিয়ে দেখি আব্বু আম্মুও গিয়েছে।আমাকে দেখে আন্টি বলল, -- আয় আয়। . আমাকে নিয়ে আন্টি একটা আলাদা রুমে নিয়ে গেল।কি হচ্ছে কিছুই বুঝলাম নাহ।আম্মু আব্বু এখানে আবার আমাকে আলাদা রুমে নেওয়া হচ্ছে এসব এর মানে কি। আমিতো শেষ হয়ে যাব দেখছি।আমাকে রুমে বসিয়ে আন্টি ড্রয়ার থেকে কি যেন বের করতে লাগলেন।একটা কাগজ বের করে আমাকে বলল, --এটা কি? . আমি বললাম, --এটাতো সকালের বাজার লিস্ট।আমাকে দেখাচ্ছো কেন? . আন্টি ড্রয়ার থেকে আর একটা কাগজ বের করে বলল, --এটা কি? . আমি বললাম, --জানিনা। . আন্টি এবার আমার পাশে বসে আমাকে দুইটা কাগজই দিল আর বলল, --হাতের লেখা মিলিয়ে দেখ। . এবার বুঝলাম আসল কাহিনি।আন্টি সব ধরে ফেলেছে। আসলেই গাধি একটা আমি।আমিতো গাধি ছিলাম নাহ। এই গাধা ছেলেটাকে ভালবাসতে ভালবাসতে আমিও গাধি হয়ে গেছি।গাধার সাথে তো আর মানুষ থাকেনা। তাই গাধার জন্যে আমিও গাধি হয়ে গেছি।ভাবনায় ছেদ পরল আন্টির কথা শুনে।আন্টি বলল, --আমাকে বললেই তো পারতি। . আমি লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে আন্টিকে বললাম, --তোমার যে গাধা ছেলে,সেইতো বুঝেনাহ।তাকে এত বুঝিয়েই সে বুঝত নাহ।আর তুমি কেমনে বুঝতে? . আন্টি আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, --আমার গাধা ছেলেটাকে মানুষ বানানোর জন্যেই ব্যাবস্থা করছি দাড়া।তোকেই সেই দায়িত্ব দিব। পারবিতো আমার গাধা ছেলেটাকে মানুষ করতে? . আমি আন্টির কথায় মাথা ঝাকিয়ে দিলাম ভোঁদৌড়।কিছু সময়ের জন্যে মনে হল আমিই উসাইন বোল্ট।এক দৌড়ে রুমে চলে আসলাম।এসেই আয়নার সামনে দাড়িয়ে গেলাম।নিজেকে কেন জানি আজকে বউ বউ লাগছে। আহা শেষমেষ গাধাটারই বউ হতে হচ্ছে ভাবতেই মনের মধ্যে একটা ভাল লাগা কাজ করছে।গাধাটাকে যে অনেক ভালবাসি আমি।অনেক বেশিই ভালবাসি।ভাবছি এখন থেকে লাভবার্ডকে নিয়ে গোধুলি লগ্ন দেখার চেয়ে গাধাটাকে নিয়েই বিকেল বেলার গোধুলি লগ্ন দেখব আর ভালবাসা ছড়াবো।হাজার হলেও ভালবাসিতো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now