বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খিচুরি

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X আমার সামনে একজন টাকলু বসে আছেন, টাকলুর হাতের সিঙ্গারার সসে একটা স্বাস্থ্যবান মাছি বসে আছে। টাকলু কিছুটা, নাহ্ কিছুটা না বেশ খানিকটা বিষ্মিত হয়ে আমাকে দেখছেন। আসলে তৃতীয়বারের মতো চাকরির ইন্টারর্ভিউ দিতে গেছি। টাকলু মহাশয় আমার পরিক্ষক। একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, চাকরির ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য কি টাকলু হওয়া আবশ্যক। কেননা প্রত্যেকবার আমি টাকলু পরিক্ষক দেখেছি। সে যাই হোক আমার সামনের টাকলুর বিষ্ময়ের কারন হলাম আমি। কেউ জিন্স, পাঞ্জাবী পরে চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। সাথে ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত চুল, গোঁফ তেল দিয়ে ঘুড়ানো, খোচাখোচা দাড়ি। টাকলু বললেনঃ . --বসুন… . -স্যার চার ঘন্টা যাবদ বাইরে বসেই আছি, পেছন আর কোমড় ব্যাথা হয়ে গেছে। দাঁড়িয়েই বলি। . --আপনি কি গান-বাজনা কিছু করেন? কিছু মনে করবেন না আপনাকে দেখে সেরকম মনে হচ্ছে। . -জ্বী স্যার গান করি, শুনবেন? আচ্ছা শোনাচ্ছি। . নাক চেপে ধরে হিমেশ কাকুর গান ধরলামঃ “ওওওও হুজুর তেরা তেরা তেরা সুরুররররররররর……………” . --থামেন থামেন। আপনি কি ফাইজলামি করতে এসেছেন? এটা ফাইজলামি করার জায়গা? . -স্যার রেগে যাচ্ছেন কেন? জাস্ট চিল ব্রো। . --আপনি যান। . -স্যার একটা প্রশ্ন ছিলো। . --আপনাকে যেতে বলেছি। . -স্যার প্রশ্নটা করেই চলে যাবো। . --করেন। . -স্যার আমি মনে করি, চালাকরা নিজেকে বোকা আর বোকারা নিজেকে চালাক মনে করে। আমি নিজেকে বোকা মনে করি। আমার কথার ভিত্তিতে আপনার কি মনে হয় আমি কি? চালাক নাকি বোকা? . --বেয়াদ্দপ, মেন্টালি সিক পার্সন। বের হন। . চাকরি আমার কপালে নেই সে আমি আগের দুবারের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছি। কিন্তু আব্বাহুজুরের মনে সান্তনা দেয়ার জন্য চাকরির জন্য ট্রাই করি। ছেলে চেষ্টা করছে সেটা ভেবে অন্তত কিছুদিন চুপ থাকবেন। . . বাসা ফিরে ভাবলাম ঘুম দিবো। কিন্তু পাশের বাসার নতুন ভাড়াটিয়ার মেয়ের জ্বালায় সেটা সম্ভব না, বিকেল হতে না হতে ফুল সাউন্ডে গান শুনে, আর পুচ্চি পুচ্চি পোলাপাইনের চিল্লাচিল্লির অত্যাচারে রুমে টেকাই মুশকিল। একজন বেকারের জন্য দিনের ঘুম কতোটা জরুরি সেটা একজন বেকার ছাড়া কেউ বুঝবেনা কখনো। . সন্ধ্যা বেলায় দরজায় ধাক্কাধাক্কিতে ঘুমটা ভাঙ্গলো। এলাকার আন্টিরা বাসায় উপস্থিত। . -ওটাস আপ আন্টিজ… . আম্মা রাগে কটমট করতে করতে বললেনঃ . --তুই কি মানুষ হবিনা? ঢ্যামড়া ছেলের নালিশ আসে বাসায়। তোর জন্য মান-সন্মান কিচ্ছু থাকলোনা। . -ক্যারে মুই কিতা করলাম? . --পাশের বাসার ডিশ লাইনের তার নাকি ছিঁড়ছিস তুই? . -কে বললো? . --তোর আন্টির ছেলে দেখছে। . -মিথ্যা বলছে। . --ছয় বছরের বাচ্চা মিথ্যা বলবে না? . -মিথ্যা বলার জন্য বয়স লাগে নাকি? . --আর বিকালে নাকি বাচ্চাগুলার প্যান্ট খুলে নিয়ে সবগুলারে বাসা পাঠিয়ে দিছিস। প্যান্ট কই? . -রুমে আছে। . --এটা করলি ক্যান? . -তো কিতা করাম সবগুলা প্রতিদিন বিকালে চিল্লাচিল্লি করে মোর ঘুম নষ্ট করে দেয়। একটা মানুষ কতো সহ্য করে। . --ঝাড়ুর বাড়ি খেতে না চাইলে ওদের প্যান্ট গুলা বের করে দে। . -দিচ্ছি ওয়েট। . মশরির উপর থেকে একটা একটা করে সবার প্যান্ট বের করে দিলাম। এক আন্টি বললেনঃ . --আমার বাবুর প্যান্ট টা কই? . -আন্টি আমার জাঙ্গিয়াটা খুঁজে পাচ্ছিনা। তাই আপনার বাবুর প্যান্টটা পড়েছি। সমস্যা নাই জাঙ্গিয়াটা খুঁজে পেলে বাবুর প্যান্টটা দিয়ে দিবো। বাবুর প্যান্টটা ধার নিলাম একদিনের জন্য। . সবাই হা করে আমার দিকে কেন তাকাচ্ছে বুঝছিনা। আজব আমাকে এভাবে দেখার কি আছে? আমি তো শাহরুখ বা সালমান না। এক আন্টি আম্মাকে বললেনঃ . --ভাবি ওকে বিয়ে দিয়ে দেন। তাহলে দেখবেন মাথার যেটুকু সমস্যা আছে সব ঠিক হয়ে যাবে। . -আন্টি সেদিন আপনার বাসায় যেই মেয়েটা বেড়াতে এসেছিলো তাকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। আপনি একটু ঘটকালি করে দেন। আপনাকে পাঁচশত এক টাকা উপহার দিবো। . আম্মার দিকে তাকিয়ে কেন যেন মনে হলো তিনি হাতের ঝাড়ু দিয়ে কিছু একটা করতে চাচ্ছেন। দ্রুত দরজা লক করে কানে হেডফোন গুঁজে গান শুরু করলাম। আমার গান শোনার পরে কেউ বাসায় দুমিনিট দাঁড়ানোর সাহস করবেনা এই বিষয়ে আমি গ্যারেন্টি দিতে পারি। . . ফোনের কাঁপুনিতে ঘুম ভাঙ্গলো। তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়েছে। আব্বাহুজুরের কলঃ . -হ্যালো আব্বাহুজুর… . --কিরে এখনো বাসায়? . -জ্বী… . --মসজিদ আসবিনা? . -মসজিদে ক্যান? . --মিলাদের কথা ভুলে গেছিস? . -যামুনা। . --তোর মা বাসায় নাই, ভাইয়ের বাসা গেছে। মসজিদ না আসলে রাতে না খেয়ে থাকতে হবে। . মসজিদে গিয়ে দেখি বসার মতো জায়গা নেই। অন্যান্য দিনের তুলায় কয়েকগুন বেশি মানুষের ভিড়। ইমাম সাহেব বলছিলেনঃ --এশার নামাজের পরে মিলাদ মাহফিল হবে, বিশেষ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে„ সকলে আসবেন। . যেই লোক শুক্রবারেও মসজিদ আসেনা সেও এসেছে, যে হিসু করে টিসু ব্যবহার করেনা সেও এই ঠান্ডায় গোসল করে এসে বসেছে। আমরা বাঙালি মাগনা পেলে আলকাতরাও খাই, আর এখানে তো বিশেষ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আমিও দুজনের রানের চিপায় ঠেলেঠুলে কোন মতে বসলাম। ইমাম সাহেবের কথায় কারো মন নেই, কেউ বলছেঃ -বিরিয়ানি করেছে। . কেউ বলছে… --সাদা ভাত। . --ভাই গরু করেছে মনে হয়। . --না ভাই খাসি করেছে। . --ভাই বসিয়ে খাওয়াবে নাকি প্যাকেট সিস্টেম করেছে। প্যাকেট বড় নাকি ছোট? ছোট হলে দুটা নিতে হবে। . যতো লোক ততো কথা। কথা শুনে সকলের ক্ষুধা যে বেড়েই চলেছে সেটা সকলের মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে। এদিকে দুঘন্টা পার হয়ে গেছে সকলে চুপসে গেছে, দু-একজন ঘুমিয়ে পড়েছে। ভিড়ের মধ্য থেকে বললামঃ . --হুজুর জলদি করেন। আর কতোক্ষন? ক্ষুদা লাগছে। . কথাটা এতো জোরে বলে ফেলেছি যে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এক মুরুব্বি কানের কাছে ফিসফিস করে বললোঃ --ঠিক বলছো নাতি। . তিন ঘন্টার পরে মিলাদ মাহফিল শেষে সবাই যখন তবারকের জন্য অপেক্ষা করছে ঠিক সেসময় ছোট ছোট পুটলিতে করে খুরমা নিয়ে আসা হলো। সকলের মুখ দেখে মনে হচ্ছে সবাই বেজায় ক্ষেপে গেছে। ব্যাটা বদের ঘরের বদ কয়েকটা খুরমার জন্য তিনঘন্টা বসায় রাখছো আর বলো খাবার-দাবারের বিশেষ আয়োজন। . দু চারজন তো রাগে খুরমা না নিয়েই চলে গেলেন। যখন আমি খুরমা নিতে গেলাম তখন পেছন থেকে একসাথে কয়েকজন বললেনঃ --ওরে বেশি করে দাও। . হোয়াট দ্যা বেইজ্জতি। বাইরে বের হয়ে দেখি লাল বাটা জুতা জোড়া গায়েব। কেউ একজন রাগের মাথায় জুতা নিয়ে পালিয়েছে। বাধ্য হয়ে মসজিদের খড়ম পায়ে দিয়ে বাসা আসলাম। . . যেহেতু আম্মা বাসায় নেই আর মসজিদের বিশেষ খাওয়া-দাওয়ার সুবাদে বাসায় রান্না হয়নি। আব্বাহুজুর-মুই আর ছোট মিয়া ভাবছি কি করা যায়। আব্বাহুজুর টাকা দিয়ে বললেন . --যা হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আয়। . টাকা দেখে আমার লোভি চোখ চকচক করে উঠলো। টাকা পকেটে রেখে আব্বাহুজুরকে বললামঃ . -আব্বাহুজুর একটু অপেক্ষা করেন আমি খিচুরি রান্না করি। . চাল-ডাল-আলু-পেয়াঁজ-মরিচ-সকল প্রকার মশলা-কুচিকুচি করে মাংস কেটে একসাথে দিয়ে চুলার উপ্রে চড়িয়ে দিলাম। কিছুক্ষনের মধ্যে সুঘ্রাণ বের হতে শুরু করলো। আধঘন্টার মধ্যে রান্না শেষ। খেতে বসেছি খিচুরি দেখি ক্রিকেট বল সাইজের করে জটলা পাকিয়ে আছে। ঘুষি দিয়েও ভাঙ্গতে কষ্ট হচ্ছে। বড় কথা একটা ঘুষি দিয়ে ভেঙ্গে দেখি ভেতরে এক স্বাস্থ্যবান তেলাপোকা আত্মহত্যা করেছে। বাহ্ রাতের রোজাটা ভালোই হবে। আব্বাহুজুর হয়তো আজ বুঝতে পারবেন পরিবারে একটা বৌমার কতোটা দরকার। . কারো খিচুরি খাওয়ার ইচ্ছা থাকলে এসে নিয়ে যেতে পারেন। ফ্রিতে দিয়ে দিবো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now